মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “হে মানুষেরা! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ হতে এসেছে উপদেশ বাণী এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হিদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য।” (সূরা ইউনুস : আয়াত ৫৭)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্ব মানবতার উৎকর্ষ সাধনের সমস্ত পন্থা বাতলিয়ে দিয়েছেন। তারই ফলশ্রুতিতে ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের চিকিৎসার পাশাপাশি দৈহিক চিকিৎসার সমস্ত নিয়মাবলীও তিনি জানিয়েছেন।
শাফিউল উমাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন ঔষধ সেবন ও ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসা করেছেন। পাশাপাশি কুরআন শরীফ-এর আয়াত, দোয়া, দুরূদ, ঝাড়-ফুঁক এবং তাবিজের দ্বারাও চিকিৎসা করেছেন। আর সে কারণে উভয় পন্থাই সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে গণ্য হয়েছে।
(১) মুসতাদরিকে হাকিমে বর্ণিত রয়েছে, হযরত সামুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের চিকিৎসাসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম চিকিৎসা হল শিঙ্গা লাগানো।”
(২) মিশকাত শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ-এ রয়েছে, যিকরুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি প্রতিমাসে তিনদিন সকাল বেলায় মধু চেটে সেবন করবে তার কোন কঠিন রোগ ব্যাধি হবে না।”
(৩) বুখারী শরীফ-এ রয়েছে- হাবীবে আ’যম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কালোজিরায় একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের চিকিৎসা নিহিত।”
(৪) বুখারী শরীফ-এ আরো রয়েছে, হযরত সা’দ ইবনে ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, ছহিবে রফা’না লাকা যিকরক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে সে দিন বিষ ও জাদু তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।”
দোয়া, দুরূদ, ঝাড়-ফুঁক এবং তাবিজের দ্বারা চিকিৎসা
(১) হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সূরা ফাতিহা প্রত্যেক রোগের জন্য শিফা।”
(২) হযরত উছমান গনী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, একদা আমি আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আমার মাথা ব্যথার কথা জানাই। তখন তিনি আমাকে বললেন, “শরীরের যে স্থানে ব্যথা হচ্ছে সেখানে হাত রেখে ৩ বার বিসমিল্লাহ পড় এবং ৭ বার شر ما اجد وأحاذر. اعوذ بالله وقدرته من দোয়াটি পাঠ কর।”
(৩) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোন চিন্তা ও পেরেশানী দেখা দিলে তিনি এই দোয়া পড়তেন,
يا حى يا قيوم برحمتك استغيث.
অর্থ: “হে চিরঞ্জীব, হে চিরন্তন, আপনার অনন্ত রহমতের উছীলায় প্রার্থনা করছি।” (হাকিম, তিরমিযী শরীফ)
(৪) ইবনে মাজাহ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, ছহিবে জামিউল কালিম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই নামাযের মধ্যে শিফা ও আরোগ্য রয়েছে।”
গভীরভাবে ফিকির করলে অনুধাবন করা যায় যে, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নতগুলোই জিসমানী ও রূহানী তথা সর্বপ্রকার ব্যাধির আরোগ্য লাভের কারণ।
সুতরাং যিকরুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নতগুলোর উপর আমলই পার্থিব সুস্থতা, সুখ-শান্তি ও পরকালীন সাফল্যের সর্বোত্তম মাধ্যম।
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদের হাক্বীক্বীভাবে সুন্নত-এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

