কক্সবাজারে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক পর্যটককে এক দল সেনা সদস্য মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার দুপুরে সৈকতের সি গাল পয়েন্টের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে নির্যাতিতরা এবং টুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে। তবে সেনা সদস্যরা ঘটনাটিকে 'সামান্য' ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন।
আহতের নাম মোহাম্মদ হানিফ। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হানিফের ছোট বোন লিলি আকতার (২২) সাংবাদিকদের বলেন, দুপুরে তারা সাগরে নামলে এক দল সেনা সদস্য পানিতে নেমে নানাভাবে তাদের বিরক্ত করতে থাকে।
বিষয়টি উত্ত্যক্ততার পর্যায়ে গেলে হানিফ প্রতিবাদ করেন। তখন সেনা সদস্যরা হানিফকে মারধর করে বলে লিলির অভিযোগ।
ওই সেনা সদস্যরা রামুর নারিকেল বাগান সেনাক্যাম্প থেকে সকালে সৈকতে আসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের ওসি আসাদ করিম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, দুপুর ১২টার দিকে সেনা সদস্যরা এক জন পর্যটককে বেধড়ক মারধর করেছেন জেনে তিনি একজন উপ-পরিদর্শকসহ কয়েকজন পুলিশকে সেখানে পাঠান।
সেনা সদস্যরা আহত পর্যটককে হাসপাতালে নিতে বাধা এবং পুলিশ সদস্যদের নাজেহাল করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আসাদ নিজে গিয়ে হানিফকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যাবস্থা করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা সেনা কর্মকর্তা মেজর মাহমুদ অবশ্য উত্ত্যক্ততা বা নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাংবাদিকদের বলেন, "সেনা সদস্যরা সৈকতে ভলিবল খেলছিলো। ওই সময় একটি বল ওই পর্যটকদের গায়ে গিয়ে পড়ে। এ নিয়ে ওই পর্যটকদের সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।"
তিনি সাংবাদিকদের কাছে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা প্র"ছনু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানান, হানিফের শরীরে মারধরের আঘাত রয়েছে।
ঘটনার পরপরই কক্সবাজার মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তোফায়েল আহমদ ঘটনাস্থলে যান।
তিনি বলেন, সেনা সদস্য ও সাধারণ মানুষের বক্তব্য তারা শুনেছেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কথা হয়েছে।
আহত পর্যটক লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এএসপি তোফায়েল।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যে সব সেনা সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা এখন ক্ষমা চাচ্ছেন।
তবে আহত পর্যটক লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনিও।
এ বিষয়ে কথা বলতে সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফজলুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটক
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



