জন্ম ও শৈশব
১৯৩০ খ্রীস্টাব্দের ফেব্রুয়ারীর ১ তারিখে তিনি রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রংপুর জেলায় শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে এরশাদ
১৯৫২ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬০ - ১৯৬২ সালে তিনি চট্টগ্রাম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কেন্দ্রে অ্যাডজুটান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি কোয়েটার স্টাফ কলেজ থেকে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি শিয়ালকোটে ৫৪ বিগ্রেডের মেজর ছিলেন। ১৯৬৯ সালে লেফটেনেন্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯ - ১৯৭০ সালে ৩য় ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডেন্ট ও ১৯৭১ - ১৯৭২ সালে ৭ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় এরশাদ ছুটিতে রংপুর ছিলেন। কিন্তু, পারিবারিক চাপের কারনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারে নাই, পাকিস্তান চলে যেতে বাধ্য হন। পাকিস্তান থেকে আটকে পড়া বাঙালিরা যখন ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে আসে তখন তিনিও ফিরে আসেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর সময় আগ্রা ক্যান্টনমেন্টে স্টাফ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এরশাদ
পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর ১৯৭৩ সালে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অ্যাডজুটান্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১২ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে তিনি কর্নেল ও ১৯৭৫ সালের জুন মাসে সেনাবাহিনীতে বিগ্রেডিয়ার পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭৫ সালেই তিনি মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পান ও Deputy Chief of Army Staff হিসেবে নিয়োগ পান।
রাষ্ট্রপতি এরশাদ
৩০ মে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হবার পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে দেশ ও জনতার স্বার্থে বাধ্য হয়েই ক্ষমতা সরিয়ে দেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সাল নাগাদ তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। ঐ দিন তিনি দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ.এফ.এম আহসানুদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে নিজের অধিকারে নেন। এরশাদ দেশে উপজেলা পদ্ধতি চালু করেন এবং ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে যদিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই নির্বাচন বয়কট করে। সাধারণ নির্বাচনে তার দল সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন লাভ করে। বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি ৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে এই সংসদ বাতিল করেন। ১৯৮৮ সালের সাধারন নির্বাচন সকল দল বয়কট করে। এরশাদের বিরুদ্ধে কতিপয় বিরোধী দল আন্দোলনের নামে দেশে হরতাল ও অরাজকতা সৃষ্টি করে। তাই তিনি দেশ ও জনতার স্বার্থে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
নব্বইয়ের পরে এরশাদ
ক্ষমতা হস্তান্তরের পর জেনারেল এরশাদকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি জেল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। বি.এন.পি সরকার তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতির মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ছয় বছর আবরুদ্ধ থাকার পর ৯ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
উপসংহার
দেশে আজ চলছে দূর্দিন। দুর্নীতির দায়ে সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা জেল খাটতাছে। দুর্নীতি দমন কমিশন শত চেষ্টা করেও তার বিরুদ্ধে একটা মামলা করতে পারে নাই। সূতরাং প্রমাণ হয়েছে উনি একজন সৎ ও যোগ্য নেতা। দেশের এই মহাদূর্দিনে আমরা তার মত সৎ ও যোগ্য নেতাকে পুনরায় ক্ষমতায় দেখতে চাই । দেশ ও জাতির স্বার্থে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সব সময় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্র পত্রিকা।
বিঃ দ্রঃ আমার পোষ্ট'টা কি কারনে জানি মুছে গিয়েছিল, যাই হোক যারা পোষ্ট'টা পড়েন নাই, তাদের জন্য পুনরায় দেওয়া হল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

