সেফ হওয়ার পর
অনেকদিন ধরে একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করছি। তবে এটা একান্তই আমার ব্যত্তিগত মতামত। ব্যাপারটিকে শ্রদ্ধার সাথে দেখেই বলছি এ বিষয়টা আমি জানতে চাই। তাই এই লেখার অবতারনা। এটাকে ধর্মীয়ভাবে মূল্যায়ন না করার অনুরোধ রইল। তাছাড়া বিষয়টা আমি পুরোপুরি জানিনা। আর জানিনা বলেই আমি এ বিষয়ে জানতে চাই।আমি এ বিষয়ে সবার মুক্ত বির্তক আসা করছি।আমি আমার যুক্তিগুলো তুলে ধরব এবং অন্যদের মতামত জানতে চাইব।
এই চরম প্রযুক্তির সময়ে এসেও আমরা বৈদ্য কবিরাজ, বিশ্বাস করছি। কিন্ত— কেন? কোরআন কি বলে? এ বিষয়টা নিয়ে অনেকের সাথে যুত্তি-তর্ক করেছি শুধু এ ব্যাপারটিকে বিশ্বাস করতে চাই বলে। কিন্তু কেউ বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি। শুধু অযৌত্তিক তর্ক করেছে, আর হুমকী দিয়েছে যে যদি বিশ্বাস করতেই হয় তাহলে জীবন দিয়ে এর মূল্য দিতে হবে!! তাতেও আমি রাজি ছিলাম কিন্ত কেউ প্রমাণ দেখাতে পারলনা। ভীষণ অবাক হয়েছি অনেক শিক্ষিত মানুষ রাও এ বিষয়টা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে আর বলে যে এর প্রমাণ সে নাকি পেয়েছে। কিন্ত কি এমন প্রমাণ পেল সে বিষয়ে আর কিছু বলেনা। আর এ ব্যাপারে একটা আলোচিত শব্দ হচ্ছে ”বাণ মারা”। দয়া করে কেউ কি এ বিষয়ে আমাকে বলবেন যে বাণ কিভাবে মারে? যদি তাই হয় তাহলে ঐ ব্যত্তি এত ক্ষমতা পেল কোথা থেকে? সৃস্টি কর্তা কি কোন সাধারণ মানুষকে এতটা ক্ষমতা দিয়েছেন? অথচ যারা এ রকম বৈদ্য সাজে তারা নিতান্তই সাধারণ মানুষ।তাই যদি হয় তাহলে আর এত খুন খারাবীর দরকার কি ছিল? সবাইকে বাণ মেরেই মেরে ফেলা যেত! আমি যতটুকু জানি আমাদের কোরআন শরীফে জিন সম্পর্কে বলা হয়েছে কিন্ত বৈদ্য বা কবিরাজ সর্ম্পকে কিছু বলা হয়নি। সব চেয়ে দু:খ লাগে তখন, যখন দেখি ভন্ড টাইপের মানুষ ,যারা জীবনে এক ওয়াক্ত নামাজ কালামও পড়েনি !তারাই পীড়-বৈদ্য সেজে বসে আছে
বাস্তব জীবনের একটা ঘটনা শেয়ার না করে পারলামনা। এতে আমার মনে নানা প্রশ্নেরও জম্ম দিয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা এখনও সেই আদিম যুগে বাস করছি।
বছর খানেক আগের ঘঠনা।
আমাদের মেসে একজনের মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। যার মোবাইল চুরি হয়েছে সে ফর্মালী আমাদের সবাইকে চেক করলো। ব্যাপারটাকে আমরা সহানুভুতির সাথে নিলাম। কিন্তু এর পরও সে ক্ষান্ত হয়নি। আমাদের বুয়ার পরামর্শে সে ছোট এক বৈদ্য মেয়েকে ধরে আনল। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল, একটা শিক্ষিত ছেলে হয়ে সে অশিক্ষিত এক বুয়ার পরামর্শে কান দিল! জানাই ছিল সে মেয়ে কি করতে পারে। যা ভেবেছিলাম তাই। তার অচরন দেখে হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছিলামনা। সে এমন ভাব নিল যেন সে অনেক বড় পীড়। তার সামনে অনেক গুলো আগরবাতি জ্বলছে আর সে চোখ বুজে মুখে বিড় বিড় করছে। রাগে আমার গা জ্বালা শুরু করলো, কেটে পড়লাম। কারণ এ রকম নাটক আমার পছন্দ না। পরে ঐ ব্যাটা বলতে শুরু করলো সে নাকি সব জানে। একের পর এক নাটক চলছে, অফফফ!!! আর কত সহ্য করা যায়? সবাই কে ডেকে ডেকে সে ইন্টারভিউ নেয়া শুরু করলো....সহ্যেরওতো একটা সীমা আছে নাকি
এতটুকুই। এর পর আর বের হয়নি কে চোর। খুব সম্ভবত বাহিরের কেউ নিয়ে গিয়েছিল, আর যে মোবাইল চুরি হয়েছে তাতে চোরেরই মান-সম্মান যাওয়ার কথা!!!
এখন আমার কিছু প্রশ্ন :-
১.আসলে বৈদ্য কারা?
২.বৈদ্য কি সব ধর্মের হতে পারে?
৩.ওরা কি ভাবে সব জানতে পারে?
৪.ওদের কি কোন ধর্মীয় ভিত্তি আছে?
৫.”বাণ” আসলে কি? কিভাবে মারে আর কেনই বা মারে?
ব্লগে কোন হুজুর, বা এ ব্যাপারে খুব ভাল জানেন, মানে ইসলাম শাস্ত্র সম্পর্কে জানা থাকলে প্লিজ আমাকে জানান যে, আমাদের ইসলাম ধর্মে ব্যাপারটিকে কি ভাবে দেখা হয়? আমি জানতে চায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

