somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বরের অস্তিত্ব : আমার চিন্তাভাবনা (পর্ব - ১)

১৯ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং ব্লগে একটা ব্যাপার খুব আলোচিত, সমালোচিত হচ্ছে| আর তা হলো ঈশ্বর আছে কি নেই তা নিয়ে আস্তিক এবং নাস্তিকদের মধ্যে প্রবল তর্কযুদ্ধ, এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে গালি গালাজ| এসব দেখে আমার মনে হলো আমার নিজের ধারণাটাও সবাইকে জানাতে পারি| প্রথমেই সবার উদ্দেশ্যে বলে রাখি, আমি ব্লগিং এ একেবারেই নতুন| নিয়ম কানুন খুব একটা জানিনা| আমার এই পোস্ট প্রথম পাতায় যাবে কিনা, বা যাবার জন্য কী কী শর্তাবলী প্রযোজ্য, সে সম্পর্কেও তেমন একটা ধারণা নেই| তবুও লিখছি, নতুন করে কোনো বিতর্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নয়, শুধু নিজের মতামত বা চিন্তা ভাবনা প্রকাশ করার জন্য| যদি এই লেখা কারো দৃষ্টিতে পড়ে এবং কেউ এটাকে বিশ্লেষণ করতে চান বা আমার সাথে দ্বিমত বা সহমত পোষণ করতে চান, তাহলে তাকে স্বাগত জনাব| আর এক্ষেত্রে অবশ্যই ভদ্র ব্যবহার প্রত্যাশা করব| আর হ্যা, যদি কেউ এটা থেকে কোনো রেফারেন্স দিতে চান (যদিও রেফারেন্সের যোগ্য কি না জানিনা), তবে আমার অনুমতি নিয়ে নিলে খুশি হব|

এবার আসি মূল কথায়| আমার ধর্ম বিশ্বাস আপাতত কাউকে জানাতে চাচ্ছিনা| তবে সেটা এই পোস্টের শেষে বলে দিয়েছি| জানাতে চাচ্ছিনা, কারণ আমি চাই না কেউ আমার এই লেখাটি একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পড়ুক| এখন যদি আমি বলে দেই আমি আস্তিক, বা আমি নাস্তিক, তাহলে লেখাটা অনেক খানি প্রভাবিত হয়ে যাবে, পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে| আস্তিক পাঠকরা আমার লেখাটি তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে পড়বেন, আর নাস্তিক পাঠকরা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে| ধৈর্য্য ধরে যদি পুরোটা পরেন, তবে লেখকের বিশ্বাস জেনে যাবেন| আর যারা একটু অধৈর্য্য, তাদের জন্য তো স্ক্রল বাটনটা আছেই|

আমার এই লেখাটি শুধুই বিশ্বাস নিয়ে| শরীয়ত, আচার ব্যবহার, বা কোনো নিয়ম কানুন নিয়ে নয়| কাজেই যারা আশা করে আছেন যে আমি শরীয়তের পক্ষে বা বিপক্ষে কিছু বলব, তারা হতাশ হবেন| কাজেই তাদের মূল্যবান সময় অন্য কাজে ব্যয় করার পরামর্শ রেখে নিচ্ছি|

এই পোস্টে আসলে আমি কিছু শব্দ নিয়ে আলোচনা করব| এগুলো হচ্ছে বিশ্বাস, মানুষ এবং ঈশ্বর|

১. বিশ্বাস:
শুরুতেই আশা যাক বিশ্বাস কাকে বলে| তার আগে আমাদের জানতে হবে ‘প্রমাণ’ কী? জানতে হবে কারণ প্রমাণ আর বিশ্বাস শব্দদুটো ওতপ্রোত ভাবে জড়িত| নাস্তিকদের যখন বিশ্বাস করতে বলা হয়, তখন তারা প্রমাণ চায়, আর আস্তিকদের যখন কেন বিশ্বাস কর জানতে চাওয়া হয়, তখন তারা প্রমাণ দেবার জন্য মরিয়া হয়ে যায়| ‘প্রমাণ’ হচ্ছে সেই জিনিস, যা কোনো মতবাদকে বা ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করে| যেমন আপনি বললেন, একটা থালায় কিছু পানি নিয়ে রোদে রেখে দিলে একটা সময় পরে তা জলীয়বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে| আপনার ক্লাস ৫ পড়ুয়া ছোট ভাই তা ‘বিশ্বাস’ করলো না| তাই সে নিজে একটা পাত্রে কিছু পানি রোদে রেখে দিল এবং দেখল সেটা কিছুক্ষণ পরে আর নেই| সে তখন আপনাকে এসে জিজ্ঞেস করলো, তখন আপনি তাকে পানির স্বতবাষ্পীভবন বুঝিয়ে বললেন, তারপর সে বুঝলো এবং আপনার কথা ‘বিশ্বাস’ করলো| একটু ভুল হলো, বলা উচিত সে আপনার কথায় সম্মতি জ্ঞাপন করলো| আরেকটা উদাহরণ দেই| আপনি কী ‘বিশ্বাস করেন’ যে ২ + ২ = ৪? প্রশ্নটা একটু হাস্যকর হয়ে গেল না? উচিত ছিল বলা, “আপনি কী ‘জানেন’, ২ + ২ = ৪?” কিংবা যদি বলি আপনি কী ‘বিশ্বাস করেন’, সূর্য পূর্ব দিকে উঠে? এটাও একটা হাস্যকর প্রশ্ন| বলা উচিত ছিল, “আপনি কী ‘জানেন’, সূর্য পূর্ব দিকে উঠে?” এখানেই হচ্ছে ‘জানা’ আর ‘বিশ্বাস’ করার মধ্যে পার্থক্য| যে জিনিসটা সবার চোখের সামনে ঘটে, তা আমরা জানি, আর যে জিনিসটা আমাদের চোখের সামনে নাই, সেটাই আমরা বিশ্বাস বা অবিশ্বাস করি| আপনি কি বিশ্বাস করেন ২ + ২ = ৪? না| আপনি জানেন ২ + ২ = ৪| আপনি কি বিশ্বাস করেন, সূর্য পূর্ব দিকে উঠে? না| আপনি জানেন সূর্য পূর্ব দিকে উঠে| কারণ এটা আপনার কাছে ‘প্রমাণিত’| কাজেই এটা আপনি জানেন| আশা করি ‘জানা’ আর ‘বিশ্বাস’ করার মধ্যে পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়েছে| যেটার প্রমাণ আপনার কাছে নেই, সেটাকে মেনে নেয়াকেই বিশ্বাস বলে| তার মানে কি আপনি আগডুম বাগডুম যা খুশি তাই মেনে নিবেন? মোটেই না| কারণ আপনার নিজস্ব কিছু বিচার বিবেচনা আছে আর আপনি সেই বিচার বিবেচনার উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিবেন, কোনটা বিশ্বাসের যোগ্য আর কোনটা তা না|

আরেকটু বিজ্ঞানভিত্তিক উদাহরণ দেই| নিউটনের গতি বিষয়ক তিনটা সূত্রের মূলে কিন্তু একটা বিশ্বাস বা ধারণা বা স্বতসিদ্ধ আছে| আর তা হলো বস্তুর ভর স্থির বা ধ্রুবক| ১৬০০ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত মানুষ কিন্তু এটা বিশ্বাস করে এসেছে, কারণ মানুষ তখন পর্যন্ত সেটাকে ভুল প্রমাণ করতে পারেনি| তার পরের ঘটনা অনেকেরই জানা| আইনস্টাইন নামের এক ভুবন বিজয়ী বিজ্ঞানী প্রমাণ করলেন যে বস্তুর ভরও পরিবর্তনশীল| তবে হ্যা, এটা প্রমাণের জন্যও তিনি কিন্তু একটা বিশ্বাসের বা স্বতসিদ্ধের আশ্রয় নিলেন| যারা আপেক্ষিকতা সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানেন, তারা জানেন যে এই স্বতসিদ্ধটা হচ্ছে “আলোর গতি ধ্রুবক”| এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে চাচ্ছিনা, কারণ সেটা আমার উদ্দেশ্য না| আবার এটা নিয়ে অনেক সূক্ষ গবেষনায় ভিন্ন কিছু ব্যাপারও লক্ষ্য করা গেছে| শুধু এইটুকুই বলবো, এখনো কিন্তু পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি যে আলোর বেগ ধ্রুবক নাকি পরিবর্তনশীল| বিজ্ঞান যা পেরেছে, তা হলো কিছু বাস্তব ঘটনার ব্যাখ্যা করতে পেরেছে এই স্বতসিদ্ধের মাধ্যমে| অর্থাৎ কিছু নির্দেশনা পাওয়া গেছে যে আলোর বেগ ধ্রুবক, কারণ আপনি যদি এটা মেনে না নেন, তাহলে বাস্তব অনেক ঘটনার ব্যাখ্যাই আপনি দিতে পারবেন না| কাজেই আপনাকে আপাতত স্বীকার করে নিতেই হচ্ছে যে আলোর বেগ ধ্রুবক| হয়তো আরো কয়েকশো বছর পরে নতুন কোনো বিজ্ঞানী নতুন কিছু আবিষ্কার করবেন এই ব্যাপারে, কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আমাদের এই স্বতসিদ্ধ মেনে নিতে হবে|

অতএব, বিশ্বাসের উপর আমার উপসংহার: ‘বিশ্বাস’ হলো সেই জিনিস, যা আপনাকে কোনো মতবাদ মেনে নিতে সাহায্য করে, যেটা আপনি জানেন না, কিন্তু এসম্পর্কে কিছু ধারণা বা Indication হয়তো আপনি পেতে পারেন| এটা আমার ব্যাখ্যা| আপনি আমার ব্যাখ্যা মেনে নিতে নাও পারেন|
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×