লেখকের অন্যান্য পোস্ট
ইসলাম ও ইসলাম বিষয়ক যেকোন জিজ্ঞাসা, খবরাখবর, আলোচনা ও চিন্তা ভাবনা বাংলা ভাষায় শেয়ার করার জন্য শান্তির বার্তা নিয়ে আগত ইসলামী গ্রুপে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি ।
বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে ইসলামের শিক্ষা ও প্রকৃত চিত্র তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। ইনশাল্লাহ, আমাদের এই গ্রুপ ইন্টারনেটে বাংলা ভাষাভাষীদের ইসলাম সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে সহায়তা করবে। আপনি আমন্ত্রিত...
আল্লাহু আকবর(الله أكبر)
--
বি:দ্র: গ্রুপের জন্য চুড়ান্ত কোন নীতিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত গ্রুপের সদস্যদের কয়েকটি বিষয় মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হলো-
১) গ্রুপ সম্পর্কিত আপনার কোন অভিযোগ, পরামর্শ, জিজ্ঞাসা ব্লগে পোস্ট না করে trivuz@gmail.com মেইল করে জানিয়ে দিন।
২) গ্রুপের কোন পোস্টের বিষয়ে আপনার আপত্তি থাকলে সেই পোস্টে মন্তব্য আকারে দিন। তাতে লেখক তার নিজের বক্তব্য প্রদান করতে পারবে।
---
গ্রুপ মেনু পাবেন নিচের লিংকে-
http://www.somewhereinblog.net/group/islam/28771321
আলোচনা পোস্ট: নারীর মানবাধিকার
লিখেছেন কণা, ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫
ভেবেছিলাম কেউ না কেউ নারী বিষয়ক কোন পোস্ট দেবে নারী দিবস কে উপলক্ষ করে... কিন্তু সম্ভবত সবাই খুব ব্যস্ত । তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে আমি আমার কাঁচা হাতে কিছু লেখার চেষ্টা করছি... ![]()
অনেকে আছেন যারা আলাদা করে 'নারী দিবস'এর পক্ষপাতী নন । তারা বলে থাকেন, একটা আলাদা দিন করে নারীদের অপমান করা হয়েছে। আলাদা করে এভাবে দিবস করে নারীদের হাইলাইট করে নারীদের দুর্বল হিসেবে দেখানো হয়েছে ।
আবার কেউ কেউ মনে করেন, 'নারী দিবস' টা সকল অত্যাচারিত নারীদের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতি দেখানোর একটা সুযোগ... মানে একটা রিমাইন্ডার হিসেবে কাজ করছে এই পারটিকুলার দিনটা । এখনও যে নারী নির্যাতন চলছে এবং এটা বন্ধ হোক তা সবাই চায় সেটাই এই বিশেষ দিনটির মূলমন্ত্র । অনেকে ভাবেন, এই দিনটা নির্যাতনকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশেরও একটি দিন । পুরুষদের (যেহেতু তারাই সংখ্যাগুরু নির্যাতনকারী) জন্য এটা একটি লজ্জার দিনও বটে ।
আবার অনেকে নারীদের এ অবস্থার জন্য সরাসরি ধর্মের দিকে আঙ্গুল তুলেন । তারা ভাবেন, ধর্মই নারীদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে । ধর্মকে বর্ম হিসেবে ধরে যুগে যুগে নারীদের নির্যাতন করা হচ্ছে।
আবার অনেকে মনে করেন, ধর্ম কোন বাধা নয়, মানসিকতাই মূল বাধা । পুরুষদের নারী নির্যাতনের ইচ্ছা, প্রবৃত্তি, নিজেদের সুপিরিয়্যর ভাবাই নারীর মানবাধিকার প্রাপ্তির প্রধান অন্তরায়...
অনেকে আবার মনে করছেন (এইমাত্র জানতে পারলাম), পৃথিবীর নিয়মই হচ্ছে দুর্বলের প্রতি শক্তিমানের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা । অর্থাৎ শক্তিশালী পশু-প্রাণী নিরীহ গোছের প্রাণীদের উপর তাদের ক্ষমতা, শক্তিমত্তা জাহির করে । আমরা জানি, নারী-পুরুষ পৃথিবীতে একসাথেই পৃথিবীতে এসেছেন । পুরুষ তার শক্তিমত্তা দিয়ে আজকের এই অবস্থান দখল করে নিয়েছে । এই যে, সবলদের দুর্বলদের উপর অত্যাচার করার চেষ্টা বা অধিকার হরণের চেষ্টা এটা পুরোপুরি পশু প্রবৃত্তি । মানুষ তাকেই বলা যাবে যে অন্যের অধিকার লংঘন করবে না । আর এগুলো মানুষকে শেখানোর জন্য যুগে যুগে সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে নির্দেশনা এসেছে । আর ইসলাম ধর্মই (ঐশী ধর্ম) মানুষকে মানুষ হতে শিক্ষা দেয় । তাই যতদিন মানুষ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা না পাচ্ছে ততদিন এভাবে একে অপরের প্রাপ্ত অধিকার নষ্ট করতে থাকবে ।
তো কে কি মনে করছেন.... আসলেই কি কোন বিশেষ দিনের প্রয়োজন নেই?
এবং
নারীর মানবাধিকার প্রাপ্তির প্রধান অন্তরায় কি? পুরুষ? সমাজ? ধর্ম? নাকি মানসিকতা (নারী-পুরুষ উভয়ের)? অথবা অন্য কি কি কারণ থাকতে পারে বলে আপনার ধারণা?
লেখাটি ইসলাম গ্রুপে দেয়া হয়েছে...

- মন্তব্য লিখুন
- ৩২টি মন্তব্য
- ৩৫৬বার পঠিত
বিবেক সত্যি বলেছেন:
পোষ্টটাকে স্টিকি করার অনুরোধ করছি...
শাওন বলেছেন:
প্রতিটা দিন নারী দিবস হোক , প্রতিটা দিন ভালোবাসার দিন কাটুক ,
প্রতিটা দিন ঈদের দিন হোক ,
প্রতিটা দিন ভালোভাবে কটুক সবার . . .
ত্রিভুজ বলেছেন:
প্রথমেই আপনার শিরোনামের বিষয়ে আসি-
"আলোচনা পোস্ট: নারীর মানবাধিকার"
"নারীর" মানবধিকার কথাটা যখন আছে তখন "পুরুষের" মানবধিকার শব্দটাও থাকা উচিত। কিন্তু বিশ্বে যখন কারো মানবধিকার হরণ করা হয়, তখন সেটাকে মানবধিকারই বলা হয়। পুরুষ বা নারী উল্লেখপূর্বক কিছু বলা হয় না। শুধু মাত্র মেয়েরাই বিষয়গুলোকে "পুরুষ" বা "নারী" নামে দুটো শ্রেণীতে বিভক্ত করতে চায়। প্রশ্ন হলো কেন?
আমার মনে হয় নারীরা যদি এই "কেন"টার উত্তর যদি খুঁজে বের করতে পারে, তাহলেই তাদের নারীরা সকল প্রশ্ন ও উত্তর এবং করণীয় বুঝে ওঠতে পারবে।
আরেকটু পরিষ্কার করি, দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার সবখানেই। সেটাকে "নারী" নামক একটা আলাদা ডোমেইনে নেয়ার প্রয়োজন দেখি না।
যাই হোক, দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার সবসময়ই ঘৃন্য... দুনিয়ার সকল দূর্বলের পাশেই সবার এসে দাঁড়ানো উচিত। "নারী দিবস" নামক দিনটি পরিবর্তিত হয়ে "মানবতা" বা "অধিকার রক্ষা" দিবস হতে পারে এবং সেখানে সবারই অধিকারের কথা আসা উচিত।
ধন্যবাদ।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
আমার মনে হয়, নারীরা নারীদের সাথে প্রতিযোগিতা করবেন, পুরুষের সাথে নারীর সম্পর্ক প্রতিযোগিতার নয় । মানে, পুরুষ-নারী প্রতিযোগী নয়, পরিপুরক-সহযোগী ।
নারী তার নিজস্ব মর্যাদায় মর্যাদাশীল । পুরুষকে চ্যালেন্জ দিয়ে তাকে মর্যাদা অর্জন করতে হবে কেন ? একটা কাজ পুরুষ করতে পারে, এখন ওই কাজটা নারীকেও করতেই হবে , এমনটা ভাবা ঠিক বলে মনে হয়না আমার ।
পোষ্টের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবোনা । জানিনা বেশি কিছু
... দেখি সবাই কি বলেন...
পোষ্টদাত্রী
সময়ের অভাবে স্বাভাবিক ব্লগিং বা লেখালেখিতে অংশ নিতে পারছি না, ঠিক ধরেছেন। (আমি লেখা নয়; মন্তব্যে অংশ নেয়ার কথা বুঝিয়েছি)
তারপরও, সংক্ষেপে-
"নারীর মানবাধিকার প্রাপ্তির প্রধান অন্তরায় কি? পুরুষ? সমাজ? ধর্ম? নাকি মানসিকতা (নারী-পুরুষ উভয়ের)? অথবা অন্য কি কি কারণ থাকতে পারে বলে আপনার ধারণা?"
-এ কথাগুলোতে দৃষ্টিপাত করি:
=প্রধান অন্তরায় মনে করছি 'অজ্ঞতা' (ব্যাপকার্থে) এবং তা পুরুষ-নারী উভয়েরই।
=পুরুষ নারীর 'মানুষ' হওয়া বিষয়ে অজ্ঞ বলেই নারীকে যথার্থ মানুষের মর্যাদা দিতে পারে না।
=সমাজ গঠিত হয় মানুষদের নিয়ে, মানুষের মাঝে সামাজিক নেতৃত্বে রয়েছে পুরুষ, সেই পুরুষই যদি নারীদের মনুষ্যত্ব, গুরুত্ব, মর্যাদা, সমাজ গঠনে ভূমিকা ইত্যাদি ব্যাপারে অন্ধত্বে নিপতিত থাকে; তবে শিক্ষা পাক বা অশিক্ষিত থাকুক, বুঝতে হবে অন্ধত্ব নামক মূর্খতাকে সে অতিক্রম করতে পারেনি।
=ধর্ম সম্পর্কে যদি বেড়াজালে আটকা পড়ে কেউ তবে সে দেখতে পাবে নারী মর্যাদার বিভিন্ন রূপ। কোথাও দেবী, কোথাও ডাইনী। তাই ধর্ম নির্বাচনের উপর নির্ভর করছে নারীকে মর্যাদা দান বা সম্মাননা দানের বিষয়টি।
=মানসিকতাকে অগ্রাহ্য করার কোন সুযোগ নেই, এটা মূলত সৃষ্টিগত অবস্থা। তাই কেউ কেউ এটিকে অতিক্রম করতে পারলেও সাধারণভাবে এটা প্রায় অসম্ভব এবং ক্ষতিকারকও। কেননা, কোথাও কোথাও দেখা গেছে সৃষ্টিগত পর্যায়কে অতিক্রম করার পরিণামে সমাজ বন্ধনে ফাটল দেখা দিয়েছে; এমন ফাটল যা সভ্যতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
দেখার বিষয় যে, পৃথিবীতে প্রচলিত বিধিবিধানগুলোর কোনটি নারীকে কি চোখে দেখেছে। একসময় এ ব্যাপারটি দুঃসাধ্য হলেও এখন খুব সাধারণ। তাই নারীদের উচিত এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া যে, কোথায় তাদেরকে মর্যাদার আসনে ভূষিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ধর্ম, মতবাদ, সংবিধান ইত্যাদি সকল পর্যায়কে এক ধারায় ফেলেই এ নির্বাচন করতে হবে; তবেই সম্ভব হবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। অন্যথা ধর্মকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র মতবাদ নিয়ে খুঁজলে কিছু কিছু খুঁজে পেলেও সম্পূর্ণটুকুতে ঘাটতি থাকবে আবার কেবল ধর্মে খোঁজ করতে গেলেও বিপরীত ধারাগুলোর আলোকে যথাযথ বাছাই সম্ভব হবে না। যদিও পরিপূর্ণ ধর্মে নারীর সম্মাননা ও মর্যাদা অত্যন্ত সুস্পষ্ট; তথাপি বিশ্লেষণী পদক্ষেপ নিতে হলে অবশ্যই সার্বিকতা স্পর্শ করা উত্তম।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
শুধু মাত্র মেয়েরাই বিষয়গুলোকে "পুরুষ" বা "নারী" নামে দুটো শ্রেণীতে বিভক্ত করতে চায়। প্রশ্ন হলো কেন?ঠিক নয়। মেয়েদেরকেই ছোট বেলা থেকে একটি কথাই বার বার শুনে বড় হতে হয়, "গার্লস ক্যান্ট ডু দিস, ডু দ্যাট।"
বৃত্ত বলেছেন:
আলোচনা ভালোই লাগছে। চলুক।
কণা বলেছেন:
@উম্মু আবদুল্লাহ আপনার মতামতের সাথে অনেকটাই একমত আমি...
আমরা পাশ্চাত্যের নারী স্বাধীনতার নামে যেমন উগ্রতা চাই না, তেমনি রাহেলাদের মতো করুণ পরিণতিও দেখতে চাই না... যার যা প্রাপ্য অধিকার তাকে তা দেয়া হোক...
ধন্যবাদ আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য
কণা বলেছেন:
@ত্রিভুজ আমার পোস্টের শিরোনামটা রাহেলা, সিমি, রুমিদের মতো মানুষদের কথা চিন্তা করে দিয়েছিলাম... সত্যিকার অর্থে ওরা যদি মানবাধিকার পেত তাহলে ওদের নির্মম পরিণতি বহন করতে হতো না...
আপনার প্রশ্নের উত্তরে উম্মু আবদুল্লাহর শেষ মন্তব্যটি দেখে নিন...
আপনার মন্তব্যের শেষ অংশের সাথে সহমত....
ধন্যবাদ
কণা বলেছেন:
@দৃষ্টির ছায়া দেখলেন তো... আমি মোটেও লিখতে পারি না... এজন্যই লিখি না...
আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ... খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন...
আপনার মন্তব্যের এই কেবল ধর্মে খোঁজ করতে গেলেও বিপরীত ধারাগুলোর আলোকে যথাযথ বাছাই সম্ভব হবে না অংশের জন্য...
ইন জেনারেল বলে থাকলে হয়তো যা বলেছেন তা ঠিক...
তবে ইসলামে যতটা সুষমভাবে নারী-পুরষের স্বাধীনতা ও অধিকার বন্টন করা হয়েছে আর কোন মতবাদের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি... হবেও না... আজ যদি একটা মতবাদকে অধিক কার্যকর মনে হয়, কালই হয়তো সেটা মানুষ ছুঁড়ে ফেলবে অকার্যকর মনে করে... তাই কেবল ধর্মে খোঁজ করতে গেলেও বিপরীত ধারাগুলোর আলোকে যথাযথ বাছাই সম্ভব হবে না কথাটি বোধহয় ভুল... অন্তত পরিপূর্ণ ধর্ম ইসলামের ক্ষেত্রে...
ধন্যবাদ আবারো..
কণা বলেছেন:
@বিবেক সত্যি আপনার মন্তব্য চোখ এড়িয়ে গেছে...
ধন্যবাদ আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য....
ধন্যবাদ বৃত্তকেও
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
যার যা কর্তব্য করলেই ল্যাঠা চুকে যায়। মানুষ সেটা না করে অনর্থক কে কতটুকু কম কতটুকু বেশি পেল এই জাজমেন্টে যায়।মানুষকে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। হোক সে পুরুষ বা নারী।
পুরুষ এবং নারী এক নয়....... তাদের কর্তব্যও এক নয়।
তবে এতটুকু বুঝেছি, ইসলাম মেয়েদের স্বাধীনতা দিয়েছে পুরুষের চেয়ে বেশি, মেয়েদের সৌন্দর্য দিয়েছে পুরুষের চেয়ে বেশি, মেয়েদের মর্যাদা দিয়েছে পুরুষের চেয়ে বেশি; পক্ষান্তরে ছেলেদের দায়িত্ব দিয়েছে বেশি মেয়েদের তুলনায়।।
ক্ষমতা এবং দায়িত্ব এক কথা নয়। ক্ষমতার কনসেপ্ট ইসলামে কেবল স্রষ্টার সাথেই সম্পর্কিত। দায়িত্ব যাকে দেয়া হয়, তার জন্য বোঝা। এর জন্য তাকে জবাবদিহী করতে হবে। কেউ স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নিতে রাজী কিনা আমার জানা নেই। যারা দায়িত্ব এবং ক্ষমতাকে এক করে দেখে তারায় এমনটি করতে পারে।
বর্তমান সমাজে ভীষণ রকমের জরুরি হচ্ছে, কোরআনের বক্তব্য সবজায়গায় ছড়িয়ে দেয়া। কি যে সুধা মানুষের জন্য ছড়িয়ে আছে এতে তা মানুষকে জানানো। অন্যথায়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কেবল বঞ্চনার স্বীকারই হতে হবে।
একটা কথা বলি-
সামহোয়্যারইন আমাদেরকে অনেক কষ্ট দিয়েছে এবং দিচ্ছেও, কিন্তু তার অবদানও কিন্তু কম নয়; সা.ই.আপনাকে লেখক হতে কি পরিমাণ সাহায্য করছে/করবে, যদি না লেখেন তো বুঝতে পারবেন না। (যদিও আপনি বুঝতে পারছেন বলেই আমার বিশ্বাস।) তাই লিখে যান শুধু।
"কেবল ধর্মে খোঁজ করতে গেলেও বিপরীত ধারাগুলোর আলোকে যথাযথ বাছাই সম্ভব হবে না" জি, আমার এ কথাগুলো সাধারণ অর্থে বা সাধারণের জন্য। ইসলামের সৌন্দর্য যে বুঝেছে, তার কাছে পৃথিবীর আর সব মতামত কেবল অসৌন্দর্যই নয়; রীতিমত বিপজ্জনক ঠেকতে বাধ্য।
কেননা, সূর্য কিরণের তলায় বসে কেউ মোমবাতি থেকে আলোকচ্ছটা খুঁজতে পারে না............।
নারী ও পুরুষের যার যার অধিকার ক্ষমতার ব্যাপারে সচেতন হওয়া এবং মানসিক উত্তরণ জরুরী
নারীবাদী পুরুষবাদী এসব ফালতু।
উভয়ের মানবিক অধিকার সমুন্নত থাকা দরকার
কথা একটাই-
নারী আর পুরুষ মিলেই জগত সুন্দর। নারীর কাছে মুল্যবান যা আছে পুরুষের কাছে তা নাই। পুরুষের কাছে মুল্যবান যা নারীর কাছে তা নাই। উভয় পরস্পর সম্পুরক।
ভারসাম্যটাও জরুরী
+
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
"এতটুকু বুঝেছি, ইসলাম মেয়েদের স্বাধীনতা দিয়েছে পুরুষের চেয়ে বেশি"মাহমুদ, ইসলাম স্বাধীনতা কম দিয়েছে মেয়েদের। এটা আমার বিশ্বাস। কয়েকটি উদাহরন:
১। মেয়েরা নিজেদের পছন্দে বিয়ে করতে পারে তবে তা অভিভাবক কতৃক অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হয়। চূড়ান্ত ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করতে পারলেও তা ইসলামে উৎসাহিত করা হয় নি। পুরুষের ক্ষেত্রে এরকম বাধ্যবাধকতা নেই।
২। তালাকের ক্ষেত্রেও মেয়েরা পুরুষের মত স্বাধীন নয়।
৩। সংসারে নারীর মতামতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হলেও চূড়ান্ত সম্মতি পুরুষের।
এছাড়া আরো অনেক এরকম পাওয়া যাবে। নারীর স্বাঝীনতাকে অনেকটা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে পুরুষের বিবেচনার উপরে। আমি ইসলামকে ছোট করার জন্য এসব লিখছি না। লিখছি সত্যকে তুলে ধরার জন্য।
তা সত্ত্বেও নারীরা ইসলামপ্রিয় হয়। তার প্রমান পাশ্চাত্যে ব্যপাক নারীদের ইসলাম গ্রহন। প্রতি ৫ জনের ৪ জন কনভার্ট নারী। এর কারন নারী সমাজের অংশ, আর সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে ইসলাম। আর তাছাড়া সার্বিকভাবে এতটা স্বাধীনতা সাধারন নারীদের প্রয়োজন নেই। একটি নিশ্চিত জীবনের বিনিময়ে কিছুটা স্বাধীনতা ছাড় দেয়া যায়। সেই নিশ্চিত জীবন ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা উৎসাহিত করে। এজন্যই নারীরা সার্বিকভাবে ধর্ম বিমুখ হয় না। বরং ধর্মপ্রিয় হয়। আপনি সাধারনভাবে নারীদের খুব একটা ইসলাম বিমূখ হতে দেখবেন না যদিও বিরোধীরা নারী অধিকারের কথা বলেই ইসলামের সমালোচনা করে থাকে।
আর নারী পরিচয়ে কোন অহমিকা যেমন নেই, সংকোচও তেমন নেই। আমি কিন্তু আমার শিশুদের লিংগ পরিচয়ের প্রতি সচেতন করেছি। ছেলেকে শিখিয়েছি "তুমি ছেলে" আর মেয়েকে শিখিয়েছি "তুমি মেয়ে"। যা শেখাইনি তা হল "লিংগ পরিচয় কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয় না।" কারন মানুষ বড় হয় তার কর্মে, মেধায় আর মননে। লিংগ পরিচয়ে নয়। যা সুরা হুজুরাতে রয়েছে। সম্ভবত ১৩ নং আয়াতে।
যাক অনেক কথা বলে ফেললাম। জানি না ভুল না ঠিক।
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
আপু, আমি আপনার কথার সাথে একমত হতে পারলাম না।১. পুরুষের জন্য স্বর্ণ, রেশমের কাপড় এমনকি উজ্জল (বিশেষত টকটকে হলুদ) কাপড়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেয়েদের জন্য জায়েজ।
৩. ঘরের মধ্যে মেয়েরা যেই অবস্থাতেই থাকুক না কেন তা জায়েজ। মেয়ের ঘরে কেউ যদি উঁকি দেয় আর তখন যদি সেই মেয়ে তীর মেরে ঐ চোখ নষ্ট করে ফেলে তবে মেয়ে দায়ী থাকবে না।
৪. কর্মস্থলে পুরুষ স্বাধীন নয়। ঘরের মধ্যে মেয়েরা স্বাধীন।
৫. মেয়েদের সতর পুরুষদের কাছে এবং পুরুষদের সতর মেয়েদের কাছে.... একরকম নয়। বিধানটা যেমন আছে তাতে পুরুষের কষ্ট পাওয়ারই কথা।
৬. একটা মেয়ের একাধিক স্বামী গ্রহণের এখতিয়ার নেই, পুরুষের শর্ত সাপেক্ষে একাধিক নারী গ্রহণের এখতিয়ার আছে। হিসাবটা কি দাঁড়াল? একজন অবিবাহিত পুরুষ বিবাহিত নারীকে গ্রহণের ক্ষমতা রাখে না, একজন অবিবাহিত নারী বিবাহিত পুরুষকে গ্রহণের ক্ষমতা রাখে। পুরুষের ইচ্ছা সংকীর্ণ।
৭. মেয়েরা অপছন্দ করলে অভিভাবকের অনুমতি নেই মেয়েকে বিয়ে দেয়ার। আপনি অভিভাবকের অনুমতির ব্যাপার যেটা বললেন আমি মনে করি সেটা ছেলেদের জন্যও প্রযোজ্য। মেয়েরা সাধারণত পিতা বা স্বামীর দায়িত্বে বা কোন না কোন অভিভাবকের দায়িত্বে থাকেন, ফলে তাঁর মতামত নেয়াটা খুবই যৌক্তিক।
৮. দেখুন, দায়িত্বের ব্যাপারে বলতে গিয়েই বলছি মেয়েরা স্বাধীন। কাউকে যখন কোন কিছুর দায়িত্ব নিতে হয় তখন সে স্বাধীন হতে পারে না। তার জীবনের অনেক ব্যাপারই সংকুচিত হয়ে পড়ে। দায়িত্ব এবং ক্ষমতা কোন মতেই এক বিষয় নয়।
৯. ইসলাম পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করতে পছন্দ করে। কোন মেয়ে ভাল কোন পরামর্শ দেয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন হলে কেন তার পরামর্শ গ্রহণ করা হবে না? বরং সেই স্বাধীন পরামর্শ দিতে সক্ষম। সেই পরামর্শ অনুযায়ী স্বামী কাজ করলে তাতে কোন ক্ষতির কারণ ঘটলে মেয়ে দায়ী হবে না।
১০. বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে মেয়ে এবং ছেলে কোন পার্থক্য নেই। কোরআনে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে কোথাও তাদের আলাদা করা হয়নি। কেন মেয়েদেরকে উচ্চ শিক্ষিত হতে বাধা দেয়া হয় সেটা আমার বুঝে আসে না। জ্ঞান অর্জন করতে হবে চাকরি করার জন্য .. এই কনসেপ্টকেও আমি সমর্থন করি না।
........ আমি একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই। আমি যা ইনকাম করি তার ১০% আমার বোনকে দিই। অথচ, সে এই টাকায় (যদিও কম হয়ে যায়) যত স্বাধীনভাবে খরচ করতে পারে, আমি তা পারি না। হিমশিম খেতে হয়।
....... সত্যি কথা বলতে কি, আমি মনে করি, ইসলাম মেয়েদেরকে বেশিই সুবিধা দিয়েছে। ইসলামের ভ্যালুজগুলি সমাজে চালু থাকলে আমি মেয়ে হতে চাইতাম।
আমার স্বাধীন হতেই ইচ্ছা করে, দায়িত্ব নিতে মন চাই না।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
নারীর মানবাধিকার প্রাপ্তির প্রধান অন্তরায় কি? পুরুষ? সমাজ? ধর্ম? নাকি মানসিকতা (নারী-পুরুষ উভয়ের)? অথবা অন্য কি কি কারণ থাকতে পারে বলে আপনার ধারণা? মানসিকতা। আবার অন্যভাবে বলা যেতে পারে সমাজ প্রভুদের অন্ধত্ব।
সুন্দর লিখলেন। ভাল লাগল।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
মাহমুদ, আলোচনার জন্য ধন্যবাদ। আমি মনে করি ইসলাম নারীর অধিকার পর্যাপ্ত দিয়েছে। আর বিয়ে সহ যা যা বলেছি তা ইসলামী আইনে স্বীকৃত। যে কোন ফিকাহর বইতেই পাওয়া যাবে। "তোমরা নারীদেরকে তাদের অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে কর" - সম্ভবত এরকম বিধান। সেখানে পুরুষদের সরাসরি সম্বোধন করলেও নারীর ব্যপারে অভিভাবকের অনুমতি নেবার কথা বলা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে (কুমারী) নারীর বিয়েতে তার অভিভাবকের দায়িত্ব অনেক বেশী যা পুরুষের ক্ষেত্রে নেই। নারী তার অভিভাবকের এই অধিকারকে অস্বীকার করতে পারে না। পুরুষের ক্ষেত্রে সেটা তেমন প্রযোজ্য নয়। অন্তত ফিকাহর দৃষ্টিতে।
একজন নারীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে বুঝতে পারে তার জীবন কত কঠিন। ধরা যাক, একজন স্বামীর অত্যাচারে পিষ্ট এক অত্যাচারিত নারী। সে বের হতে চায় কিন্তু তার যাবার কোন জায়গা নেই। আমার মনে হয় সেক্ষেত্রে সমাজের সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত। কিন্তু আমাদের মানসিকতা হল যে পরিস্থিতিই হোক না কেন নারীকে তা মেনে নিতে হবে। তাকে হতে হবে সর্বংসহা।
আমি ছোট ছোট উদাহরন দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি আমাদের সমাজের অন্ধকার দিকগুলোকে। ইসলাম নারীর অধিকার নিশ্চিত করে বলেই স্বামী স্ত্রীর মনোমানিল্য চূড়ান্ত রূপ নিলে দুপক্ষের সমন্বয়ে সালিশ ডাকার ব্যবস্থা রেখেছে। যাতে মিটমাট হয়ে যায়। নারীকে মুখ বুজে সহ্য করতে বলে নি।
যা হোক, আমরা যাতে সবার অধিকারের প্রতি যত্নবান হতে পারি। সেক্ষেত্রেই সমস্যা বহুগুন কমে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
দেখুন, আমি তো আপনার বিয়ে সংক্রন্তে আপনার কথাকে অস্বীকার করছি না। তবে এটাও বলছি..... মেয়ে কোন বিয়েতে অমত করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে। হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। মেয়ে কারও না কারও দায়িত্বে থাকেন। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকের অনুমতি নেয়া কর্তব্য।একজন নারীর পিঠ দেয়ালে ঠেকার কারণ থাকত না যদি ইসলাম সঠিকভাবে পালন করা হতো। এজন্য ইসলাম বুঝেন এমন নারীদের এগিয়ে আসে হবে।
খোলাফায়ে রাশেদীনের সময় নারীরা অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে, এমন উদাহরণ আছে। পর্দা প্রথাকে আমি কখনই স্বাধীনতার অন্তরায় মনে করি না। এটা যিনি মনে করেন, আমি মনে করি তিনিই সংকীর্ণমনা।
আপনার কথার সাথে একমত। সমাজে নারীদেরকে সঠিক মুল্যায়ণ করতে ইসলামের প্র্যাকটিস বাড়ানো খুবই জরুরি। নারীদের জন্যই ভীষণভাবে প্রয়োজনীয়।
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
ও আর একটি কথা, তালাকের ব্যাপারে ইসলাম যে ব্যবস্থাপনা দিয়েছে সে অনুযায়ী পূংখানুপূংখভাবে ফলো করলে নারীদের বঞ্চিত হওয়ার কোন কারণ থাকে না।আপনি বলেছেন, "২। তালাকের ক্ষেত্রেও মেয়েরা পুরুষের মত স্বাধীন নয়।", ছেলেরাও কি স্বাধীন। ছেলেদের মনে রাখতে হবে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার মানেই হচ্ছে সে চিরকালের জন্য তার স্ত্রীকে হারাবে। সুতরাং, এতটা খেলো ব্যাপার নয়। মেয়েদের এরকম কোন ভয়ের ব্যাপার নেই। তবে সেও কিন্তু ইচ্ছা করলে স্বামীর কাছে তালাক চাইতে পারে, বিচ্ছিন্ন হওয়ার তারও পথ যে বন্ধ তা কিন্তু নয়।....... এসব ক্ষেত্রে আদালত থাকতে হবে, কুরআন হাদীসের আলোকে পরিস্কার বিধানাবলী সন্নিবেশ করতে হবে।
আমি এজ এ হোল, ইসলামের আইডিয়োলজির কথা বলেছি। ইসলামের টিচিং-এ বিন্দুমাত্র দুর্বলতা নেই, ফলোয়ারদের থাকতে পারে।
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
আমি তো আপনার বিয়ে সংক্রন্তে আপনার কথাকে অস্বীকার করছি না => আমি তো বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার কথাকে অস্বীকার করছি না।
শিক কাবাব বলেছেন:
এক কথায় বলতে চাই
যদি কোরআন ও হাদিস মনেপ্রাণে বিশ্বাস কর, তাহলে কোরআন ও হাদিসে যার যে অধিকার দেয়া হয়েছে তার বাইরে ১ চুল পরিমাণও বেশী পাওয়ার আশা করোনা। আর যদি পশ্চিমা নারীদের, পশ্চিমা পুরুষদের সংস্কৃতি ভাল লাগে তাহলে ইসলাম থেকে রিলিজ নিয়ে পশ্চিমা ধর্ম গ্রহণ কর। কে তোমাকে নিষেধ করছে? কিন্তু ইসলামের অধিনে থেকে পশ্চিমার উদাহরণ দেয়া একেবারে অযৌক্তিক। হয় ইসলাম, না হয় পশ্চিমা yes or no.
যে সব নারীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাতে ক্ষতি কি? পরকালে কি বিশ্বাস করনা? পরকালে কি আল্লাহ এর উপহার দিবেন না? মুমিনদের কামনা ইহকালের সফলতা নয়, মুমিনদের কামনা পরকালের সফলতা।
আপনি যদি মুমিন হয়ে থাকেন, আপনার উপর অন্য কেউ অবিচার করবে আর আল্লাহ সেটার প্রতিদান দেবেন না, এটা আপনি কি করে ভাবলেন? কেয়ামতের দিন কি হিসাব হবে না?
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
শিক কাবাব ঠিক কি বলতে চাইছেন বুঝলাম না। যা হোক, আলোচনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। শুধু নারী নয়, বরং যে কোন ক্ষেত্রেই আমরা যেন সবার অধিকারের প্রতি সচেতন হই। আল্লাহ যেন সে শক্তি আমাদের দেন।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
বাহ, ইসলামগ্রুপের সবচেয়ে স্বার্থক আলোচনা পোষ্ট বলে মনে হচ্ছে ..সবাইকে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন চমৎকার একটা আলোচনা উপহার দেয়ার জন্য ।
জাহান৮২ বলেছেন:
স্বাধীনতা ইসলাম কতটুকু দিয়েছে,আর আমরা মুসলিম মেয়েরা কতটুকু পাচ্ছি যুক্তি দিয়ে সে আলোচনা শেষ হবেনা।কেননা স্বাধীনতা অনেকাংশেই ব্যক্তির স্বাধীনতা সম্পর্কিত চেতনার উপরে নির্ভর করে।তবে ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি,একটি পূর্ণ ইসলামিক পরিবেশে নারী প্রকৃতই স্বাধীনতার সুখ তথা আন্তরিক শান্তি অনুভব করে,যেখানে পুরুষ শুধু ইসলামের থিওরীতে বিশ্বাসী নয়,বাস্তব প্রয়োগে ততপর এবং অবশ্যই মানবিক গুনসম্পন্ন।(অবশ্য একই গুনে যদি নারীও গুনান্বিত থাকে.....)
নাতাশা হুসাইন বলেছেন:
সবার কথা পড়লাম মন দিয়ে। আমার মনে মতামত হলো নারীদের নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার দেয়া হোক যেমনটা পুরুষদের দেয়া হয়।
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
বোন নাতাশা,নারীরা নিজেদের সিদ্ধান্তটা পুরুষদের চেয়ে স্বাধীনভাবে নিতে পারে। কেবলমাত্র এবং শুধুমাত্র ইসলাম এটা এনশিয়র করেছে।
আপনি যা আয় করবেন সেটা কোন খাতে খরচ করবেন সেটা অন্যকেউ ঠিক করে দিবে না। আপনি আপনার নিজের জন্য কিনবেন নাকি সন্তানের জন্য, নাকি স্বামীর জন্য..... যেকোন বৈধ পথে খরচের পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন।
পুরুষের কিন্তু আগে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে, তারপরে তার নিজের জন্য যা থাকে তা সে নিজের সিদ্ধান্তমত খরচ করতে পারে। সে যদি দায়িত্বের ব্যাপারে উদাসীন হয় তবে তাঁকে কঠিন জবাবদিহী করতে হবে।
দেখুন, পূর্ণরুপে স্বাধীন পুরুষ ও নয় মেয়েও নয়। প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাজের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। তন্মধ্যে পুরুষের দায়িত্ব বেশী, মেয়েদের তুলনায়।
কেন সৎ এবং ভাল কাজে কারই বাঁধা দেয়ার এখতিয়ার নেই। যে কোন ব্যাপারে কাজ করতে চাইলে পরামর্শ করাটা খুবই ভালো। আপনি খুব স্বাভাবিক ভাবেই আপনার দায়িত্বশীলের কাছে পরামর্শ চাইবেন। আপনার স্বামী ইসলামের ভ্যালুজের প্রতি যদি সচেতন হন আপনার সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখাবেন। সিদ্ধান্তটা অবশ্যই আপনারই হবে।.... আপনি কেবল তাঁর অনুমতি নিবেন, কারণ তিনি দায়িত্বশীল। যে কোন ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তিনি রাখেন।
সংসারের উপার্জনের খোঁজ করবেন.... এটা আপনার জন্য বাধ্য নয়। আপনি এব্যাপারে পূর্ণরুপে স্বাধীন। স্বামী কেবল এপ্রোভ করতে পারেন। আপনার চাকরি অন্যসব ব্যাপারে ক্ষতির কারণ হচ্ছে কিনা এসব বিষয় ভেবে স্বামী সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। কিন্তু পুরুষ এব্যাপারে স্বাধীন নয়, এটা তাঁর দায়িত্ব সংসারের খোরপোষের ব্যবস্থা করা।
সত্যি কথা বলতে কি, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সাচ্চা ঈমানদার না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালোবাসা ইত্যাদি না থাকলে পরস্পর পরস্পরকে মুল্যায়ণ করতে পারবে না। এটা একান্তই মানসিকতার সমস্যা।....... মোটেই ইসলামের সমস্যা নয়। বরং, চমৎকার ব্যবস্থাপনা কেবল ইসলামই দিয়েছে।
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
আমার ছোট বোন ঢাকা ভার্সিটিতে "From Patriarchy to Empowerment: Gender and Law in Bangladesh" শিরোনামে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কশপে প্রশ্নোত্তরের ফাঁকে নারী স্বাধীনতা এবং শরীয়া ল' প্রসংগে যে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে তা এখানে তুলে রাখলাম.........Which is the Mohammadian law?
patriarch..... male is head of a family or tribe.
I am also very proud that sharia has given many rights to women
Father, brother and husband maintain of women and if they fail to maintain them, state will maintain them. Women will not bound to take responsibility of a family. It is their will whether they take responsibility or not. Women have given many rights and male have given responsibility. I want property from my father, brother and husband and also dower and spend my property and money in a good way.
But now-a-days, many women worker ask to reform the law of inheritance and women must be entitled to the same share as male has. So the women are entitled to the same share they have to contribute in the family as man, otherwise not.
Which I earn from my profession (of course willingly) and nobody can restrain me. So, I think the rights of women should be ensured.
I am very much proud to be a girl.
My parents very much love me. They give priority to me in all matters. I have three brothers. It is an interesting matter they do not protest it.
লেখাটি ওর রাফ স্কেচ থেকে নেয়া। আমাকে দেখাল, আমি হুবহু এখানে তুলে রাখলাম।
আপনি এই পোস্টটে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না


















আগে অধিকার কি সেটা জানতে হবে। নারী কি তার স্বকীয় বৈশিষ্ট বিসর্জন দিয়ে সমাজে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়?
পাশ্চাত্যে নারীরা অসম্ভব স্বাধীন। যা মুসলিম দেশে স্বীকৃত নয়। তারা কখনও বৈষম্যের স্বীকার হয় না। চলার পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ পেছন থেকে আচল টেনে বলে না যে "তুমি মেয়ে। আস্তে চল।"
নারীর গন্তব্যে পৌছুনো তাই এদেশে অনেক বাধামুক্ত। পাশ্চাত্যে নারীরা কখনই শুধু নারী হবার কারনে বাধাগ্রস্ত হয় না।
কিন্তু নারী তো সমাজের বাইরের কেউ নয়। পাশ্চাত্য সমাজ নারীকে স্বাধীনতা দিয়েছে। অধিকার দিয়েছে। কিন্তু কেড়ে নিয়েছে নারীর নারীত্ব। তার স্বাভাবিক অনুভূতি।
ধর্মে নারীকে তার নারীসুলভ দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা হয়েছে। সেটা অবশ্যই বড় রকমের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব পালন প্রায়শই নারীকে তার স্বপ্নপূরনে বাধা দেয়। ধর্ম অধিকার যে দেয় নি তা নয়। কিন্তু দায়িত্বও অনেক বেশী। ধর্মের প্রভাবযুক্ত সমাজে তাই নারীদের সার্বিক স্বাধীনতা অনেক কম এবং চলার পথ কিছুটা হলেও কন্টকিত।
তারপরেও অম্ল মধুর অভিজ্ঞতার আলোতে আমি বলব নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা আমাদের মানসিকতা। আমরা নারীকে কোন সামাজিক দায়িত্ব দিতে চাই না। কিন্তু দেয়া হলে বোঝা যায় যে সে খুব ভাল ভাবেই কাজ করতে পারে। আর এভাবে থাকতে থাকতে আমাদের মনে এই ধারনা গেথে গেছে মেয়েরা আসলে পুরুষের নীচে। নারীর প্রতি তুচ্ছতা, অবজ্ঞা যেন আমাদের রক্তে মিশে গেছে। তারা অধিকারহীন হয়ে থাকবে এটা আমরা যেন মেনে নিয়েছি।
নারীকে প্রথমে ঠিক করতে হবে অধিকারের সংজ্ঞা। পাশ্চাত্যের সমতা নাকি তার স্বকীয়তা বজায় রেখে অধিকার আদায়। আমি দ্বিতীয়টির পক্ষে বলেই তিল তিল করে একটি পরিবার সাজাতে চেয়েছি। পরিবারের শক্ত ভিত্তির জন্য ধর্মের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমার পেশাগত ব্যস্ততা কিছুটা বাধা হয়েছে তবে পরিবারের অন্যদের সহযোগিতায় সেটা বড় বাধা হয়ে দাড়ায় নি।
একজন নারীর নারীসুলভ দায়িত্ব বাস্তবায়নে পুরুষের সহযোগিতা এবং দায় নেয়াটা জরুরী। তার পথে বাধা হয়ে থাকার চেয়ে সহযোগী হয়ে থাকা শুধু নারীর জন্য নয়, বরং সমাজের জন্যই উপকারী। আমি প্রচুর মানুষকে জানি যারা তাদের বাবাকে মন থেকে ঘৃনা করে শুধুমাত্র মায়ের প্রতি অবিচার করার কারনে।
নারীর মেধা বিকাশ সমাজের প্রথম কর্তব্য। বোগম রোকেয়ার একটি উক্তি দিয়ে শেষ করছি, "কন্যাগুলোকে সুযোগ্যা করিয়া ছাড়ইয়া দাও, তারা নিজেরা উপার্জন করিয়া খাক।" আমার মতে সুযোগ্যা করে দিলে শুধু উপার্জন নয় বরং জীবনের সব ক্ষেত্রেই সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।