তুমি নাকি নাই প্রভু - ওরা তাই বলে
ওরা মূঢ় ওরা অন্ধ।
আমিতো তোমাকে দেখি সর্বভূতে
প্রতি পলে, প্রতি অনুপলে।
আত্মায় সত্তায় হৃদে দেহ- কোষে পরতে পরতে
নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে আর বহমান শোণিতের অণুতে অণুতে
অনুভব করি সারাক্ষণ।
তুমি আছ সর্বব্যাপী, জুড়ে আছ সারা তনুমন।
শ্যামল ঘাসের বুকে হিজল তমাল ছায়ে
নিকুঞ্জের পত্রে-পুস্পে পল্লবে পল্লবে
অনুভব করি ওই হৃদয় বল্লভে।
তটিনীর ঊর্মিতে, বিজুলির চকিত চমকে
মেঘ-পুঞ্জ-গমকে গমকে
কুসুমের সুরভিতে, সান্ধ্য অস্তরাগে
প্রভাতি পালির মঞ্জু সুরের বেহাগে
তুমিতো সতত দাও দেখা
সে জানে যে পাঠ-বোঝে সেই জ্যোতির্লেখা।
মাঠে ঘাটে সাগরে পাহাড়ে বিয়াবানে
স্বাদে গন্ধে বর্ণে রূপে ভাষার বৈচিত্রে, ভাবে
ছন্দে ছন্দে সুরে গানে গানে
তোমাকেই করি অনুভব। চিত্তে দোলে নিত্য নব নব আশা
এই প্রেম প্রীতি মায়া, প্রাণে প্রাণে এই ভালবাসা
সুগভীর এই অনুভূতি, এই আবেগ উচ্ছ্বাস
সর্বত্র প্রদীপ্ত সদা তোমার প্রকাশ।
২.
নিখিল সৃষ্টির এই সব
কী চিত্র বিচিত্র অভিনব
কৌমুদী রাশিতে ভাসে এই ধরাতল
এই অমারজনীর অন্ধকারে নিমজ্জিত সারা ভূমন্ডল
এই রোদ এই বৃষ্টি হেমন্ত বসন্ত ঋতু-খেলা
শৈশব, যৌবন স্রোত, এ প্রভাত এই শেষ বেলা
এই জন্ম এই মৃত্যু - অনন্ত রহস্য ঘেরা এ নাটক
নাট্যকার ছাড়া শুধু চলে
কোন্ মূঢ় কোন্ অন্ধ বলে।
জল-স্থলে অন্তরীক্ষে গ্রহ তারকায়
চন্দ্র-সূর্য, নভোনীলিমায়
তুমি আছ সর্বত্র সতত বিদ্যমান
অন্তরে বাহিরে নিত্য সর্বব্যাপী সব ঠাঁই তব অধিষ্ঠান।
গ্রহ ও নত্রপুঞ্জ নীহারিকা ছায়াপথ মহাকাশ মহাবিশ্ব সব
তোমার কুদরতে সৃষ্টি, তুমিই নিয়ন্তা প্রভূ
চালক পালক তুমি একমাত্র রব।
স্থান-কাল-পাত্র সব তোমার সত্তায় হয় লীন
অব্যয় অয়, তুমি, অসীম অনন্ত তুমি আদি অন্তহীন।
তুমি উৎস, তুমিই আধার।
তুমি ভর্ত্তা, তুমি কর্তা, তুমি ধাতা
ইচ্ছাময় করুণা বিধান
নিখিল জগৎপতি। যাকে ইচ্ছা কর রাজ্য দান
যার কাছ থেকে ইচ্ছা কেড়ে লও, কর নিঃশ্ব রিক্ত দীনহীন
বিন্দুকে বানাও সিন্ধু, বিশালে মুহূর্তে কর লীন।
৩.
রাজ্য-পাট, জীবন-মরণ
ইজ্জত সম্মান রিজ্ক গৌরব মহিমা যশ ধন
ভাল মন্দ আলো ও আধার
এ মহাবিশ্বের সব ইখতিয়ার - মুঠোয় তোমার।
তোমায় কি দেব প্রভু আমার কি আছে
তোমা হতে আসিয়াছি ফিরে যাব তোমারি তো কাছে।
লেখকঃ রূহুল আমীন খান

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

