আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার ছোট ফুফুর বিয়ের জন্য একটি প্রস্তাব আসে। পাত্র ব্যবসা করে। ভালই করে। দেখা গেল কেহ রাজী না। শুধু আমার দাদী রাজি। পাত্র দেখতে শুনতেও ভাল। তা আমার দাদী মোটামুটি হিটলার টাইপ কাজে যারা বাকী সবাই একযোগ হয়ে লেগে গেল পাত্রের পেছনে। শেষমেষ দেখাগেল প্রস্তাবিত পাত্র একটি মিথ্যে তথ্য দিয়েছেন। কাজে আর এগোনো গেল না। আমার ছোটফুপুর পরে বিয়ে হয়েঝে একজন অধ্যাপকের সঙ্গে যিনি কিছুদিন আগে অধ্যক্ষ হিসাবে অবসর নিয়েছেন।
ছোটবেলায় সেবার প্রথম আমার ইন্টারেকশন সমাজের সঙ্গে যেখানে পাত্র উদ্যোক্তা কিসিমের হলে আপত্তি শুরু হয়। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এই মানসিকতা এখনো অনেকখানি রয়েগেছে।
গণিত অলিম্পিয়াডে আমি শিক্ষার্থীদের কে কি হতে চায় সেটি জানতে চাই। ব্যবসার কথা বললে খুব কম সংখ্যক হাত ওঠে। ভাবখানা ব্যবসা করাটা ভাল নয়!
কিন্তু আমরাতো জানি ব্যাপকহারে যদি আমরা উদ্যোক্তা তৈরি করতে না পারি, কেবল যদি আমাদের নতুন প্রজন্ম চাকরি খোঁজে, তাহলে আমরা যে পিছিয়ে পড়বো। যে কাজটা আমাদেরকে কেহ বলে নাই, সেটি আমাদের পরের প্রজন্মকে বলতে হবে জোরেশোরে। আর দায়িত্বটা আমাদের মতো বুড়োদেরই।
বাঙ্গালী ব্যবসা করতে চায় না বলে যে বদনাম আছে সেটা দূর করা দরকার। এজন্য উৎসাহিত করতে হবে সকলকে। এরকম একটি ইচ্ছে থেকে এবার আমরা যুক্ত হয়েছি সিটি ফাউন্ডেশনের সিটি আইটি কেস কম্পিটিশনের সঙ্গে (http://ficc.dnet.org.bd)। আইডিয়া হলো, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া চারজনের একটি দল একটি ব্যবসা ধারণা নিয়ে আসবে। বিচারকেরা সেটি যাচাই করবেন। তিনটি দলকে দেওয়া হবে পুরস্কার যথাক্রমে ৫ হাজার, ৩ হাজার ও ২ হাজার ডলার।
এর আয়োজন ডিনেট আর বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক সহায়তা করছে।
অংশগ্রহণকারীদের প্রতিটি দলে সর্বোচ্চ চারজন শিক্ষার্থী থাকবে যারা বিজনেজ ও আইটি স্কুল থেকে আসবে। আর প্রকল্প ম্যানেজার হবেন একজন ফ্যাকাল্টি। তিন রাউন্ডে হবে এই প্রতিযোগিতা।
গেলবারের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানা যাবে Click This Link
এই ঠিকানা থেকে।
এবারে যারা বিজয়া হবে তাদের জন্য বাড়তি কিছু করা যায় কীনা ভাবছি। হয়তোবা তাদেরকে নতুন হতে যাওয়া আইটি ইনকিউবেটরে প্রাধান্য দেওয়া হল বা কোন ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে মিটিং করিয়ে দেওয়া হল! এই রকম আর কি।
যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। পুরস্কারের কথা বাদই দিলাম। কেস প্রেজেন্টেশন আর ইন্টারভিউ-এর মাধ্যমে যে অভিজ্ঞতা হবে তা অনেকখানি এগিয়ে রাখবে অংশগ্রহণকারীদের। এজন্য এটা জরুরী।
গেলবারের বিজয়ীরা যদি তাদের গল্পগুলো শেয়ার করে তাহলে এবারের প্রতিযোগীদের জন্য বেশ ভাল হয়।
গতকাল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সমাপনীতে আরো একটি প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়ে এসেছি। জাতীয় ভিত্তিক আইটি প্রকল্প প্রতিযোগিতা। এখানেও সবাই তাদের প্রকল্প জমা দেবে, বাঝাই করা গোটা ৫০এর মতো ফাইনাল রাউন্ডে অংশনেবে। বিজয়ীরা পুরস্কারতো পাবেই সঙ্গে পাবে দেশের ব্যবসায়ী আর ব্যাংকিং জগতের দিকপালদের সঙ্গে ইন্টারএকশনের সুযোগ। আমি এখনো ঠিক জানি না এই প্রতিযোগিতাটা কীভাবে করবো, তবে করবো এতে কোন সন্দেহ নাই। আমার জন্য স্পন্সর যোগাড় করাটা হবে কষ্টের। বাকী কাজগুলো মনে হয় সহজ হবে।
সবার সেকেন্ড ডিফারেন্সিয়াল নেগেটিঅ হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


