লেখকের অন্যান্য পোস্ট


notredamian group image যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততম এলাকায় একঝাঁক সবুজের সমারোহ। ভেতরে ঢুকলেই বাইরের কোলাহল মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়, মনে ভর করে অদ্ভুত এক অনাবিল প্রশান্তি। বোগেনভেলিয়ায় ঘেরা, সুনিবিড় সেই ক্যাম্পাসটি আমাদের, সকল নটরডেমিয়ানের। কুইজের জন্য ছুটতে ছুটতে সকালের ঘুমঘুম ভাব ত্যাগ, ফিজিক্স ল্যাবের গ্যাড়াকলে পড়ে ত্যানা হয়ে যাওয়া জীবন, কেমেস্ট্রী ল্যাবে এসি দাস স্যারের কটকটে ধমক, বায়োলজি ল্যাবে ভুঁইয়া স্যারের তিনপুরুষ ঝাঁকানো ঝাড়ি- সব ছাপিয়ে ক্লাস শেষে হুড়মুড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার আনন্দ। টেরেন্স স্যারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ক্যান্টিনে বসে আলুর চপে কামড় দেয়ার পাশাপাশি সিগারেটে দেয়া নতুন দুয়েক টান, ফাদার পিশোতোর বাচ্চাসুলভ আর কেয়ারিং ব্যবহার আর সর্বোপরি শান্ত ক্যাম্পাসের মন্ত্রমুগ্ধ হাতছানি।
এখানে আমরা এক হবো সবাই। আবার ফিরে যাবো ফেলে আসা সেই দিনগুলোতে। তুলনা হবে, স্মৃতিচারণ হবে সেদিন এবং আজকের নটরডেমের। নস্টালজিয়ায় ডুবে ভেসে আমরা সিক্ত হবো নতুন করে...।
 

জয় এ্যাট জয়নগর

লিখেছেন সুদীপ্ত সরকার, ১২ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:১৫

                       

"আমি কম্পিউটারের নাম শুনেছি, কিন্তু কখনও ছুঁয়ে দেখিনি। আমার জন্য কম্পিউটার শেখা একটি স্বপ্ন। আপনারা যদি আমাদের এখানে একটি কম্পিউটার শেখার জায়গা করে দেন, তাহলে আমার একটি স্বপ্ন সত্যি হবে।" - কথাটি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ঝন্টুর হলেও, এই স্বপ্নের শেয়ারহোল্ডার জয়নগর এস.সি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী। আর এই স্বপ্নের ফেরীওয়ালা বুয়েটের একদল টগ্‌বগে তরুণ যখন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার জয়নগর গ্রামে গিয়ে হাজির হল তখন শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে একটি সাধারণ রবিবার যথার্থই রবি-বারের রুপ নিল।

বস্টনে বসে আমাদের শুধু ছবি দেখার আর গল্প শোনারই সুযোগ হল, কিন্তু মাটি ও মানুষের প্রাণ-স্পন্দন কানে শোনা হল না। যাক্‌ - সেটুকুই বা কম কি! এইসব স্বপ্নের মাল-মশলা যোগাতে পারার আনন্দ আমাদের তৃপ্ত করে। সেই তৃপ্তির লোভেই আমরা হাত দিয়েছি "কম্পিউটারস ফর বাংলাদেশ" নামক একটি ছাত্র-কেন্দ্রিক উদ্যোগে।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্থ সহায়তায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভি.এ.বি - নিউ জার্সি এবং বাংলাদেশের ডি.নেট -এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত "কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রাম"-এর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা শুরু করতে যাচ্ছি একটু ভিন্নধর্মী, নূতন আরেকটি কম্পিউটার শিক্ষা কার্যক্রম যার ব্যবস্হাপনার পুরোটাতেই থাকছে ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবী কিছু যুবক - যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাংলাদেশে। অচিরেই এই উদ্যোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব বলে আশা রাখছি। আপাততঃ বুয়েটের একদল ছাত্রের একটি নূতন কম্পিউটার কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জয়নগর স্কুল পরিদর্শনের কিছু ছবি এখানে পোস্ট করছি।

  • ১ টি মন্তব্য
  • ৭৫বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১৬ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:০৩
comment by: ধুসর গোধূলি বলেছেন:

উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন।


আপনি এই পোস্টটে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না

 

notredamian group image

যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততম এলাকায় একঝাঁক সবুজের সমারোহ। ভেতরে ঢুকলেই বাইরের কোলাহল মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়, মনে ভর করে অদ্ভুত এক অনাবিল প্রশান্তি। বোগেনভেলিয়ায় ঘেরা, সুনিবিড় সেই ক্যাম্পাসটি আমাদের, সকল নটরডেমিয়ানের। কুইজের জন্য ছুটতে ছুটতে সকালের ঘুমঘুম ভাব ত্যাগ, ফিজিক্স ল্যাবের গ্যাড়াকলে পড়ে ত্যানা হয়ে যাওয়া জীবন, কেমেস্ট্রী ল্যাবে এসি দাস স্যারের কটকটে ধমক, বায়োলজি ল্যাবে ভুঁইয়া স্যারের তিনপুরুষ ঝাঁকানো ঝাড়ি- সব ছাপিয়ে ক্লাস শেষে হুড়মুড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার আনন্দ। টেরেন্স স্যারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ক্যান্টিনে বসে আলুর চপে কামড় দেয়ার পাশাপাশি সিগারেটে দেয়া নতুন দুয়েক টান, ফাদার পিশোতোর বাচ্চাসুলভ আর কেয়ারিং ব্যবহার আর সর্বোপরি শান্ত ক্যাম্পাসের মন্ত্রমুগ্ধ হাতছানি।
এখানে আমরা এক হবো সবাই। আবার ফিরে যাবো ফেলে আসা সেই দিনগুলোতে। তুলনা হবে, স্মৃতিচারণ হবে সেদিন এবং আজকের নটরডেমের। নস্টালজিয়ায় ডুবে ভেসে আমরা সিক্ত হবো নতুন করে...।

পোস্ট আর্কাইভ

সর্বমোট হিট

 ২৭৫৫

মোট সময় লেগেছে ০.০৫৭১ সেকেন্ড