মানুষের সাথে অন্য প্রাণীর পার্থক্য কী? মানুষ খায়, ঘুমায়, হাঁটা চলা করে, কাজ করে, সেক্স করে, অন্যান্য সব প্রাণীও এসব করে। কিন্তু আমরা তো অন্যান্য প্রাণীর মতো না। ধার্মিক, অধার্মিক, আস্তিক, নাস্তিক সবাই স্বীকার করবে যে আমাদের মাঝে এমন কিছু আছে, যা অন্য কোনো প্রাণীর মাঝে নেই। সেটা কী? অনেকেই অনেক রকম উত্তর দেবে। যেমন বিবেক, জ্ঞান, সভ্যতা, নৈতিকতা ইত্যাদি। সবগুলো উত্তর আসলে একই। মোদ্দা কথা, আমাদের মাঝে এমন কিছু আছে, যেটা অন্য প্রাণীর মাঝে না থাকার কারণে আমরা তাদের চেয়ে উন্নত জীবন যাপন করি। আর আমাদের খুঁজে বের করা দরকার, ঠিক কী কারণে আমরা উন্নত, কোন জিনিসটা আমাদের অন্য প্রাণী হতে শুধু আলাদাই করেনি, আমাদের ক্ষমতা দিয়েছে তাদের দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেওয়ার, তাদের খাটিয়ে আমাদের জীবন আরো উন্নত করার। অনেকেই হয়তো ভাববেন দরকার কী আমার সেই পরশপাথর জাতীয় বস্তু / বিষয়টা খুঁজে বের করার? দরকার, কারণ মানুষ হিসাবে আমাদের যে বিচার বুদ্ধি আছে, যে শ্রেষ্ঠত্ব আছে, তার দাবি হলো এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণ খুঁজে বের করা। আবার একই সাথে আমাদের সীমা কতটুকু, আমরা আসলে কত বড় হতে পারবো বা কতটুকু জানতে পারবো, তার সম্পর্কেও ধারণা থাকা উচিত।
মানুষ একটা সভ্য প্রাণী। সভ্যতার অনেকগুলো উপকরণের একটা হচ্ছে নৈতিকতা। আপনার অনেক জ্ঞান বুদ্ধি থাকতে পারে, কিন্তু নৈতিকতা না থাকলে আপনি সেই জ্ঞান কতটুকু কাজে লাগাতে পারবেন, তা প্রশ্নবিদ্ধ। এখানে কাজে লাগানো বলতে আমি আপনার নিজের জন্য কাজে লাগানোর কথা বলছি না। নিজের জন্য কাজে লাগাতে খুব একটা নৈতিকতার দরকার হয় না। কিন্তু যদি সমাজের জন্য কাজে লাগানোর কথা বলেন, তাহলে বরং জ্ঞানের চেয়ে নৈতিকতার দরকারই বেশি। আপনাকে ঘুষ খাওয়ার সুযোগ করে দেয় আপনার জ্ঞান বা শিক্ষা, আর তা না খাওয়ার জন্য বলে নৈতিকতা। যদি আপনি ঘুষ খান, তাহলে আপনার হয়তো উন্নতি হবে, কিন্তু সভ্যতার ক্ষতি হবে, কারণ আপনার এই ঘুষ খাওয়া বা অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের জন্য আপনি অন্য আরেকজনকে কষ্টের মধ্যে ফেলবেন। ঠিক একই কথা চুরি করা, ছিনতাই করা ইত্যাদি বিভিন্ন অপরাধের জন্য প্রযোজ্য। কাজেই বোঝা যাচ্ছে, নৈতিকতা সমাজ সভ্যতার একটা বড় অংশ। প্রশ্ন হলো এই নৈতিকতার শিক্ষা আমরা কোত্থেকে পেলাম?
আপনি যদি ধর্মে বিশ্বাস করে থাকেন, তা সে যে ধর্মই হোক, উপরের প্রশ্নটার উত্তর আপনার কাছে পরিষ্কার। আপনি অবশ্যই বলবেন ধর্ম আপনাকে এই শিক্ষা দিয়েছে। আর আমরা জানি, সব ধর্মই নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। কোনো ধর্মই চুরি করা, মানুষের সম্পদ লুট করা, ছিনতাই করা ইত্যাদিকে সমর্থন করে না। অপরদিকে যারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না তাদের নৈতিকতার উত্স যে আসলে কী, তা একটু ঘোলাটে। অনেকেই বলেন সমাজের আইন, অনেকে বলেন পিতা মাতার শিক্ষা, আবার অনেকে বলেন নিজের ভিতরকার নৈতিক বোধ। আসলে নৈতিকতার উত্স কী, সেটা নিয়েই আজ আলোচনা করবো। বলে রাখি, এখানে যা বলা হয়েছে, তা সবই আমার ব্যক্তিগত অভিমত।
ধরেন, নৈতিকতার উত্স সমাজের প্রচলিত নিয়ম কানুন। অর্থাৎ সমাজে যা অনৈতিক হিসাবে প্রচলিত, তাই অনৈতিক, বাকি সব নৈতিক। এই প্যারায় আমরা ধরে নেবো যে সমাজে যেটা প্রচলিত, সেটা সে সমাজের জন্য নৈতিক। সে হিসাবে আমাদের সমাজে ঘুষ অনৈতিক, কিন্তু সুদ নৈতিক। অথচ মুসলিম সমাজে সুদ ও ঘুষ উভয়ই অনৈতিক। আমাদের সমাজে রাস্তা ঘাটে মিনি স্কার্ট পরে ঘুরে বেড়ানো নৈতিক অনৈতিকের মাঝামাঝি, কারণ মিনি স্কার্ট পরার জন্য রাষ্ট্রীয় বিধানে কোনো শাস্তি নেই, কিন্তু সমাজের চোখে ব্যাপারটা খুব একটা গ্রহনযোগ্য না। আবার আমেরিকায় মিনি স্কার্ট কেন, কিছু না পরলেও কোনো ক্ষতি নাই, অনৈতিক ব্যাপার হবে না। নৈতিকতার এই স্কিমটা মনে হয় খুব একটা ফলপ্রসু না। কারণটা বলি। ধরেন, বাংলাদেশের সমাজে হঠাৎ করে মিনি স্কার্ট খুব জনপ্রিয় হয়ে গেলো। ভাববেন না আমি খুব সুদুরপ্রসারী চিন্তা করছি। আজকাল মেয়েদের মাঝে হাঁটু লম্বা জামা, স্লিভলেস বেশ জনপ্রিয়, যেগুলো হয়তো ১০ বছর আগেও অশ্লীল পোশাক হিসাবে বিবেচিত হত। কাজেই ১০ বছর পরে মিনি স্কার্টও জনপ্রিয় হয়ে যেতেই পারে। যদি তাই হয়, তাহলে সেটা কিন্তু নৈতিক হয়ে যাবে। কারণ যদি তা জনপ্রিয় হয়ে যায়, তাহলে তা সমাজের ‘প্রচলিত’ নিয়ম কানুন রূপে গণ্য হবে, আর আমাদের এই প্যারার সংজ্ঞানুযায়ী “যাহা প্রচলিত, তাহাই নৈতিক”। ঘুষ সমাজে যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে, তাতে অলরেডি মানুষ এখন আর এটাকে তেমন একটা অনৈতিক কাজ বলে ভাবে না। তাহলে আসলে নৈতিকতার সংজ্ঞাটা কী? আমাদের এই প্যারা অনুযায়ী নৈতিকতা আসলে একটা পরগাছা টাইপের বস্তু, যা সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচি অনুযায়ী পরিবর্তন হয়। আর এই টাইপের নৈতিকতা সমাজের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসেনা বলেই আমার মনে হয়। আসলে এই নৈতিকতার সংজ্ঞা যদি এটা (সমাজের প্রচলিত নিয়ম কানুন) হয়, তাহলে সমাজের উন্নতির curve টা হবে একটা negative exponential curve টাইপের। অর্থাৎ একটা নির্দিষ্ট সময় পরে মানুষের মাঝে আর কোনো ভালো-খারাপ বোধ থাকবে না। মানুষ অন্য কারো কথা চিন্তা করবে না, শুধু নিজেরটাই ভাববে, যা তার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনলেও সমাজের আর সবার জন্য ডেকে আনবে সর্বনাশ। চিন্তা করুন তো, এমন এক সমাজের কথা, যেখানে সবাই শুধু নিজের উন্নতির কথাই চিন্তা করে, অন্য কারো কথা ভাবে না। হঠাৎ করে যদি এরকম কোনো সমাজে চুরি করাটা জনপ্রিয় হয়ে যায় (যেমন এখন ঘুষ খাওয়াটা আমাদের সমাজে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে), তাহলে সমাজের প্রচলিত নিয়মের আওতায় পড়ে এটা আর অনৈতিক (তথা ঘৃণিত) থাকবে না। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয়, যেহেতু আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এখনো টিকে আছে এবং অদূর ভবিষ্যতে সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা নেই (কারণ সমাজে এখনো অনেক ভালো ও নৈতিক মানুষ আছে), কাজেই বলা চলে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় নৈতিকতার উত্স আসলে সমাজের প্রচলিত নিয়ম কানুন না।
এইবার ধরেন, নৈতিকতার উত্স হলো রাষ্ট্রের আইন। অর্থাৎ আইনে যেটা করতে অনুমতি দেওয়া আছে, শুধু তাই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক তথা অনুচিত কাজ। এই স্কিমটা আগের স্কিমের চেয়ে সুবিধাজনক এবং risk free। আমেরিকার সমাজে সমকামীদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে তারা আইন করে তাদের বৈধতা দিতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজও পিছিয়ে নেই। সমকামীদের স্বীকৃতি না দিলেও কালো টাকা সাদা করার অনুমুতি বা উপায় কিন্তু আমাদের এই রাষ্ট্রই বাতলে দিয়েছে। কারণ কালো টাকার পরিমাণ এতই বেড়ে গিয়েছিলো কালো টাকা বাজেয়াপ্ত করার চেয়ে সরকার তা বিনিয়োগে খাটানোর উপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে (বা দিতে বাধ্য হয়েছে)। হঠাৎ করে যদি আমাদের দেশে লিভ টুগেদারের সংখ্যা খুব বেড়ে যায়, তাহলে হয়তো দেখা যাবে সরকার এটাকেও বৈধ করে দিয়েছে, ফলে এটাও আর অনৈতিক থাকবে না। নৈতিকতার এই স্কিমেও আগের সমস্যাই থেকে যায়। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও, নৈতিকতার কোনো সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় নৈতিকতা তথা সমাজের অবক্ষয় হবে।
উপরের দুইটা স্কিমে যে সমস্যাগুলোর কথা বললাম, তা অনেকেরই মাথায় না ঢুকতে পারে। তাই একটু খোলাসা করার প্রয়োজন বোধ করছি। এমন একটা সমাজ ব্যবস্থার কথা চিন্তা করেন, যেখানে কোনো ধর্ম নেই। খেয়াল করেন, আমি কিন্তু ধর্ম নিরপেক্ষ বা নাস্তিক সমাজের কথা বলছি না। আমি বলছি সেই সমাজের কথা, যেখানে ‘ধর্ম’ নামের কোনো কনসেপ্টই নেই। অর্থাৎ, সে সমাজে ঈশ্বর, তাঁর বাণী ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কেউ চিন্তাই করে না। এরকম একটা সমাজ (আমাদের ভাগ্য ভালো, এমন কোনো সমাজ নেই) যদি থাকে, তাহলে সে সমাজে আপনি কিভাবে নৈতিকতার ধারণা implement করবেন? আপনি কোন কোন মাপকাঠিতে ঠিক করবেন, কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ? আপনার কাছে যেহেতু ধর্ম বলে কিছু নেই, কাজেই ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কেও আপনার কোনো ধারণা নেই। এবার তাহলে কে আপনাকে বলবে, চুরি করা খারাপ? কে আপনাকে শিখাবে ঘুষ খেলে আপনার নিজের লাভ হলেও অন্যের ক্ষতি হতে পারে? অনেকে বলবে মানুষের নিজস্ব বিবেক, বুদ্ধি, বিচার বিশ্লেষণ দিয়ে মানুষ ঠিক করে নেবে, কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ। এটা আসলে একটা ভুল ধারণা। নিজের বিচার বিবেচনা দিয়ে মানুষ কিছুই করতে পারবে না, কখনো পারেনি। কেন পারবে না বা পারেনি, তা একটু পরে বলছি। তার আগে বলে নেই, ধর্ম নিরপেক্ষতা বলেন, নাস্তিকতা বলেন আর মুক্ত চিন্তাই বলেন, সব কিছুরই উত্পত্তি হয়েছে ধর্মের থেকে। আপাত দৃষ্টিতে ধর্মের যেসব দুর্বলতা চোখে পরে (যদিও দেগুলো আসলে ধর্ম থেকে দূরে সরে আসার কারণেই সৃষ্ট), সেসব দুর্বলতা থেকেই এসব ধারণার উত্পত্তি। আর মজার ব্যাপার হলো এই জাতীয় ধারনাগুলো প্রধানত এসেছে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে, যাদের সিংহভাগ একটা নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী ছিলো। যাই হোক, যেহেতু বাকি সব ধারণার উত্পত্তি হয়েছে ধর্ম থেকেই, কাজেই বাকি সব ধারণায় যেসব নীতিকথা বা নৈতিকতার বাণী আছে, সেসব আসলে ধর্মের বাণীগুলোরই পরিবর্তিত/পরিবর্ধিত/কর্তিত রূপ। যদি সমাজে আদি থেকেই কোনো ধর্ম না থাকতো, তাহলে মানব সমাজে নৈতিকতা বলে কিছুই থাকতো না। ফলে ভালো-খারাপের ধ্যান ধারণা না থেকে সমাজ আজকের এই অবস্থায় আসার অনেক আগেই নিশ্চিন্হ্ন হয়ে যেতো। এবার সমাজের এত এত উন্নতির পর আপনি যদি বলেন আপনি ধর্মকে বাদ দিয়ে দেবেন, বা ধর্ম ছাড়াই মানুষজনকে নৈতিকতা শিক্ষা দেবেন, সমাজ আবার সেই রসাতলেই যাবে।
আগের প্যারায় বলেছিলাম নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়ে নৈতিকতার নিয়ম নীতি ঠিক করার অসারতা সম্পর্কে বলবো। এজন্য চলেন সেই সময়ের কথা চিন্তা করি, যখন পৃথিবীতে শুধু আদি পিতা ও আদি মাতা ছিলেন। আস্তিকেরা বলেন, এরা কোনো একটা ধর্মের অধীনে ছিলেন, মুসলমানরা বলে তাঁরা মুসলমান ছিলেন, হিন্দুরা বলেন তাঁরা হিন্দু ছিলেন। আর নাস্তিকেরা (বা যারা মনে করেন সমাজে ধর্মের প্রয়োজন নেই) কী বলেন, আমি ঠিক sure না। তবে মনে হয় তাদের মতানুযায়ী (তাদের মত হলো ঈশ্বর বলে কিছু নেই, ধর্ম মানুষের সৃষ্টি) তাঁরা নাস্তিক ছিলেন। এবার তাঁদের ছেলে মেয়েদের কথা চিন্তা করেন। তাঁদের ছেলে মেয়েরা কিন্তু ভাই-বোন বিয়ে করেছিলো। অর্থাৎ তখন ভাই-বোনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক বৈধ ছিলো। আপনি যে ধর্মেরই অনুসারী হন না কেন, এটা আপনাকে মানতেই হবে, কারণ তা না হলে মানুষের বংশ বিস্তার ছিলো অসম্ভব। আর যদি আপনি নাস্তিক হন, তা হলেও এটা মানতে হবে। যদি তাই হয়, তাহলে আপনি নিশ্চয় মনে করেন না, তাদের কাছে সেটা খুব ঘৃণ্য বা জঘন্য কাজ হিসাবে পরিগণিত হত। অথচ এখন আস্তিক, নাস্তিক, ধার্মিক, মৌলবাদী, মুক্তমনা নির্বিশেষে সবাই এটাকে ঘৃণ্য কাজ হিসাবেই দেখে। আমার প্রশ্ন হলো এই ধারণার পরিবর্তনটা কেন হলো, কখন হলো এবং কিভাবে হলো? আপনি যদি বলেন মানুষ নিজে নিজে চিন্তা করে বের করেছে এই কাজটা খুব খারাপ, তাহলে এই সিদ্ধান্তকে আমি আপনার চিন্তা করার এবং সেই চিন্তা থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত খুঁজে বের করার অক্ষমতা হিসাবেই দেখবো। কারণ, আগের মানুষ আর বর্তমান মানুষের বিবেক-বুদ্ধির ধারার কোনো পার্থক্য আছে বলে তো মনে হয় না। কাজেই যেটা ঐ আদি মানুষদের কাছে অপছন্দনীয় ছিলনা, সেটাই আমার আপনার কাছে (নিজস্ব চিন্তার ফলে) খুব নিন্দনীয় হয়ে গেলো, এটা খুবই খোঁড়া যুক্তি। কাজেই অবশ্যই কেউ না কেউ কোনো না কোনো সময় মানুষকে বলে দিয়েছে যে এককালে তারা এই কাজতে করতে পারলেও, এখন আর তারা সেটা পারবে না, বরং কাজটা এখন খুব ঘৃণিত কাজ বলেই গণ্য হবে। একই কথা প্রযোজ্য তত্কালীন আরব সমাজে, যে সমাজে কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দেওয়া খারাপ কাজ বলেই গণ্য হত না। নবী মুহাম্মাদ (স) আল্লাহর বাণী মানুষকে জানানোর আগে তারা বুঝতেই পারেনি, এই কাজটা কতটা জঘন্য হতে পারে। নাস্তিকরা হয়তো বলবেন, “আমি তো নাস্তিক, কিন্তু আমি তো ভাই-বোনের শারীরিক সম্পর্কের বিপক্ষে। আমাকে কে এটা শিখিয়ে দিলো?” যদি এই প্রশ্ন করে থাকেন, তাহলে এটাও আপনার চিন্তার সল্পতা হিসাবেই গণ্য হবে। কারণ আপনি নাস্তিক হন আর যাই হন, আপনি জন্ম নিয়েছেন একটা ধর্মীয় পরিবেশে, বেড়ে উঠেছেন একটা ধর্মীয় পরিবেশে। হতে পারে সেটা খুব একটা ধার্মিক পরিবেশ, কিংবা না, কিন্তু যতটুকু মৌলিক নীতিবোধ আপনার ধর্মীয় পরিবেশ আপনাকে শিখিয়েছে, ততটুকু আপনি ছোট বেলা থেকেই শিখেছেন, আপনার ইচ্ছা থাকুক আর নাই থাকুক। এবং এ কারণেই হয়তো আপনি লিভ টুগেদার সমর্থণ করেন, কিন্তু ভাই-বোনের শারীরিক সম্পর্ক সমর্থণ করেন না। আপনি অনেক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেন চাইলে, কিন্তু মূল কারণ সেটাই। যখন একজন মানব সন্তান জন্ম নয়, তখন তার কাছে নৈতিক অনৈতিক বলে কিছু থাকে না। সে তখন শুধুই বাঁচতে চায়। চায় খাদ্য আর মায়ের সান্নিধ্য। এগুলো হচ্ছে মানুষের বেসিক চাহিদা। এরপর আস্তে আস্তে সে বুঝতে শিখে, খাদ্য চাই হবে না, তার জন্য একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। যখন তার ভাই/বোন হয়, তখন সে sharing শিখে। এই শিক্ষাগুলো তাকে তার বাবা-মা দেয়। আবার এই বাবা-মা সেই শিক্ষাগুলো পায় তাদের বাবা-মার কাছ থেকে। এভাবে আপনি যত পেছনে যেতে থাকবেন, এক সময় সব রাস্তায় গিয়ে মিলবে ধর্মীয় গ্রন্থগুলোতে।
আজকের লেখা শেষ করবো একটা কথা বলে, আর তা হলো ধর্মই নৈতিকতার উত্স। ধর্মকে বাদ দিয়ে নৈতিকতা শেখা সম্ভব না। কেউ যদি তা চেষ্টা করে, তাহলে বড় রকমের ভুল হবে, যেমনটা ভুল হচ্ছে এখন পশ্চিমা সমাজে। আমাদের প্রিয় সমাজে এরকম ভুল হোক, এটা আমরা নিশ্চয় চাই না, তাই না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



