somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জলে কুমির ডাঙায় বাঘ

১৪ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মনে করুন, আপনি একটি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন, পানির ভেতর থেকে একটি কুমির তার মস্ত মাথাটা বের করে আপনা্র দিকে অপলক চেয়ে আছে। ধীরে ধীরে পানিতে স্রোত বইয়ে দিয়ে একটু একটু করে এগিয়ে আসছে আপনার দিকে। স্থির দৃষ্টি! আপনার গলা হঠাৎ শুকিয়ে গেল। সামনে অজস্র জলরাশি ফেলে রেখে আপনি হাঁটা দিলেন পেছন দিকে। এক কদম.. দুই কদম..হঠাৎ শুনতে পেলেন... হালুম!! হালুম!!! গর্জনের সাথে সাথে অতিশয় শক্তিধর প্রাণিটি আপনার দিকে হেলেদুলে এগিয়ে আসছে!!!!!!!


কি করবেন তখন আপনি? ডানে-বামে দৌড় দিবেন? কল্পনার খাতিরে আমরা একটু ধরেই নেই না, আপনার সম্মুখ আর পেছন ছাড়া স্থানটিতে আর কোনো দিক নেই। পালাবার পথ নেই! তখন?

জ্বি। অবাস্তব কল্পনা। কেননা, যতই কল্পনা করি না কেন, দিক কিন্তু আরো রয়েছেই। তাই মন এটা কখনোই মেনে নেবে না, আর আমিও আমার প্রশ্নের উত্তর পাবো না।

তবে জীবন কিন্তু কখনো কখনো আমাদের এহেন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়ই! বাস্তব জীবনে প্রায়শই আমরা এমন পরিস্থিতির সামিল হই। এই পরিস্থিতিতে পরস্পর বিরোধী এবং সমান শক্তিশালী দুটি প্রেষণা একই সময়ে আমাদের সামনে এসে হাজির হয় এবং এদের মধ্যে কোনো একটি প্রেষণার অতৃপ্তির জন্য আমাদের মধ্যে একটা ব্যক্তিগত অতৃপ্তিবোধ দেখা দেয় এবং আমরা আবেগমূলক অস্থিরতায় ভুগি। আর যখনই এরূপ ঘটে তখনই তা হয়ে ওঠে ‘দ্বন্দ্ব’ বা Conflict এবং এটি অবশ্যই Intra-personal Conflict।

আমরা সাধারণত চার ধরণের Intra-personal Conflict এ ভুগি—

• আকর্ষণ-আকর্ষণ দ্বন্দ্ব
• বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব
• আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব
• দ্বিগুণ আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব


আকর্ষণ-আকর্ষণ দ্বন্দ্বে আমাদের সামনে দুটি সমান আকর্ষণীয় বস্তু থাকে এবং বিষয়টি এমন হয় যে, দুটি বস্তুর মধ্যে যেকোনো একটি আমাদের গ্রহণ করতে হবে। যেমন—ধরুন, আপনার কন্যার জন্য দুটি বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে, দু’জনেই এম.এ. পাস এবং দুজনেই প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। তখন কোন ব্যক্তি পরিণত হবেন আপনার লক্ষ্যবস্তুতে ?
আপনারা যারা একটু চালাক চতুর তারা কিন্তু খুব সহজেই দুজন ব্যক্তির মধ্যে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েই অবসান ঘটাতে পারেন আপনার এই আকর্ষণ-আকর্ষণ দ্বন্দ্বের!

উপরের উদাহরণটি আরেকবার পড়ুন।“জলে কুমির ডাঙায় বাঘ” এরূপ পরিস্থিতিতে আপনার সিদ্ধান্ত কি? সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন আমরা কিন্তু রূপক “জলে কুমির ডাঙায় বাঘ” পরিস্থিতিতে কখনো না কখনো কেউ না কেউ পড়তেই পারি! আর এটিই হচ্ছে বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্বে দুটি অপ্রীতিকর লক্ষ্যবস্তু থাকে এবং আমাদের বাধ্য হয়ে যেকোনো একটি গ্রহণ করতে হয়।
বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে আমরা সাধারণত দু’ধরনের আচরণ করে থাকি।
প্রথমত, আচরণ ও চিন্তার দোদুল্যমানতা দেখা দেয়। একটি লক্ষ্যবস্তু যতই কাছাকাছি আসতে থাকে ততই আমাদের বিতৃষ্ণা বাড়তে থাকে। তখন আমরা এটা ছেড়ে অন্য লক্ষ্যবস্তুর প্রতি ধাবিত হই এবং যতই এর কাছাকাছি হতে থাকি ততই বিরক্তির সীমা ছাড়িয়ে যেতে থাকে।
দ্বিতীয়ত, দ্বন্দ্বমূলক পরিস্থিতি ত্যাগ করার প্রচেষ্টা। যেভাবেই হোক আমরা দ্বন্দ্বের থেকে বেরিয়ে যেতে চাই, কিন্তু কোনো্ এক অদৃশ্য শক্তির কারণে আমরা ব্যর্থ হই।

আকর্ষণ-আকর্ষণ দ্বন্দ্ব এবং বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে লক্ষ্যবস্তু থাকে দুটি। কিস্তু আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে একটিমাত্র লক্ষ্যবস্তু থাকে, কিন্তু এটি একই সাথে কাছেও টানে, আবার দূরেও সরিয়ে দেয়।অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুতে একই সাথে আকর্ষণীয় এবং বর্জনীয় উভয় গুণই বর্তমান থাকে। লক্ষ্যবস্তুটির আকর্ষণীয় গুণের কারণে আমরা এর দিকে অগ্রসর হই। কিন্তু অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ঋণাত্মক গুণটি বেশি শক্তিশালী হওয়ায় অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত রাখে। ফলে আমরা হতাশায় নিমজ্জিত হই।
আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব আমাদের জীবনে সচরাচর ঘটে, কিন্তু এর সমাধান তুলনামূলকভাবে কঠিনই বটে।

দ্বিগুণ আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে লক্ষ্যবস্তু থাকে দুটি এবং প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুরই ভালো ও মন্দ উভয় দিকই থাকে। ভালো দিকটি আমাদের আকর্ষণ এবং মন্দ দিকটি আমাদের বিকর্ষণ করে।কিন্তু দুটির যেকোনো একটি আমাদের গ্রহণ করতেই হয়।

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের সামনে যখন একই সাথে দুটি পরস্পর বিরোধী প্রেষণা উপস্থিত হয় তখন যেকোনো একটি প্রেষণার প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া করতে হয়। কেননা, দুটি প্রেষণার পরিতৃপ্তি একই সাথে সম্ভব নয়।ফলে আমরা সমস্যায় পড়ি এবং দ্বন্দ্বে ভুগি।সমস্যাটির সমাধান না হলে আমাদের মধ্যে এক অপ্রীতিকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। কখনো কখনো মা্নসিক সমতা ক্ষুণ্ন হয় এবং দ্বন্দ্বের সমাধান করতে না পারলে এবং তা অধিক সময় স্থায়ী হলে তা আমাদের মধ্যে উদ্বেগ (Anxiety) সৃষ্টি করে, যা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করে।
তাই নতুন বছরে আমাদের জীবন দ্বন্দ্বমুক্ত নয়, হোক দ্বন্দ্বের সাথে সফলভাবে লড়াই করা সফল জীবন!!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৩৩
১৪টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফ্রিদা কাহলো এক ব্যতিক্রমী মানুষ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:১৪



নীল বাড়ির দূরন্ত মেয়েটি
"লা কাসা আসুল" যার অর্থ নীল ঘর। ১৯০৭ সালের ছয় জুলাই জার্মান বাবা আর স্প্যানিস মায়ের রক্তের সমন্বয়ে একটি মেয়ের জন্ম হয় ম্যাক্সিকো সিটির শহরতলীর একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেবতি

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ২:৫৪



আগে আমার অবস্থানটা বর্ণনা করে নিই।
সকাল সাড়ে এগারোটা। ঝকঝকে সুন্দর পরিচ্ছন্ন একটি দিন। আমি দাঁড়িয়ে আছি- বসুন্ধরা মার্কেটের সামনে। আমার ডান হাতের একটা আঙ্গুল শক্ত করে ধরে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমকামিতার স্বরূপ অন্বেষনঃ সমকামি এজেন্ডার গোপন ব্লু-প্রিন্ট - আলফ্রেড চার্লস কিনসে [পর্ব দুই]

লিখেছেন নীল আকাশ, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৪৮

অনেকদিন পরে আবার এই সিরিজ লিখতে বসলাম। লেখার এই পর্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে থেকে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটানো হয়েছে খুব সুপরিকল্পিতভাবে। সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও এই জঘন্য আচরণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কমলাকান্তের কৃষ্ণ কন্যা (শব্দের ব্যবহার ও বাক্য গঠন চর্চার উপর পোস্ট)

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:৫৯


শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনও অক্ষর দিয়ে শুরু শব্দাবলি ব্যবহার করেও ছোট কাহিনী তৈরি করা যায় তার একটা উদাহরণ নীচে দেয়া হোল। এটা একই সাথে শিক্ষণীয় এবং আনন্দদায়ক।

কাঠুরিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার এই পোস্ট পড়ে কি মনে হয় আমি ইসলাম বিদ্বেষী?

লিখেছেন জাদিদ, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩০

আমি গতকাল ফেসবুকে একটি পোস্ট দেই। সেখানে আমাদের কতিপয় হুজুরদের বেহুদা জোসের বিরুদ্ধে আমি লিখেছিলাম। আমার পোস্টটি এখানে হুবহু তুলে দিলাম -

পৃথিবীতে ইসলাম রক্ষার দায়ভার একমাত্র বাংলাদেশী মুসলমানদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×