somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেকটা পথ হেঁটে এসেও হয়নি হাঁটা তোমার পাশে

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেকক্ষন যাবৎ কিবোর্ডে হাত রেখে বসে আছি। বুকের ভেতর কত কথাই যে গুমরে মরছে। কিন্তু কিছুই লেখা হয়ে উঠছে না। ভাবনাগুলো সব এলোমেলো। কোথা থেকে কি মাথায় আসছে। ঘুরপাক খাচ্ছে। ঠিক ধরে রাখা যাচ্ছে না। ঠিক কোথা থেকে যে শুরু করবো বা এর শেষ কোথায় বা এই সব চিন্তার কোনো আগা মাথা মুন্ডু কিংবা উচিৎ অনুচিৎ বা কারণই আছে কিনা সেটাও ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।

তাই লিখে ফেলতে চাচ্ছিলাম। অনেক কাল আগে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন। যখন তোমার রাগ হবে কিংবা দুঃখ সেটাকে লিখে ফেলবে। হাতের কাছে কাগজ,কলম বা পেনসিল না থাকলেও টেবিল চেয়ার বা মাটির উপরেও লিখতে পারো। মাটি বা টেবিলটাকে কাগজ বানিয়ে হাতের আঙ্গুলকে কলম বা পেনসিল ভেবেই লিখতে শুরু করবে। তাহলে দেখো তোমার লেখার সাথে সাথে তোমার রাগ, দুঃখ বা ক্রোধটাও বের হয়ে আসবে। আর তারপর কাগজটাকে দলা পাঁকিয়ে শুন্যে ছুড়ে ফেলবে। ব্যস হয়ে গেলো তোমার কাজ। তোমার ভেতরের সব দুঃখ কষ্ট বেদনা ঘৃনা ছুড়ে ফেলে দেবে তুমি নিজেই।

হাসি পায় মাঝে মাঝে সেই ডক্টরের কথা ভেবে। ডক্টর আমাকে বলেছিলো দুঃখ কষ্ট রাগ বা বেদনাকে ছুড়ে ফেলে দিতে। কিন্তু ভালোবাসা ? সেটাও কি দূরে ছুড়ে ফেলে দেওয়া যায়? নাহ ডক্টর ভালোবাসাটাকে ফেলতে বলেননি। তাহলে? তাহলে উপায় কি? কি করবো আমি? তাই আমি লিখছি। কারণ এটা রাগ, দুঃখ বা ক্রোধ না। এটা ভালোবাসা। যা আমি দূরে ছুড়ে ফেলবো না। কিন্তু যার জন্য এই ভালোবাসা সে কখনও জানবেও না। কারণ আমি কখনই সেই লেখা চিঠি তাকে পাঠাবো না। এইটুকু লিখতে লিখতে মনে পড়ে গেলো অনেকদিন আগে শোনা এক গান-
প্রিয়তম, কি লিখি তোমায়?
তুমি ছাড়া আর কোনোকিছু ভালো লাগে না আমার।
নাহ গানটার লাইনগুলি আমার মনের এই এলোমেলো ভাবনার সাথে তেমন যূৎসই হলো না। এটা নিছক প্রেমের গান। শুধু প্রেম নয়। একেবারে সদ্য প্রেমে পড়া কোনো মানুষের গান। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে। প্রথম প্রথম ঠিক এমনই অনুভূতি হয়। শয়নে স্বপনে জাগরণে শুধু একই মুখ। ভাবনা, চিন্তা, ভালোলাগায়, ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকে শুধু সেই মুখটিই। তাকে ছাড়া তখন তার জগৎ শূন্য। জগতের সকল কর্মকান্ড তখন শুধু চলে তাকে ঘিরেই। কাজেই এই গানের লাইনগুলি কোনোভাবেই আমার অনুভূতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কৃষ্ণচূড়ার বনে ছায়াঘন পথ, আঁকাবাঁকা পায়,
আমার আঙ্গিনা থেকে চলে গেছে তোমারই মনে
বসে আছি বাতায়নে তোমার আশায়.........
না আমার কোনো আশা নেই। কারো জন্য আমি বসেও নেই। শুধু কৃষ্ণচূড়ার ছায়াঘন পথ ধরে আমার মনটিই চলে গেছে তারই মনের আঙ্গিনায় আজ। পৌছে গেছে এক অদৃশ্য কালীতে লেখা চিঠি। যে চিঠি কোনোদিন তার পড়া হবে না। জানাও হবেনা কি রোদন লেখা ছিলো সেই চিঠির ভাঁজে ভাঁজে। এ এক আশ্চর্য্য অনুভূতি।! বলে বা লিখে কখনও বুঝানো যাবে না। বসে বসে ভাবছি মনের এই অদ্ভুৎ গতিবিধি নিয়ে।

আমি শুধু ভাবি আর ভাবি। অনেকদিন ভেবেছি এ ব্যাপারটা নিয়ে। আচ্ছা বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং প্রেম। কথাগুলি আলাদা আলাদা কিন্তু সবগুলো কি একই সাথে আঙ্গাঙ্গিভাবেই জড়িত? একদিকে ভাবলে তো তাই। বন্ধুত্ব থেকেই হয় ভালোবাসা। আর ভালোবাসা থেকে প্রেম। তবে আমার কেনো হলো না? বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং প্রেমের মাঝখানে আমার কেনো এত দাঁড়ি,কমা সেমিকোলন এসে দাঁড়ালো আমার মনের মাঝে? কেনো আমি পারলাম না সবগুলিকেই একই সুতোয় বেঁধে নিতে? বহু দিনের পূরোনো বন্ধু। ভালোবাসা তো অবশ্যই ছিলো। একে অপরকে আগলে রাখা, সুখে দুখে পাশে থাকা সবই তো ঠিক ছিলো।

সূচিশুভ্র বন্ধুত্বের আলোকে তুমি হয়ে উঠেছিলো আমার কাছে বুঝি মানবিক জৈবিক চাহিদার উর্ধে অপার্থীব কোনো দেবদূত। কল্পনায় হয়ত ওভাবেই ভাবতাম তোমাকে। কখনও রক্ত মাংসের মানুষ হিসাবে অমার মনটাকে বোঝাই হয়নি আমার।

আর তাই একদিন হঠাৎ দু'হাত জড়ো করে যখন সামনে এসে বসেছিলে। হাঁটু গেড়ে জানিয়েছিলে আকুল আর্জী তোমার । হতবিহ্বল, বিমুঢ় ছিলাম বুঝি। মনে পড়ে জয় গোস্বামী আর তোমার গলার সেই সূর-

সংকোচে জানাই আজ: একবার মুগ্ধ হতে চাই।
তাকিয়েছি দূর থেকে। এতদিন প্রকাশ্যে বলিনি।
এতদিন সাহস ছিল না কোনো ঝর্ণাজলে লুণ্ঠিত হবার –
আজ দেখি অবগাহনের কাল পেরিয়ে চলেছি দিনে দিনে …

…জানি, পুরুষের কাছে দস্যুতাই প্রত্যাশা করেছো।
তোমাকে ফুলের দেশে নিয়ে যাবে ব’লে যে-প্রেমিক
ফেলে রেখে গেছে পথে, জানি, তার মিথ্যে বাগদান
হাড়ের মালার মতো এখনো জড়িয়ে রাখো চুলে।

আজ যদি বলি, সেই মালার কঙ্কালগ্রন্থি আমি
ছিন্ন করবার জন্য অধিকার চাইতে এসেছি? যদি বলি
আমি সে-পুরুষ, দ্যাখো, যার জন্য তুমি এতকাল
অক্ষত রেখেছো ওই রোমাঞ্চিত যমুনা তোমার?

শোনো, আমি রাত্রিচর। আমি এই সভ্যতার কাছে
এখনো গোপন ক’রে রেখেছি আমার দগ্ধ ডানা;
সমস্ত যৌবন ধ’রে ব্যধিঘোর কাটেনি আমার। আমি একা
দেখেছি ফুলের জন্ম মৃতের শয্যার পাশে বসে,
জন্মান্ধ মেয়েকে আমি জ্যোস্নার ধারণা দেব ব’লে
এখনো রাত্রির এই মরুভুমি জাগিয়ে রেখেছি।

দ্যাখো, সেই মরুরাত্রি চোখ থেকে চোখে আজ পাঠালো সংকেত –
যদি বুঝে থাকো তবে একবার মুগ্ধ করো বধির কবিকে;
সে যদি সংকোচ করে, তবে লোকসমক্ষে দাঁড়িয়ে
তাকে অন্ধ করো, তার দগ্ধ চোখে ঢেলে দাও অসমাপ্ত চুম্বন তোমার…
পৃথিবী দেখুক, এই তীব্র সূর্যের সামনে তুমি
সভ্য পথচারীদের আগুনে স্তম্ভিত ক’রে রেখে
উন্মাদ কবির সঙ্গে স্নান করছো প্রকাশ্য ঝর্ণায়।


বিস্মিত হয়েছিলাম আমি। ঘটনার আকস্মিকতায়! বিমুঢ় বিহ্বলতায়। এক নিমিষে তখন তুমি দেবদূত হতে তুচ্ছ সামান্য মানুষ। মহাপুরুষ হতে সামান্য পুরুষ হয়ে গেলে। সে কটা দিন টানাপোড়েন, দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রলয়ংকরী ঝড়ে হৃদয় হয়েছে ব্যাকুল। তোমার ভালোাসার জালে আষ্ঠেপৃষ্ঠ বাঁধা তখন আমি। সাধ্য কি আমার সেই জাল কেটে বেরিয়ে আসি? সেই মায়াজাল কুহলিকায় ছটফট করে মরেছি আমি। তবুও পারিনি। ব্যর্থ হয়েছি। শেষ পর্যন্ত অনেকটা পথ হেঁটে এসেও হয়নি হাঁটা তোমার পাশে-

অনেকটা পথ হেঁটে এসেও হয়নি হাঁটা তোমার পাশে
জানালাটায় মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ি গল্প শেষে


ভুলের ছকে বাধা জীবন চলছে এখন যেমন তেমন
উঠবে না তো আবার গেয়ে তোমার জন্য আমার এ মন
কোলাহলের চারিপাশে আমার দুঃখ থাকে মিশে
স্বপ্ন ভাঙ্গা স্বপ্ন আমার বৃষ্টি ঝরায় দূর আকাশে
অন্ধকারের রঙ্গে আঁকা ভাবনাগুলোর ভেজা চোখ
সাদা কালোর স্বপ্ন জুড়ে সারা দুপুর বৃষ্টি হোক

অনেকটা পথ হেঁটে এসেও হয়নি হাঁটা তোমার পাশে
জানালাটায় মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ি গল্প শেষে

গল্পগুলো আমার শুধুই চার দেয়াল আর অন্ধকারের
এরই মাঝে আসা যাওয়া স্বপ্নভাঙ্গা আমার গানের
হয় না কিছুই আমার পাওয়া বদ্ধ ঘরের স্বপ্ন ছাড়া
নিয়ন আলোর বর্নমালায় স্বপ্ন শুধুই তোমাকে চায়
মধ্যরাতের গল্প আমার চেনা কথায় অচেনা সুর
সম্মোহনের আলোছায়ায় হাটছি পথ বহুদূর

অনেকটা পথ হেঁটে এসেও হয়নি হাঁটা তোমার পাশে
জানালাটায় মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ি গল্প শেষে



হ্যাঁ অন্ধকারে বসেই আজ ভাবছি আমি। যে স্বপ্ন আমি তোমার ভেঙ্গে দিয়েছিলাম। আজ সেই স্বপ্নগুলোই ফিরে আসছে কেনো? কেনো ফিরে ফিরে টানছে আমার সেই নিস্বার্থ ভালোবাসার নৈস্বর্গিক দিনগুলো। হাতছানি দিয়ে ডাকছে আজ সেই সমৃতিগুলি। বুকের ভেতর ব্যথার কাঁপন। চাপা দীর্ঘশ্বাসগুলি মিশে যাচ্ছে রাতের আঁধারে.....

হয় না কিছুই আমার পাওয়া বদ্ধ ঘরে স্বপ্ন ছাড়া
অন্ধকারে নিজের ভেতর আমার গানের আসা যাওয়া
আলোর নিচে থাকি বসে মেঘাচ্ছন্ন একলা রাতে
নিজের ভেতর স্বপ্নগুলো ক্লান্তি হয়ে যাচ্ছে মিশে
অচেনা সব মুখের ভিড়ে স্বপ্নগুলো আসছে ফিরে
ঝাপসা গানের শুন্য চোখে ভাবছি বসে অন্ধকারে.....

অনেকটা পথ হেঁটে এসেও হয়নি হাঁটা তোমার পাশে
জানালাটায় মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ি গল্প শেষে ........

না এ গল্প শেষ হবার নয়। সহস্র এক রজনীতেই শেষ হবে কিনা জানা নেই আমার। আমি লিখবো। আবার লিখবো। তোমাকে লিখবো। তোমার জন্যই লিখবো অথবা আমার জন্য। এ আমার জবানবন্দী। নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া.......
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৩০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসসালামু আলাইকুম - আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক'

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০২

শুদ্ধভাবে সালাম দেয়া ও আল্লাহ হাফেজ বলাকে বিএনপি-জামায়াতের মাসয়ালা ও জঙ্গিবাদের চর্চা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। ঢাবির অধ্যাপকের এই বক্তব্যে অনলাইনে প্রতিবাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান পারমানবিক বর্জ্য মেশানো পানি সাগরে ফেলবে

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৪


জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ফুকুশিমার ১২ লাখ টন আনবিক তেজস্ক্রিয় পানি সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হবে । ২০১১ সালে এক ভুমিকম্প জনিত সুনামিতে ফুকুশিমা আনবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পপসিকল স্টিকসে আমার পুতুলের ঘর বাড়ি টেবিল চেয়ার টিভি

লিখেছেন শায়মা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৭


ছোট্টবেলায় পুতুল খেলা খেলেনি এমন মেয়ে মনে হয় বাংলাদেশে তথা সারা বিশ্বেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশ বর্ণ জাতি ভেদেও সব মেয়েই ছোট্টবেলায় পুতুল খেলে। আবার কেউ কেউ বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুয়েট-ছাত্র আবরার হত্যার দ্রুত বিচার কেন প্রয়োজন?

লিখেছেন এমএলজি, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪২

বুয়েট-ছাত্র আবরার হত্যার দ্রুত বিচার কেন প্রয়োজন?

আমি যে বুয়েটে পড়েছি সেই বুয়েট এই বুয়েট নয়। আমার পড়া বুয়েটে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের পাঠিয়ে পিতামাতা নিশ্চিন্ত থাকতেন। আমার ব্যাচের দেশের সবকটি শিক্ষাবোর্ডের... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনায় একদিনের গন্ডগোল

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:২৮



আমাদের সবচেয়ে কাছের দোকানটি হচ্ছে, তুর্কিদের ফলমুল-গ্রোসারীর দোকান; চীনাদের দোকানের মতো গিন্জি, আমি পারতপক্ষে যাই না; ভোরে চা'য়ের দুধ নেই; বেলা উঠার আগেই গেলাম, এই সময়ে মানুষজন থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×