somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

*** রামাদান ও আমার আম্মু ***

১৩ ই মে, ২০১৯ ভোর ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের বাসার নীচ তলার একটা বারান্দায় একটা কবুতর বাসা পেতে ডিম দিয়েছে , কয়টা ডিম তা দেখিনি। এই বারান্দটা আমরা ব্যাবহার করি না তেমন যাওয়াও হয় না গত কালকে কিছু রাখার জন্য দরজা খুলে আমি তো অবাক দৌড়ে মোবাইলে নিয়ে সাথে সাথে ক্লিক ক্লিক।

ছোট বেলায় রমজান মাস শুরু হওয়ার একমাস আগে থেকেই একটা উৎসব উৎসব আমেজ শুরু হয়ে যেত আমাদের বাসায়।আমার আম্মু এমনিতেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ছিলেন , আর রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে শুরু হত উনার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান , বাসার ছাদ থেকে শুরু করে কোন একটু জায়গা বা ঘর সংসারের ছোট খাট জিনিসও বাদ যেত না উনার এই অভিযান থেকে । বাসায় এমন কিছু জিনিস ছিল যেগুলো কখনোই ব্যাবহার করা হত না সেগুলো শুধু বছরে একবার বের করে ধুয়ে আবার তুলে রাখা হত সেটা হত এই রমজানের আগে। আমার আব্বু এ নিয়ে কত কথাই না বলত, সে সব নিয়ে আম্মুর কোন ভ্রক্ষেপ ছিল না তার কাজ সে প্রতি বছর করেই যেত।

এর পর সময় আরো একটু কাছে আসলে রোজা উপলক্ষে বাজার শুরু হত উৎসবের আমেজটা আরো একটু বেড়ে যেত , দিন গুনতে গুনতে চলে আসত চুরান্ত সময় মানে রমজানের চাঁদ দেখার। আমার আম্মুরা অনেক গুলো ভাই বোন ছিল , তাই আমরা ছোট বড় মিলিয়ে অনেক গুলো কাজিন ছিলাম আর সবার বাসা মোটামুটি কাছাকাছি হওয়াতে সবাই মিলে যে কোন এক বাসার ছাদে উঠে যেতাম শুরু হত চাঁদ দেখার প্রতিযোগিতা কার আগে কে চাঁদ খুঁজে পায় আমি বয়সে ছোট হওয়ার কারনে কখনো আগে চাঁদ দেখতে পারতাম না তবে সবার এই চাঁদ খুঁজা খুঁজির আনন্দ কারো চেয়ে কম উপভোগ করতাম না। আর এই আনন্দ শুধু আমাদেরই না পুরো মহল্লাতেই এটা হত।

এর পর শুরু হত রোজা রাখার পালা আর সম বয়সী কাজিনদের সাথে প্রতিযোগিতা কে বেশী রোজা রাখতে পারে। যদিও রোজা রাখতে পারতাম না তবু সেই পাঁচ বছর বয়স থেকে সেহেরী খাওয়া আর ইফতার করা কখনো মিস করেছি বলে মনে পরে না । এখন সেহেরী খেতে খুব অলসতা লাগে অথচ সেই সময়ে কত আনন্দ নিয়ে সেহেরী খেতে উঠতাম, আমাকে কখনো ডাকতে হত না আমি নিজেই জেগে যেতাম, আমাদের বাসায় সব সময়ই দুইজন কাজের লোক ছিল তবু আম্মু সব সময় সেহেরীর রান্না নিজে করতেন , আম্মু উঠলেই আমি ও জেগে যেতাম।

আর সবাই মিলে এক সাথে ইফতারী করা কত আনন্দের ছিল।

এখানে আসার পর রোজার আগমন বা চাঁদ দেখার আনন্দটাকে হারিয়ে ফেল্লেও বাসার সবাই মিলে ইফতারী করার আনন্দ কিছুটা হলেও আমাদের বাসায় ছিল বা এখনো আছে । কিন্ত এখন রমজান এলেই কিছু কষ্ট আমার বুকের ভিতর তাজা হয়ে উঠে তখন আর কিছু ভালো লাগে না ।

এমনি এক রমজানের শুরুতেই আমার আম্মুর বুকের একটু নীচে ডান পাশে ব্যাথা শুরু হয় , আম্মুকে ডাক্তারের কাছে নেয়া হয় সব কিছু পরিক্ষা করা হয় , তেরটা রোজাও আম্মু রেখেছেন, চৌদ্দই রামাদান আমরা চুরান্ত ভাবে জানতে পারি আম্মুর ক্যানসার । ক্যানসারটা মূলত লিবারে হলেও তখন এটা আম্মুর সারা শরীরে ছেয়ে গিয়েছে এই শেষ মূহুর্তে চিকিৎসার কোন সুযোগ নেই উনি বড়জোর দুইমাস বেঁচে থাকবেন ডাক্তার জানিয়ে দেন। ঠিক দুইমাসের দিনই আম্মু মারা যান।

যদিও আম্মু রমজানে মারা যাননি কিন্ত উনার মৃত্যু পরওয়ানা আমরা পাই রমজানে । সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট সেটা এই রমজান মাসেই। সেই থেকে রমজান কাছাকাছি আসলেই আম্মুর কথা খুব বেশী মনে পরে । রমজান উপলক্ষে আম্মুর কাজ কর্মগুলো খুব মনে পরে । আর সেই রমজানের বাকী দিনগুলো ও রমজান পরবর্তী কিছুদিনের পেরেশানীর কথা খুব মনে পরে , আম্মুর সেই শেষ মূহুর্তের মুখচ্ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠে তখন যে আমার কেমন লাগে আমি ঠিক এটা বুঝিয়ে বলতে পারব না ।

আম্মু তোমাকে কখনো ভুলি না, কখনো ভুলতে পারব না । তোমাকে ভালোবাসি, অনেক ভালোবাসি আম্মু, তুমি বেঁচে থাকতে একথা তোমাকে বলতে পারিনি, তখন হয়ত বুঝতেই পারিনি তোমাকে যে ভালোবাসি বা কতটা ভালোবাসি। আম্মু এখন তোমাকে বলার সুযোগ নেই কিন্ত এখন আমি বুঝতে পারি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি আম্মু।তুমি ভালো থেক আম্মু , আমার আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখুক এই কামনা আমি সব সময় করি ।


এই ছবিটাও গতকালকের ইফতারের একটু আগে মানে রাত সারে আটটার সময়।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৯ ভোর ৪:০৭
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

» সোনারগাঁও-এ ভ্রমণ করেছিলুম একদা.....

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২২ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:২১

সোনারগাঁ জাদুঘর ভ্রমন
=কাজী ফাতেমা ছবি=



কোন এক শীতের দিন অফিসের পিকনিক ছিলো, নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। সেই সুবাদে দেখতে পেরেছিলাম পানাম শহর আর সোনারগাঁ জাদুঘর -শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর। ঢাকায় আছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার তোলা কিছু ফালতু ছবি (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:২১



আমি একজন ব্যর্থ মানুষ।
আমার জীবনটা পুরোটাই ব্যর্থ গেল। যদি আরেকবার এই পৃথিবীতে আসার সুযোগ পাই তাহলে এ জীবনে যে ভুল গুলো করেছি, সেই ভুল গুলো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি (প্রায়) মৌলিক গল্প

লিখেছেন মা.হাসান, ২২ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৮




নীল পাখি নাক বাহিয়া বাঁশ গাছের উপরে উঠিয়া তাহার তেলের ভান্ড দেখিয়া আসিল (কৈ মাছ কান বাহিয়া গাছে উঠিতে পারে, যেহেতু গল্প মৌলিক কাজেই নাক বাহিয়া উঠিতে হইবে)।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকট প্রতিভা =p~

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ২২ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:২৮



আমার এক দুলাভাই আমির হামজা। একবার তিনি তানজানিয়া ট্যুরে গিয়েছিলেন। উনাকে একদিন অনলাইনে একটিভ দেখে আমার ভিতরে লুকিয়ে থাকা এক সুপ্ত প্রতিভা চাগান দিয়ে উঠলো।(‘কি করি আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ আবারো লুটপাট চলছে .... ১৫ দিনেই শেয়ার বাজার থেকে উধাও ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশী ।

লিখেছেন এম. বোরহান উদ্দিন রতন, ২৩ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:০৮

শেয়ার বাজার থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা উধাও

গত দু’দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক কমেছে ১৬৪ পয়েন্ট। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
আরও দরপতন হবে-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×