যে যা বলুক ,স্বপ্ন সম্পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে যা আমরা জানি না ।নীচের লেখাগুলোয় রয়েছে স্বপ্ন সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য ।
সাদা-কালো এবং রঙিন স্বপ্ন
১২% লোক স্বপ্ন দেখে সাদাকালো ।মজার ব্যপার হচ্ছে ১৯১৫ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষের স্বপ্নই ছিল সাদা কালো।১৯৬০ সাল থেকে ফুল কালার স্বপ্ন দেখার প্রবনতা বেড়ে যায়।কালার টিভি বা সিনেমার সাথে এব্যাপারটির যোগাযোগ থাকতে পারে বলে স্বপ্ন বিজ্ঞানীদের ধারনা ।
স্বপ্নে যাদের দেখি তারা সবাই আমাদের পরিচিত মুখ
স্বপ্নে যাদের দেখি তারা সবাই কোন না কোন ভাবে আমাদের পরিচিত মুখ।হতে পারে খুব কাছের কেউ নয়তো অনেক কাল আগে হয়তো আপনার পাশে বসে স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখেছিল নয়তো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল এমন কেউ।এর কারন আমাদের মস্তিষ্ক নতুন কোন চেহারা বানাতে পারে না।ঘুরে ফিরে পুরোনো ফেসই বার বার আসে।
স্বপ্নগুলো হারিয়ে যায়
ঘুমের মধ্যে আমরা যে স্বপ্নগুলো দেখি তার শতকরা ৯৫ থেকে ৯৯ ভাগ স্বপ্নই আমরা মনে রাখতে পারি না । জেগে উঠার সাথে সাথে সেগুলো আমাদের মাথা থেকে হারিয়ে যায়।। তবে REM (Rapid Eye Movement )অবস্থায় দেখা স্বপ্ন গুলো মনে রাখা সহজ।
স্বপ্ন এবং কবি এস.টি .কোলরিজ
বেশির ভাগ স্বপ্ন আমরা মনে রাখতে পারি না । আর যেগুলো মনে রাখি তা হয়তো আংশিক বা ঠিক যা দেখেছি তা নয়।স্বপ্ন মনে রাখার সব চেয়ে ভাল পদ্ধতি হচ্ছে সাথে সাথে তা লিখে রাখা। বিখ্যাত ইংরেজ কবি স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ একদিন খুব সুন্দর স্বপ্ন দেখে জেগে উঠলেন।সাথে সাথে কাগজ কলম নিয়ে বসলেন , লিখতে লাগলেন 'কুবলা খান ' কবিতাটি,৫৪ লাইন লেখা হলো।ঠিক এই মুহুর্তে দূরের গ্রাম পর্লক(Person from Porlock) থেকে এক ভদ্রলোক এলেন কোলরিজের সাথে আলাপ করার জন্য ।ভদ্রলোক যখন ফিরে গেলেন, কবি তার স্বপ্নে দেখা সুন্দর ঘটনাগুলো আর মনে করতে পারলেন না ।শেষ হলোনা 'কুবলা খান'।
লুসিড ড্রিম
লুসিড ড্রিম, মানে আপনি বুঝতে পারছেন যে আপনি স্বপ্ন দেখছেন ।ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা এধরনের স্বপ্নগুলো আমরা নিজেরাই নিয়ন্ত্রন করতে পারি।একটা স্বপ্নের মাঝামাঝি অবস্থায় যখন আপনি বুঝতে পারেন যে আপনি আসলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছেন তখন স্বপ্নের ঘটনাগুলো আপনি আপনার নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে পারেন ।আর লুসিড ড্রিম মেথডের মাধ্যমে আপনি আপনার ইচ্ছানুযায়ী স্বপ্নও দেখতে পারেন । পুরোনো প্রেমিকা বা সাধু-দরবেশকে যদি স্বপ্নে দেখতে চান ,লুসিড ড্রিমের মাধ্যমে তাদের সাথে দেখা করতে পারেন ।সার্চ করুন 'লুসিড ড্রিম টিপস'।
নারী পুরুষের স্বপ্ন
পুরুষদের স্বপ্নে যারা আনাগোনা করে তার ৭০ ভাগই পুরুষ । আর মেয়েদের বেলায় এই ভাগ হচ্ছে ৫০ ।অর্থাৎ অর্ধেক পুরুষ আর বাকি অর্ধেক নারী।
ড্রিম ইনকরপোরেশন
ঘুমন্ত অবস্থায় বাইরের কোন শব্দ বা ঘটনা আপনার স্বপ্নে প্রভাব ফেলতে পারে ।যেমন ধরুন বাইরে কেউ কলিং বেল পুশ করছে আর আপনি ঐ শব্দকে পানির কলতান ভেবে বিছানা ভিজিয়ে দিলেন। আবার দেখা গেল সত্যি সত্যি আপনার তৃষ্না পেয়েছে ,স্বপ্নে আপনি পানি খেলেন । বাহ্যিক ঘটনার সাথে স্বপ্নের যোগাযোগ ,এই ব্যপারটাকে বলা হয় ড্রিম ইনকরপোরেশন(Dream Incorporation) । বিখ্যাত চিত্র শিল্পী সালভাদর দালির পেইনটিং Sting Caused by the Flight of a Bee ড্রিম ইনকরপোরেইশন থিমের উপর আঁকা। ছবির নীচের অংশে বেদানার উপর মৌমাছির(ভ্রমর) অবস্থান ড্রিম ইনকরপোরেশনের মেইন থিম ।উপরের অংশে এই স্বপ্নের তাৎখনিক ফলাফল, ঘুমন্ত গালাকে (শিল্পীর স্ত্রী) হুল ফোটানো অবস্থায় বয়নেট,পাশেই বেদানা থেকে বেরিয়ে আসছে বাঘ (মৌমাছির হলুদ-কালো স্ট্রাইপ)।
আরো কিছু তথ্য
১) অন্ধরাও স্বপ্ন দেখে।
২) নাক ডাকা অবস্থায় কেউ স্বপ্ন দেখেনা।
৩) উঁচু স্থান থেকে নীচে পরে যাওয়ার স্বপ্ন খুব কমন।
৪) কথা বলতে চাচ্ছেন কিন্তু কথা বলতে পারছেন না, এই স্বপ্নটা অনেকেই দেখে থাকেন ।
৫)প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষ সবাই সেক্সুয়্যাল স্বপ্ন দেখে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

