আদর রহমান
বার্তা২৪ ডটনেট
ঢাকা, ২৮ নভেম্বর: বাংলাদেশে অসংখ্য মানবাধিকার সংস্থা এবং বেসরকারি এনজিও থাকা সত্ত্বেও কোথাও ঠাঁই হচ্ছে না ১২ বছরের এই মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েটির। অজ্ঞাত এই মেয়েটি ৪ নভেম্বর থেকে কাকরাইলের রাজস্ব ভবনের সামনের ফুটপাতে পড়ে আছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীরা জানায়, ঈদ-উল-আযহার চার দিন আগে কে বা কারা তাকে ওই স্থানে ফেলে রেখে গেছে তা কেউই দেখেনি। বর্তমানে, মেয়েটি খোলা আকাশের নিচে থাকছে এবং এলাকার ভাসমান চায়ের দোকানের মালিক নুরুন্নাহার মেয়েটিকে খাবার দিচ্ছেন ও দেখাশুনা করছেন।
তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়েটি কথাও বলতে পারে না এবং হাঁটতে পারে না। খাবার, টাকা, পোশাক এসব কিছুই চেনে না। প্রথম চারদিন কোনো খাবার মুখে না নিলেও পরে স্থানীয় কয়েকজন কর্মজীবী নারীর চেষ্টায় তাকে খাওয়ানো হয়।
নুরন্নাহার জানান, প্রতিদিন অনেক মানুষ এসে ভিড় জমিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে থাকে, দেখে। অনেকে দয়া করে ৫/১০ টাকা দেয়। কিন্তু ও টাকা সে ধরেও দেখে না। টাকা-পয়সা কিছুই চেনে না।
এদিকে, মেয়েটির জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে এগিয়ে এসেছে দুটি হিউম্যান ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। এদের মধ্যে একটি শপথ ফাউন্ডেশন এবং অপরটি চিলড্রেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। তারা গত কয়েকদিন ধরে মেয়েটির জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র খুঁজছে। কিন্তু তারা এমন কোনো আশ্রয় কেন্দ্রের সন্ধান পাননি বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলোর প্রতিষ্ঠাতারা।
তারা জানান, কয়েকদিন আগে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী টেলিফোনে তাদের ওই প্রতিবন্ধী মেয়েটির অবস্থান সম্পর্কে জানান। এরপর তাকে নিয়ে ওই স্থানে গেলে মেয়েটির খোঁজ পাওয়া যায়। আশেপাশের মানুষদের কাছ থেকে জানা যায়, বেশ কয়েকদিন আগে এই মেয়েটিকে কেউ এখানে ফেলে রেখে যায়। প্রথম কয়েকদিন মেয়েটিকে দেখতে ভালো পরিবারের মনে হলেও, আস্তে আস্তে তার গায়ের পোশাক ছিঁড়তে শুরু করে। এরপর পাশের চায়ের দোকানের মালিক স্থানীয়দের ভাষায় ‘শিপুর মা’ মেয়েটিকে ভালো পোশাক পড়ান এবং নিয়মিত খাবার দেন।
মেয়েটিকে দেখার পর, সংস্থার প্রধানরা স্থানীয় রমনা থানায় যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে জানানো হয়, এমন কোনো প্রতিবন্ধী মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার কোনো খবর থানায় আসেনি। সংস্থার প্রধানদের অনুরোধে মেয়েটির খোঁজ নিতে ওই স্থানে পুলিশ পাঠানো হলে তারা জানায়, মেয়েটি পাগল এবং তাকে পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা তাদের কাছে নেই। তবুও আরো খোজঁ-খবর নিয়ে মেয়েটিকে সাহায্যের আশ্বাস দেন রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম।
পরে সোমবার বিকেলে রমনা থানা থেকে পুলিশ এসে মেয়েটিকে ওই স্থান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। সে সময় পুলিশের সঙ্গে আরো ছিলেন শপথ ফাউন্ডেশন এবং চাইল্ড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রধানরা। পুলিশের গাড়িতে করে মেয়েটিকে প্রথমে রমনা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শপথ ফাউন্ডেশনের প্রধান মাকসুদ রহমানসহ মেয়েটিকে তেঁজগাও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয়। কিন্তু তারাও মেয়েটিকে আশ্রয় দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তারা জানান, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার শুধু দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আশ্রয় দিয়ে থাকে।
পরে আবারো রমনা থানায় ফিরিয়ে আনা হয় মেয়েটিকে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মেয়েটির জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবারো তাকে ফুটপাতে ফেলে রেখে এসেছে পুলিশ। শপথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেয়েটির নাম দেয়া হয়েছে ‘শব্দ’, যার চিৎকার কেউ শোনে না।
এদিকে চাইল্ড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রধান জানান, তাদের নিজেদের কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই। তাই, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ‘শব্দ’কে তাদের কাছে রাখতে পারছেন না।কিন্তু তারা বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং বেসরকারি এনজিও’র সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু কেউই মানসিক প্রতিবন্ধী কোনো শিশুর দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না।
দুই সংস্থার প্রধানই বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “মেয়েটির ভবিষ্যত কী আছে, তা এখনো পরিষ্কার না। দেখা যাক, পুলিশ এবং সরকার কী আদৌ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে কিনা। নাকি এত বড় দেশে কোথাও ওর কোনো ঠাঁই হবে না।”
প্রকাশিত খবরের লিংক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

