আমাদের মৃত্যুটা কি হটাৎ করে ঘটে; নাকি প্রতিদিন, প্রতিরাতে, প্রতিঘন্টায়, প্রতিসেকেন্ডেই আমরা একটু একটু করে মরতে থাকি?
মৃত্যুর দিনক্ষণকে যদি পূর্বনির্ধারিত এক অমোঘ বিধান হিসেবে ধরা যায়, তবে প্রতি পল-অনুপলে আমরা কি সেই অমোঘ নিয়তির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিনা? জীবনকে এক সেকেন্ড উপভোগ করার মূল্য হিসেবে মৃত্যুর দিকেও এগুতে হচ্ছে এক সেকেন্ড। বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়ার মধ্যিখানে কিছুই নেই কেবল সময় নামক এক বেয়াড়া হতচ্ছাড়া ছাড়া। এই হারামজাদাটা বিশ্রীরকমের ভেংচি কেটে প্রতি মুহূর্তেই হাতের মুঠো গ'লে বেরিয়ে যাচ্ছে। ও জানে ওরচে' পরাক্রমশালী কেউ নেই, কিছু নেই... কেউ মানুক চাই না মানুক। আমাদের এই অবিশ্রান্ত দৌড়, উদয়াস্ত খাটুনি প্রকারান্তরে মরনের দিকেই নিশ্চিত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া...
বেঁচে থাকার তাগিদে দৌড়াচ্ছি মৃত্যুর দিকে... কী আয়রনিক প্যারাডক্স!
পিচকিকালে মায়ের কাছে শোনা গল্পের স্টক আমার খুব সীমিত; প্রায় নেই-ই বলতে গেলে। আবছাভাবে মনে পড়া দুয়েকটামাত্র আছে। তেমনি এক গল্পের নায়কের নাম যদ্দূর মনে পড়ে ছিলো লুসান। সেই শিশুতোষ গল্পে মা-কে বাঁচাতে ড্রাগনের সাথে লুসানের যুদ্ধের একটি রমরমা বর্ণনা ছিলো হয়তো; তা শুনে শিশুকালে বেশ আমোদ পেতাম। গল্পশেষে মা যখন আমাকে জিজ্ঞেস কোরতো- "ড্রাগন যদি আমাকে ধরতে আসে তাহলে তুই কি করবি?"
আমি নাকি খেলনা পিস্তল হাতে নিয়ে বলতাম "আয় ব্যাড্ ডাগোন" (আয় ব্যাটা ড্রাগন!)। আমার সেই নির্ভীক উচ্চারণ মা-কে আশ্বস্ত কতটুকুন কোরতো জানিনা; তবে মা হাসতেন। আমার ভুল উচ্চারণ শুনেই হয়তোবা।
(এই গল্প এমনকি বড় হওয়ার পরও মা যখন বলতেন; হাসতেন। আমি আজো ভেবে পাইনি এতে হাসির কী আছে! উচ্চারণ শিখে তো কেউ আর দুনিয়ায় আসে না, তাইনা?)
এখন আমি আর সেই কথা-জড়িয়ে-যাওয়া ছোট্ট শিশুটি নেই। অনেক দেখলাম; অনেক দৌড়ালাম; অনেক শিখলাম। কিনতু পিচকিবেলার সেই আধো আধো বোল ভুলে বসে আছি বেমালুম! একন আর মুখ ফুটে বের হয়না "আয় ব্যাড্ ডাগোন"-এর মতো নির্ভীক উচ্চারণ।
কেন ভয় পাই? কোথায় আটকায়?
মৃত্যুকে কেন লুসানের ড্রাগনের মতো ভাবতে পারিনা?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


