somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কমপারেটিভ চয়েজ, অলটারনেটিভ পারসোনালিটি ট্রেইট ও বাঙালীর দ্বিচারিত্ব

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই ছন্নছাড়া লেখাটি আপনার জন্য নয়, যদি আপনি কাটখোট্টা শিরোনাম দেখেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মানুষের মনোজাগতিক বিন্যাস ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে জানা ও কাজ করাতে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহ, উদ্ধৃত বিষয়টি নিয়ে আমার বহুদিনের টুকরো টুকরো ভাবনা এবং এসব নিয়ে প্রাজ্ঞজনের ভাবনাকে একত্র করে লিপিবদ্ধ করার প্রয়াসে এই লেখার জন্ম।

তবে, আমি মনে করি, এটা পড়ার চেয়ে কক্সবাজার বয়কট যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক-তা নিয়ে রগঢ় করা ভাল হবে। কাঁচা বাদাম বা ভাজা বাদাম নিয়েও কথা বলা যেতে পারে। এই লেখাটা ক’দিন লেখার মাঝেই একদিন সকালে দেখলাম, খোদ রাজধানী শহরের বুকে জনৈক বাস রাগ করে আত্মহত্যা করতে রাস্তার Island এ ঝাঁপ দিয়ে উঠে পড়েছে। অন্তত একটি পত্রিকার বয়ান দেখে তাই মনে হল। এখন Talk of the town এগুলো। এরকম একটা গরম সময়ে Human psychology ও Social discourse নিয়ে কথার ’বেইল’ কই?

তবু চেষ্টা করে দেখাই যাক।

এক; Comparative & compulsive choice:

এটা খুবই স্বাভাবিক, যে, আমরা সবসময় সবকিছুর সেরাটি বা নিজের সুবিধাজনক দিকটিই নিজেদের জন্য চাইব। সবকিছুতে ভাল দিকটি, নিজের পছন্দের দিকটিকেই পেতে চাইব। চাওয়া-পাওয়ার গোল বাঁধে তখন, যখন, যেটা চাইছি, তার অবিচ্ছেদ্য অংশটিকে আবার উপেক্ষা করতে বা এড়িয়ে যেতে চাইব।

তবে, তা তো হবার নয়। বাস্তব জীবনে বা Virtual এ Alternative কথাটির অস্তিত্ব যেমন আছে, তেমনি আছে Inevitable বা Unavoidable অর্থাৎ, অনিবার্য, অনতিক্রম্য অথবা অবিচ্ছেদ্য-এই কথাগুলোর উপস্থিতি। সেই সাথে আছে Bi-product বা উপজাত বলে একটি শব্দ। অনেকটা ওই ধরুন, মূলা খেলে গ্যাস ফ্রি হবার মতো।

ব্যাপারটা ঠিক কেমন?

ব্যাপারটা অনেকটা এমন, যে,

আপনি যদি ঐশ্বরিয়ার মতো Miss Universe বউ চান ও পান, তাহলে অবশ্যম্ভাবিভাবে বিশ্বপ্রেমিকা কিংবা কাঁচুলি পরা ঐশ্বরিয়ার অস্তিত্বও মেনে নিতে হবে। সে তখন হিজাবী মালালা হবে না। ঘোল খাবেন অথচ মোচ ভেজাবেন না-তা তো হবার নয়, তাই না?

অথবা, নারী হয়ে যদি জন এব্রাহামের মতো সুপুরুষকে নিজের বর হিসেবে চান, তার মতো বরকেই আদর্শ বর ধরে নেন, তাহলে আপনাকে দরকারে Live-in দাবীকেও মেনে নিতে হতে পারে।

সুলতান সুলেমানকে চাইলে তার শত বিবি ও দাসীর হারেমের জ্বালাটাও হজম করতে হবে। ঠিক যেমন, কড়া রামের স্বাদ নিতে হলে অল্প বয়সে Liver পঁচে মরবার স্বাদও নিতে আপনি বাধ্য।

বিষয়টা এখনো বুঝে না এলে একটা বাস্তব গল্প বলি।

একদিন আমার গিন্নিকে নিয়ে শীতের সকালে গেছি বেড়িবাঁধের নদীর পাড়ের এক বাজারে। শীতে দু’জনেই জবুথবু হয়ে জিনিসপত্র দেখছি। আসলে স্ত্রী সদায়পাতি করছেন আর আমি নদীর ছবি তুলছি। পাশেই একজন “পুরুষ” বিছানার চাদর গায়ে জড়ানো অবস্থায় এক দোকানীর কাছ হতে ঢেঁরস কিনছেন।

একটা একটা ঢেঁড়স টিপে টিপে কচি কিনা তা পরখ করে তিনি 1/2 KG ঢেঁড়স কিনে গৃহে প্রত্যাগমন করলেন।

আমার স্ত্রী আমায় নিয়ে পড়লেন। “তুমি এমন করে ”পুরুষের” মতো বাজার করতে পার না? তুমি দেখে বুঝে কিনতে পারলে তো আমার কষ্টটা কমত।”

আমি আমার স্ত্রীকে বললাম,

”দেখো, যেসব ’পুরুষ’ মানুষ একটা একটা ঢেঁড়সের বোটা টিপে, লেজা চিপে কচি ঢেঁড়স কিনতে পারেন, তারা ’পুরুষ’ হিসেবে খুবই কাবেল-তাতে কোনো সন্দেহ নেই; তবে ’মানুষ’ হিসেবে তারা অত্যন্ত কুচুটে টাইপের হয়।

তো তুমি যদি অমন ঢেঁড়স Expert ”পুরুষ” স্বামী চাও তাহলে কুচুটে স্বামীও মেনে নিতে হবে।”

আমার স্ত্রী আমাকে তাড়া লাগান, “রিক্সা ডাকো”।

দুর্মুখেরা বলে, ১ লাখ টাকায় I-phone কিনলে তার Packet টাও ওই দামেই কিনতে হবে, যেমন, কলা কিনলে তার খোসাও কিনতে আপনি বাধ্য।

তিন টাকার কলমের Cap হারালে শুধু Cap কিন্তু কেনা যায় না, সেই কলম ও ক্যাCap দুটোই আবার একসাথে কিনতে হবে, যদিও আপনার কেবলমাত্র Capটিই দরকার ছিল।

এই পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার আরও কিছু বাস্তব উদাহরন যদি দেখি-আপনি যদি ধনী বিধবাকে সম্পত্তির জন্য বিয়ে করেন, আপনাকে তার ১৩ বছর বয়সী Ready বাচ্চার Ready পিতৃত্বও মেনে নিতে হবে। আপনি যদি কান টানেন, তাহলে মাথাও আসবে। অর্থাৎ, ব্যক্তি, সমাজ, সমাজব্যবস্থা, সামাজিক বিন্যাস, চয়েজ, ব্যবস্থাপনা-যার কথাই ধরি, সবকিছুরই Inevitable Correlation বলে কিছু থাকে, থাকে Bi-product, যাকে এড়ানো অসম্ভব এবং এড়ানোর চেষ্টাও অবান্তর। তাকে সহজভাবে ও সহজাতভাবেই মেনে নিতে হয়।

নিউটন বলেছিলেন-Action is equal to re-action যাকে বাঙালরা বলে আপনি যদি ইটটি মারেন, তাহলে পাটকেলটিও খেতে হবে।

আপনি যদি Caring husband চান, তাহলে Possessive husbandও মেনে নিতে হবে। দুর্মূখেরা যেমনটা ফেসবুকে বলে, যারা Genius হয়, তারা নাকি Arrogantও হবে। (মানে, Match winner সাকিবকে ভালোবাসলে নাকি Arrogant সাকিবকেও হজম করতে হবে।) অনেকটা যেমন, তুমি যদি ধোঁয়া দেখো, তুমি ধরে নেবে, সেখানে আগুনও আছে। এটাই নাকি নিয়তি। কতটা সত্যি জানি না।

সমস্যা হল, আমরা চলি স্রোতের বিপরীতে, কলাটা ঠিকই চাই, মুলাটা চাই না। আমরা চাই অনেকটা যাকে বলে, ফুল নেব, কাঁটা নেব না।

আমরা পুরুষরা চাই, ঐশ্বরিয়ার মতো সুন্দরী বউ, যে, আবার রাবেয়া বসরীর মতো ধর্মপ্রাণ হবে। নারীরা চায় হৃত্তিকের মতো Lover boy যে আবার মন্টুর বাপের মতো Caringও হবে। নারীরা মাইক শুমাখারকে বিয়ে করবে তার গতির বুনোতার মোহ ও প্রেমে পড়ে। কিন্তু, বিয়ের পরেই বলবে, এমন বিপজ্জনক কাজ করতে গিয়ে তুমি মরলে আমার কী হবে। অতএব, Race ছাড়ো। আমরা স্বর্গে যেতে চাই, কিন্তু, সেখানে যাবার জন্য মৃত্যু চাই না।

ব্যক্তিগতভাবে আমার reflex বেশ কম। Reflex কম থাকায় আমি কখনো ক্রিকেটে ভাল করতে পারিনি। Reflex কম থাকায় আমি বেশ কিছু বিষয়ে বেশ অসুবিধায় পড়ি। আবার, reflex কম থাকায় আমি বেশ কিছু সুবিধাও উপভোগ করি। কম reflex'র জন্য আমি বাকপটু হইনি। আফসোস। আবার আমি সেই একই drawback এর কারনে লেখার ক্ষমতা পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ।

জীবনে চলতে ফিরতে এই গণদাবী নিশ্চয়ই আপনি শুনেছেন, ”আপনার সবদিকই তো ভাল, সবই চমৎকার, শুধু যদি ওই দিকটা একটুউউউউ ঠিক করে নিতেন, যদি অমুক দিকটা একটুউউউউ শুধরাতেন, তমুকটা যদি আরেকটুউউউউ ভাল করতেন-তাহলে আপনি সেরা হয়ে যেতেন।”

এমনটা কেবল কল্পনাতেই সম্ভব। বাস্তবে, আপনি একজন সার্বিক মানুষ। আপেক্ষিক ওইসব বিচ্যুতি নিয়েই আপনি আপনার আপনি। মানুষকে customize করা যায় না। ফরমায়েসী মানুষ বলেও কিছু নেই। দুধ হতে যেমন cream আলাদা করা যায়, মানুষ ও তার সমাজকে তেমন করে বিশুদ্ধতম ও ফরমায়েসী কোনো চরিত্র হিসেবে marginalize, customize ও rationalize করা যায় না। সবটা নিয়েই, সবরকম ভাল-মন্দ নিয়েই মানব ও মানব সমাজ।

মনে রাখবেন, আমি বলছি না, দশটা ভাল দিক থাকলে তার ১১ তম খারাপ দিকটি গ্রহনযোগ্য হয়ে যাবে। আমি বলছি, critical correlation'র কথা, Bi-product'র কথা, Reaction'র কথা, co-existance'র বাস্তবতার কথা, inevitable relation'র কথা, যা গড়পড়তা একটি common phenomenon।

ব্যক্তি জীবন হতে, ব্যক্তিক আঙ্গিক হতে এবার সমষ্টিক প্রেক্ষিতে দেখি।

পশ্চিমা নোংরা ও উচ্ছিষ্টের ভাগাড় আমাদের সমাজ ও সমাজচিন্তা।

স্বভাবতই আমরা জানি ও মানি, যে, মানুষ অনুকরণ প্রিয়, অনেকটা বাঁদরদের মতো। মনে পড়ে, সেই যে, বাঁদরদের টুপি চুরি ও ফেরতের গল্প?

’পশ্চিমা’ নামে একটি শব্দ এই দেশে প্রচলিত আছে। এ দেশের যা কিছু খারাপ, অসঙ্গত, অন্যায্য ও আপাতঃ অগ্রহনযোগ্য-তার সবকিছুরই জন্ম ও আগমন ’পশ্চিম’ নামের কোনো এক utopean গ্রহ হতে।

তো সেই পশ্চিম হতে আমরা culture, fashion, lifestyle, education, approach to life ধার করি। পশ্চিমারা যা করে, আমরাও চোখ বুজে সেটাই করি। ওরা pop গান শোনে, আমরা আমাদের জারি, সারিকে রাতারাতি ’ক্ষ্যাত’ আখ্যা দিয়ে pop এ মাতি।

ওরা jeans পরে, আমরা লুঙ্গিকে বিদায় জানাই। ওরা ফেসবুক বানিয়ে দিল, আমরা তাতে তুমুলভাবে মেতে উঠি। পশ্চিমারা অবাধে প্রেম করে, আমরাও সেটাকে model ধরে নিয়ে রমনার ঝোঁপে প্রেম নামের প্রণয়ে লিপ্ত হই।

পশ্চিমে লোকে বিয়ে করে না-বাচ্চার জন্ম দেয়, ব্যাস, আমরাও বয়স, সমাজ বাস্তবতা, পরিণতি-কিছুই না ভেবে ঝাঁপাই।

তার পরিণতিতে school hour এ রমনা পার্ক, কাঁশবন, বেঁড়িবাঁধ, super mall কিংবা food court এ class 5/6 এর বাচ্চারা স্কুল ফাঁকি দিয়ে বা কোচিংয়ের নামে প্রেম বা afair নামের লিলায় মত্ত হয়।

এই পশ্চিম প্রীতি ভাল না খারাপ সেই আলোচনা করার মতো যোগ্য কেউ আমি নই। শুধু জানি,

যদি আপনি পশ্চিমাদের মতো, ১৮ বছর হলেই সন্তানকে বাসা বের করে একা করে দেয়া বা ১৮ হলেই বের হয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি ভাল মনে করেন, তাহলে আপনাকে ৮০ বছর বয়সে একা একা ধরের মধ্যে পড়ে থাকাকেও মানতে হবে। বাপ-দাদার সম্পত্তির জোরে জমিদার হয়ে যাওয়ার লালসাও ত্যাগ করতে হবে।

যদি আপনি পশ্চিমাদের মতো ১৩ বছর বয়সেই free-sex কে যথাযথ মনে করেন, তাহলে আপনাকে বিনা obligation এ যে কোনো সময় pregnant আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে আর তখন আর আপনার “বিয়ের প্রলোভনে sex’ এই অভিযোগ করা চলবে না। তাদের মতো বিয়ে, sex ও অতঃপর বিচ্ছেদকে সহজভাবে তাদের মতো মেনে নিতে হবে। প্রেমিকের বাড়ির সামনে গিয়ে অনশন করা চলবে না।

একটি সংস্কৃতির ভাল বা সুবিধাটা নেবেন, আর অসুবিধা নেবেন না-তা কি হয়?

অনেক সময় বাজারে দেখবেন, একটি কিনলে একটি free। সেখানে কোনো চয়েজ থাকে না। যেটা ফ্রি, সেটাই নিতে হবে। জীবন ও সমাজব্যবস্থাও তেমনি। এখানেও জোড়া সিস্টেম। যেমন lifestyle ও philosophy বেছে নেবেন, তার ভালটা যেমন ঘটবে, খারাপটাও ঘটবে। নিরেট আশির্বাদ বলে কিছু নেই।

পশ্চিম হতে ধার করেই হোক আর নিজেদের আবহমান কালের ক্ষয়িত সংস্কৃতি হতে অর্জন করেই হোক, যেই culture ও social approach আজকে নিজের জন্য বেঁছে নেবেন, কাল বা পরশু তার positive ও negative-উভয় ফলই মেনে নিতে হবে। তার জন্যও প্রস্তুত থাকুন। ইতিহাস বলে, বাঙালীরা অন্যের জিনিস অন্ধের মতো copy করতে যতটা ওস্তাদ। অন্যের থেকে ভাল ও মন্দ ছেঁকে নিয়ে শুধু ভালটা আত্মস্থ করতে ততটাই অপারগ।


দুই; Perceptual destortion/preconceived notion/predetermined concept/proguided perception:

এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি অনেকদিন। ভাবি, গুছাই আবার এলোমেলো হয়ে যায়। প্রান্তিক জনে, বিজ্ঞ জনে জ্ঞান ধার করি, বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ভাবনা শুনি। এই সেদিনও বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপে বিষয়টার একটা হদ্দমুদ্দ করতে চেষ্টা করলাম। শুনে মনে মনে একটা খসড়া দাড়া করালাম কিন্তু পরক্ষণেই আবার তালগোল পাকিয়ে ফেললাম।

আচ্ছা, আপনি কি কখনো Pre-designed thought process, pre-guided চিন্তার কথা কখনো শুনেছেন? না শুনে থাকলেও ক্ষতি নেই। বাদ দিন, তার চেয়ে বলুন তো, আমাদের parception কীভাবে তৈরী হয়?

আমাদের parception’র একটি বড় অংশই আসলে pre-fixed।

কেমন?

আমরা যদি শুনি কেউ বড় শিল্পপতি, ধরেই নিই, সে তো ব্যাংকের টাকা চুরি করে। যদি কাউকে নতুন গাড়ি কিনতে দেখি, ধরেই নিই, সে তো ঘুষ খায় অহরহ। কারো বাড়ি উত্তরবঙ্গ, তাহলে ধরেই নিই সে তো গাড়ল হবেই। কেউ একজন বারে চাকরি করে, চোখ বুজে ধরে নিই, সে তো মদ্যপ হবেই। কোনো একজন পুরুষ, divorce পেয়েছেন, আমরা ধরেই নিই, সে নিশ্চয়ই নপুংশক।

নারী divorce পেলে ধরে নিই, সে বোধহয় চরিত্রহীন। একই ধারায় আমরা ধরে নিই- পুলিশে চাকরি করে মানেই অসৎ, গরীব মানেই ভালো, গ্রামের মানুষরা সব সহজ সরল। মাদ্রাসার ছাত্র মানেই ধর্মান্ধ। মেয়ে employee মানেই সন্ধ্যার পর অফিসে থাকবে না, পরিশ্রম করতে চাইবে না।

এই যে, আগে হতে জানা parceptionকে hello effect'র সাথে মিলিয়ে নিজের নিজের parception তৈরী করা, যে কোনো কিছুর ওপর আগে হতে জানা তথ্য বা অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে নতুন কোনো কিছুকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা, তা মানুষের মধ্যে আছে যুগ যুগ ধরে। Hello effect বোঝেন তো? তবে, Hello effectকে নিজের চিন্তার ও judgement'র ওপর প্রভাব রাখতে দেয়া উচিত না-এমনটা আমরা বলে থাকলেও, Hello effect ছাড়া চিন্তা করাটা আবার এত সহজও না। বিশেষত অনুমান যখন আমাদের নিত্য চিন্তার অন্যতম অঙ্গ। এই জটিলতার একটি সহজ উদাহরন দিই।

ধরুন, আপনি interview নিতে বসেছেন। চাকরি প্রত্যাশী রুমে ঢুকলেন। তার চুল উস্কোখুস্কো, পরনে sandal। আপনি ধরে নিলেন, এই লোক serious না, এবং স্বভাবতই আপনি ধরে নেন, যে, সে চাকরি পাবার যোগ্য না। Interviewতে যেহেতু sandal পরে এসেছেন। এখন, sandal পরে এসেছেন বিধায় তিনি non-serious এবং অযোগ্য-এই judgement একদিক দিয়ে Hello effect জনিত ভুল। কারন, সামান্য বহিরাবরন দেখেই judgement করে ফেলা হয়েছে। আবার, হ্যা, আমরা আমাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা হতে জানি, যে, interviewতে sandal পরে আসার প্রায় কথাই না। সেখানে যদি কেউ সত্যিই পরে আসেন, তিনি হয় প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী এবং এই কাজটির সাথে জুতার design সংশ্লিষ্ট না-তিনি এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী; নয়তো, ধরে নিতে হবে, তিনি serious নন এবং updated নন, যে, interviewতে কীভাবে আসতে হয়। চিন্তার এই দিকটাও সত্যি। অনুমানকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে প্রাত্যহিক জীবন চালানো এত সহজ না। অনুমানের দরকারও আছে। হ্যা, আমরা যেটি করতে পারি, Hello effectকে খুব সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা। আপেক্ষিকতাকে মাথায় রেখে তাকে ব্যবহার করা।

এই ধারাবাহিকতায় আমি মি. জাহেদ উর রহমান এর এই লেখাটিকে উদাহরন হিসেবে প্রায়ই বলি।

[cognitive bias VS confirmation bias:

মানুষের এমন আচরণ ব্যাখ্যা করতে হলে বুঝতে হবে মানুষের এক মানসিক বৈশিষ্ট্যকে। বাস্তব জীবনে মানুষ যেসব বিষয়ের মুখোমুখি হয়, সেগুলোর মূল্যায়নে মানুষ পুরোপুরি নিরপেক্ষভাবে কখনো বিচার করতে পারে না।

এগুলোর মূল্যায়নে মানুষ তথ্য, যুক্তিজ্ঞানের বাইরে গিয়ে বোধ-বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে তার বাস্তবতা তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় এটাকেই cognitive bias বলে।

অনেক রকম bias আছে, কিন্তু যে biasটি প্রায় সব মানুষের মধ্যে কমবেশি পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে ‘confirmation bias’।

Confirmation bias বলে, কোনো বিষয়ে আমরা সেসব তথ্য খুঁজি, বিশ্বাস করি, মনে রাখি, কাজে লাগাই, যেগুলো আসলে আমাদের আগের বোধ-বিশ্বাসকে সমর্থন করে।

আমরা আসলে আমাদের পূর্ববর্তী বিশ্বাসকেই পোক্ত করতে চাই। একই বিষয়ে আমরা আমাদের ভেতরের চিন্তা, চাওয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কোনো তথ্য, সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।

বিবর্তন মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ এই পর্যায়ে আসার পথে মানবমস্তিষ্ক সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা থেকে ধাপে ধাপে সরে এসে কতগুলো pattern এ ফেলে দিতে শুরু করে। এই pattern’র সঙ্গে মিলিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা তাকে অনেক বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে, তাকে টিকিয়ে রেখেছে। কারণ, এভাবে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করাটা সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করার চেয়ে অনেক দ্রুত হয়।]

বলছিলাম pre-designed, pre-guided চিন্তা, কাজ, সৃষ্টির কথা।

একজন লেখক, সৃষ্টিশীল শিল্পী, নির্মাতা, প্রগতির কর্মী, বিপ্লবী-যে কেউই এই pre-designed, pre-guided, তথা ফরমায়েসি সৃষ্টির চোরাকাঁটার ফাঁদে পড়তে পারেন।

সেই ফাঁদের নাম ভয় ও লোভ। অর্থ, সুনাম, ভাবমূর্তি, স্বীকৃতি, ভক্তকূলের লোভ ও তাকে হারানোর ভয়-এগুলোই একজন সৃষ্টশীল ব্যক্তিকে শেষ করে দেবার জন্য যথেষ্ট।

এরই সাথে যোগ হয় বায়াস-সে cognitive bias বা confirmation bias-যেটিই হোক।

ফলাফল, আমরা আমাদের bias ও pre-determined parceptionকেই আরেকটু ঝালিয়ে বা বাজিয়ে দেখে, খানিক অনুমান, খানিক যাচাই, খানিক সত্য, খানিক অসত্য-মিলিয়ে ককটেল করে ব্যক্তি, বস্তু, সময়, ঘটনা, phenomenon সম্পর্কে আমাদের রায় দিয়ে দিই।

এই ধারাবাহিকতায়, judgmental approach নামে আরেকটি concept নিয়ে না জানলেই নয়। তবে, সেটির আলোচনা খুবই বিশাল বিধায়, আজ আর লিখছি না। শুধু, যদি, আপনি আগ্রহী হন, তাহলে ওই বিষয়ে আমার আরেকটি পৃথক লেখা আছে। পড়ে দেখতে পারেন: Click This Link


#comparativechoice #alternativepersonality #ambiguity #compulsivechoice #Perceptualdestortion #preconceived notion #predeterminedconcept #proguidedperception
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাজিবাবা ৩ পর্ব

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:৫৬



গল্পকার মোহাম্মাদ আব্দুলহাক

আত্মসাধকের সার্থক ভালোবাসার গল্প

হাসার চেষ্টা করে হৃদয় বললো, "তোমাকে দেখার জন্য এসেছি। আমি জানতাম আজ তুমি পলাশতলে আসবে।"
"নিজের অজান্তে যান্ত্রিক পুতুলের মতন এসেছি।"
"স্বেচ্ছায় সব ত্যাগ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নত ওমিক্রনঃইংল্যান্ড স্বাভাবিকের পথে

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:১২




দুপুরে বিবিসি ঘোষণা দিল ইংল্যান্ড কোভিড কে আর বিপজ্জনক ভাইরাস হিসাবে দেখছে না । ওমিক্রনের পিক আওয়ার চলে গেছে । কাল থেকে বাসায় বসে অফিস নয় এবং আগত বৃহস্পতিবার থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুস্টার ডোজ নেওয়ার পর......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:০৬

আজ কোভিড থার্ড ডোজ, মানে- বুস্টার টিকা/ইনজেকশন নিয়েছি। বাসায় ফেরার পর স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন- "টিকা নিতে ব্যথা পেয়েছিলে"?

আমি বীরের মতো উত্তর দিলাম- 'আরে নাহ! আমি টেরই পাইনি'!

স্ত্রীর খেদোক্তিঃ "অন্য মহিলারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প- নিছকপ্রতিবার

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১০:৪৬


অফিস থেকে বের হয়ে বদরুলের মন ফুরফুরা হয়ে গেলো। আজকে সপ্তাহের শেষ দিন। আগামীকাল ছুটি। এখন ভালো দেখে একটা বৃহস্পতিবার খুঁজে বের করতে হবে। সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস হলে ভালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইডেনের কটূক্তি, নাকি আমাদের দূরত্ব তৈরী (!?)

লিখেছেন প্রতিদিন বাংলা, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১:৩৩

ব্লগের শিরোনামটি দেয়ার ২টি কারন ,একটি হলো -
সাধারণত আমরা জানি বা শিষ্টাচার হলো, কোনো দেশের সরকার প্রধান, এ কোনো বিষয়ে শুভেচ্ছা জানায় অপর দেশের সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×