somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহমুদুর রহমান
আমার নাম- মাহমুদুর রহমান।কোন কুসংস্কারে বিশ্বাস করি না।যে কোন ধরনের সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করি।নিজের ধর্ম ইসলামকে খুব ভালোবাসি।ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা মানুষকে মানবিক হতে শিখায়,সহনশীল হতে শিখায়,সামাজিক হতে শিখায়।নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি।

আমি একজন ব্লগার বলছি- ৯ম পর্ব (তৃতীয় ভাগ)

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনি দেখবেন পৃথিবীর বেশীর ভাগ ধর্মীয় পুস্তকে বলছে যুদ্ধ করো হত্যা করো।এবং সেখানে প্রসঙ্গও রয়েছে।এখন আপনি যদি প্রসঙ্গ ছাড়া উদ্ধৃতি পড়েন তাহলে তো সমস্যা।

আপনারা জানেন, পবিত্র কোরআনে সূরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে,

যদি কেউ কোন মানুষকে যমীনে বিশৃঙ্খলা ও নরহত্যা ছাড়া হত্যা করলো তাহলে সে যেন পুরো মানব জাতিকেই হত্যা করলো কিন্তু কেউ যদি কোন মানুষকে বাচায় সে যেন পুরো-মানব জাতিকেই বাচালো।

আর যখন কিতাল এর কথা আসে।আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার নাম হচ্ছে কিতাল।এখানেও আছে অনেক নিয়ম কানুন।পবিত্র কোরআন ও প্রিয় নবী (সঃ) এর হাদিসে বলা আছে,
যখন আর কোন উপায় থাকে না যখন যুদ্ধ করতেই হবে শত্রুর সাথে এক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিয়মকানুন আছে।
আল্লাহ্‌ পবিত্র কোরআনে সূরা বাকারার ১৯০ নম্বর আয়াতে বলছেন যে,
তাঁদের সাথে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে।কিন্তু বাড়াবাড়ি করো না।কেননা আল্লাহ্‌ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।

এছাড়াও ১৯৪ নম্বর আয়াতে বলা আছে যে,
ততক্ষন পর্যন্ত যুদ্ধকরো যতক্ষন পর্যন্ত না শান্তি বিরাজ করে।

যেমন ইসলামে যুদ্ধের নিয়ম,
আমরা মহিলাদের কোন ক্ষতি করবো না,
আমরা শিশুদের ক্ষতি করবো না,
বাড়ির ভেতর বয়স্ক মানুষের ক্ষতি করবো না,
আমরা বিধর্মীদের উপাসনালয় ভাঙবো না।
গাছপালা পোড়াবো না,কাটবো না,
শস্যখেত পোড়াবো না।
পশুপাখি হত্যা করবো না।
এমন আরও অনেক নিয়ম মানতে হবে।

একটা বইয়ের কথা বলি, যেটা লিখেছিলেন রামকৃষ্ণ রাও। তিনি মহানবী (সঃ) এর জীবনীর উপর লিখেছেন এবং বলেছেন মহানবী(সঃ) এর জীবদ্দশায় যতগুলোযুদ্ধ হয়েছে রামকৃষ্ণ রাও নিজের থেকে বের করেছেন যে,মানুষ মারা গিয়েছে ১০১৮ জন।আচ্ছা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কতজন মানুষ মারা গিয়েছে জানেন? দুই কোটিরও বেশী মানুষ।এক কোটি সৈন্য এক কোটি সাধারন মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিন কোটি মানুষ মারা গিয়েছিলো এবং সাড়ে তিন কোটি আহত হয়েছিল।তুলনা করেন। আপনি যদি পিছনের দিকে ভালো করে তাকান তাহলে কোরআনের আয়াতগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।

আমাদের সকলের মাঝে একটা ভুল ধারনা বিদ্যমান যে,ইসলামের প্রসার ঘটছে তরবারীর মাধ্যমে। ইসলাম শব্দটা এসেছে সালাম থেকে যার অর্থ শান্তি। যার অর্থ স্রষ্টার কাছে নিজের ইচ্ছাকে সমর্পণ করা। যখন কেউ মহান স্রষ্টার কাছে নিজের ইচ্ছেকে সমর্পণ করে শান্তির জন্য তখন সে হয় মুসলমান।তাহলে যদি আপনারা অনুবাদ করেন যে,ইসলামের প্রসার ঘটেছে তরবারীর মাধ্যমে তার অর্থ শান্তির প্রসার ঘটেছে তরবারী দিয়ে।

আর ইসলাম প্রথাগতভাবেই যুদ্ধের বিপক্ষে কথা বলে।কিন্তু কোন উপায় না থাকলে শক্তি প্রয়োগ করা যাবে। এর এই ব্যাপারটা তো সবারই জানা আছে যে এই পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই পুলিশ রয়েছে।যখন কোন সাধারন মানুষ কিংবা জনগন কিংবা অন্যকেউ আইন ভঙ্গ করে এই পুলিশই তখন শক্তি প্রয়োগ করে সেই দেশে শান্তি রক্ষার জন্য।তেমনি ইসলাম শান্তি চায়।আর যখন কোন উপায় থাকে না তখন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার জন্য শেষ উপায় হিসেবে ইসলাম শক্তি প্রয়োগ এবং যুদ্ধ করার কথা বলে। শেষ উপায় হিসেবে।কারন কিছু মানুষ আছে যারা শান্তি চায় না। ইসলাম তরবারি দিয়ে ছড়ানো হয়েছে এই ভুল ধারনাটির উত্তর বেশ ভালোভাবেই দিয়েছেন একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক যার নাম ডি লেসি ওলিয়েরি তার বই " ইসলাম এন্ড দ্যা ক্রসরোডসে" বলেছেন,
মুসলমানদের তরবারী হাতে নিয়ে ইসলাম ছড়ানো আর বিভিন্ন দেশ জয় করা আজগবি এ গল্পটা মিথ্যে ছাড়া কিছুই নয়।এই অত্যান্ত মুখরোচক মিথ্যেটাকে বারবার বলা হয়েছে গল্প আকারে।অর্থাৎ,

ইতিহাসে এটা পরিষ্কার যে মুসলামানদের তরবারী হাতে নিয়ে ইসলাম ছড়ানো আর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ জয় করাটা অসাধারন আজগবি একটা মিথ্যে গল্প ছাড়া আর কিছুই নয় যা বারবার বলা হয়েছে।

আর আমরা জানি যে মুসলমানরা আমরা স্পেনে আটশো বছর রাজত্ব করেছি।আমরা সেখানে তরবারী দিয়ে কাউকে ইসলাম গ্রহন করতে বাধ্য করিনি।পরবর্তীতে ক্রুসেডরা এসে যখন মুসলামানদের সরিয়ে দিলো। সেসময় একজন মুসলমানও প্রকাশ্যে আজান দিতে পারে নি। কিছু সময় ফ্রান্স শাসন করেছেন কিছু সময় ব্রিটিশরা শাষন করেছে এই সময়টা বাদে আমরা মুসলমানরা পুরো আরব বিশ্ব শাসন করেছি ১৪০০ বছরের বেশী সময় ধরে।এখন এই আরব বিশ্বে প্রায় দেড়কোটির বেশী খ্রিষ্টান রয়েছে।এরা প্রত্যেকেই বংশানুক্রমিক খ্রিষ্টান। আর এই দেড়কোটিরো বেশী খ্রিষ্টান সাক্ষী আছে যে, ইসলামের প্রসার তরবারী দিয়ে হয় নি।মুসলামানরা ভারত শাসন করেছে প্রায় এক হাজার বছর। যদি তারা চাইতো তবে প্রত্যেকে ভারতীয়কে তরবারীর মুখে ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করতো। আজকে প্রায় এক হাজার বছর পরেও ভারতে শতকরা ৮০ ভাগ লোক মুসলমান নয়।একদিন এরা সাক্ষ্য দিবে যে ইসলাম তরবারির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে নি।মালয়েশিয়াতে শতকরা ৫০ ভাগ মানুষ হচ্ছে মুসলমান।ইন্দোনেশিয়ায় মুসলমান সবচেয়ে বেশী।এসব দেশে গিয়েছিলো কোন মুসলমান আর্মি?

একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক থমাস কারলাইন এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যে,কোন তরবারি?তোমার তরবারি থাকতে হবে।প্রত্যেকটা নতুন ধারনাই একজনের মনে জন্ম নেয়। একজন পুরো পৃথিবীর বিপক্ষে এবং তখন যদি সে তরবারি হাতে শান্তি ছড়াতে চায় তখন খুব একটা লাভবান হবে না। এখানে তিনি তরবারি থাকতে হবে বলতে বুঝিয়েছেন বুদ্ধির তরবারি।

মহান আল্লাহ্‌ পবিত্র কোরআনে সূরা নাহল এর ১২৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন যে,
তাঁদের জ্ঞানের কথা বলো, আর সুন্দর ভাবে আল্লাহ তা'লার পথে নিয়ে আসো। তাঁদের যুক্তি দেখাও যেটা সবচেয়ে ভালো আর যেটা সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য।

দ্যা প্লেইন ট্রুথ ম্যাগাজিন অনুযায়ী, ১৯৩৪-১৯৮৪ সালে পৃথিবীতে একমাত্র ইসলাম ধর্মের অনুসারী সবচেয়ে বেশী বেড়েছে ২৩৫%।অর্থাৎ ৫০ বছরে ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৫% এবং খৃস্টান বেড়েছে মাত্র ৪৭%।
আমি একটা প্রশ্ন করি, ১৯৩৪ থেকে ১৯৮৪ সালে এমন কোন যুদ্ধ হয়েছে কি, যার ফলে অমুসলিমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে?
বর্তমানে আমেরিকা ও ব্রিটিশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।এখানে কোন মুসলমান আমেরিকাকে ইসলাম গ্রহন করতে বাধ্য করেছে? কোন মুসলমান ইউরোপীয়নদের ইসলাম গ্রহন করতে বাধ্য করেছে? আমেরিকা ইংল্যান্ড, ইউরোপের মানুষের বাক-স্বাধীনতা আছে।এই স্থানগুলোতে যারা ইসলাম গ্রহন করছে তাঁদের তিন ভাগের দুই ভাগই হচ্ছে মহিলা।আচ্ছা ইসলাম মহিলাদের সত্যিই যদি অত্যাচার করে থাকে তাহলে এই দেশগুলোর মহিলার কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছে?
কারন ইসলামে মানব সভ্যতার যাবতীয় সকল সমস্যার সমাধান আছে ।নাইন এলিভিনের পরে মাত্র দুইমাসে ২০ হাজার অ্যামেরিকান মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে।পূর্বে ইসলাম সম্পর্কে তাঁদের ধারনা ছিলো নিতান্তই ভুল তারপর যখন ইসলামী মহান গ্রন্থ আল কোরআন পড়লো অতঃপর তারা ইসলামে প্রবেশ করলো।

মহান আল্লাহ্‌ সূরা ইস্রায় ৮১ নম্বর আয়াতে বলেন,

বল,যখন সত্যের সামনে মিথ্যে দাঁড়ায় ,মিথ্যে ধ্বংস হয় কারন মিথ্যে হলো খারাপ আর খারাপ ধ্বংস হবেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রলিং, বাঙালি জাতি ও খাদ্যে ভেজাল।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১০:১৬

ট্রলিং বিষয়টা আমার অসহ্য লাগে। এমন না যে আমার সেন্স অফ হিউমার নেই, বা খারাপ। কিন্তু বাঙালি ট্রলিংয়ের সীমা পরিসীমা সম্পর্কে কোনই ধারণা রাখে না। ফাজলামি করতে করতে আমরা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাছাকাছি থেকেও চির-অচেনা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:২৪



স্ত্রীর জন্য স্যান্ডেল কিনতে বের হয়েছি; আমি ট্রেনে যাবার পক্ষে ছিলাম, গাড়ীর পার্কিং পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব ব্যাপার; আরো ২/১ যায়গায় যেতে হবে, শেষমেষ গাড়ী নিয়ে বের হতে হলো; রেসিডেন্সিয়েল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:২১


বাংলাদেশের জয় উদযাপন।

১। ভালো লেখক হতে হলে সর্বাগ্রে ভালো পাঠক হতে হবে। পাঠক হবার আগেই যদি সমালোচক হতে চাও, তবে তা হবে বোকামী। বিচারক হতে যেও না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে শিক্ষা তারপর সমালোচনা।

লিখেছেন মাহমুদুর রহমান, ২০ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪১



পাঠকেরা সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করবেন, ভালো না লাগলে চুপ করে কেটে পড়বেন, লেখার সমালোচনা করা যাবে না, লেখার উপর বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না; তা'হলে, ব্লগ আপনার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×