আগের পর্ব; এখানে গেলে পুর্বের পোস্টের লিংকও পেয়ে যাবেন .।
বৌ নিয়ে চেয়ারম্যান এর ছেলে ও তার বরযাত্রীদের নিজের বাড়িতে পৌঁছুতে পাঁচ মিনিট ও লাগেনি ......।
বাড়ির উঠানে পৌঁছেই পালকির বাহক যারা ছিলো তারা সেটা কাঁধ থেকে নামিয়ে রাখলো মাটিতে ।
তারপর বাড়ির লোকজন আর দু-তিন ঘর প্রতিবেশি যারা বৌ দেখতে এসেছে তাদের সবার মুখেই হাসির ঝিলিক .....।
কিন্তু তাহমিনার চোখে তখনও অঝরে অশ্রু বৃষ্টি হচ্ছে ...। তার চাপা গোঙ্গানির আওয়াজ কারও তখন কানে পৌঁছনোর কথাও নয় ..। পালকির ভেতরে যেন নিরপরাধী অথচ চুরির দায়ে আটক কোন শিশুর মতই জড়সড় হয়ে বসে আছে অভাগী মেয়েটা ....।
মিলনের নানী তাহমিনাকে পালকি থেকে নামিয়ে আনতে গেল....
পালকি ওয়ালাদের বকশিস চেয়ারম্যান সাহেব আগেই দিয়ে দিয়েছেন ,,তাই আর ঝামেলা হলো না ।
ছোট্ট একটা মেয়ে তাই মিলনের নানী অতি সহজেই তাহমিনাকে কোলে তুলে নিয়ে এসে উঠানের মাঝে রাখা দুটি চেয়ারের একটিতে বসিয়ে দিলেন ...
অন্য চেয়ারে চোখে মুখে লজ্জা লজ্জা ভাব আর খুশির ঝিলিক নিয়ে বসে আছে মিলন ..।
কিন্তু অভাগীর কপালে হয়তো শশুর বাড়ীর সুখ লেখা নেই..নিয়তির মুচকি হাসি যে এখানেও খেলা দেখাতে শুরু করলো..
..হঠাৎ তাহমিনা ক্ষোভ ,লজ্জা বা ভয়ে কান্না চেপে রাখতে না পেরে ভিশন ভাবে কাঁপতে কাঁপতে চেয়ার থেকে পড়ে যেতে থাকে ... মিলনের নানী পাশে থাকায় ধরে ফেললেন সাথে সাথে । তারপর পাজাকোলা করে ধরে তাড়াতাড়ি ঘরের মেঝেতে পাটি পেড়ে শুয়ে দিয়ে চোখে মুখে আর মাথায় পানি দিতে শুরু করলো.....।
এদিকে পাড়া প্রতিবেশি নানান ধরনের কথা বলতে শুরু করে দিয়েছে ...
--- কেউ বলে রোগা মেয়ে চেয়ারম্যান কোন জায়গা থেকে তুলে নিয়ে আসলো..
--- আবার কারো মতে ,,, মেয়েটির মনে হয় মিরগা ব্যারাম আছে ....।
এধরনের কথা শুনে মিলনের ও তাদের পরিবারের বাকি সবারই মুখ শুকিয়ে ছোট হয়ে এলো ....। হাই হাই ওরা কিছু লুকাইনি তো ...!!!!
তাহমিনার দুলাভাইয়ের বাড়ি বেশি দুরে না হওয়ায় খবর ওখানেও পৌছে গেল ..বাবা মা , ভাই , বোন দুলাভাই সবাই ছুটে এলো এ খবর শুনে .......
এরই মাঝে সম্বিত ফিরে পেয়ে তাহমিনা কাঁপা গলায় মা মা বলে ডাকতে থাকে আর ভিতু চোখে অচেনা বা অল্প চেনা মুখগুলোর দিকে তাকাতে থাকে ...।
তখন তাহমিনার মা ও বাবা সেখানে ছুটে গিয়ে আদরের ছোট মেয়েকে বুকে তুলে নেয় ...। তাহমিনা শুধু একটি কথায় বলে বারবার .....
----- মা আমাকে নিয়ে যাও ,, আমি এখানে থাকবো না , আমাকে নিয়ে যাও !!!!
এভাবেই কেটে যায় ঘন্টা দুই ..... প্রতিবেশিরা চলে গেছে সবার নিজেদের বাড়ি ঘরে .। পরিস্থিতিও কিছুটা শান্ত ..তবে তাহমিনা এখনও অবুঝের মতই মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে কান্না করছে । কোন শান্তনাতেই কাজ হচ্ছে না ।
এদিকে শুরু হয়েছে পারিবারিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ....।
মেয়ের এমন পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুলেছেন তাহমিনার বাবা ...
তাহমিনার বাবা : বেয়াই সাহেব ,,, আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি । আপনারা হয়তো অনেক কিছু ভাবছেন । কিন্তু আমার মেয়ের সত্যিই কোন রোগ বালাই নেই ..। আর ও ছোট মানুষ তো তাই বিয়ের বিষয়টা এখনও মেনে নিতে পারে নি ..। আর আমার বড় ছেলে রাগের মাথায় ওকে একটু বকাঝকা করেছে বলে তখন থেকে কান্নাকাটি শুরু করে ,, আর দুপুরেও তেমন কিছু খায়নি ও ..। দয়া করে আপনারা অন্য কোন সিদ্ধান্ত নিয়েন না ,,,। আমাদের একটু সময় দিন ।
চেয়ারম্যান সাহেব : দেখুন বেয়াই,, এখন তো এসব কথা বলে লাভ নেই । বরং কি করতে চাচ্ছেন তাই বলুন ....!!!!
তাহমিনার বাবা : মেয়ের অবস্থা তো দেখছেনই ....!!! এখন সে তার বোনের বাড়িতেও যেতে চাইছে না ... । তার একই কথা সে বাড়ি যাবে । আর এতটুকু একটা মেয়ে এখন আমরা তো এখানে রেখেও যেতে পারছি না । তাই আজ রাত যেভাবেই হোক কাটিয়ে আমরা সকালে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি যেতে চাচ্ছি ...।
চেয়ারম্যান সাহেব : সেটাই ভাল বেয়াই সাহেব ...। বৌ মা কে নিয়ে যান । দেখুন আপনারা সবাই ওকে একটু যদি বুঝিয়ে সুজিয়ে আবার পাঠাতে পারেন তবে ভাল হয় !!!! আর এদিকে আমার ছেলেটাও মাঝে মাঝে আপনাদের ওখানে গেল...!!! আসতে আসতে এভাবেই সব ঠিক হয়ে যাবে ...।
চেয়ারম্যান সাহেব বিষয়টা এত সহজ ভাবে নেওয়ায় তাহমিনার বাবা , ভাই দুলাভাই বোন সবাই খুশি হলো...। আর মনে মনে রাগ ঝাড়তে লাগলো ছোট বোনটার ওপর ... এত সুন্দর একটা পরিবারের সাথে সম্পর্ক জোড়া লেগেও ভেঙে যাওয়ার ভয়ে .....
কথা গুলো মিলনের ভাল লাগছিলো না ..। না লাগাটাই স্বাভাবিক । কারণ বিয়ের রাতেই এমন ঝামেলা .. তার ওপর আবার বৌ নিয়ে চলে যাবার কথাবার্তা চলছে ...। কিন্তু বড়দের মাঝে কথা না বলায় ভাল ,, তার ওপর নতুন জামাই শশুরের সামনে একটু লজ্জায় পাচ্ছিলো ..।
তাই যখন তার শশুর এই বিষয়ে তার মতামত কি জানতে চাইলে মিলন সলজ্জ ভাবে উত্তর দিলো .....
---- আব্বা আপনারা যা ভাল মনে করেন সেটাই হবে ......।
এসব নানা আলোচনা করতে করতেই রাত প্রায় ভোর হতে চলেছে ...অথচ কারো চোখে এক ফোটা ঘুম নেই ..। বিয়ের দিনে এমন একটা ক্যাচাল কাদেরই বা ভাল লাগে ......
{ চলবে .......}

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

