somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

***** জীবন নিরবধি *****

১৯ শে মে, ২০১৯ ভোর ৫:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১:
আলো ঝলমল শাহজালাল এয়ারপোর্টে এসে বিস্ময়ের ঘোর কাটে না রমজান আলীর ।
জীবনে প্রথম সে এই ঢাকা শহরে এসেছে। তার সারা জীবন কেটেছে সিলেটের জৈয়িন্তাপুরের এক গ্রামে । অল্প কয়েকবার মাত্র সিলেট শহরে আসা হয়েছে। ঢাকা শহরের এই ভিড়, বিরাট দালান কোঠা,গাড়ি ঘোড়া, রাস্তা ঘাট দেখে তার বিস্ময়ের শেষ নেই।

নিজের ছেলেটার দিকে তাকিয়েও তার বিস্ময় কমে না যেন! সেদিনের ছোট ছেলেটা একটু একটু করে কখন যে এতোবড় হয়ে গেছে সেটাই মনে করতে পারে না। এইতো কিছুদিন আগেও মার আচঁল ধরে থাকতো, মায়ের সাথে ঘুমাতো। সেই ছেলেটা আজ এতো বড় হয়েছে, ঢাকায় বড় ইউনির্ভাসিটির মাস্টার ! কোট, টাই পরা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকতে, থাকতেই রমজান আলীর মনটা বিষন্ন হয় ছেলের মার কথা মনে করে।আহা হাফসা! তার ছেলে ইনভারসিটির বড় মাস্টার হয়েছে, আরো পড়ালেখা করার জন্য জাপান দেশে যাচ্ছে আজকে দেখতে পেলে কতই না সুখী হতো ! একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে রমজান আলীর অজান্তেই। পেছনের কত কথা এক সাথে এসে মনে ভিড় জমায়।

রমজান আলী বংশপরস্পরায় কৃষক।
তার বাবা ছিল কৃষক, তার দাদাও ছিল কৃষক। জায়গা জমি অনেক থাকাতে কৃষক হলেও গ্রামে তাদের অবস্থা স্বচ্ছলই ছিল। তিন ছেলের বড় ছেলে রতনের বয়স সাতে পরলে তাকে বাড়ির পাশে স্কুলে ভর্তি করে দেন। ছেলেকে লিখা পড়া শিখিয়ে বড় বিদ্বান বানাবেন এমন স্বপ্ন রমজান আলীর মাথায় কখনো ছিল না। থাকবেই বা কেমন করে ? যেই লোক দিনের হিসাব করে বাড়ির কাছে সপ্তাহে দুইদিন হাট বসে সেই হাটের হিসাবে, কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করে আজ কি বার? সে জবাব দেয় হাটের আগের দিন বা হাটের পরের দিন। সূর্য দেখে সময়ের হিসাব করে । সে বুঝবেই কি ভাবে লিখা পড়ার গুরুত্ব। তার কাছে ছেলেকে বিদ্বান বানাবার চেয়ে কৃষিকাজে ছেলে কখন সাহায্য করতে পারবে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ । যাহোক বাড়ির পাশেই স্কুল I তাছাড়া রতন এখনো কৃষি কাজের উপযুক্ত হয়নি I তাই দুই তিন বছর স্কুলে একটু হিসাব কিতাব শিখবে তার পর নিজের সাথে ছেলেকে মাঠের কাজে নিবেন। কৃষকের ছেলে হবে কৃষক, ছেলেকে নিয়ে সেটাই রমজান আলীর স্বপ্ন।

২.
স্কুল রতনের খুব ভাল লাগে I শুরু থেকেই সে খুব মনোযোগী ছাত্র হয়ে উঠে । মাস্টার মশাইয়ের কথা সে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে ও বুঝার চেষ্টা করে I 'লেখাপড়া করে যে গাড়িঘোড়া চরে সে' স্যারের কথা শুনে তার কচি মন আলোড়িত হয়। সদা সত্য কথা বলিবে, কারো মনে আঘাত দিবে না, এরকম আরো কত সুন্দর সুন্দর কথা বলে স্যার। রতন ভাবে এসব শিক্ষকরাই তো মানুষ গড়ার কারিগর, উনারা কত কিছু জানে কিন্ত আমার বাবা কিছুই জানে না, কোন কিছু বলতে পারে না। গ্রামের সবাই স্যারকে কত সন্মান করে। এসব ভেবে পড়াশুনার প্রতি তার আরো আগ্রহ বেড়ে যায় I রতন মনে মনে ভাবে আমার বাবা মাঠে কাজ করে, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কত কষ্ট করে ফসল ফলায় আর আমার স্যার লিখা পড়া করে শিক্ষক হয়েছে, তাকে রোদে পুড়তে হয় না, বৃষ্টিতে ভিজতে হয় না ঘরের ভিতর চেয়ারে বসে ছেলে মেয়েদের পড়ায় মাস শেষে বেতন পায় সেই টাকায় সে চাল কিনে। রতনের মনে বাসনা জাগে সেও যদি স্যারের মত শিক্ষক হতে পারে কত ভালই না হবে , আমিও লিখা পরা করলে অনেক কিছু জানতে পারব তার ছোট্ট মনে নানা প্রশ্ন আসে I সে সব প্রশ্ন তার শিক্ষককে করে I শিক্ষকও খুশী হয় তার বুদ্ধিদীপ্ত সব প্রশ্নে I কথায় কথায় একদিন স্যারকে প্রশ্ন করে,
-‘স্যার আপনি কয় ক্লাস পরেছেন “?
- শিক্ষক : আমি মেট্রিক পাশ করে এই স্কুলের শিক্ষক হয়েছি তার জন্য আমাকে দশ ক্লাস পড়াশুনা করতে হয়েছে।
-‘আচ্ছা স্যার আমি যদি আপনার মত দশ ক্লাস পাঁশ দিয়ে আপনার মত স্যার হই তাহলে আমার বাবার পরে কৃষক হবে কে ? আমি চাল কিনব কোথা থেকে?
-তুমি শিক্ষক হতে চাও তাহলে মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করো বাজারে তোমার বাবার ধান ছাড়াও আরো অনেক ধান আছে, চালও আছে তুমি সেখান থেকে চাল কিনতে পারবে’, রতনের কথা শুনে স্যার হাসতে হাসতে তার মাথায় আদরকরে হাত বুলিয়ে বলে ।

রতন মনে মনে ভাবে আমিও স্যারের মত দশ ক্লাস পড়ে শিক্ষক হব, আমিও হবো মানুষ গড়ার কারিগর । সে স্যারের কথা শুনে পড়াশুনায় আরো মনোযোগী হয়। ক্লাস ফাইভে রতন সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে পাশ করে ও ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তিও পায়।

৩.
রমজান আলীর ছেলেকে হাইস্কুলে ভর্তি করার কোন ইচ্ছাই ছিল না I সে চায় ছেলে এবার তার সাথে ক্ষেতে কাজ করে কৃষি কাজ শিখুক।I কিন্ত শিক্ষকদের উৎসাহে ও রতনের আগ্রহে তাকে উপজেলা হাইস্কুলে ভর্তি করানো হয়। রতন বাড়ি থেকেই স্কুলে যায় যদিও হেটে যেতে তার প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে আসতেও, তবে বর্ষা কালে নৌকায় যেতে পারে I

গন্ড গ্রামের ছেলে রতনের কাছে উপজেলা শহরকেই অনেক চ্যাকচিক্যময় মনে হয় I উপজেলার দালান কোঠা, বাসট্রাক, রিকশা বেবি ট্যাক্সির ভিড়, হাজার মানুষের যাতায়াতে রতন যারপরনাই বিস্মিত। উপজেলা কমপ্লেক্সের কাছেই তাদের হাই স্কুল।সেই স্কুল আবার প্রাইমারি স্কুলের চেয়ে অনেক বড় । অনেক বেশি ছাত্র ছাত্রী, মাস্টার সেই স্কুলে ! এখানকার মাস্টারদের জ্ঞান,মান সব দিক দিয়েই প্রাইমারী শিক্ষকদের চেয়ে বেশী মনে হয় রতনের কাছে I তাছারা ছোটবাচ্চাদের পড়ানো অনেক কষ্ট সেই তুলনায় এদের কাজটা সহজ মনে হয় রতনের কাছে। রতন মনে মনে ভাবে নাহ্! মাস্টারই যদি হবো তবে প্রাইমারী স্কুলের না হাইস্কুলের মাস্টার হবো। শহরে থাকতে পারব, গ্রামের চেয়ে এখানে অনেক সুযোগ সুবিধা আছে, তার জন্য আর দুইক্লাস বেশী পড়তে হয় আমি তাই পড়ব।

হাই স্কুলে মাস্টারি করার স্বপ্ন নিয়ে রতন সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে I পড়াশোনার ব্যাপারে তার উৎসাহ দেখে শিক্ষকরাও তাকে খুব ভালবাসে I শিক্ষকরা রতনকে আগ্রহ নিয়ে পড়াশোনায় সব ধরণের সাহায্য করে । শিক্ষকদের সাহায্যসহযোগিতা আর নিজের অদম্য আগ্রহে এতে রতন ক্লাস এইটে বৃত্তিও পায়। সেই রেজাল্টের উৎসাহে সে আরো মনোযোগী হয় পড়াশোনায়। দুই বছর পরে শিক্ষকদের আশা পূরণ করে রতন চার বিষয়ে লেটার সহ স্টার মার্ক পেয়ে এস এস সি পাশ করে।

রমজান আলি কিছু না বুঝলেও শিক্ষকরা যখন রতনের প্রশংসা করে পিতা হিসাবে রমজান আলীর তখন খুব গর্ব হয় । রতনের রেজাল্টের খবর আশেপাশের সব গ্রামেই ছড়িয়ে যায় ।এতো ভালো রেজাল্ট আসে পাশের কোনো গ্রামের কোনো ছাত্র ছাত্রী করতে পারে নাই ! রতনের সুখবরে আশে পাশের গ্রাম থেকে রতনকে দেখতে আসে। ছেলের সাফল্যে গর্বিতরমজান আলী সবাইকে শুনিয়ে ছেলেকে বলে, "বাবা তোমার মাস্টার সাহেব যে কইল তুমি চারটা লেটার পাইছো সেগুলো সবাইরে বাহির কইরা দেখাও !"

৪.
শিক্ষকদের পরামর্শে রতন জেলা শহরের ভাল কলেজে ভর্তি হল I কিন্ত এর আগে সে কখনো বাড়ির বাহিরে থাকে নি।কলেজের পাশেই আরো কয়েকজন ছাত্রের সাথে একটা মেসে উঠল। নতুন শহর, নতুন কলেজ সব কিছু মিলিয়ে রতনের কাছে জীবনটাই নতুন মনে হয়। জেলা শহরে এসে রতনের স্বপ্নও পাখনা মেলে I কলেজ শিক্ষকদের কত জ্ঞান সে ভাবে ! তাদের স্মার্টনেস, সামাজিক মর্যাদা, সচ্ছলতা তাকে আকর্ষন করে চরম ভাবে। সে সিন্ধান্ত নেয় নাহ্! আমি হাই স্কুলে পড়াবো না I আমি হবো কলেজ শিক্ষক। আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করে কলেজেই শিক্ষকতা করব।

রতনের আশা যেমন বড় হয়েছে সে তার পরিশ্রমের মাত্রাও বৃদ্ধি করেছে,I মেসের অন্য ছেলেদের সাথে তার ভাল সম্পর্ক আছে কিন্ত সে কখনো তাদের সাথে অহেতুক আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করে না। এই বয়স একটা ছেলের নষ্ট হবার সম্ভাবনা খুব বেশী আবার একটা ভাল ক্যারিয়ার তৈরী করার সময়ও এটাই। রতনের অন্য কোন দিকেই খেয়াল নেই সে আছে তার পরাশুনা নিয়ে। যদিও ক্লাসের ছেলে মেয়েরা তাকে নিয়ে নানা রকম টিটকারী করে কিন্ত রতন ওসবে পাত্তাদেয় না, সে তার মতই চলে তার স্বপ্ন ধরার জন্য। দুই বছর পরে শিক্ষক সহপাঠীদের আশা পূরণ করে সে আবারো স্টার মার্ক নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করে।

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করে রতন রাজধানীতে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রিবিভাগে ভর্তি হল। বদ্ধ কুয়োর ব্যাঙ যেন সাগরে এসে পরল। রাজধানী শহরের চ্যাকচ্যিক্য আর ঢাকা ইউনির্ভাসিটির বিশালতায় সে মুগ্ধ । সে এখন অনেক কিছুই বুঝতে শিখেছে I লেখাপড়া করে তার জ্ঞান বৃদ্ধির সাথে সাথে তার স্বপ্নও আরো প্রসারিত হল। ইউর্ভাসিটির শিক্ষকদের সন্মান, সামাজিক প্রতিপত্তি,পরিচিতি দেখে কলেজ শিক্ষক হবার স্বপ্ন এখন আর তাকে টানে না। এখন তার ইচ্ছে হয় ইউনির্ভারসিটির শিক্ষক হবার। সে জানে তার স্বপ্ন সফল করতে ইউনির্ভারসিটিতে পড়াশোনায় খুব ভালো করতে হবে । এর জন্য তাকে ডিপার্মেন্টে প্রথম বিভাগের শীর্ষস্থান পেতে হবে ।

সে তার স্বপ্নকে ধরার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, চেষ্টা থাকলে সফলতা আসবেই রতন তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তিনবছরের অনার্স কোর্সে ফাষ্ট ক্লাস ফাষ্ট হয়ে দুই বছরের মাষ্টার্স কোর্স শুরু করে সে কোন হেলা ফেলা না করে তার চেষ্টা চালিয়ে যায়। জীবন সব সময় বহতা নদীর মত নয় I এর মাঝে পাহাড় ,পর্বতও থাকে । রতনের দূর্ভাগ্য মাস্টার্সে তাকে প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় বানানো হয় I প্রথম বিভাগে প্রথম হয় ডিপার্মেন্টের চেয়ারম্যানের ছেলে আর তাকেই লেকচারার হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় ।

রতন হতাশ হয়, কিন্ত আশাহত হয় না I শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে তার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে I সে চাইলেই যেকোন ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানিতে জব নিতে পারবে বা যে কোন জায়গায় সে ভাল জব পাবে কিন্ত তার স্বপ্ন ইউনির্ভাসিটির শিক্ষক হওয়া, সে হবে মানুষ গড়ার কারিগরের একটা অংশ। রতন এতদিন লিখা পড়া শিখে বুঝতে পেরেছে একজন শিক্ষার্থীকে সমাজের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার প্রতিটি স্তরের ভূমিকা আছে তবে একজন শিক্ষার্থীর নৈতিকতার ভিত্তি রচিত হয় সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। শিক্ষার মানে এই বিদ্যালয়গুলো যত সামান্যই হোক না কেন, এই পর্যায়ের শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যা একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরাই কাঁদা মাটি থেকে একটা কাঠামো তৈরী করে, এরপর কেউ সেই কাঠামোটাকে আরো শক্ত করে , কেউ সিরিস কাগজে ঘসে উচুনীচু গুলো ঠিক করে দেয় এর পর কেউ রং দিয়ে চক চকে করে তুলে।আমি এই মানুষ গড়ার একটা অংশই হতে চাই।


জীবনের বাস্তবতা দেখে সে বুঝতে পেরেছে মানুষের চাওয়ায় যদি দৃঢ়তা থাকে মানুষ তা পাবেই I রতন এক বছরের টেম্পোরারি লেকচারার হিসাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জয়েন করেI কিন্ত এক বছর শেষ না হতেই রতন পার্মানেন্ট শিক্ষক হিসেবে চাকরী পায় বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে।

৫.

রমজান আলী তাকিয়ে দেখে একটু দূরে দাঁড়িয়ে সেল ফোনে কথা বলেছে তার ছেলে বুয়েটের শিক্ষক রতন চৌধুরী ! বিরাট কাচের জানালার বাইরে অনেকগুলো প্লেন দেখা যাচ্ছে। কোনোটায় যাত্রী উঠছে । কোনটা থেকে নামছে । কোন কোন প্লেন এসে নামছে বিমানবন্দরে । কোনোটা আকাশে উড়ে যাচ্ছে । এতো বড় হয় প্লেন ! আকাশে উড়ার সময় কত ছোট লাগে ! কিন্তু এই বিরাট প্লেনগুলো না, তার ছেলের বিদেশ যাওয়াটাই আজকে তার কাছে বেশি বিস্ময়ের বলে মনে হয় রমজান আলীর ।

ছেলে সেল ফোনে কথা শেষ করে তার দিকে তাকিয়ে কয়েক পা আসলো। এমন সময় যাত্রীদের নির্ধারিত গেটে যেতে অনুরোধ করে ঘোষণা হলো জাপান এয়ার লাইনসের প্লেনে বোর্ডিং শুরু হবে এখনই। কৃষক রমজান আলীর ছেলে আজ শিক্ষা ছুটি নিয়ে পিএইচডি করার জন্য জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাচ্ছে ! রমজান আলী জল ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে ছেলের দিকে হাত নেরে নেরে বাবা, তুই যা, আজ তোর এই সফলতার পেছনে আমার কোন অবদান নেই , তোর উচ্চ আকাংখা, তোর চেষ্টাই তোকে এতদুর নিয়ে এসেছে। শুধু তাই না তোর চেষ্টা আর আগ্রহে তোর ছোট ভাই দুটো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে তবু পিতা হিসাবে আমার জন্য এটা কতটা গর্বের আমি তোকে বলে বুঝাতে পারব না বাপ । রমজান আলী চোখ বেয়ে দু ফোটা অশ্রু গরিয়ে পরে।



আমার বেশীর ভাগ লিখাই , লিখার পর আমার ভাপুকে ( মলাসইলমুইনা ভাইয়া) দেখাই। অনেক সময় ভাপু বিভিন্ন রকম পরামর্শ দেন । ( যদিও আমার যেন - তেন লেখাও আমার ভাপু আগ্রহ ও আনন্দের সাথেই দেখেন ) এই গল্পটাতে ভাপুর ও কিছু সংযোজন আছে আর নামটাও আমার ভাপুই সিলেক্ট করে দিয়েছেন । তাই আমার এই নগন্য গল্পটা আমার ভাপুকে উৎসর্গ করলাম ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৯ সকাল ১০:৩৭
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গিবত, মারাত্মক এক সামাজিক ব্যাধি; গিবত থেকে বাঁচার উপায়

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১১:১৯



অধিকাংশ গিবতের আসরের সূচনাটা যেভাবে হয়..........:
'যদিও গীবত করা ভালো না, তারপরও একটা সত্য কথা বলি...'। হ্যাঁ, এই কথাটি দিয়েই আমরা শুরু করি। গিবতের সূচনাটা এখন এভাবেই, একটা সত্য কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণঃ অনিশ্চয়তার দোলাচলে যে যাত্রার শুরু - ৪

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১১

অবশেষে লোকটাকে দেখা গেল, কালো ব্যাগটা হাতে নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসতে। আমার কাছে এসে বললো ব্যাগের তালা খুলে দেখাতে। আমি এটা আগে থেকেই আন্দাজ করতে পেরে চাবিটা হাতের তালুতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবাক বাংলাদেশের অবাক বাজেট !!!

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৬ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:০৯



বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকার হোক আর অনির্বাচিত সরকার তাঁর মেয়াদকাল পাঁচ বছর। আর এই পাঁচ বছরে তাঁরা পাঁচ পাঁচটি বাজেট ঘোষণা করেন। এই পাঁচ বছরের পাঁচটি বাজেটের শুধু মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা-৬)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:১১



আমার_দেশ_আমার_অহংকার
ছুঁয়ে দিলেই স্নিগ্ধতা ঝরে পড়ে,
ধানের পাতায় পাতায় কেবল ভোরের শিশিরের খেলা
সাঁই সাঁই হাওয়া এসে কাঁপিয়ে দেয় ধানের শিষ'দের,
মুগ্ধতাগুলো এখানেই ঝরে পড়ে
আর আমার চোখে থাকে সেঁটে।

চোখের ক্যানভাসে এঁকে রাখি সবুজ রঙ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালো টাকার কালো ধনীরা ও আমাদের অতিবিজ্ঞ অর্থমন্ত্রীগণ

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৪



কালো টাকার ডেফিনেশন আপনারা জানেন, অসৎ পথে আয় করা টাকা: চাঁদাবাজীর টাকা, টেন্ডার বিক্রয়ের টাকা, ওভার ইনভয়েসের টাকা, আন্ডার ইনভয়েসের টাকা কালোবাজারীর টাকা, সোনা চোরাকারবারীদের টাকা, মাফিয়ার টাকা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×