বুঝতে পারছি না কিভাবে শুরু করবো। অনেক গুলো চিন্তা মাথায় ঘুরছে, যা আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে।
স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ আর দেশের মানুষদের নিয়ে। স্বার্থের সবটুকই দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। পেরে উঠতে এখনও পারিনি .........
শুধু মুখে না বলে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করি। কাজের মাঝে প্রাপ্তি স্বপ্নের ধারে কাছে দিয়েও যায়না, তারপরও অসহায়কে নিঃস্বার্থ নির্মল হাসি দিতে দেখলে অনেক ভাল লাগে , অনেক বেশি ভাল লাগে। জেনো প্রতিটি হাসি এক একটি ফুল যা আত্ম-স্বীকৃতি পাওয়া মাত্র ফুটে উঠে!!
আমার কাজের শুরু ২০০১ যদিও ছিল অসহায় মানুষদের চিকিৎসা স্বার্থে সকলের কাছে থেকে সাহায্য তুলে সকলের হয়ে দান করা। কাজ করতে করতে দৃষ্টি প্রসারিত হল , বুঝলাম আমাদের সমাজে সকলেই কোথাও না কোথাও অসহায়। আর বুঝে উঠতে অনেক সময় লেগে যায় সুশিক্ষা একমাত্র মুক্তির উপায়। যে শিক্ষা শুধু মাত্র বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিক্ষণে শিখে নেয়ার বিষয় থাকে। তাহলে যারা শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় নিজেকে উৎসর্গ করে তারাও অসহায়। এই ব্যাপারটা আমার বুঝে উঠতে অনেক বেশি সময় লেগে গেছে , বইয়ের পাতায় যা থাকে তা সবই জ্ঞান আহরণের সূত্র!! জীবন থেকে শিখে নেয়ার সূত্র!!
তাই এই সূত্র ধরিয়ে দেয়ার কাজ তাই করার চেষ্টা করি। নিজেও শিখে নেয়ার চেষ্টা করি। নিজেকে ভালবাসি বলে নিজেকে সুন্দর উপস্থাপনে প্রতিনিয়ত শিখি। আর এই শিখার মূল বিষয় হয়ে উঠে আমাদের সংস্কৃতি আমাদের ইতিহাস।
আমি একদমি বোদ্ধা নই , কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হয়না আমাদের ৭১’ শত্রুরা আজও বেঁচে আছে। এজন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে অন্ধকার রাতে মোমবাতি মিছিলে এগিয়ে গিয়েছিলাম শহীদ মিনারে। (বড় ভাইদের কাছে শুনেছিলাম মশাল জ্বালিয়ে মিছিল করা নাকি দণ্ডনীয় অপরাধ) । সেদিন মনে হচ্ছিলো, এখনও যুদ্ধ চলছে – আমি একজন যোদ্ধা। সরকারকে বিচারের তাগাদা দেয়াটাই ছিল উদ্দেশ্য
এটিএন এ বিজয় দিবসকে মাথায় রেখে বিশেষ অনুষ্ঠান করা হয়। যেখানে একদম শিশুদের সাথে মুক্তিযুদ্ধকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য ২জন সেক্টর কমান্ডারদের আমন্ত্রণ করার হয়। অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা আমি করেছিলাম বলে যুদ্ধাপরাধী বিষয়টা ধুকিয়ে দিয়েছিলাম।
দুক্ষজনক হলেও সত্যি সেদিন ক্যামেরা এর সামনে ওনারা কথা বলেননি যুদ্ধাপরাধী বিষয়ক। অনুরোধ করলে ধারণ না করার শর্তে আমাদের বলেন যুদ্ধাপরাধী অল্প যা আছে তাদের বিচার হবে।
আমি সেদিন অনেক আহত হই। কারণ বীরদের কেমন যেন খাঁচায় বন্ধি মনে হচ্ছিলো!!!
আমার পেশাগত কারণে আমি একজনের বাসার ইন্টেরিওর ডিজাইন এর কাজ করি। কাজ করতে গিয়ে জানলাম আমার ক্লায়েন্ট একজন মুক্তিযোদ্ধা! বর্তমানে তিনি অনেক ক্ষমতাধর অনেক মিটিং করেন , টাই তার সাথে কথা বলার সুযোগ হয়নি খুব বেশি। তবে জানতে দেরি হয়নি তিনি আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন। কিন্তু বর্তমান সরকারের দেয়া আশীর্বাদে তিনি এখন একজন মুক্তিযোদ্ধা!!!!
এসব কথা একবছরের বেশি আগের ...... দেশের দুই শীর্ষ দলের কাছ থেকে আমি আর কিছুই আশা করতে পারিনা। শুধু শীর্ষ ২দল না , কোন রাজনৈতিক দলের কাছেও আশা করিনা। এরপর থেকে যতবার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পরিচিত হয়েছি , নিজের অজান্তে একটা প্রশ্ন এসেছে ......... ইনি সত্যি একজন মুক্তিযোদ্ধা তো ?? আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, মা আমাকে ক্ষমা করো :’(
বিষয় গুলা যতজনের সাথে শেয়ার করেছি , সবাই বলেছে এটা নাকি ওপেন সিক্রেট :O
সত্যতা অজানা।
সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে আনন্দে ছিলাম, যখন হঠাৎ টের পেলাম যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে চাওয়া পাওয়া কমে আসছে এখন খারাপ হচ্ছে ইসলাম, কষ্ট রাখার জায়গা পাচ্ছিলাম না ।।
অনেককে দেখলাম অনলাইন এ ইসলামকে খারাপ করে উপস্থাপন করছে। মানুষের খারাপ কাজকে খারাপ বলতে আমি সাহসী , টাই বলে কেন ইসলাম ? তাও যখন আমার সহযোদ্ধা যারা আমরা একসাথে মিছিল করেছিলাম তাদের লিখা তাদের স্ট্যাটাস পোস্ট এগুলা দেখি ইসলামকে জঘন্য ভাবে উপস্থাপন করছে!!!
নিজেকে একবার আয়নায় দেখে এখনও ভাবছি , ইসলামকে ভালবাসি বলে কি ভবিষ্যৎ যুদ্ধাপরাধী কি আমাকে বলা হবে ?!!!!
নির্বাচনে জয় লাভ করার জন্য কি এখন আমি আর আমার মত মানুষদের বলা হবে ‘নতুন যুদ্ধাপরাধী’ !!
কষ্ট হচ্ছে!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

