প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের বিভিন্ন দলীল ও বইপত্রে- মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফী রাজাকার আল-বাদর ঘাতকদের বিরুদ্ধে একাত্তরের পুরো ৯ মাস জুড়ে নিধনযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও পাকবাহিনীকে সহযোগিতার তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। ঘাতক জামাতীরা ধর্মের নামে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে দৃষ্টি ফেরাতে চাইছে একাত্তরের সেই হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন-নিপীড়নের চিত্র থেকে। বোঝাতে চাইছে মুক্তিযুদ্ধ তাদেরও ফসল। ভুলে যেতে বলছে পেছনের কথা তথা দেশের ইতিহাসকে। অথচ কোনো জাতির ইতিহাস ভুলে যাওয়া অথবা কোনো জাতির ইতিহাস বিমুখ হওয়া আর জাতির অস্তিত্ব বিলীন হওয়া প্রায় সমান কথা।
অনুসন্ধানে সারাদেশের হাজারো জামাতী ঘাতকের মধ্য থেকে মাত্র কয়েকজনের নানা যুদ্ধাপরাধের তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো-
কুখ্যাত নরঘাতক আলী আহসান মুজাহিদ
ফিরোজ মিয়া গংয়ের নীতিনির্ধারক ছিল আলী আহসান মুজাহিদ। কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তার নির্দেশেই পরিচালিত হতো ফকিরাপুল এলাকার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী যাবতীয় অপতৎপরতা।
জিএম গাউস বলেছেন, ’৭০-এর মাঝামাঝি সময় থেকেই আমরা ফকিরাপুল এলাকার ভাড়াটিয়া আলী আহসান মুজাহিদকে চিনতাম জামাত ও ছাত্রসংঘের লোক হিসেবে। সে এলাকায় দলের সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতো। কেন্দ্রীয় সমাবেশে এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে যেতো। এলাকার ছেলেদের ছাত্রসংঘে যোগদানের ব্যাপারে প্ররোচিত করতো। ’৭১-এর মার্চের পর মুজাহিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ফকিরাপুলে রাজাকার বাহিনী সংগঠিত হয়। যার নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ফিরোজ মিয়াকে (ফেরু মেম্বার)। মুজাহিদের সরাসরি নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছে ফকিরাপুল এলাকায় রাজাকার বাহিনীর অপতৎপরতা, অস্ত্র ট্রেনিং, রিক্রুটমেন্ট ইত্যাদি। সে এলাকার রাজাকারদের অস্ত্র-অর্থ সংগ্রহসহ যাবতীয় দুষ্কর্মে সহযোগিতা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি পর্যায়ে অত্র এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং স্বাধীনতার পক্ষের বুদ্ধিজীবীদের ধরে এনে অত্যাচার-নির্যাতন, এমনকি হত্যা করার উদ্দেশ্যে গঠিত আল-বাদর বাহিনীর নেতা ছিল আলী আহসান মুজাহিদ। জাতীয় পার্টি নেতা আবদুস সালাম বলেছেন, ‘১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় ফকিরাপুল গরম পানির গলির ফিরোজ মিয়ার বাড়িটি ছিল রাজাকারদের অন্যতম নির্যাতন কেন্দ্র। ফিরোজ মিয়া গংয়ের নীতিনির্ধারক বা পরামর্শদাতা ছিল আলী আহসান মুজাহিদ। অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে মুজাহিদের অপতৎপরতা শুধু ফকিরাপুল এলাকায় নয়, বিস্তৃত ছিল পুরো ঢাকা শহরে।’
গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্টে বলা আরো হয়েছে, ‘মুজাহিদের রিক্রুট ফিরোজ মিয়া ফকিরাপুল এলাকার ৩০০ সদস্যের একটি রাজাকার প্লাটুন গড়ে তোলে।’ ফকিরাপুল এলাকার পুরনো বাসিন্দাদের সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, ‘ফিরোজ মিয়া গং যুদ্ধের সময় ফকিরাপুল ও আরামবাগ এলাকার শত শত বাঙালিকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। নির্যাতন চালিয়েছে এলাকার মেয়েদের উপর।... ’
আলী আহসান মুজাহিদের স্বাধীনতাবিরোধী তৎপরতা ও নৃশংসতা একাত্তরেই শেষ হয়ে যায়নি। জামাত-শিবিরের রাজনীতির আড়ালে এখনো স্বাধীনতাবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তারপরও সরকার তাদের বিচার করতে বিলম্ব করছে। ফলে সেই ঘাতক মুজাহিদ আজ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে দেশের মানুষের দ্বারে দ্বারে হাজির হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

