somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নৃ মাসুদ রানা
নৃ মাসুদ রানা (মোঃ মাসুদ রানা)। ১৯৯৫ সালের ১৪ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানার চৌবাড়ীয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।পিতা মোঃ লাল মিয়া, মাতা মোছাঃ জাহানারা খাতুন। কাব্যগ্রন্থঃ মুক্তচিন্তা ও নীলপদ্ম (যৌথভাবে)। গল্পগ্রন্থঃ হুমায়ূন হিমু (২০

এইসব আধারের নৈঋত

১৬ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জেলখানা থেকে ছাড়া পেয়েই সোজাসুজি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে হাজির। পরিচিত কাউকেই দেখতে পাচ্ছে না। মুখটা চুপসে বিবর্ণমুখ। কপালে বুঝি একটা বিড়িও জুটবে না।
পকেটে টাকা নেই। চায়ের দোকানে বসে শুধু এদিকসেদিক তাকাচ্ছে। যদি পরিচিত কাউকে পাওয়া যায়। দোকানে অল্পবয়সী এক ছেলে বসে আছে। জিজ্ঞেস করলো, 'তোমার আব্বায় কই গেছে? দোহানে আয়ে নাই?'
আব্বায় তো খাইতে গেছে। আইয়া পড়বো। কিছু লাগবো? আমারে বলেন।
দুপুর বিকেলের মাঝামাঝি। দূর থেকেই বলে উঠলো - ওস্তাদ নাকি? কখন আইলেন?
হ রে মজনু, আমিই। তোর পোলাই কইলো তুই নাকি খাইতে গেছোস।
হ ওস্তাদ। খাওনের পর চোখটা লেগে আইছিলো। সেজন্য একটু...।
তা ওস্তাদ বাসায় গেছিলেন নাকি? ভাবি একদিন আইছিল কিছু ট্যাহা লইয়া গেছে।
নারে মজনু। এখনো যাই নাই। পকেট খালি একটা বিড়িও...।
বিড়ি ধরিয়েই হাঁকিয়ে টানতে শুরু করলো। মজনু মিয়া বিড়ি টানা দেখে হা করে চেয়ে দেখছে।
কি রে মজনু! কি দেখছিস?
না ওস্তাদ। কিছুই না। অনেকদিন অইলো আপনারে বিড়ি টানতে দেহি না।
আর কইস না। নেশা লাগছে। জব্বর নেশা লাগছে।
ওস্তাদ! আর কিছুর নেশা লাগছেনি।
হ, মনের কথাডাই কাইড়া নিলি। অনেকদিন খিদা লাগছে। পরানডায় খুব চাইতেছে।
মজনুর ফোন বাজছে। ও টুনির মা তোমার টুনি কথা শোনে না...
কেডায় ফোন দিছেরে মজনু?
ওস্তাদ আপনে চিনবেন না। পোলাডা নতুন। কাজকামে খুবই ভালা। মরতুজের গ্যারেজে থাকে। বাস চালায়।
সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে। ওপাশ থেকে বলছে -
আইজকা কড়া একটা মাল পাইছি ওস্তাদ। নাদুসনুদুস গোলগাল দেখতে। কচি বয়স। সেইরহম অইবে।
কি কস! কথা সত্যি? এতো ভালা খবর।
হ ওস্তাদ! একদম হাঁচা কথা। আপনে দেখলে মেলা খুশি হইবেন।
কোত্থেকে আনছোস? কেউ দ্যাহে নাইতো।
না ওস্তাদ। কেউ দ্যাহে নাই। মুখ চেপে ধরে আনছি।
-চিল্লায় নাই?
হ, খুব চিল্লাচিল্লি লাফালাফি করছিল। পরে গামছা দিয়ে চোখমুখ বাইন্ধা...। আমাগোর লগে কি আর পারবোনি (হেসে হেসে)?
তোরা কাজ সারছোস?
লাল্টু শুরু করতে নিছিলো ধমক দিয়া থামাইয়া রাখছি। আমি বলছি আগে ওস্তাদ, তারপরে আমরা। না কিতা কন ওস্তাদ?
হ, ঠিক কথাই কইছোস।
তাইলে ওস্তাদ আপনের পাওনের টেহা...
ঠি আছে। আর দিতে অইবো তোকে। কি খুশিতো?
হ, ওস্তাদ। খুশি মেলা খুশি অইলাম।
কথা বলা শেষ। মজনু আরেকটি বিড়ি ধরাইয়া রহিমের হাতে দিলো। মজনু নিজেও একটি বিড়ি ধরিয়ে হাঁকিয়ে টানতে শুরু করলো।
কি রে মজনু? কোন খবর আছেনি?
হ ওস্তাদ। আপনের কপালডা খুবই ভালা। মেলাদিন পরে একটা পাখি পাইছি। খেয়েদেয়ে তারপর বাসার দিকে রওনা দিয়েন। না কি কন ওস্তাদ?
হ, এতোদিন পরে সুযোগটা হাত ছাড়া করা উছিত অইবো না।
সন্ধ্যা গড়িয়ে কিছুটা রাত। গ্যারেজের দিকে হাঁটছে দুইজন। কথা জমেছে বেশ। হেঁসে হেঁসে কথা বলছে।
গ্যারেজের পিছনে পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘর। টায়ার, গাড়ির এটাসেটা দিয়ে ভরা। তালা খুলেই মজনু মিয়া বলতে শুরু করলো - ওস্তাদ! আপনিই আগে মজা লইয়া আহেন। পরে আমরা যাবো। না কি কস লাল্টু।
হ, ওস্তাদ। ঠিকই কইছেন।
সুইচ টিপে লাইটটা জ্বালালো। মেয়েটি গুটিসুটি হয়ে টায়ারের পিছনে চুপটি করে বসে আছে। চোখ ভিজে ভিজে অশ্রু ফোঁটা বেঁয়ে বেঁয়ে পড়ছে। হঠাৎ আলোর কারণে চমকে উঠলো সে। ভয়ে আরও গুটিসুটি হয়ে বসে রইলো। বুক ধড়ফড় করছে। হাতপা কেঁপে কেঁপে উঠছে মেয়েটির।
শামসু টায়ার সড়িয়ে মেয়েটিকে ধরতেই সে মোচড়ামুচড়ি করতে শুরু করলো। চুল দিয়ে ডাকা মুখখানি তখনো চোখে পরেনি শামসুর। সে ধস্তাধস্তি জাবরদস্তি করে গামছা খোলা মাত্রই মেয়েটি চিৎকার করে উঠলো। শামসু মেয়েটির মুখ চেপে ধরতেই মেয়েটি বলে উঠলো - বাবা তুমি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১০:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফ্রিদা কাহলো এক ব্যতিক্রমী মানুষ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:১৪



নীল বাড়ির দূরন্ত মেয়েটি
"লা কাসা আসুল" যার অর্থ নীল ঘর। ১৯০৭ সালের ছয় জুলাই জার্মান বাবা আর স্প্যানিস মায়ের রক্তের সমন্বয়ে একটি মেয়ের জন্ম হয় ম্যাক্সিকো সিটির শহরতলীর একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেবতি

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ২:৫৪



আগে আমার অবস্থানটা বর্ণনা করে নিই।
সকাল সাড়ে এগারোটা। ঝকঝকে সুন্দর পরিচ্ছন্ন একটি দিন। আমি দাঁড়িয়ে আছি- বসুন্ধরা মার্কেটের সামনে। আমার ডান হাতের একটা আঙ্গুল শক্ত করে ধরে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমকামিতার স্বরূপ অন্বেষনঃ সমকামি এজেন্ডার গোপন ব্লু-প্রিন্ট - আলফ্রেড চার্লস কিনসে [পর্ব দুই]

লিখেছেন নীল আকাশ, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৪৮

অনেকদিন পরে আবার এই সিরিজ লিখতে বসলাম। লেখার এই পর্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে থেকে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটানো হয়েছে খুব সুপরিকল্পিতভাবে। সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও এই জঘন্য আচরণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কমলাকান্তের কৃষ্ণ কন্যা (শব্দের ব্যবহার ও বাক্য গঠন চর্চার উপর পোস্ট)

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:৫৯


শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনও অক্ষর দিয়ে শুরু শব্দাবলি ব্যবহার করেও ছোট কাহিনী তৈরি করা যায় তার একটা উদাহরণ নীচে দেয়া হোল। এটা একই সাথে শিক্ষণীয় এবং আনন্দদায়ক।

কাঠুরিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার এই পোস্ট পড়ে কি মনে হয় আমি ইসলাম বিদ্বেষী?

লিখেছেন জাদিদ, ০৭ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩০

আমি গতকাল ফেসবুকে একটি পোস্ট দেই। সেখানে আমাদের কতিপয় হুজুরদের বেহুদা জোসের বিরুদ্ধে আমি লিখেছিলাম। আমার পোস্টটি এখানে হুবহু তুলে দিলাম -

পৃথিবীতে ইসলাম রক্ষার দায়ভার একমাত্র বাংলাদেশী মুসলমানদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×