somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন: বাংলাদেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুনপৌনিক ঘটনার নিষিদ্ধ আলোচনা

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম কিস্তি-ভূমিকা
ক.
পারিবারিক নির্যাতন বিষয়ে একটি নিরবতার সংস্কৃতি ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান রয়েছে আমাদের সমাজে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পরিবার আমাদের সবচেয়ে কাছের এবং অবশ্যম্ভাবী শক্তিশালী সামাজিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের সামাজিকায়ন, আমাদের বেড়ে ওঠা, আমাদের আগামী প্রজন্মের স্বপ্নীল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা- এ সব কিছুর বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো আলোর মুখ দেখে পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যামে। আর এ জন্যই হয়তো নিয়ত পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রায় প্রতিটি সমাজে পরিবার এখনও আপন মহিমায় টিকে আছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। আমাদের মতো সমাজ কাঠামোয় পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানটি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ তা উল্লেখ না করলেও চলে। আর পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখা ও বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ভূমিকাটি যারা নিরন্তরভাবে পালন করে আসছেন তারা হচ্ছে নারী সমাজ। একটি বিকশিত স্বপ্নীল পরিবারের জন্য নারীর ক্রমাগত সৃজনশীল ভূমিকার পরও দুঃখজনক সত্য হচ্ছে এ পরিবার নারীর জন্য একটি নিরাপদ বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে নি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সূত্রে আমদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ও সা¤প্রতিককালের পরিসংখ্যান থেকে এটি প্রমাণিত যে, নারীর বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিংহভাগই ঘটে থাকে নিজস্ব পারিবারিক গন্ডিতে। যদিও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার কারণে বেশির ভাগ ঘটনাগুলো পর্দার অন্তরালে থেকে যায়। সামাজিকায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারী যে অবদমন ও নিরবতার সংস্কৃতি আত্বস্থ করে তা এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সহায়কের ভূমিকা পালন করে। অথচ ঐতিহাসিকভাবে চলমান এ চিত্রটি কোনভাবেই একটি সামগ্রিক উন্নয়ন আকাঙ্খা ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুক্তি ও প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না। কেনন এ চিত্রটি শুধু নারী কে নয়, একটি সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তৈরি করে নানা নেতিবাচক ফলাফল। মূলধারার উন্নয়ন ভাবনা থেকে বাইরে এসে যদি আমরা উন্নয়ন কে একটি সামগ্রিক স্বত্ত্বাধিকার ও সক্ষমতা অর্জন এবং আর্থনীতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি তবে আমাদের সমাজ কাঠামোর আলোকে এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায় যে, পারিবারিক স¤প্রীতির কোন বিকল্প নেই। যার জন্য প্রধান শর্ত হচ্ছে পারিবারিক নির্যাতনের সম্ভাব্য পথগুলো বন্ধ করা। একটি সৃজনশীল সমাজ ব্যবস্থা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য ব্যাস্টিক পর্যায়ে এটি খুবই জরুরি বিষয়। আর এ রকম একটি বিশ্বাসের জায়গা থেকেই পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পারিবারিক নির্যাতন অন্যন্য সকল নির্যাতন এর মতোই একটি সামাজিক অপরাধ। যাকে উৎপাটনের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ, বিকল্প সামাজিকায়ন। পাশাপাশি একটি আইনী কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকেও অস্বীকার করা যায় না। আর এ সব কার্যক্রমগুলোকে সমৃদ্ধ ও বেগবান করতে হলেও এ বিষয়ে গবেষণা ও অধ্যয়ন খুবই জরুরি। এ রকম একটি প্রেক্ষিতে গ্রামীণ বাংলাদেশে পারিবারিক নির্যাতনের চলমান দৃশ্যপট তুলে আনার উদ্দেশ্যে এ গবেষণা কর্মটি পরিচালিত হয়েছে।

খ.
বাংলাদেশে নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা বা নারী নির্যাতন নিয়ে প্রকাশ্যে কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাল মাত্র কয়েক দশক। তবে এ সব আলোচনা বা কর্মসূচিতে পারিবারিক নির্যাতনের ইস্যুটি বরাবরই উপেক্ষিত থেকে গেছে। মূলধারার উন্নয়ন কর্মসূচিতে পারিবারিক নির্যাতন বন্ধের বিষয়টি এখন পর্যন্ত অর্থপূর্ণভাবে স্থান পায় নি। অতি স¤প্রতি অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কৌশলের ব্যানারে কিছু দাতা এবং উন্নয়ন সংস্থা এবং এক্টিভিস্টদের উদ্যোগে পারিবারিক নির্যাতন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা শুরু হলেও এর পরিসর এখন পর্যন্ত যে সীমিতা তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এর একটা প্রধার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর অন্তর্নিহিত ও অবশ্যম্ভাবী উপাদানসমূহ। যেখানে ভেতর ও বাহির নামে নারীর জন্য দুটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেরু ঐতিহাসিকভাবে দৃশ্যমান। আর এ দৃশ্যপটে পরিবার নারীর জন্য স্বর্গের ইমেজে মহিমান্বিত একটি অবশ্যম্ভাবী ব্যক্তিগত বিষয়। সুতরাং পরিবার নামক সমাজ আরোপিত নারীর ব্যক্তিগত ভুবনে যা কিছ ু ঘটবে, বিশেষ করে নির্যাতন সহিংসতা তা পরিবারের বাইরে নিয়ে যাওয়া প্রবল ও প্রধান সামাজিক প্রথা দ্বারা এখন পর্যন্ত সমর্থিত নয়। সে দিক থেকে পারিবারিক নির্যাতনের ওপর পরিচালিত এ গবেষণা কার্যক্রমটির পরিসর খুব ছোট হলেও নারীর ব্যাপারে মূলধারার সামাজিক মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করবার ক্ষেত্রে একে অন্তত একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। (চলবে)


চলবে
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×