আজ চতুর্থ অংশ .... ( এখানে ক্লিক করে ১ম,২য় ও ৩য় পর্বের খোজ পাবেন )
তাহমিনা আর নুপুর ওর আপুদের বাড়িতে পৌছে সোজা নুপুরের ঘরে যায় । সেখানে গিয়ে নুপুর তাহমিনাকে বলে ....
নুপুর : ছোট আন্টি এই চিঠিটা তোমার ..। এই দ্যাখো তোমার নাম লেখা ।
তাহমিনা এই চিঠির বিষয়ে খুব একটা না বুঝলেও এটার নাম যে লাভ লেটার বলে মানুষ তা সে এতদিনে জানতে পেরেছে,,। তবে ঐ জিনিস পড়ার প্রতি তার একটুও আগ্রহ নেই । তাই ওটা হাতে নিয়ে ও এক দৌড়ে ওর আপুর কাছে চলে যায় ......তারপর কান্না করতে করতে বলে ..
তাহমিনা : আপু এই দ্যাখো কি !!! ঐ যে রুবী আপু আছে না , ওনার বড় ভাই আমাকে দিয়েছে ..
বড় আপু : দেখি দে,, ঐটা আমার কাছে দে .. আর তুই কান্দিস না .। আমি তোর দুলাভাই আসলে সব বলবো তার কাছে । চেয়ারম্যান এর ছেলের এত বড় সাহস ..
রাতে তাহমিনা কিছু খেতে চায় না রাগ করে তবুও ওর আপু ওকে জোর করে একটু খাইয়ে দিয়ে নুপুরের ঘরে দিয়ে আসে । ওখানে নুপুরের মা এর সাথে একটু গল্প করে তাহমিনা ঘুমিয়ে পড়ে একটু আগেই ।
এদিকে রাতে তাহমিনার দুলাভাই বাড়িতে ফিরলে ,,,, খাওয়া দাওয়া শেষ করে নিজেদের ঘরে গিয়ে তার আপু বলে .....
বড় আপু : আজ সন্ধ্যায় একটা খারাপ ঘটনা ঘটেছে .. । তোমার ছোট গিন্নিকে চেয়ারম্যান এর ছেলে মিলন লাভ লেটার দিয়েছে । এই দেখ কি লেখেছে ..।
দুলাভাই : দেখি কেমন লিখেছে !!
এই বলে চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়ে তার স্ত্রীর দিকে তাকায় । তারপর বলে ..
দুলাভাই : বউ একটা কাজ করলে কেমন হয় ..!!! মিলনের সাথে তাহমিনার বিয়ে দিয়ে রাখলে ..!!!
বড় আপু : কি বলছো তুমি ?? এতটুকু একটা মেয়ে যে এখনও পুতুল খেলে তাকে বিয়ে দেয়া যায় নাকি !! আর ও বিয়ের কি বোঝে .??
দুলাভাই : তোমাকেও তো আমি বিয়ে করেছিলাম প্রায় ওর অতটুকু থাকতে ..। তুমি ক্লাস এইট এ পড়তে । আর এইটা বড় বিষয় না । বিষয় হলো চেয়ারম্যান বড়লোক । আর ছেলে ঐ একটাই । তাই ঐ বাড়িতে বিয়ে দিলে তোমার বোন সুখে থাকবে .। ভেবে দেখ ....
বড় আপু : কিন্তু ও !!!!!!!!!!!!
কি যেন বলতে যাচ্ছিলো তাহমিনার বড় আপু .। কিন্তু ওর দুলাভাই বাধা দেয় .....
দুলাভাই : শোনো,,,!! কাল সকালে তোমার আব্বা আর মা কে আসতে বলো ..। আমি তাদের সাথে আলাপ করে দেখি কি বলেন ...
কিন্তু সকালে উঠে তাহমিনার দুলাভাই আগে গিয়ে চেয়ারম্যান এর সাথে দেখা করে চিঠির বিষয় সব কথা খুলে বলেন .। তখন চেয়ারম্যান বলেন,,,
চেয়ারম্যান : ছেলের মা আমাকে এই বিষয়ে একটু বলেছে ..!! আর মেয়েটাকেও কাল দেখলাম । কিন্তু মেয়েটা তো বেশি ছোট হয়ে যাচ্ছে । এত কাঁচা বয়স !!!
দুলাভাই : চেয়ারম্যান সাহেব আমার বিয়েও তো আপনারাই দিয়েছিলেন ..। তখন তো সেও অনেক ছোট ছিলো ..। আর আপনার ঘরেও তো একটা ছোট মেয়ে আছে । এটা না হয় আর একটা মেয়ে মনে করে রাখলেন ..।
চেয়ারম্যান : তা তো অবশ্যই !!! বিয়ে হলে বৌ-মা তো বাড়ির আর একটা মেয়ে হয়েই থাকবে ...
দুলাভাই : আচ্ছা চেয়ারম্যান সাহেব তাহলে আমি আজ উঠি .. আপনাকে কাল জানাবো ..। তারপর সবাই বসে দিন তারিখ ঠিক করা যাবে ।
পরের দিন জরুরী সংবাদ পেয়ে তাহমিনার বাবা মা তাদের বড় মেয়ের বাড়িতে হাজির হয় ..। সবাই মিলে সন্ধ্যার পরে বসে আলোচনায় ..। অনেক কথাবার্তা হয়ে অবশেষে তাহমিনার বাবা বলেন .....
বাবা : আচ্ছা বাবা তুমি যদি ভাল মনে কর তবে তাই করো .। আর তার আগে অবশ্য তাহমিনার বড় ভাই কে ডেকে একটু তার সাথেও আলাপ করে দেখ সে কি বলে ...!! তবে এখনই তাহমিনা যেন কিছু না জানে ..। ও জানলে কান্নাকাটি করে মরে যাবে ..। আর আমিও ওর কান্না সহ্য করতে পারবো না ..........
তাহমিনার বড় ভাই পরের দিন এসে এইসব কথা শুনে এবং অনেক পর্যালোচনার পরে রাজি হয়ে যান ..।
সবাই আসলে রাজি হয় মেয়েকে বড় ঘরে বিয়ে দিয়ে তাকে অনেক সুখি দেখার আশায় । তার ওপর তাহমিনার আগে যে তিন বোন তাদের সবার বিয়ে দিতে অনেক টাকা পয়সা খরচ হয় । এখন তারা অনেক গরীব ..।
তাছাড়া এখন ওর বাবা মা ও অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে .। যখন তখন তিনি যদি মারা যান তবে কে দেখবে তার ছোট মেয়েটা কে ..!! ভাই এর বৌ-রা যদি তখন অশান্তি শুরু করে ওকে নিয়ে ।
এসব নানা বিষয়ে চিন্তা করে অবশেষে অতটুকু বাচ্চা একটা মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার মত ভয়ংকর সিদ্ধান্তটা নিতে রাজি হয় সবাই ..
এরপরের দিন তাহমিনার বাবা ও দুলাভাই চেয়ারম্যান এর সাথে আবার দেখা করে বিয়ের বিষয়ে চুড়ান্ত আলোচনা করেন ...সেখানে তাহমিনার বাবা ও দুলাভাইয়ের দাবী দাওয়া বিষয়ক প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেন...
চেয়ারম্যান : আমাদের কি যৌতুক লোভী মনে হয় ??? আর এই মেয়ে আমার ছেলে নিজে পছন্দ করেছে । তাই আমাদের কোন চাওয়া পাওয়া নেই ।
দুলাভাই : আচ্ছা চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের বোন আমরা যে ভাবে যতটুকু পারি সাজিয়ে দেব ... আপনি বিয়ের দিন ঠিক করেন ..।
চেয়ারম্যান : বিয়েটা হঠাৎ দিতে হবে । কোন আয়োজন করা যাবে না । কারণ এত ছোট মেয়ে বিয়ে দেওয়া এখন সমাজের আট/দশ জন তা মেনে নেবে না । আর আমার বিরোধী পক্ষও এটা নিয়ে ঝামেলা করতে হবে । তাই আমি বিয়েটা আমাদের দু-বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাচ্ছি ..
দুলাভাই : আচ্ছা তাহলে আগামী পরশু দিন শুক্রবারে সন্ধ্যায় কাজটি সম্পন্ন করা যাক ?? কি বলেন চেয়ারম্যান সাহেব ??
চেয়ারম্যান : সেটা তো ভালই হয় .. তা বেয়াই সাহেব কিছু বলছেন না তো .।
তাহমিনার বাবা : আমি আর কি বলবো ..। জামায় আর আপনারা মিলে যা সিদ্ধান্ত নিবেন আমি সেটাই মেনে নেব ।
এভাবেই ছোট্ট একটি মেয়ের জীবন ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শেষ করে তারা ......
( চলবে ,,,,,,,,,,,),,,

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


