হাইতির রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্স নগরীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বুধবার দেশটিতে ১০ লাখেরও বেশি লোকের প্রাণহানির আশংকা করা হচ্ছে। অসংখ্য মানুষ এখনও রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক সংবাদদাতা জানান, অসংখ্য স্কুল, হোটেল, হাসপাতাল ও প্রেসিডেন্ট ভবন ধ্বংসস্থপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্থপের নিচে আটকা পড়ায় লোকজন সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন এবং রাজধানীতে ‘ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পিকআপ ট্রাকের পিছনে আহত অসংখ্য লোককে শুইয়ে রাখার ভয়াবহ দৃশ্য তিনি পর্যবেক্ষন করেছেন। তিনি বিভস লাশ এবং উদ্ধারকর্মীদের খালি হাতে শিশু হাসপাতালের ধ্বংসস্থপ পরিষ্কার করতে দেখেছেন।
আটকে পড়া লোকজনদের জন্য প্রত্যেকটা মুহূর্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে বিশ্ববাসী ব্যাপক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে। উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন এবং ওষুধ ও খাবার খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।
প্রাণহানির সংখ্যা সঠিকভাবে বলা অসম্ভব। তবে প্রধানমন্ত্রী জাঁ-ম্যাক্স বেলেরীভ সিএনএনকে বলেন, ৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পের ফলে ১ লাখেরও বেশি লোকের প্রাণহানির আশংকা রয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট রেন প্রিভাল বলেছেন, ভূমিকম্পে ৫০ হাজার লোক নিহত হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন একে ৫ বছর আগে এশিয়ায় ঘটে যাওয়া সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন। সে সময় সুনামিতে ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছিল।
প্রিভাল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির একটা চিত্র তুলে ধরেন। ভূমিকম্পে প্রেসিডেন্ট ভবন ও প্রিভালের নিজের বাসভবনও ধ্বংসস্থপে পরিণত হয়েছে।
তিনি মিয়ামি হেরাল্ডকে বলেন, ‘সংসদ ভবন, করভবন, স্কুল ও হাসপাতাল বিধ্বস্ত হয়েছে।’
হাজার হাজার লোক নিখোঁজ রয়েছেন। এমনকি ছেঁড়া কাপড় পরিহিত উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের বিমর্ষ দেখাচ্ছে।
গোটা এলাকা ধুলায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। বিক্ষিপ্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া একটি ক্লিনিকের মেঝেতে আহত লোকদের চিকিৎসার জন্য জড়ো করা হয়েছে।
আহত অনেকের শরীরে ব্যান্ডেজ লাগানো রয়েছে। অনেকে ধ্বংসস্থপের বিভিন্ন অংশ স্ট্রেচার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
অপরাধ প্রবন রাজধানীতে নিরাপত্তার আশংকা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘ জানায়, প্রধান কারাগার বিধ্বস্ত হয়েছে। কিছু কয়েদি নগরীতে পালিয়ে গেছে। নগরীতে মূল সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানান, ভূমিকম্পে সংস্থার কমপক্ষে ১৬ জন স্টাফ নিহত ও ৫৬ জন আহত হয়েছে এবং ১৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। হাইতির জাতিসংঘ মিশনের প্রধান জেদী আনাবী নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, গুয়ান্তানামো বে ও কিউবার নৌঘাঁটি বাস্থহারাদের আশ্রয় স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে প্রেসিডেন্ট ভবন, একটি বড় ধরনের হোটেল ও হাইতিতে জাতিসংঘ মিশন ভবন বিধ্বস্ত হয়।
জর্ডান জানায়, ভূমিকম্পে তার দেশের তিন শান্তিরক্ষী নিহত ২১ জন আহত হয়েছে। ব্রাজিলের ১১ শান্তিরক্ষী নিহত হওযার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে চীনের ৮ সৈন্য ধ্বংসস্থপের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছে ও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হাইতির অবকাশ কেন্দ্র জাকমেল শহরও এই ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

