কলি আপু
খুব বিরক্ত ভাব নিয়ে কলি বাবুর রুমে এল।সকাল ১০ টা বাজে ,কলির হাতে বেশি সময় নেই।অথচ বাবু এখনো ঘুমাচ্ছে ।সারা রাত নিশ্চয়ই ফোনে কথা বলেছে কোন মেয়ের সাথে। ফোনে কথা নাও বলতে পারে । বাবুকে মাঝে মাঝে কলি বুঝতে পারে না ।
ভাইকে ডাকতে লাগল সে -''বাবু এই বাবু ওঠো না কেন? কি হল ? আর সময় নাই, gift কিনতে হবে।ওঠো এখন। আমি রেডি ।'' অধৈর্য্য হয়ে গেল কলি।
বাবু ঘুম ঘুম চোখে দেখে নেয় তার বোনকে।
তারপর বলল-‘আপু তুমি যে কি ।। নিজের কাজ ছাড়া আর কিছু বোঝো না ।আজকের দিনটা তোমার ঘ্যান ঘ্যান প্যান প্যান শুনতে শুনতেই যাবে।’
''কি হল যাবি নাকি বল ? ও আমার কথার তো কোন মূল্য নাই,এখন কোন বন্ধু ফোন দিলেই তো দৌড়ে যাবা ।''
ঘুম বাদ দিয়ে ,নাস্তা করেই রনিকে বের হতে হল কলির সাথে ।এরপর আবার যেতে হবে বড় খালার বাসায়।
বাবু
রনি ঠিক বুঝতে পারে না মেয়েরা কিছু কিনতে গেলে এত সময় নেয় কেন?অনেক ঘুরাঘুরি করে অবশেষে একটা দোকানে এল । কিন্তু কোন কিছুই ঠিক পছন্দ হচ্ছে না কলির ।
''আপু কি নিতে চাও তাড়াতাড়ি নাও।''
রনির তাড়াহুড়া দেখে কলি বিরক্ত হয়ে বলল ''কি হল তোমার? কে ফোন দিল? বেশি তাড়াহুড়া থাকলে চলে যাও।তোমাকে আমার দরকার নেই। বাবু শোন ,আমার মেজাজ খারাপ করবি না।''
বোন এর অভিমান দেখে রনি বলল ''আচ্ছা আর একটু থাকি । আপু প্লিজ সবার সামনে বাবু বলবি না।''
সেই সন্ধ্যা
কলির বড় খালার বাসায় পার্টি হচ্ছে ।কলি আর রনি এখন বড় খালার বাসায়। তাদের টাকাপয়সা একটু বেশি ।তাই পার্টি দিতে কোন বড় ইস্যুর দরকার হয় না। বড় খালার ছোট মেয়ের JSC পরীক্ষার resultদিয়েছে ,তাই এই মহা আয়োজন।
এত মানুষের ভিড়ে রনি আচমকা ডাক শুনতে পায় -''এই রনি ভাইয়া । কেমন আছেন?''
(রনির ছোট খালার ছোট মেয়ে তিথি এসে হাজির)
''আরে তোরা কখন আসলি ? খালা কোথায়? আর কে এসেছে? ?''
''আজকে বিকেলে, তুমি যখন বাইরে ছিলে।মা আসেনি । আমি আর ইতি আপু ।''
(ইতির নাম শুনতেই রনির ভেতরটা অস্থির হয়ে গেল। অনেক দিনের ডুবে যাওয়া তরী যেন আবার ভেসে উঠল।)
মুখে শুধু বলল- ''হু। ''
তিথি হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো ''এই ইতি আপু ।এই দিকে আসো । রনি ভাইয়াকে দেখে যাও।''
রনি নিজেকে আড়াল করতে চায়। ইতিকে আর দেখতে চায় না সে।নিজের অজান্তেই বলল – ''আমি এখন যাব।তুই আপুর সাথে বাসায় আসিস ।'' রনির আর সেখানে থাকা হলো না।কাউকে কিছু না বলে, না খেয়েই চলে গেল।
সে দিন রাত্রি বেলা প্রচন্ড অস্থিরতায় রনির ঘুম হল না। এতদিন পর কেন ইতি এল।কি দরকার ছিল আসার। এই সব এর মানে কি? ইতি কি জানে কতো কিছু হয়ে গেছে রনির জ়ীবনে? শুধু মাত্র তার জন্য রনি কোন মেয়ের দিকে সহজে তাকাতে পারে না।কোন মেয়ে বন্ধু ও তার নেই।
ইতিই তার জীবনে এক মাত্র মেয়ে যার সাথে রনি নিজের সমস্ত খুটিনাটি ব্যাপার শেয়ার করত। প্রতি দিন রাতে ইতির সাথে একা একা কথা বলত সে ,যদিও বাস্তবে ইতি এর কিছুই জানে না। ঘোরের মধ্যে কেটেছে কত দিন রাত। আজ হঠাৎ দেখা হওয়ার মানে কি? রনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে -
''আমাকে কষ্ট দিতে কি তোমার এতই ভাল লাগে?''
''কিছুই জানলে না তুমি ,তবু কেন এলে?''
দূরে থাকো ।।
আজ ইতিকে সব জানতে হবে।রনি জানাবে। চিঠি লিখবে সে।এখন পর্যন্ত যা সে কাউকে বলেনি তাই লিখবে। অনেক বার ভেবে অবশেষে সে লিখতে লাগলো ।
খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হল কিভাবে কি লিখবে রনি ঠিক বুঝতে পারছে না।চিঠি লেখার সময় রনি বুঝতে পারল ইতিকে সে এখনো ও ভালবাসে।
ইতি ,
তুমি কি জানো -আমি তোমার প্রেমে পরে আছি। ঠিক কবে থেকে এমন হল দিন-তারিখ মনে নাই আমার। আমাকে ভুল বুঝবে না ।এই চিঠি তুমি কিভাবে নেবে আমি জানি না। আমার অবস্থায় থাকলে তুমি কি করতে তাও জানি না ।ব্যাপারটা তোমাকে না জানিয়ে আমি আর থাকতে পারলাম না ইতি ।পারলাম না সম্পূর্ণ ভাবে তোমাকে ভুলে যেতে।
আমি তো চাইনি তোমাকে,ভালবেসেছি মাত্র। কখনও বলিনি যে, কাছে থাকো। আমার জীবনের কিছু ভাল সময় আমি কাটিয়েছি তোমাকে ভেবে।জানি এসবের কোন কিছুই তুমি জান না। আমি জানতে দেইনি বলে।
এক বার গ্রামের বাড়িতে বাড়াতে গেলাম মা আর বড় বোন এর সাথে। গ্রামের স্কুল দেখার অনেক ইচ্ছা ছিল আমার।তাই কাউকে কিছু না জানিয়ে একা একা হাটতে লাগলাম। তোমার সাথে আমার দেখা হল ।আমার খালাতো বোন তিথির এর আত্মীয় তুমি।প্রথম দেখাতেই কেমন করে যেন ভালবেসেছি তোমাকে।তখনি শুরু।কত সুন্দর ,সরল তুমি। মনে হচ্ছিল সবার থেকে আলাদা।তখন কি আর বুঝতে পেরেছিলাম যে,আমার জ়ীবনের এক নতুন অধ্যায় তুমি নিয়ে এসবে।
সেই দিন দুপুরে এক যুবকের কাছে তোমার নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ঘাবড়ে যান। পরে জানান, তোমার নাম, ছোট ভাই এর নাম, কোথায় থাকো তুমি। তোমার নামটা জানাই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া ছিল।
কিশোর বয়সের সেই আবেগ এখন আর নেই।ভুল করার সময়ও নেই এখন। অনেক দিন হল বাস্তব বুঝতে শিখেছি আমি। জানি তুমি আমার না,তাই তোমাকে নিয়ে এখন আর মিথ্যা স্বপ্ন দেখি না । ছোট্ট একটা অনুরোধ- দূরে থাকো,ভাল থাকো ।আমার সাথে দেখা/যোগাযোগ করার কোন দরকার নেই। অলরেডি অনেক বদলে গেছি আমি। তুমি বদলে দিয়েছ আমাকে।অনাকাঙ্খিত কোন সিচুয়েশন আর ফেস করতে চাই না।সব কথা তোমাকে আর জানাতে চাই না,তোমার সহানুভুতিও চাই না আমি। (অনেক কথাই গোপন রাখা হলো)
তোমার কাছে আমার প্রথম এবং শেষ অনুরোধ - দূরে থাকো তুমি।
ইতি – দূরের আমি।।
-সায়মা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

