সুন্দরবনের বিচিত্র মানুষেরা
৩০ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
তখন বেলা গড়িয়ে ঘড়ির কাটা সাড়ে তিনটা স্পর্শ করেছে। নদীতে মাছ কিম্বা কাঁকড়া ধরার লোক নেই বললে চলে। বৃদ্ধা সীতা মুন্ডা চুনো নদীতে কাঁকড়া ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাঁকড়া ধরে বিক্রি করে যা পাবেন তা দিয়ে সওদা করে বাড়ি ফিরবেন। সাড়ে চার ঘন্টা চেষ্টা করেও ওইদিন তার কপালে জোটেনি একটিও কাঁকড়া। এভাবেই চলে সীতা মুন্ডাদের শীত, গ্রীস্ম বর্ষা। সীতা মুন্ডার (৭০) সঙ্গে দেখা হয় বুধবার সুন্দরবন সংলগ্ন চুনো নদীর ধারে দাতিনাখালি গ্রামে। তখন তিনি কাঁকড়া ধরার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছক্ষণ অপেক্ষা করার পর তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, দাতিনাখালি গ্রামে তারা ২৮টি মুন্ডা পরিবার বসবাস করেন। অধিকাংশ পরিবারের সদস্যদের শরীরের অবস্থা কংকালসার। দেখলে মনে হয় অপুষ্টিতে ভুগছে। সব পরিবারেরই নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। সুখ এদের কাছে সোনার হরিণ। দুবেলা পেট ভরে খেতে পারারও আকুতি কম নয়। কিন্তু তা জোটেনা অধিকাংশ দিন। জানা গেলো অধিকাংশ পরিবারের শিশুরা স্কুলে যায় না। পাকিস্তান আমলে সুন্দরবনে সম্পদ আহরণ করে তাঁরা ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারতো। এখন তাদের আর সুন্দরবনের সম্পদ আহরণের জন্যে ডাকা হয় না। বাঙালিরাই সুন্দরবনে কাজ করে। ফলে বর্তমানে অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তিনি আরও জানান, তাঁর স্বামী ধীরেন মন্ডল মারা গেছেন বছর পাঁচেক আগে। তার একমাত্র মেয়ে থাকে ভারতে। একমাত্র ছেলে নদীতে চিংড়ির পোনা ধরে সংসার চালাতো। গত সিডরের পর নদীতে পোনা ধরা বন্ধ করে দেওয়ায় শুধু তার ছেলে নয়, এ এলাকার অধিকাংশ পরিবারের সদস্য বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের কোনোদিন কাজ জোটে আবার কোনোদিন জোটে না। পুত্রবধূসহ তার দুছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ছেলেকে সহযোগিতা করতে তিনি নদীতে কাঁকড়া ধরেন। ১০-১৫টি ছোট-বড় কাঁকড়া যা পান, তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ২০-৩০ টাকা দিয়ে সওদা করে বাড়ি ফেরেন। যেদিন কাঁকড়া ধরতে পারেন না-সেদিন সকলে মিলে অনাহারে অর্ধাহারে কাটাতে হয়। এ কষ্ট যেন প্রতিদিনের। বুধবারও তার ছেলের কাজ জোটেনি। বেলা ১১টার থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চেষ্টা করে তিনিও একটি কাঁকড়া ধরতে পারেননি তিনি। কীভাবে চলবে পেট সংসার? এ প্রশ্ন ছুড়ে দেন এ প্রতিবেদকের দিকে। জানা যায় স্থানীয় প্রশাসন বা সরকার মুন্ডাদের জীবনমান উন্নয়নে কোন কাজ করেনি। দেশের নাগরিক হলেও তাদের জন্য নেই কোন উদ্যোগ। মুন্ডারা তাই অবহেলার জীবনকেই অবলম্বন করে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের পরিবর্তন দরকার।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে। খুলনা...
...বাকিটুকু পড়ুনআমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন