প্রশ্নঃ ইসলামি মাস কিভাবে শুরু হয়?
উত্তরঃ ডাঃ জাকির নায়েকঃ ইসলামি মাস শুরু হওায়ার ব্যাপারে আল্লাহ কুরআনে পরিস্কারভাবে বলে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন,
“তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে। বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম”
[সূরা বাকারা আয়াত ১৮৯]
মুহাম্মাদ (সাঃ) একাধিক সহীহ হাদীসে এ ব্যাপারে বলেছেন, যেমন- “আবু হুরায়রা (রা) বলেছেন, "যখন তোমরা নতুন চাঁদ দেখ তখন রোযা রাখ এবং যখন শাওয়াল চাঁদ দেখ তখন রোযা ভেঙ্গে ফেল আর যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকার কারণে চাঁদ দেখা না যায় তবে রমযানের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো একইভাবে শাবানেরও”"
[বুখারী, অধ্যায় রোযা, হাদীস নং ১৯০৯]
আয়েশা (রা) বলেন, "মুহাম্মাদ (সা) শাবানের মাসের দিন গণনার ক্ষেত্রে অতিশয় সাবধানতা অবলম্বন করতেন এবং তিনি যখনই নতুন চাঁদ দেখতে পেতেন তখন রোযা শুরু করতেন। আর যদি নতুন চাঁদ না দেখতে পেতেন তাহলে শাবান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করে রোযা রাখতেন"
[আবু দাউদ, হাদীস নং ২৩১৮]
সুতরাং তিনি নির্দিষ্টভাবে বলেন নি যে, কখন রমজান শুরু হয়। চাঁদের প্রত্যক্ষদর্শী সম্পর্কে হাদীসে বলা হয়েছে যে, "যখন দুইজন মুসলিম চাঁদ দেখবে তখন রোযা ভেঙ্গে ফেল অথবা রাখ"
[নাসাঈ, হাদীস নং ২১১৮]
অর্থাৎ চাঁদ উঠেছে কিনা তা জানার জন্য দুইজন মুসলিম প্রত্যক্ষদর্শী প্রয়োজন।
কিছু আলেম বলেন যে, রোযা শুরু করার জন্য একজন প্রত্যক্ষদর্শীই যথেষ্ট।
কারণ হাদীসে আছে, "“আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বলেন, যখন লোকজান রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করেছিলো তখন আমি মুহাম্মাদ (সা) বললাম, আমি নতুন চাঁদ দেখেছি, তখন তিনি রোযা আরম্ভ করলেন এবং সকলকে রোযার জন্য নির্দেশ দিলেন”"
[আবু দাউদ, হাদীস নং ২৩৩৫]
সুতরাং অধিকাংশ আলেম বলেন যে রোযা রাখার জন্য একজন দর্শক হলেই চলবে তবে রোযা ভঙ্গ করার জন্য দুইজন দর্শক প্রয়োজন।
প্রশ্নঃ পৃথিবীতে মুসলমানরা সকলে একই দিনে রোযা রাখা, ইদুল ফিতর এবং ইদুল আযহা পালন করার ব্যাপারে একতাবদ্ধ নয় কেন?
উত্তরঃ ডাঃ জাকির নায়েকঃ এই ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে। একদল বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের মক্কার সময় অনুসরণ করা উচিত। অন্য দলের আলেমগণ বলেন, এই সময়টি বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সময়ে হওয়া উচিৎ।
আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেছেন,
“রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর”"
[বাকারা আয়াত ১৮৫]
মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, "“তোমরা যখন নতুন চাঁদ দেখ তখন রোযা রাখ এবং নতুন চাঁদ দেখলে রোযা ভেঙ্গে ফেল"
[বুখারী, হাদীস নং ১৯০৭ ও ১৯০৯]
সুতরাং এই হাদীসটির উপর ভিত্তি করে ইবনে তাইমিয়াহ (রহ) বলেন যে, সারা বিশ্বের সব জায়গা থেকে একই দিনে রমজানের চাঁদ দেখা অসম্ভব। সুতুরাং মক্কার সময়টি সারা বিশ্বে একযোগে অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
"মুহাম্মাদ (সাঃ) আরো বলেছেন, “ঐ দিন রোযা আরম্ভ হবে যেদিন সকলে রোযা রাখবে, রোযা ভাঙ্গতে হবে ঐ দিন যেদিন সবাই রোযা ভাঙ্গে আর কুরবানি করতে হবে ঐ দিন যে দিন সকলে কুরবানী করে"
[তিরমিযী, হাদীস নং ৬৯৭]
কুরআনে বলা হয়েছে যে,
“"আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত"
[বাকারাঃ ১৮৭]
কিন্তু সূর্যদয় সারা বিশ্বে একই সময়ে হয় না বরং একেক দেশে একেক সময়ে হয়। সুতরাং রোযা পালনে স্থানীয় সময় অনুসরণ করতে হবে।
প্রশ্নঃ যে শহরে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে রমযান এবং ঈদ পালন করা হয় সেই শহরের লোকদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কী ?
উত্তরঃ ডাঃ জাকির নায়েকঃ এই ব্যাপারে হাদীসে পরিস্কার বলা হয়েছে।
যেমন,
"ঐ দিন রোযা আরম্ভ হবে যেদিন সকলে রোযা রাখবে, রোযা ভাঙ্গতে হবে ঐ দিন যেদিন সবাই রোযা ভাঙ্গে আর কুরবানি করতে হবে ঐ দিন যে দিন সকলে কুরবানী করে”"
[তিরমিযী, হাদীস নং ৬৯৭]
সুতরাং একই শহরের লোকদের একই সাথে রোযা এবং ঈদ পালন করা উচিৎ।
কারণ এমন কোন বড় শহর নেই যেখানে একই দিনে চাঁদ দেখতে পাওয়া যায়না। সুতরাং তাদের এক সাথে রোযা পালন করা উচিৎ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

