somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

* নিয়তির বেড়াজাল * (একটি সত্য কাহিনী নিয়ে ধারাবাহিক গল্প ) পর্ব -০৫

০৫ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৩:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখানে ক্লিক করে ৪র্থ , ৩য় , ২য় , এবং ১ম পর্বের খোঁজ পাবেন .।

শুক্রবার সকালে তাহমিনার বড় আপুর বাসায় সবাই খুব ব্যস্ত হয়ে বিভিন্ন কাজ কর্ম গোছাচ্ছে । তাহমিনার বাবা মা এবং বড় ভাই ও আছে । তাহমিনার বড় আপু , দুলাভাই , বড় ভাই সবাই খুব হাসি খুশি মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।
কিন্তু তাহমিনার মা-বাবা কেমন যেন মন মরা হয়ে বসে আছে ..। ছোট্ট মেয়েটা আজ পরের ঘরে চলে যাবে । আর তাদের তেমন কোন অধিকার থাকবে না ঐ মেয়ের প্রতি । এইসব নানা বিষয়ের সাথে সাথে মেয়ের বিয়ে নিয়েও মনের মাঝে নানা রকম চিন্তার উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে সদ্য-বৃদ্ধ বাবা মা এর মনে ।
এদিকে তাহমিনা তখনও জানে না কি হতে চলেছে ... তবে কৌতুহল আটকাতে না পেরে এবং বড় ভাই এর ধমক এর ভয় কাটিয়ে সে তার বড় আপুর কাছে জানতে চায় .....
তাহমিনা : আপু আজ কি তোমাদের বাড়িতে কোন অনুষ্ঠান হবে ??? এত সাজানো গোছানো চলছে ,, আবার রান্না-বান্না করছো দেখছি !!!
বড় আপু : হ্যা !!! বিরাট অনুষ্ঠান । সন্ধ্যা হলেই দেখবি ......!!!
কথাটা বলে বড় আপু তার কাজে মন দেয় । আর তাহমিনা চলে যায় নুপুরের কাছে ।
তারপর ছোটখাটো নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে দিনের সূর্যটা শেষ মুহুর্তের রক্তিম আভা ছড়িয়ে যখন অস্তমিত প্রায় .. তখন তার সাথে সাথে একটি নিষ্পাপ ফুলের মত মেয়ের জীবনের সুখের সুর্য টাও অস্তাচলের গান ধরেছে .....
তাহমিনার বড় আপু ওকে ডেকে নিয়ে যায় ঘরে ..। তারপর অতটুকু মেয়েকে সাজিয়ে দেবার নাম করে শাড়ি চুরি আর গহনা পরিয়ে কিছু দিন আগে বিয়ে দেওয়া তাহমিনার পুতুলের মতই আরও একটি পুতুল সাজিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বের হয় তাহমিনাকে ঘরে বসিয়ে রেখে ..।

কিছুক্ষন পর তাহমিনার মা ঘরে ঢুকে তাহমিনাকে ওমন লাল টুকটুকে ছোট্ট পরীর মত বউ সাজা দেখে নিজের কান্না আর ধরে রাখতে পারেন না ...
মায়ের এমন আকস্মিক কান্না দেখে তাহমিনার মনেও কেমন যেন একটা নাড়া দিয়ে যায় ...। হঠাৎ ও বলে বসে .....
তাহমিনা : মা কাঁদছ কেন ??? আমার কি বিয়ে নাকি ???
মা কিছু বলতে পারেন না ,,, সাথে সাথে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান ।
এদিকে তাহমিনার বড় বোন তার বাবার কাছে গিয়ে যখন ছোট বোনের সাজগোজ শেষ বলে সংবাদ দেয় ,, তখন তাহমিনার বাবা বলেন ,,,

তাহমিনার বাবা : বড় মনি তুই গিয়ে ওকে এখন বল যে ওর বিয়ে আজ এখনই .। পরে জানলেও তো জানবে ..। তাই এখন বলে দে ,,, যদি কান্নাকাটি করে তবে ওরা আসতে আসতে বুঝিয়ে-সুজিয়ে রাজী করানো যাবে । তা না হলে পরে সমস্যা হতে পারে ।
কথা গুলো বলতে বলতেই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে তাহমিনার বাবার ..।
বড় বোন অনেক কিছু ভাবতে ভাবতেই ঘরে ঢুকে দেখে বোনটি এখনও সেখানেই বসে আছে ....। বড় বোনকে দেখেই তাহমিনা প্রশ্ন করে ...
তাহমিনা : আপু সত্যি করে বলতো আমাকে এমন করে সাজিয়েছ কেন ???
বড় আপু : মনি তোর একটু পরে বিয়ে । ঐ যে সেদিন যে তোকে চিঠি দিয়েছিলো তার সাথে !!!
বড় বোনের কথা শেষ হতে না হতেই তাহমিনা চরম কান্নাকাটি শুরু করে । বিছানায় গড়াগড়ি দিয়ে কান্নাকাটি করে আর বলে আমি বিয়ে করবো না আমি বিয়ে করবো না ..। কান্না শুনে ওর বাবা মা ও চলে আসে ঘরে .. নানা ভাবে তারাও বোঝানোর চেষ্টা করেন কিন্তু কোন লাভ হয় না ।

তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাহমিনার বড় ভাই রেগে গিয়ে ওর হাত ধরে টেনে তুলে গালে জোরে একটা চড় মেরে দেয় । আর বলে ...
বড় ভাই : তুই যদি আবার কাঁদিস তবে তোকে খুন করে ফেলবো !!!
এইভাবে আরও কিছু কথা বলে তাহমিনাকে শাসিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান । আর তাহমিনা ভাই এর রক্তচক্ষু দেখে এবং জীবনে প্রথম চড় খেয়ে হতভম্ব হয়ে বসে থাকে আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে ..। কিন্তু ভাই এর হাতে মার খাওয়ার ভয়ে জোরে আর কান্না করতে পারে না ।
এদিকে মেয়ের এমন কান্না দেখে মা বাবা কেউ আর ওখানে থাকতে পারেন না ..। দুজনই বড় বোন কে রেখে ঘর থেকে বের হয়ে যান ...।

এদিকে এক নজরের দেখায় ভাল লাগা মেয়েটিকে বিয়ে করার আনন্দে মনের মাঝে নানা রং এর নানা সুরের গান বাজাতে বাজাতে মাগরিবের আজানের পর চেয়ারম্যানের ছেলে মিলন ,, এবং বরযাত্রী হিসেবে তার মা, বাবা , ছোট বোন ,, চাচা চাচী আর বৃদ্ধা নানী আসে তাহমিনাকে বিয়ে করতে ।
কিন্তু মিলনের চাচা চাচী মেয়ে দেখে একটু রাগান্বিত হন এবং মিলনের বাবা চেয়ারম্যান কে ডেকে আড়ালে কিছু কথা বলেন ,,,
মিলনের চাচা : মিয়া ভাই এইটা আপনি কি করছেন ?? এতটুকু একটা মেয়েকে মিলনের বউ বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ??
চেয়ারম্যান : দেখ যা হবার হয়ে গেছে ,,!! আর মেয়েদের বড় হতে বেশি সময় লাগে না ,, দেখবা ১ বছরের ভেতরেই বড় হয়ে গেছে । যায় হোক মিলনের বিয়ে নিয়ে অনেক ঝামেলা যাচ্ছিল । আজ সেটা থেকে মুক্তি পাবো । তোমরা আর নতুন করে ঝামেলা বাড়িও না ।

কথা গুলো বলে চেয়ারম্যান তাহমিনার দুলাভাইয়ের কাছে গিয়ে বিয়ের কাজ অতি তাড়াতাড়ি শুরু করতে বলে । আর এদিকে মিলনের চাচা চাচী সামাজিকতা রক্ষার্থে এবং নিজেদের মাঝে ঝামেলা না বাঁধাতে চুপচাপ বিয়ের বাকি সময় টুকু পার করতে চেষ্টা করে ।

কাজি আসার পর বিয়ের কাজ আরম্ভ হয় । মিলনকে পঞ্চাশ হাজার এক টাকা দেনমোহরানা দিয়ে বিয়েতে রাজি থাকলে কবুল বলতে বলা হলে মিলন অতি দ্রুত তিন বার কবুল বলে কাগজে সাইন করে । সাক্ষিদের সাক্ষর নিয়ে কাজি সাহেব এবার যান মেয়ের কাছে । কিন্তু মেয়ের দিকে তাকিয়ে তিনি বলে ওঠেন ....

কাজি সাহেব : হাই আল্লাহ এরা শিক্ষিত মানুষ হয়ে এত ছোট মেয়ের বিয়ে দিচ্ছে কি ভাবে !!! আর চেয়ারম্যান সাহেবই বা কেমন মানুষ ..?? আমি আগে জানলে আসতামই না ...। আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করো ....!!!!

তারপর কাজি সাহেব বাধ্য হয়ে এবং চেয়ারম্যানের ভয়ে তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে মেয়েকেও ছেলের অনুরূপ কথা বলে কবুল বলতে বলেন .. কিন্তু তাহমিনা কোন কথাই বলে না .. এখনও তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে .. এখনও সে কান্নাকাটি করছে নিঃশব্দে ।

তাহমিনার কানের কাছে মুখ নিয়ে ওর বড় আপু এবং পাশে বসা অন্যরা তাকে কবুল বলতে উৎসাহিত করতে চেষ্টা করে যখন ব্যার্থ তখন চালাকি করে ওর বড় আপু নিজেই তাহমিনার পাশ থেকে তিনবার আস্তে আস্তে কবুল বলে দেয় ।
বৃদ্ধ কাজি সাহেব তা শুনে এবং বুঝেও না বোজার ভান করে "আলহামদুলিল্লাহ" বলে এবং মেয়ে সাক্ষর না করায় বড় বোনের সহায়তায় টিপসই নিয়ে ওখান থেকে চলে যান ..
তারপর বাকি কাজ টুকু সেরে দোয়া করে বিয়ের মূল কাজ সমাপ্ত করেন । এরপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে বউ নিয়ে যাওয়ার সময় হয়ে আসে ।
কিন্তু তখনও তাহমিনা অবিরত কান্না ঝরাতেই আছে । এবং তাকে নিয়ে যাওয়ার আলামত টের পেয়ে সে তার মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে এবং বলে ....
তাহমিনা : মা আমার বিয়ে দিলে আমি কিন্তু মরে যাবো .... !!!! আমি তোমাদের ছেড়ে কোথাও যাবো না ....
কিন্তু বাবা মা ও যেন তখন বাকরুদ্ধ কোন কথা বের হয় না মুখ দিয়ে ..। বড় ভাই এসে প্রায় জোর করে তাকে পালকিতে তুলে দেয় .। চেয়ারম্যান এর ছেলে মিলন তার বউ এবং বরযাত্রী নিয়ে রওনা হয় বাড়ির দিকে । ....


{ চলবে ...... }
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×