কোচিং সেন্টারে বিক্রির জন্যই এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টা চালিয়েছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো ছাপাখানার শ্রমিক শাহেনশাহ ঠাকুর। তবে কোন কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, তা জানতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া শাহেনশাহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গুলশান বিভাগের উপকমিশনার লু ৎফুল কবীর এ তথ্য জানান।
উপকমিশনার আরও বলেন, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া (ক্লোজ) হয়েছে। মামলার তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর মহাখালীর সরকারি প্রেস থেকে অন্তর্বাসের নিচে একটি প্রশ্নপত্র নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন শাহেনশাহ ঠাকুর। এরপর এমবিবিএস (সরকারি/বেসরকারি মেডিকেল কলেজ) ভর্তি পরীক্ষার সময় এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্নপত্র নিয়ে ধরা পড়ার পর শাহেনশাহর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে প্রশ্ন ফাঁস করার জন্য কোনো কোচিং সেন্টার বা ব্যক্তি শাহেনশাহকে ওই ছাপাখানায় কাজে নিয়োগ দিতে পারে। এ রকম কিছু আলামত পাওয়া গেলেও জিজ্ঞাসাবাদে শাহেনশাহ বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি এখন পর্যন্ত কারও নাম বলেননি।
এখন পর্যন্ত মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার লু ৎফুল কবীর বলেন, দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও শাহেনশাহ খুব বেশি কিছু বলেননি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর শাহেনশাহ শুধু বলেছেন, কোচিং সেন্টারে বিক্রির জন্যই তিনি প্রশ্নপত্র নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে কোন কোচিং সেন্টারে বিক্রি করার ইচ্ছে ছিল বা কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
শাহেনশাহকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রশ্নপত্র ছাপার কাজ শুরু হয়। এর মাত্র তিন দিন আগে থেকে শাহেনশাহ ওই ছাপাখানায় কাজ শুরু করেন। এর আগে তিনি গাজীপুরে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। শাহেনশাহ এসএসসি পাস বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন। এর আগে তিনি লেখাপড়া জানেন না বলে জানিয়েছিলেন। তবে তিনি কেন হঠা ৎ করে আগের চাকরি ছেড়ে ছাপাখানায় দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ নিলেন, তার কোনো যুক্তিযুক্ত জবাব দেননি শাহেনশাহ।
পুলিশ জানিয়েছে, শাহেনশাহর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের কৃষ্ণপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আতিয়ার রহমান ঠাকুর। এলাকায় রিংকু হিসেবে পরিচিত শাহেনশাহ।
গতকাল বুধবার থেকে মামলার তদন্ত শুরু করেছে ডিবি। ডিবির উপকমিশনার (উত্তর) মাহাবুবর রহমান বলেন, মামলাটির তদন্ত কেবল শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠেয় পরীক্ষা সামনে রেখে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ছাপানো হচ্ছে
সূত্রঃ প্রথম আলো।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



