লেখকের অন্যান্য পোস্ট


noakhaliweb group image www.noakhaliweb.com.bd
আপনার এলাকা, আপনার সংবাদ  

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপিত

লিখেছেন নোয়াখালী ওয়েব, ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৮

                       

''এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম-এই অজর প্রত্যয় ঘোষণার দিন ৭ই মার্চ। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদিনই দিয়েছিলেন সেই অমর ভাষণ। শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সকালে ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন-এর সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এই কর্মসূচিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবের হোসেন চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না, আব্দুল মান্নান ও আকতারুজ্জামানসহ কেন্দ্রিয় নেতারা ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়। এর আগে সকালে দলীয় কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দেশে জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকায় অন্যান্য বছরগুলোর মতো এবার পাড়ায়-মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ মাইকে বাজানো হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,"এদিন রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেটাকেই আমি স্বাধীনতার ঘোষণা হিসাবে মনে বলে করি।"
বঙ্গবন্ধু ভবনের কর্মসূচির পর ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেতারা শেখ হাসিনাকে ফুল দেওয়ার জন্য বিশেষ কারাগারের সামনে সমবেত হয়। সেখানে কোনো কারারক্ষী না আসায় নেতৃবৃন্দ কাঁটাতারের সামনেই ফুল রেখে চলে যান। বিকাল তিনটায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।
৭ মার্চে পটভূমি : এ দিনে বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে পাকিস্তানী শোষণ আর নিপীড়নের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত বাঙালিকে মুক্তির জন্য লড়াইয়ে প্রস্তুত হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। সেই লড়াই যে অনিবার্য ছিল তা প্রমাণিত হতে মাসও পেরোতে হয়নি। ২৫ মার্চের কালরাত্রি পাকিস্তানী জান্তা যে শ্বাপদসুলভ হিংস্রতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র মানুষের ওপর তাতে আর পেছনে ফেরার পথ ছিল না।
সবুজ জমিনে লাল সূর্যের মধ্যে হলুদে মানচিত্র আঁকা 'স্বাধীন বাংলার' পতাকা নিয়ে ১৯৭১ সালের এদিন সকাল থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রেসকোর্স ময়দানে আসতে শুরু করেন স্বাধীনতাকামী হাজার হাজার মানুষ। বিকাল তিনটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুরের আগেই কানায় কানায় ভরে যায় রেসকোর্স ময়দান। লাখো মানুষের অধীর প্রতীক্ষা কখন আসবেন তাদের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। কি দিকনির্দেশনাই বা দেবেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট পর বিকেল সোয়া তিনটায় সমাবেশে আসেন বঙ্গবন্ধু। তিনি সমাবেশ মঞ্চে এসে দাঁড়াতেই জনতা প্রিয় নেতাকে অভিনন্দন জানায় আকাশ-কাঁপানো স্লোগান আর মুহুর্মুহু করতালিতে। মাত্র ২০ মিনিটের অমর এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ডাক দিলেন পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম প্রস্তুতির। ছত্রে ছত্রে প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের বারুদ ঠাসা সেই ভাষণ আজ রূপ পেয়েছে মহাকাব্যের।
স্বাধীনতাকামী মানুষের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন বজ্রনির্ঘোষে উচ্চারণ করলেন বাঙালির প্রতি বঞ্চনা, তার ক্ষোভ আর আকাক্সক্ষার কথা। 'সাত কোটি মানুষকে আর দাবায়া রাখতে পারবা না' পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের জানিয়ে দিলেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য জনগণকে প্রস্তুতি নেওয়ার দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি ঐতিহাসিক সে ভাষণে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকারকে সামরিক আইন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিও ছিল সেই ভাষণে।
৭ মার্চের ভাষণে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না। তবে মুক্তিযুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল এর মধ্যেই। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, "তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হও।" তিনি বললেন, "মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।" ৭ কোটি বাঙালির প্রত্যাশাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধু যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্র"র বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নির্দেশ দিয়েছিলেন ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার। জনসমুদ্র থেকে মুহুর্মুহু স্লোগান উঠেছিল: 'জাগো জাগো বাঙালি জাগো', 'তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব', 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো'।
এদিন পূর্ব ঘোষণা সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করায় বেতারের বাঙালি কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক ধর্মঘট শুরু করে দেন। বন্ধ হয়ে যায় বেতারের সম্প্রচার। তবে গভীর রাতে কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর পূর্ণ ভাষণ সম্প্রচারের অনুমতি দেয়। আট মার্চ সকালে তার ভাষণ দিয়েই শুরু হয় ঢাকা বেতারের অধিবেশন।

  • ০ টি মন্তব্য
  • ১৪৪বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

আপনি এই পোস্টটি কোন মন্তব্য করতে পারবেন না

 

noakhaliweb group image

www.noakhaliweb.com.bd
আপনার এলাকা, আপনার সংবাদ

পোস্ট আর্কাইভ

সর্বমোট হিট

 ৩৬৮৮

মোট সময় লেগেছে ০.৩৫৭৯ সেকেন্ড