লেখকের অন্যান্য পোস্ট
সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী অনেকেই আছেন যারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই গ্রুপ ব্লগটির সৃষ্টি মূলত সেইসব সমাজতন্ত্রীদের একটি সাধারন প্লাটফর্মে আনার প্রয়াসে। এই গ্রুপ ব্লগ থেকে আমরা ঐক্যের শক্তিতে দৃঢ়ভাবে সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। এই ব্লগীয় গ্রুপ শুধুমাত্র ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা। আমরা যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী তথা গণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামী সামিল হতে চাই তাদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ, গ্রুপ আড্ডা, বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালানো হবে। কারন আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রয়াসে অসম্ভব বলে কিছু নাই। জয় বাংলা, জয় সমাজতন্ত্র, জয় হোক দুনিয়ার মেহনতী মানুষের।
বিতর্ক-সমাজতন্ত্রের প্রায়োগিকতা
লিখেছেন িনেকা, ২৪ শে মে, ২০০৮ রাত ১১:১২
আমার অন্য কোন সমস্যা নাই। কিন্তু আমি নাম ধরে আলোচনা করবার ব্যাপারে ভাবছিলাম এজন্য যে, নাম ধরে আলোচনা শুরু হলে ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পর্যালোচনার পর্যায়ে পড়ে যায়। আর আমার আসল সমস্যা মনে হয় বামপন্থীদের প্রায়গিকতার সমস্যা। বিষয় বস্তু ও সারমর্ম একদম এক। কাজের পদ্ধতির বর্ণনাও এক। আর তত্ত্বগত পার্থক্যর প্রথম যেটা আমি বুঝি এই দলগুলোর তা হলো সাকি ভাইরা এদেশের বিপ্লবের স্তর বলে জনগণতান্ত্রিক, বাসদ বলে সমাজতান্ত্রিক আর সিপিবি বলে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক। এদের মধ্যে আবার একদল আর এক দলকে ক্রমাগত সোস্যাল ডেমোক্রেটিক বলে গালাগালি করে যাচ্ছে। আমার একটা কথা মনে হচ্ছিল যে আমাদের দেশে প্রয়োগিক সমাজতন্ত্র নামে কিছু একটা চালু করা দরকার। কাজের গতি বাড়ানোর জন্য। আর আদর্শিক বিতর্ক এর জন্য সবগুলো দল মিলে একটা পত্রিকা বের করুক যাতে সব দল তার বক্তব্য-সমালোচনা করবে। এবং এই পত্রিকাটি সবাই নিজেদের কর্মীদের মধ্যে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়ে যাবে। সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীরাই সঠিক দল ঠিক করে নিক। তৈরী করে নিক। আবার একটা কথা তো ঠিক যে এদেশে সাধারণ মানুষের যা কিছু অর্জন তার সব গুলোতেই বামরাই সবসময় অগ্রগামী এবং নেতৃত্ব দানকারী। আদর্শিক এবং নৈতিক জায়গাগুলোতে এরাই ক্রমাগত লড়ে চলছে। এখনও পর্যন্ত এদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য তেল-গ্যাস-বন্দর-কয়লা সব ক্ষেত্রেই এরাই লড়ছে। কিন্তু জনসংযোগ অর্থাৎ সাধারন মানুষের মধ্যে আরও বেশি মাত্রায় যাওয়া এদের সাথে থাকা এদেরকে আদর্শিক ভাবে উদ্বুদ্ধ করে একটা সামাজিক আন্দোলনে নিয়ে আশা এই সবগুলো জায়গাতেই এরা বর্তমানে শোচনীয় অবস্থায় আছে। এই সমস্যা অতি দ্রুত দূর করা উচিত।

- মন্তব্য লিখুন
- ৫০টি মন্তব্য
- ৩১৮বার পঠিত
আপনাকে আরেকটি অনুরোধ করবো। সেটি হলো পোস্টের শিরোনামের আগে বিতর্ক পোস্ট লাগিয়ে দিন। আমাদের বেশ আগের ঘোষণা ছিল, আমরা বিভিন্ন সময়েই এমন বিতর্ক পোস্টের আয়োজন করবো। কিন্তু নানা কারণে হয়ে ওঠে নি। আপনার পোস্ট দেখে মনে হলো, এ পোস্ট টি একদম পারফেক্ট এরকম একটি বিতর্ক আয়োজনে।
আপনি আপনার ব্লগে আপনার এই পোস্টের নীচের দিকে এডিট করুন অপশনে গিয়ে শিরোনামটি পাল্টে ফেলুন। এরকম হতে পারেঃ
বিতর্ক পোস্টঃ সমাজতন্ত্রের প্রায়োগিকতা
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
নিকো,
আপনার পোস্ট পড়লাম, এর আগের পোস্টও পড়েছিলাম। সেখানে সম্ভবত বলেছিলেন যে আপনি দশ বছর বাম দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। এতদিনের অভিজ্ঞতার পরেও "ঘোড়ার ডিমের বিপ্লব" কথাটি জুতের মনে হলো না। যাহোক, অনেক কিছুই বলা যেত, কিন্তু সময়াভাবে বলা হলো না, পরে সময় করে হয়তো বলবো।
তবে, যে আলোচনার সূত্রপাত সমাজতান্ত্রিক ফোরাম করেছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, অন্যরা সাড়া দিবেন।
িনেকা বলেছেন:
ঘোড়ার ডিমের বিপ্লব একটা কথার কথা। বোঝাতে চাচ্ছিলাম যে বিপ্লবের স্তর নিয়ে এই মুহুর্তে এত বিতর্ক করে লাভ কি? স্তর যাই হোক না কেন সাধারণ কিছু কর্মসূচীতে একত্রিত ভাবে কাজ করলেই তো হয়। তাতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ে আর আরও বেশি মানুষের কাছে যাওয়া যায়।
দিনমজুর বলেছেন:
তবে এটা ঠিক যে, কর্মী লেভেলে তো বটেই- নেতাদের মধ্যেও দলগুলোর আদর্শিক-রাজনৈতিক-তাত্ত্বিক বিরোধের জায়গাগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক খুবই কম হয়। এটা বলতে গেলে আমাদের সমস্ত বামদলেরই একটা সীমাবদ্ধতা। আপনিও তার এক বড় উদাহরণ বলা যেতে পারেন। আপনি ১০ বছর দলীয় রাজনীতি করার পরেও ধরতে পারেন না- সিপিবি-বাসদ-গণসংহতি দের আলোচনার পার্থক্য!!!
বেশ অবাক হতেই হয় বৈকি!!
সিপিবি-ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়ামিলীগের সাথে সম্পর্ক, ওয়ার্কার্স পার্টির নগ্নভাবে আওয়ামী ঘনিষ্ঠতা ও সিপিবির দোদুল্যমানতা, বাসদ-গণসংহতির বা ৫ বাম দলের-বিপ্লবী জোটের আওয়ামী-বিএনপি থেকে দূরত্ব, কিন্তু বাসদের কামালকে সাথে নেয়া, গণসংহতির তার বিরোধিতা, নির্বাচন প্রসঙ্গে পার্থক্য, কর্মসূচীগত পার্থক্য- এই সরকারকে এনালাইসিসের ক্ষেত্রে পার্থক্য- এটি বুর্জোয়া সরকার নাকি হামিদ কারজাই এর মত সাম্রাজ্যবাদীদের পুতুল সরকার, এসব নিয়ে দলগুলোর পারষ্পরিক বিরোধের জায়গাগুলো কি চোখে পড়াটা খুব কঠিন- তাও ১০ বছর রাজনীতির অভিজ্ঞতা থাকার পরেও।
হুম, এখনকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে- জনগণের দুর্দশা-দুর্ভোগ এসগুলোর আলোচনায় আপনি একের সাথে অপরের আলোচনার পার্থক্য পাবেন না। (সেটা হয়তো এমনকি আওয়ামীলিগ-বিএনপির-এলডিপি এদের আলোচনার সাথে কখনো কখনো বামদের আলোচনার পার্থক্য পাবেন না)। কিন্তু, এসবে দুর্ভোগ-দুর্দশার কারণ-প্রতিকার এগুলোর দিকে যখন আলোচনা টার্ণ করে, তখনোই দেখবেন সিপিবি-বাসদ-গণসংহতি এরা একেকজন একেকরকম আলোচনা করছে।
আর, বিপ্লবের স্তর নির্ধারণ- বিপ্লবের স্থানটির অর্থনৈতিক কাঠামো তথা উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্লেষণ খুবই জরুরি একটি কাজ যেকোন বামপন্থী দলের জন্যেই। আপনি গোথা কর্মসূচি নিয়ে মার্কসের সমালোচনাটি পড়লে বুঝবেন। সেখানে তিনি পরিষ্কার দেখিয়েছেন- শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে - সমস্যা সংকট নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন যেসব কর্মসূচি নিয়েছে, আন্দোলন করছে, সেগুলো করতে হবে ঠিক আছে, কিন্তু সেখানে পরিষ্কার কোন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী না থাকলে, সঠিক শত্রু-মিত্র না চিনলে, আক্রমণের অভিমুখ নির্ধারণ করতে না পারলে- সবই এক পর্যায়ে ব্যর্থই হবে।
আজকের দিনেও এই শিক্ষা খুবই কার্যকরী। আপনি চারদিকে অসংখ্য নাগরিক সমস্যা পাবেন, কোন সন্দেহ নেই এগুলো এই সমাজ কাঠামোরই সৃষ্টি এবং এসব সমস্যা-সংকটকে নিয়ে অনেক বড় বড় গণআন্দোলন গড়ে ওঠাটাও জরুরী। কিন্তু সাথে সাথে এটাও মনে রাখা দরকার, এসব গণআন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দান করছে, তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীও খুব জরুরী। এবং এটাও মনে রাখবেন যে, একটি বামদল এসব গণ আন্দোলনে যায় আরো বড় উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই- সেটি হলো তাদের আলটিমেট গোল- একটি বিপ্লব। ফলে, সেই বিপ্লবের স্তরটি কেমন হবে, এ সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গীও তাদের কর্মসূচি-গণআন্দোলনের যুক্ত হওয়া এসব অনেক কিছুকে প্রভাবিত করে।
শেষে একটি উদাহরণ দেই, হয়তো পরিষ্কার হবে, ৫ বাম দল ও বাম মোর্চা যখন ন্যুনতম ঐক্যের (জরুরি অবস্থা, সম্পদ লুন্ঠন, দ্রব্যমূল্য প্রভৃতি) ভিত্তিতে কর্মসূচী নির্ধারণে বসেছিল- তখন কর্মসূচির ধরণ নিয়েও দ্বিমত হচ্ছিল। সেটি হলো একপক্ষ চাচ্ছিলো, কর্মসূচীগুলো হবে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও- বিশ্বব্যংক-আইএমএফ-এডিবি কার্যালয় অভিমুখে অভিযান এসব; আরেক পক্ষ চাচ্ছিলো তত্তাবধায়ক সরকারের কার্যালয়, সচিবালয়, প্রধান উপদেষ্টা অভিমুখে কর্মসূচী। এ ধরণের পার্থক্য বুঝতে গেলে আপনার অবশ্যই উভয়ের এই সরকারকে বিশ্লেষনের জায়গাটি বুঝতে হবে, এক পক্ষের কাছে এটি হামিদ কারজাইএর মত দালাল সরকার, আরেক পক্ষের কাছে এটি বুর্জোয়া সরকার। এখানকার বুর্জোয়াদের ধরণ নিয়েও তাদের মধ্যে যে পার্থক্য- সেটিও বুঝা দরকার বৈকি! এক পক্ষ মনে করে এখানকার বুর্জোয়া মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া- আরেক পক্ষ মনে করে জাতীয় বুর্জোয়া। ফলে, এগুলোকে আপনি অস্বীকার করে, বা উড়িয়ে দিয়ে কেন তারা এক হতে পারছে না বলে হা-হুতাশ করতে পারেন না!!
তবে, এটুকু অবশ্যই স্বীকার করি- সমস্ত দলের মধ্যেই এসব অবস্থানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হারে তর্ক-বিতর্ক হওয়া উচিৎ। বামপন্থীদের প্রচুর প্রকাশনা থাকা উচিৎ।
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
আমি সমাজতিন্ত্রিক নই। তবে সমাজতন্ত্রের ব্যাপারে আমার আগ্রহ আছে। তবে খোদ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং আর এক বৃহৎ কমিউনিস্ট রাস্ট্র চীনের পুজিবাদকে গ্রহন করে নেয়ার পর কমিউনিজমকে ব্যার্থ আদর্শ ছাড়া আর কিছু বলা যায় কি? অনেকে বলে থাকেন - সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের পতনের কারণ নাকি প্রায়োগিক অযোগ্যতা। সমাজতান্ত্রিক ব্যাবস্থার কোন ত্রুটির জন্য তা ব্যার্থ হয় নি। আমার কাছে ব্যাপারটা তেমন মনে হয় না। একটি উদাহরণ দেই -আমি যতটুকু জানি সমাজতান্ত্রিক রাস্ট্রের অন্যতম মুলনীতি হচ্ছে - "রাস্ট্রের নাগরিকগন তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী রাস্ট্রের সেবা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্ট্র থেকে সুযোগ সুবিধা পাবে।" যদি এটা সত্যিই সমাজতন্ত্রের মুলনীতি হয়ে থাকে(আমি ঠিক নিশ্চত নই - সম্ভবত ছাত্র ইউনিয়নের কোন বন্ধুর কাছ থেকে এরকমই শুনেছিলাম) তাহলে তো এটাকে একেবারে অবাস্তব একটা নীতি বলে মনে হচ্ছে। কারণ এখানে যে যোগ্যতা এবং প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে তা পরিমাপ করবে কে? একজন মানুষের সবধরনের যোগ্যতা কি পরিমাপ যোগ্য? যে মানুষ এটা পরিমাপ করার দায়িত্বে থাকবে সে কি তার নিকটজনেদর ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব করবে না? আর প্রয়োজন? মানুষের প্রয়োজনের কি শেষ আছে? যার একটি গাড়ি আছে তার কি আর একটি গাড়ি প্রয়োজন নয়? যারা মানুষের প্রয়োজন নির্ধারন করবে তারা কি পক্ষপাতিত্ব করবে না?
আমার মনেহয় সমাজতন্ত্রের এই নীতি সঠিক ভাবে কেবলমাত্র তখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে যখন মানুষের প্রয়োজন আর যোগ্যতা মাপার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরেসতাকে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে। মানুষকে দিয়ে এ'ধরনের নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সম্ভবত এ'কারনেই সমাজতন্ত্র তার জন্মভুমিতেই ব্যার্থ হয়েছে।
প্রায়োগিক সমাজতন্ত্র নামে নিকো যেই তত্ত্বের সম্ভাবনার ধারণা নিকো দিতে চাইলো তাতে আমার নিজের বাসদ থেইকা দূরে সইরা যাওনের মুহুর্তের কথা মনে হইলো...আমি বাসদের অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রায়োগিকতা আছে বইলাই প্রথম প্রতিবাদ করছিলাম। প্রায়োগিকতা একটা বুর্জোয়া ঝোঁক ছাড়া আর কিছু না, আর কিছু হইতে পারে না। জন ডিউই সাহেব বাঁইচা থাকলে নিকো'র উপরে বেজায় তুষ্ট হইতেন...(যদি এই তত্ত্ব নিকো'র নিজের মস্তিষ্ক প্রসূত হয়)...প্রায়োগিকতামতোই পুঁজিবাদের জন্মে-জন্মান্তরেপরিবর্তন হইছে রূপান্তর হইছে...সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণেও সেই তত্ত্বের আগ্রাসন ভালোই পেটিত্ব হইবো!
একটা দেশের উৎপাদন সম্পর্ক ঠিক না করতে পারলে এমনকি সেইখানকার ইস্যূভিত্তিক কোন আন্দোলনে বামপন্থীরা যূথবদ্ধ অংশগ্রহণ করতে পারে কি না সেইটা নিয়াই আমার সন্দেহ আছে...আমার শত্রু কে, মিত্র কে এইসব না জাইনা কেমনে আমি একটা আন্দোলনে থাকি বা না থাকি!?
নিকো সম্ভবতঃ লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য'এর মধ্যে যেই পার্থক্য আছে তার গোলকধাঁধাঁয় পইরা আন্ধা হইতে চাইতেছে...গমনের পথ আর গন্তব্য নিয়া যেই আলোচনা আছে তার মধ্যে নিমজ্জিত নিকোর অপরিপক্কতা...মার্ক্সিয় সকলের গন্তব্য এক হওনে স্বাভাবিক নিয়ম মতোই সকলের সেমিনারে পঠিত বক্তব্য এক লাগতেই পারে...সকলের কমন শত্রুওতো আছে...কিন্তু পথের ভিন্নতা বিচার তো করতেই হইবো...পথ চিন্হিত করনের পদ্ধতিটাতো অবশ্য বিচার্য!
আমি জানি নিকো আমার আক্রমনমূলক মন্তব্যে ব্যথিত হইতে পারে...কিন্তু তারে চিনি বইলাই সরাসরি অনুভূতি প্রকাশ করলাম।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন:
বিতর্কটা জমে উঠুক। আমি পরে শেয়ার করবো।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন:
আমাদের প্রিয় ব্লগার নিকো "সমাজতন্ত্রের প্রায়োগিকতা" শীর্ষক তার একটি পোস্টে একটি আলোচনা উপস্থাপন করেছিলেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের বাম দলগুলোর বিরোধ নিয়ে একটি সমালোচনা করেছেন। এই আলোচনাটি নিয়ে সমাজতান্ত্রিক ফোরাম গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে একটি ওপেন বিতর্ক হোক। মূল আলোচনার সাথে যুক্ত করে তিনটি প্রশ্ন নির্ধারণ করার জন্য ধন্যবাদ।
এই বিতর্কে অংশ নিতে আমিও আগ্রহী।
এবং আমার মতামতটি জানাবো অবশ্যই।
১। বাম দলগুলো বহুধা বিভক্তির সঙ্গত কারণ রয়েছে। নেতাদের বক্তৃতা শুনলেও পার্থক্য আছে বলে স্পষ্টভাবে মনে হয়।
২। বিপ্লবের স্তর অবশ্যই জনগণতান্ত্রিক।
৩। আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও উৎপাদন পদ্ধতি সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর আমলা মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া শ্রেণীর নেতৃত্বে আধা পুঁজিবাদ, আধা সামন্তীয় (সামন্তের অবশেষ)।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা পরবর্তীতে যোগ করবো................................
িনেকা বলেছেন:
অনেকে এই লেখা পড়ে অনেক মন্তব্য করেছেন। সবাইকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে ভাষ্করদাকে(ওনার গালির জন্য)। পোষ্টটা মূলত এদেশের বামপন্থী আন্দোলনের দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে হতাশার বহিপ্রকাশ। আমার লেখার ছেলেমানুষী দেখে হয়তো বিরক্ত হয়েছেন অনেকে। কিন্তু একটা কথা এই যে বিপ্লব সম্পর্কে কোন দলের বা কাদের স্বচ্ছ ধারণা আছে? কারা ঠিক? প্রত্যেক দলীয় আলোচনায় তো নেতারা অন্যদলের ভূল আর নিজের দলের সঠিকতার কথা তুলে ধরে। তাই না? একই আন্তরিকতা আর সঠিকতার দাবি নিয়ে সাকি ভাইরা বলেন বিপ্লবের স্তর জনগণতান্ত্রিক, জামান ভাইরা বলেন সমাজতান্ত্রিক আর সেলিম ভাইরা বলছেন বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক। তাহলে যারা আপনারা বিপ্লব সম্পর্কে অনেক স্বচ্ছ ধারণা রাখেন তারা বলবেন কি কারা ঠিক এবং কেন? এদেশের বর্তমানের সরকার কি হামিদ কারজাই মার্কা পুতুল সরকার না দেশী বুর্জোয়া সরকার এই বিরোধে কোন পক্ষ ঠিক? আর যেই পক্ষই ঠিক হোক না কেন, কোন পক্ষই কি এই সময়ে কিছু করতে পেরেছে যেটা বামদলগুলোর কাঙ্খিত লক্ষ্য "বিপ্লব" এর লাভ হয়েছে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি তাদের এই মূল্যায়ন নিয়ে কি মানুষের মধ্যে আসতে পেরেছে? তাহলে এত কথার লাভ কি?
দিনমজুর বলেছেন - "এক পক্ষ মনে করে এখানকার বুর্জোয়া মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া- আরেক পক্ষ মনে করে জাতীয় বুর্জোয়া। ফলে, এগুলোকে আপনি অস্বীকার করে, বা উড়িয়ে দিয়ে কেন তারা এক হতে পারছে না বলে হা-হুতাশ করতে পারেন না!!" আমি নাহয় হতাশ হলাম না বা হা-হুতাশ করতে পারলাম না তাতে কি বামদের কোন লাভ হবে। আপনারা আমাকে বলছেন যে দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য আছে এবং পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। মেনে নিলাম। কিন্তু প্রত্যেক দলগুলোর প্রাথমিক স্তরের কর্মীদেরই তো সমস্ত অসুবিধা মেনে নিয়ে-খেয়ে না খেয়ে কাজ করতে হয় এবং তারা করেও যায়। কিন্তু এদেশের বাম আন্দোলন তো শুধু মাত্র এখন কতগুলো ক্যাম্পাসে আশ্রয় করে আছে। বামদের শ্রমিকদের মধ্যে কোন শক্তিশালী সংগঠন আছে? যারা জাতীয় পর্যায়ে কোন ভূমিকা রাখতে পারে? কৃষকদের মাঝে? আমি প্রায়োগিতার কথা বলছিলাম এজন্য যে শুধু কথায় তো চিড়া ভিজে না। এদেশে বামপন্থী আন্দোলন ক্রমাগত দুর্বল থেকে দুর্বল হচ্ছে আর অন্যদিকে মৌলবাদী চিন্তাচেতনা শক্তিশালী হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের দেশের বর্তমান সরকার জাতীয় বুর্জোয়া হোক বা দালাল বুর্জোয়া হোক পার্থক্য কি তৈরী হচ্ছে বললে আমার বিপ্লব সম্পর্কে ধারণা হয়তো আর একটু পরিস্কার হতো।
এর মধ্যেই যারা এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, তাদের সকলকে অনেক ধন্যবাদ। আশা করি, অন্যরাও এই আলোচনায় অংশ নিবেন। জামাল ভাস্করের আলোচনায় ওনার অভিজ্ঞতা থেকে চমৎকার কিছু কথা-বার্তা এসেছে, তিনি বাসদের সাথে যুক্ত ছিলেন। সৈয়দ আমিরুজ্জামান পরে আরো আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা জানি তিনি বর্তমানে ওয়ার্কার্স পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। নিকো ও দিনমজুরের আলোচনায় দলের নাম উল্লেখ পূর্বক কিছু পার্থক্য বা বিরোধের কথা উঠে এসেছে। নিকোর শেষ কমেন্টে যে প্রশ্ন, "কোনটি সঠিক? প্রত্যেক দলই তো নিজেদের সঠিক আর অন্যদের ভুল মনে করে"!!!
আশা করি, সকলে এই বিষয়টিতেও দৃষ্টি দিবেন।
সিপিবির সাথে একসময় যুক্ত ছিলেন বা এখনো আছেন এমন সদস্যও আমাদের এখানে আছেন (সাম্যবাদী), গণসংহতির সাথে যুক্ত আছেন বা ছিলেন এমন ব্লগারও আছেন (ফারুক ওয়াসিফ)। আশা করি ওনারা সকলে মিলে এই আলোচনা/বিতর্ককে অনেক দূর এগিয়ে নিবেন।
তবে, দিনমজুর, তারিক টুকু, জামাল ভাস্করের লেখায় যে বিরক্তি ফুটে উঠেছে- তা পরিহার করলেই মনে হয় ভালো। নিকো এখানে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছে, সেটি কিন্তু একধরণের চিন্তাকেই প্রতিফলিত করে। এবং এই মতকে আপনারা কোনমতেই অস্বীকার করতে পারবেন না, কারণ এটি আমাদের এখানে দারুন ভাবে বিরাজ করে, শুধু যারা বামবিরোধী বা ডান তাদের মধ্যেই না- বরং যারা বাম মনোভাবাপন্ন তাদের মধ্যেও কিন্তু এ ধরণের হতাশা রয়েছে। সুতরাং, সেটিকে এরকম বিরক্তি দিয়ে উড়িয়ে দেয়া মোটেও উচিৎ নয় বলেই মনে করি।
আজকে, আমরা বামদের দিকে তাকালে কি দেখি। শতবিভক্তি ছাড়া আর কিছু দেখা যায়? ১১ দল, বাম ফ্রন্ট কেন কার্যকর হলো না? আওয়ামীলীগ-বিএনপির বাইরে বাম বিকল্প গড়ার যে আহবান তারা জানিয়েছিল, সেই বিকল্প হিসাবে কি নিজেদের গড়ে তুলতে পেরেছে? কেন পারলো না, যেখানে জনগণ আজ বিকল্পের অভাবে অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে!!! এসব আলোচনা, বামদের নিয়ে চুলচেরা পর্যালোচনা বাম আন্দোলনের স্বার্থেই প্রয়োজন।
আশা করি, আপনারা এ বিষয়টি মাথায় রেখে আলোচনায় অগ্রসর হবেন।
সকলকে আবারো ধন্যবাদ।
দিনমজুর বলেছেন:
একমত@ জামাল ভাস্কর
@নিকো,
দেখুন, আপনি দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলেছেন। আপনার হতাশা হলো- বামদলগুলো কি করতে পারলো, বা পেরেছে! সেটার সাথে মিলিয়ে, আপনি তার কারণ হিসাবে বলছেন বা দোষারোপ করছেন যে, এই সব বিতর্ক-বাকবিতন্ডা-পার্থক্যকে। আপনি বলেছেন যে, "যেই পক্ষই ঠিক হোক না কেন, কোন পক্ষই কি এই সময়ে কিছু করতে পেরেছে যেটা বামদলগুলোর কাঙ্খিত লক্ষ্য "বিপ্লব" এর লাভ হয়েছে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি তাদের এই মূল্যায়ন নিয়ে কি মানুষের মধ্যে আসতে পেরেছে? তাহলে এত কথার লাভ কি?"
এখানেই হলো আপনার চিন্তার সবচেয়ে দৈন্য ধরা পড়ছে। আপনি সম্ভবত বুর্জোয়া দলগুলোর স্টাইলে ঐক্যকে বেশী চোখে দেখছেন, শত বিভক্তি- এসপার ওসপার দলাদলি-মারামরি-ফাটাফাটি নিয়েও ওরা কি সুন্দর একই দলের ডেডিকেটেড নেতা-কর্মী, মুজিব/জিয়া বা হাসিনা/খালেদা কি সুন্দর ওদেরকে একত্রিত করে রাখে; তেমনি বামরাও তো এক হতে পারে, মার্কস/এঙ্গেলস তাদের এক রাখবে!! এমন যদি আপনার চিন্তা হয়- তবে বলতে হয় আপনি মার্ক্সিজমই বুঝেন নি। বা আপনি ইতিহাসও বেশী পাঠ করেননি। আপনাকে একটি পরামর্শ দেই, আপনি বলশেভিক পার্টির ইতিহাসটি একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, সাথে লেনিনের লেখা গুলোও পড়েন- আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব পাবেন।
এখানে ধরলাম ২০টি আলাদা আলাদা বামদল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়ে আছে। এখন এরা তাদের সমস্ত মতভেদ, তাত্তিক বিরোধকে পাশ কাটিয়ে আড়াল করে, ২০ টি দল এক দলে পরিণত হলেই কি আপনার সেই কাঙ্খিত "বিপ্লবের" পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে? একটু চিন্তা করে দেখবেন। এভাবে শক্তি বৃদ্ধি করে, বুর্জোয়া দলগুলো উপকৃত হতে পারে, নির্বাচনে বেশী ভোট আদায়ও করা সম্ভব- কিন্তু এভাবে কোনদিনই বাম শক্তির বিকাশ সম্ভব বলে মনে হয় না। এটাও একধরণের বুর্জোয়া মানসিকতার প্রতিফলন।
আর, কেনো বামরা পারছে না বা পারলো না- সেটি কারণ অনুসন্ধান করা আসলেই জরুরী, কিন্তু সেটা আপনার মত হতাশাগ্রস্ত হয়ে করলে যথেষ্ট বিপদ। কেননা, এমন করলে আপনার উপরের পোস্টের - কমেন্টের মত আলোচনাই বের হবে। আপনি যেখানে বললেন, "....মেনে নিলাম। কিন্তু প্রত্যেক দলগুলোর প্রাথমিক স্তরের কর্মীদেরই তো সমস্ত অসুবিধা মেনে নিয়ে-খেয়ে না খেয়ে কাজ করতে হয় এবং তারা করেও যায়। "
এই যখন আপনার অবস্থান হয়, তখন আপনার দৃষ্টিভঙ্গী নিয়েই প্রশ্ন তুলতে হয়!! কেননা আপনার আলোচনায় যে নেতা-কর্মীর দেয়াল তুললেন সেটি বুর্জোয়া দলের জন্য স্বাভাবিক, কিন্তু একটি বাম দলে ১০ বছর কাজ করেও যখন এমন বলেন- তখন অবাক না হয়ে পারা যায় না। বামপন্থী আপনি যত নেতা দেখবেন, আমার মনে হয় সকলেই জীবনে যথেষ্ট সংগ্রাম করেই নেতা হয়েছেন- যতই তাদের দৃষ্টিভঙ্গীতে যেরকম সমস্যা থাকুক না কেন? মনি সিং, ফরহাদ এরা যে অংশের বিশাল কৃষকদের মধ্যে পড়ে থেকে কাজ করেছে, মনজুরুল আহসান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার পরে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে কাজ গড়ে তোলার জন্য টি বয় হিসাবে কাজ শুরু করেছেন, খালেকুজ্জামান ট্রেড ইউনিয়ন থেকে এসেছেন, মোশরেফা মিশু যেভাবে গার্মেন্টস শ্রমিদের ভিতরে ঢুকে ঝুকি নিয়ে কাজ করেন ... এগুলো যদি আপনার চোখকে ফাকি দেয়, দিয়ে বলেন নেতারা এসব বিরোধ তৈরি করে রাখে, আর কর্মীরা খেয়ে না খেয়ে কাজ-কাম করে- তখন খুব অবাকই লাগে!!
িনেকা বলেছেন:
আপনি যে সময়ের কথা বলছেন তখন এনারা এরকম করতো বলেই তো এদেশে একসময় বামপন্থীরা অনেক শক্তিশালী ছিলো। আপনি ফরহাদ-মনি সিং থেকে শুরু করে অজস্র নেতা কর্মী একসময় ছিলেন যাদের সংগ্রামে বামপন্থীরা এদেশের মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধার জায়গা করে নিয়েছিল। মানুষ তো এদের দিকেই তাকিয়ে থাকতো। আমি তাদের সংগ্রামকে কখনওই অশ্রদ্ধা করি না। কিন্তু আপনি এখনকার কথা বলেন। এখন মনজুরুল আহসান খান- মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম-খালেকুজ্জামান-রাশেদ খান মেনন-বদরুদ্দীন উমর-জোনায়েদ সাকি এদের ব্যক্তিগত জীবনে কি সেই সংগ্রামটা আপনি দেখেন? ব্যাক্তিগত জীবনে এখন এদরে কেউই কি শ্রমিকদের মধ্যে বা কৃষকদের মধ্যে থেকে এখন কাজ করেন? কেন করনে না? আর ওনারা না করলেও নিশ্চয়ই ওনাদের দলের কেউ না কেউ করে। কিন্তু তাহলে ক্রমাগত এসব জায়গায় বামরা তাদের শক্তি সামর্থ্য হারাচ্ছে কেন? যান্ত্রিক ভাবে সবদলগুলোর এক হয়ে যাওয়ার কথা আমি বলিনি। কিন্তু সমাজ মননকে প্রভাবিত করবার জন্য অর্থাৎ সমাজে বিজ্ঞান মনষ্কতা বাড়াবার জন্য সবদলগুলো একটা সমন্বিত চেষ্টা করতে পারে কিনা সেটাই আমার কথা ছিলো। উদাহরন ও তো অন্য একটা লেখায় দিয়েছিলাম যে একটা পত্রিকা যেখানে সব ধরনের খবরের পাশাপাশি দলগুলো তাদের চিন্তাও তুলে ধরবে। বিস্তারিত ভাবে। দেখেন আমার চিন্তার অপরিপক্কতা নিয়ে আপনারা হয়তো বিরক্ত হচ্ছেন। কিন্তু আমি বলছি এজন্য যে আমি তো চাই যে সমাজে একটা সুস্থ পরিবেশ চলুক। এই যে দেখেন সামান্য একটা কার্টুন আকা নিয়ে একজনকে জেলে যেতে হলো বা নারীনীতি নিয়ে এই যে ঝামেলাটা হলো। সেখানে আমরা কি কিছু করতে পেরেছি। আমরা কেউই কিন্তু মনে মেনে নেইনি। তারপরও গায়ের জোরে কিন্তু পারিনি। ৯১ -এ বাবরি মসজিদ নিয়ে যে দাঙ্গা তখন এদেশে বামরা দাঙ্গা বিরোধী যে অবস্থান নিতে পেরেছিলো এবং সমাজেও সহনশীলতার মাত্রা অনেক ছিলো কিন্তু এখন এমন কিছু হলে অবস্থাটা কি হবে বলেন? আমরা কি একই শক্তি নিয়ে দাড়াতে পারবো মানুষের সামনে?
িনেকা বলেছেন:
আরও দেখেন এখন ২থেকে ৩ টা টিভি চ্যানেল আছে যেখানে সবসময় ধর্ম নিয়ে আলোচনা হয়। পিস টিভি আর ইসলামিক টিভি। অন্যান্য চ্যানেলেও ধর্ম বিষয়ক অনুষ্ঠান হচ্ছে। সেখানে ক্রমাগত প্রচার করা হচ্ছে ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব। এমন কি কিছু কিছু অনুষ্ঠান আছে যাদের উপস্থাপনা অতি চমৎকার। সেখানে বিবর্তনবাদ যে ঠিক না তার উপর উপস্থাপনা যে কি চমৎকার না দেখলে বিশ্বাস করবেন না। তো মানুষের মধ্যে ক্রমাগত এইসব সবসময় যেতে থাকলে কি সমাজে যুক্তিবাদী একটা মনন থাকে? গড়ে উঠতে পারে? সেখানে প্রতিরোধটা কি জরুরী না? আর একটা উদাহরন দেই। তসলিমা নাসরিন উনি ঠিক লেখুক কি ভুল সেটা আলোচ্য না- তার জন্য যে ওনাকে দেশ থেকে চলে যেতে হলো এটা কি আমাদের জন্য একটা অপমান না। যে এদেশে মুক্তচিন্তার একটা পরিবেশ আমরা রাখতে পারি না। রক্ষা করতে পারি না। বামদের ব্যার্থতা খুজতে গেলে কি এদিকেও নজর দেয়া দরকার না?
দিনমজুর বলেছেন:
দেখুন, আপনি সম্ভবত আমার আলোচনার ভারকেন্দ্রটি বুঝতে পারছেন না!!!
এদেশের বামরা কি করতে পারত, কি পারেনি, তাদের ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ করা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই। কেন পারলো না, এখনো কতখানি পারছে, কেন পারছে না.. এসব খুবই জরুরি আলোচনা। কিন্তু আপনার পোস্টের সূচনা যখন এমন হয় যে, আপনি দশ বছর রাজনীতি করার পরেও বিভিন্ন বামদলের বক্তৃতার পার্থক্য বুঝতে পারছেন না- সকলে একই ধরণের কথা বলে- তাদের মধ্যকার পার্থক্য শুধু কিছু তাত্ত্বিক পার্থক্য- সেগুলো নিয়ে অযথা মাথা ঘামিয়ে আলাদা থেকে কি লাভ হয়েছে, এই অহেতুক বিরোধের জন্যই আজকে বামদের এই করুন দশা (এমন ইমপ্রেশনই আমি পেয়েছি আপনার পোস্ট থেকে)..... , তখন আমি আপনার সাথে একমত হতে পারিনা।
যখন মনি-ফরহাদ ভাইরা শ্রমিকদের মধ্যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন বা তোলার চেষ্টা করেছিলেন, তখনো কিন্তু অনেকগুলো বাম দল ছিল, বিভিন্ন ধরণের জোট ছিল, স্ব স্ব তাত্ত্বিক বিরোধমূলক অবস্থানও ছিল, এমনকি সিপিবি সেই বাকশালেও যোগদান করেছিল, ফরহাদ গিয়ে জিয়ার সাথে খাল কাটা কর্মসূচিতে ফটো সেশনও করেছিলেন!!
সুতরাং, আপনি যদি বলেন, এখন বামদের করুন অবস্থার কারণ তারা শ্রমিকদের মধ্যে যায় না, কৃষকদের মধ্যে যায় না... ইত্যাদি বলেন, তারও একটা মানে আছে। তখন সেটাকে কেন্দ্র করে দেখা যেতে পারে, কে যাচ্ছে না, বা যে যাচ্ছে সে কিভাবে যাচ্ছে, বা কে যেতে পারছে না... ইত্যাদি বিষয়ও পর্যালোচনা হতে পারে। কিন্তু, আপনি যদি শুধু শ্রমিক-কৃষকদের কাছে যাওয়াকে প্রধান করতে গিয়ে, তাত্তিক অবস্থান, দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা- অর্থনৈতিক কাঠামো, শত্রু-মিত্র নির্ধারণ এসবকে গৌন করেন, তবে বলবো ভুল করছেন।
আর, শুধু হা-হুতাশ করাও কোন কাজের কথা নয়। আজকের দিনে- বুর্জোয়ারা যা যা পারবে- একটি বাম দল একই ভাবে সবই পারবে এটা কল্পনা করাটাই অবৈজ্ঞানিক। শুধু ধর্মীয় মিডিয়া কেন, সমস্ত মিডিয়াই তো সমাজতন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং, বাস্তব পরিস্থিতিতে একটি বাম দল কতখানি কি করতে পারবে, সেটাই চিন্তা করা দরকার। কেননা, অসংখ্য ইনস্ট্রুমেন্ট নিয়ে বুর্জোয়ারা বামদের অনেক অনেকগুণে এগিয়ে ছিল- থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বামদের মূল আধার শ্রমিকরা-কৃষকরা, সেখানেই জোর দিতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। শ্রমিক-কৃষকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে সংগঠিত করতে হবে। এটাই প্রাইমারী। বামদের মিডিয়া তৈরী সেকেণ্ডারী বা টারশিয়ারী বলতে পারেন। আপনি কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলুন, এমনিতেই দেখবেন সেখানে সাম্প্রদায়িক নড়াচড়া কমে গেছে। এসব ঢাকার রাস্তায় হুজুরদের লম্ফঝম্ফ দেখে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, ওদের তা করতে দিন। বামদের যতখানি শুণ্যতা সেখানেই আমি চিন্তিত হই। ফলে, এই আলোচনা অনেক জরুরী। সেটা এমন না যে, কেন তারা এক হয় না। সেটা এমন যে, কেন তারা সেভাবে শূণ্যস্থান পূরণ করতে পারছে না, কেন তারা সেভাবে যেতে পারছে না।
আপনাকে ধন্যবাদ।
দিনমজুর বলেছেন:
সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন,
১। বাম দলগুলো বহুধা বিভক্তির সঙ্গত কারণ রয়েছে। নেতাদের বক্তৃতা শুনলেও পার্থক্য আছে বলে স্পষ্টভাবে মনে হয়।
২। বিপ্লবের স্তর অবশ্যই জনগণতান্ত্রিক।
৩। আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও উৎপাদন পদ্ধতি সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর আমলা মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া শ্রেণীর নেতৃত্বে আধা পুঁজিবাদ, আধা সামন্তীয় (সামন্তের অবশেষ)।
======>>>>
আপনার সাথে ১ নম্বর পয়েন্টে একমত। বাকি দুটিতে একমত নই। আমার মতে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামো পুঁজিবাদী কাঠামো, এখানকার বুর্জোয়া হলো জাতীয় বুর্জোয়া- যদিও তা সাম্রাজ্যবাদের সাথে গাটছাড়া বাধা এবং ক্ষেত্রবিশেষে নতজানুও। আর, বিপ্লবের স্তর হলো সমাজতান্ত্রিক।
--------->>
যাহোক, আপনার বিস্তারিত ব্যাখ্যার অপেক্ষায় থাকলাম।
িনেকা বলেছেন:
খুব সাদা আলোচনা করলেন। বুর্জোয়া দল বামদলের চেয়ে এগিয়ে ছিল থাকবে এটাই যদি স্বাভাবিক হয় তাহলে বিপ্লব হবে কেমনে? আর সব রোগের এক দাওয়াই আন্দোলন। এমন সস্তা করে বললে আমার অপরিপক্কতা নিয়ে এত বিরক্ত হলেন কেন? আন্দোলন করলেই তো সব সমস্যার সমাধান হবে। তাহলে সেই আন্দোলনটা কোন বামপন্থী দল করতে পারছে না কেন? আন্দোলনের দরকারটা কেউ কম বুঝে এমন তো না। সমাজে সাম্প্রদায়িক আবহাওয়া বিরাজ করলে আপনার বাম আন্দোলন গড়ে তা ঠেকান তো অনেক কঠিন হয়ে যাবে তাই না?
িনেকা বলেছেন:
আর আপনার দাবীর ব্যাখ্যাও প্রত্যাশা করছি। কেন সমাজতান্ত্রিক এবং কেন পুজিবাদী।
মনের কথাটা কইলেন দিনমজুর...জাবিতে আমরা যখন শিবির বিরোধী আন্দোলন করতে করতে মারদাঙ্গা হইয়া উঠলাম, তখন এক ভোরে রফিক ভাই-রকিব ভাই আর আমার মনে হইলো এই ককটেল নির্ভর আন্দোলন দিয়া শিবিরের ইসলামী জঙ্গীবাদ ঠেকানোটা মুশকিল...ক্যাম্পাসের মধ্যবিত্ত পরিসরে অ্যাডভেঞ্চার আর রোমাঞ্চের লোভ দেখাইয়া শিবির বিরোধী অবস্থান মোটামুটি পোক্ত রাখা গেলেও, আশপাশের গ্রামে শিবিরের আশ্রয়গুলি তখনো কার্য্যকর...আমরা সকল আগ্নেয়াস্ত্র উইথড্র করলাম ঘোষণা দিয়া, গ্রামে সাংগঠনিক উদ্যোগ বাড়ানের সিদ্ধান্ত নিলাম...আমার মনে হয় নিকোও জানো আমরা কিভাবে কৃষকগো মধ্যে সংগঠন করছিলাম...সাথে স্কুল ছাত্রগো পাইতাম কৃষকের সন্তান হিসাবে...
এইটা কোন কথা কইলা নিকো!? তর্কের খাতিরে দিনমজুরের বাক্যটারে ম্যানিপ্যূলেট করলা খালি খালি...বাক্যস্থিত একটা শব্দ বাদ দিয়া কোন বাক্যরে যুক্তি বচন ধইরা তর্ক করনটা অপরাধের সামিল...দিনমজুর বুর্জোয়াগো অসংখ্য ইন্সট্রুমেন্টের প্রভাবে বা প্রভাবকে আগাইয়া থাকনের কথাটারে স্বাভাবিক কইছে বিপ্লবী চেতনায় না। মিডিয়া কিম্বা প্রচারমূলকতার যেকোন মানদন্ডেই বোর্জোয়া তাগো নিজেগো নির্মিত সমাজ আর ক্ষমতা কাঠামোর সুযোগটা বা সুবিধাটা নেয়...বামপন্থী রাজনীতি পুরাটাই দাঁড়ায় তার প্রপাগান্ডিস্ট চরিত্রের উপর তাই সমাজতন্ত্রীরা এই সমাজে আপাতঃ অর্থে বা অনেকসময় প্রকৃত অর্থেও পিছাইয়া থাকে...এখন বিপ্লবের চেতনা হইলো এই অবস্থার পরিবর্তনকামীতা, সেইটা যোগাযোগের নতুন কৌশল উদ্ভাবনের মধ্য দিয়া এই কৌশল খুঁজতে গিয়াই তাত্ত্বিকেরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে শ্রেণী আর সমাজকাঠামোর বিশ্লেষণ করছেন।
যার মধ্য দিয়া বিপ্লবী শক্তির সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়, বিপ্লবী আন্দোলনের পথে আরেক ধাপ আগায় বিপ্লবী শক্তি...আন্দোলন ছাড়া কোন বস্তুই পাল্টায় না এই ইহজগতে...সমাজ কেমনে পাল্টাইবো...মানব সভ্যতার ইতিহাসে আন্দোলন হইলো একমাত্র পাল্টানের tool... আসুন আমরা তর্ক করি আর সমাজ পাল্টাই...এই টাইপ চিন্তা মনে হয় সিভিল সোসাইটি করে বুর্জোয়াতন্ত্ররে সংহত অবস্থান দেওনের খাতিরে...
িনেকা বলেছেন:
আমি আন্দোলনের বিরোধী লোক না। কিন্তু যখনই কোন সমস্যার কথা বলা হয় তখন সব সময় বলা হয় এগুলো কোন ব্যাপার না আন্দোলন করো সব দূর হয়ে যাবে। আমি মানলাম তাই হবে। কিন্তু কেউ সেই আন্দোলনটা কেন করতে পারে না? সব সময় প্রতিক্রিয়া জানান ছাড়া একটা আন্দোলন গড়ে তোলা বা করা। আপনি আগের কথা বললেন যে কি করছিলেন। এখন অবস্থা কি? এখন তো জামাত শিবিরের অবস্থা ঐ এলাকায় অনেক শক্তিশালী। আন্দোলন মানে তো আর এই না যে কয়দিন একটা জায়গায় গেলাম তারপর আর কোন খবর নাই। আন্দোলন তো একটা ধারাবাহিকতা। সেটা যদি না থাকে তাহলে বারবার প্রথম থেকেই শুরু করতে হয়। এদেশে বামপন্থীদের সেই ধারাবাহিকতাটা নাই কেন?
কোন ধরনের সমস্যার কথা কইতেছো? আন্দোলনে অনেক সাংগঠনিক সমস্যাই কাটে...আন্দোলনের ধারাবাহিকতা না রাখতে পারলে আসলেই তার ফলভোগ করা সম্ভব না...কিন্তু বাংলাদেশে বামপন্থী দলগুলির প্রায়োগিক চিন্তাই অনেক সময় আন্দোলনের ধারাবাহিকতারে ব্যহত করছে...এইটা জাবি'র ক্ষেত্রেও কার্য্যকর...নূরুল ইসলাম ছিলো ছাত্র ফ্রন্টের প্রায়োগিক কালের আপৎকালীন নেতা...তার ব্যক্তিকেন্দ্রীক ভাবনার দায় নিতে হইছে সংগঠনরে...
িনেকা বলেছেন:
ভাস্করদা নূরুল ইসলাম তো একজন। আমি বলতে চাইছি আপনি শুধু নূরুল ইসলাম এর কথা বলছেন কেন? অন্য সংগঠন এর কথা বলেন একই সমস্যা তো অন্য সংগঠনেও বিরাজ করছে। আর না হলে আরও বিস্তারিত বলেন যেন সবাই বুঝতে পারে।
আমরা যেই আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়া সাংগঠনিক ভিত্তি গইড়া তুলছি অতীতে...যেই গৌরবময় অতীত আমাগো দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনগুলির আছে তা'ও আজ প্রায় বিনষ্টে পথে...নিকো'র হতাশা আমার অবুঝের মতোন মনে হইলেও এই হতাশা যখন শুভানুধ্যায়ী জনতার মধ্যে দেখি তখন নিজেও ভাইঙ্গা পরি।
আমার নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেইকা কইতে পারি এই দেশের বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলি তাগো মতাদর্শিক অবস্থানের মধ্য দিয়া, সাংগঠনিক দৃঢ়তার প্রকাশ দিয়া একটা আন্দোলনরে অনেকদূর নিয়া যাইতে পারলেও সেই আন্দোলনের কোন পরিসমাপ্তি ঘটাইতে পারেনা বইলা সাধারন মানুষের কাছে তাগো গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখামুখি হয়...এখন প্রশ্ন হইলো সকল আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি এমনকি কাঙ্খিত হইতে পারে কি না? বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত মুখ থুবরাইয়া পরনটাই স্বাভাবিক। পুঁজিতান্ত্রিক সমাজের বিদ্যমান কাঠামোয় অনেক চাওয়া-পাওয়াই পূরণ হওয়ার নয়...এইটাই বাস্তবতা...যেই কারনেই একটাভিন্ন সমাজকাঠামো'র নতুন বাস্তবতা মানুষের সামনে হাজির হয়। মার্ক্স-এঙ্গেলস নিশ্চিত কোন ইউটোপিয়ান রূপরেখা আনেন নাই যে এইরম হইলে ভালো হয়, ঐ রম হইলে মন্দ হয় না। বুর্জোয়াতন্ত্র তার নিজের প্রতিশ্রুত অনেক দাবী দাওয়া পূরণ করতে পারে না বইলাই মার্ক্স উদ্বুদ্ধ হ'ন শ্রেণী চরিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে সামাজিক কিম্বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শাসকগোষ্ঠীর চরিত্র উন্মোচনে...আর তার ধারাবাহিকতায়ই আসে শ্রেণী ধারণা বিলোপের সংগ্রামের চর্চা...
এই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিবো কারা? সেই প্রশ্নেই আসে শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী দলের সংগঠনের চিন্তা আর তার প্রবহমানতাতেই আসে বামপন্থী রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা...বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলিও নিশ্চিত এমনেই ভাবে। কিন্তু বিশ্ব রাজনৈতিক বাস্তবতার কারনে এই দেশেও মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব তৈরী হয়...বিপ্লবের সম্মুখ অভিজ্ঞতা থেইকা পাওয়া যেই কয়টা বিপ্লবের স্তর আছে তার প্রায় সবগুলিরই অস্তিত্ত্ব বাংলাদেশের বামপন্থার ইতিহাসে পাওন যায়...
আমি নিজে এই রাষ্ট্রের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়া পাই পুঁজিবাদরে...তয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারনে সামন্তীয় মনোবৃত্তিও রয়ে যায় খানিকটা। তার পাশাপাশি মুৎসুদ্দী প্রবনতাও এক্কেরে অনস্বীকার্য না বর্তমান বাস্তবতায়। তবে বামপন্থী আন্দোলনের প্রধান শত্রু এইখানে দেশীয় পুঁজিপতিরাই...যার ধারাবাহিকতায় বলতে পারি এই দেশের বিপ্লবের স্তর অবক্ষয়ী পুঁজিতন্ত্রের বিরুদ্ধে সৃজনশীল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব।
দেশের বামপন্থার সবচাইতে বড় সমস্যা সংগঠনের প্রচারনার কৌশল হিসাবে বিপ্লবের স্তর অনুযায়ী পরিকল্পনারে প্রাধান্য না দিয়া প্রায়োগিকতারে প্রধান কইরা তুলনের প্রবনতা। যেই কারনে বিভিন্ন সময়ে অহেতুক জোট গঠিত হয়, হয় অনাকাঙ্খিত যূথবদ্ধতা। আর সাংগঠনিক এই প্রায়োগিক কৌশল যেহেতু বুর্জোয়াগো সম্পত্তি তাই তারাই জিতে অধিকাংশ সময়ে।
অধিকাংশ বামপন্থী আন্দোলন মুখ থুবরাইয়া পরে তাগো ভুল শত্রু-মিত্র চিন্হিতকরনের কারনে, এর কারন হিসাবে যেমন দায়ী করা যায় ভুল শত্রু-মিত্র নির্ধারন আবার শত্রু চিনতে পারলেও সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনটাও একটা বড় কারন হইয়া দাঁড়ায়। সাংগঠনিক চর্চায় ঘাটতি তৈরী হয় প্রায়োগিকতার ঝোঁকে। আর এই ঝোঁকের ফলস্বরূপ ব্যক্তিকেন্দ্রীক আচরনগুলি সামনে চইলা আসে সাংগঠনিক চর্চায়...শ্রেণী চরিত্র বিলোপের সংগ্রাম করনের যেই আরাধ্য চর্চার প্রয়োজন তার বিপরীতে মধ্যবিত্তের ঝোঁকগুলি তীব্রতর হয়...দলের সাংস্কুতিক মানদন্ড তৈরীর প্রবনতা বাড়ে...আর এই সংস্কৃতির প্রধান নিয়ামক হয় মধ্যবিত্তের রুচীবোধ।
এরেই সম্ভবতঃ পেটি বুর্জোয়া মনোবৃত্তি কয়!
বাংলাদেশের বামপন্থি আন্দোলনে এই পেটি বুর্জোয়া মধ্যবিত্তরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলো এবং আছে। আমরা নিজেরাও একই সংস্কৃতির লালন পালন করছি...ব্যক্তিরুচীবোধ যখন একটা দেশের বামপন্থী আন্দোলনের দিক নির্দেশনা দিতে শুরু করে...তখন গণতান্ত্রিক একেন্দ্রীকরণ মুখ থুবরাইয়া পরে...আর তারপর শুরু হয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়। খুব কাছ থেইকা বাসদ রাজনীতিতেও এর ব্যত্যয় দেখি নাই...পরিচিত অন্যান্য দলগুলিতেও খুব একটা ভিন্নতা দেখি না।
িনেকা বলেছেন:
ভাস্কর'দা আপনার আলোচনা সবসময়ই এত কঠিন করে করেন কেন? আর একটু সহজ করে বললে তো বুঝতে সহজ হয়। এখন আবার বইকেন না যে এইটা বোঝার ক্ষমতা না থাকলে যেন এই আলোচনায় না ঢুকি। আমি সত্যি করেই বুঝতে চাই বলেই জিজ্ঞেস করি। হয়তো মাঝে মাঝে বেকুবের মতই করি। আপনি তো আমাকে চেনেন। আশা করি বুঝবেন যে সত্যি বলছি। এখন একটা একটা করে প্রশ্ন করি আপনের লেখা থেকে যা বুঝছি তার উপর....দলগুলো তাদের রাজনৈতিক বিবেচনা মতো আন্দোলন গড়ে তোলে কিন্তু তার সুফল গোলায় তুলতে পারে না। এটা তো একটা মন্তব্য এবং সত্যি পারে না। কিন্তু কেন পারে না তার যৌক্তিক কারণ কি? এর সাথে আমি আর একটা কথা যোগ করতে চাই যে, এখন বামদলগুলো যে আন্দোলনটা করে সেই আন্দোলনটা সফল না হলেও এই আন্দোলনের কোন ধনাত্মক প্রভাবও কেন থাকে না সমাজে? এই কারনেই তো বামপন্থীদের গৌরবময় অতীত আজকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
দলগ


















আপনার পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
এ ধরণের পোস্টে আমাদের সমাজতান্ত্রিক গ্রুপের সকলে যেন আলোচনায় অংশ নিতে পারে, সেকারণে পোস্ট কিছুদিনের জন্য স্টিকি করা হচ্ছে।
আপনার আলোচনায় মূল যে বিষয়টি ফুটে এসেছে সেটি হলোঃ
=>> কেন বাম দলগুলো এত ভাগে বিভক্ত? অন্তত তাদের নেতাদের বক্তৃতা শুনলে খুব বেশী পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না।
এর ফাঁকে অবশ্য আপনি নিজেই কিছু পার্থক্যের কথা বলেছেন। সেগুলো হলোঃ
==>>বিপ্লবের স্তর কি হবে? সমাজতান্ত্রিক? জনগণতান্ত্রিক? বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক?
এর সাথে খুবই সম্পর্কিত, সেটি বিপ্লবের স্তর নির্ধারণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হলোঃ
==>>আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও উৎপাদন পদ্ধতি কিরূপ? পুঁজিবাদী? সামন্তীয়? আধা পুঁজিবাদ, আধা সামন্তবাদ? আধা সাম্রাজ্যবাদ আধা সামন্তীয়?
প্রিয় সমাজতান্ত্রিক ফোরাম গ্রুপের সদস্যবৃন্দ, আপনারা ব্লগবন্ধু নিকোর এই পোস্টকে কেন্দ্র আলোচনার সাথে সাথে উপরিউক্ত বিষয়গুলোতেও আলোকপাত করবেন বলে আশা করছি।