তোমাকেই বলছি-১
তোমাকেই বলছি-২
তোমাকেই বলছি-৩
যে মানুষ একেবারেই নিঃসঙ্গ, যে মানুষ একেবারেই একা দাঁড়াতে পারে-পৃথিবীতে তার চেয়ে শক্তিমান আর কেউ নেই। ইবসেনের লেখায় একবার পড়েছিলাম। কিন্তু কোথায়? আমি যে বার বার দাঁড়িয়েও পরাক্রান্ত হতে পারছি না।
কবে যে প্রজাপতির নির্বন্ধ ঘটে গেছে, জানতেও পারিনি। সবটাই কি সিদ্ধান্তের ভুল? না, প্রক্রিয়ার পরিণতি? এমনতো হবার কথা ছিল না, আমি যে প্রস্তুত ছিলাম না।
নিজের খেয়ালে, নিজের জেদে তো আমি দূরে সরে যাইনি। এই বিচ্ছিন্নতা যে আমি সাময়িক বলে ধরেছিলাম। তুমি যে এত প্রবল ভাবে আমায় আশাহত করবে, ভাবিওনি।
সমুদ্র সৈকত। অস্তমান সূর্যের লালিসা মিশ্রিত সুনীল পটভূমিতে তোমার মুখ। হলুদ শাড়িতে তোমার দেহবিম্ব। দূরে দাঁড়িয়ে আছি তোমার গভীর, সুন্দর, বিষন্ন চোখ দু-টি আমাকে যেন কি রকম করে দিল। সেই মায়াবী পরিবেশে আমি বিমোহিত, তবে আচ্ছন্ন নই। আজও আমি মনের আকাশের মেঘলোকে চলতে সংগীতের অনুসরণে অতীন্দ্রিয় চেতনায় সংবিষ্ট হই।
তোমাকে ঘিরে এত যে স্মৃতি, এতদিন এভাবে মনে পড়েনি কেন? আজ অন্যের ........ তুমি। সব কিছুই ঠিকমত চলছে, শুধু তুমি নেই। উফ্ ! এটা যে কত বেদনাদায়ক প্রতি মর্মে উপলব্ধি করছি।
সেদিন আড্ডায় বন্ধুদের বলেছিলাম - প্রেমের ক্ষেত্রে ছেলেরা তুলনামূলক ভাবে বেশী আবেগপ্রবণ। ওরা হৈ চৈ করে উঠল, বলল- প্রেম ভালবাসায় আবার আবেগ কি? সত্যিই তো।
আসলেই কি? আমরা যা কিছু চিন্তা করি - বলি, তাতো সত্যের একাংশ মাত্র। পূর্ণ সত্য কে কবে জানতে পেরেছে। এতে যে সত্যের পূর্ণতার, ঐক্যতানের মূর্ছনা ক্ষুন্ন হয়। এমনি ভাবেই গোবিন্দকে বুঝিয়েছিল সিদ্ধান্ত।
ঘুমিয়ে পড়েছিলে তুমি। তোমার মসৃণ নগ্ন পায়ে, পায়ের ডিমে আমি হাত বুলিয়েছিলাম। কি অসহ্য, কি অপার্থিব সেই অনুভূতি! তুমি জানোনি, যখন জেগে উঠেছিলে তখনও তোমায় বলিনি। কোন চরম ক্ষণেও মানুষ যেমনি মর্যাদার ছিন্ন বস্ত্রটুকু আঁকড়ে থাকে প্রাণপণে, আমিও তেমনি সেইসব বিশিষ্টট মুহূর্তকে হৃদয়ের অতল গহীনে লালন করছি। অতীত শুভ্র সব স্মৃতিতে আমি অবধূত।
তবে আমি যে আর কল্পনার ডানা মেলে নিজেকে সকল প্রতিঘের তঞ্চক ভাবতে পারি না। স্মৃতির ব্যালকনিতে আজ আমি নির্বাসিত।
এদ্দিনকার প্রেমের (?) ধারাবাহিকতায় আবার নতুন করে শুরু করতে পরামর্শ দিল এক বন্ধু। ওকে বলে উঠি, এতদিন বহুজনের সাথে যা করেছিস তাকে প্রেম বলছিস কেন? বন্ধুটি পাল্টা বলে উঠল - তুই-ই তো তাই বলেছিস্। আমি নির্বাক। ওকে কিছুতেই বুঝিয়ে উঠতে পারি না।
তোমার সাথে দীর্ঘ বিচ্ছেদ যা করেছি, তা ছিল কেবল বাহ্যিক উর্দ্ধমুখী প্রকাশ। তোমাকে কাছে না পাবার আত্মিক অতৃপ্তি = পূরণের প্রমাণ নয়। বন্ধুটি উদাস গম্ভীর ভাবে বলল-- পরিতৃপ্তির রসায়ন মোটেই জলবৎ তরলং নয়। আমার এই আবেগ অপলকা, সময়ের টানে মোটেই দীর্ঘস্হায়ী হবে না।
কি উত্তর দেব এর। জীবন তো আমার তোয়াক্কা না করেই সময়ের স্রোতে তাকে ভাসিয়ে নেবে। আমি ঘনানো আবেগে যত ঘনীভূত, তুমি তার চেয়েও কি পূর্ব পাকি?
অতীত দিনের সব স্মৃতিণ্ডলো চুপসে যাওয়া রঙিন ফানুসের মতই আজ বিদ্যমান। আমার সম্পূর্ণ জীবনের বেদনার যোগফলকে যদি পারতাম মুহূর্তের গন্ডীতে অতিক্রম করে যেতে।
ছাদে এসে দাঁড়িয়েছি। অগনন নক্ষত্রের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করলাম সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত একজন রুপে। বিপন্ন অস্তিত্ব নিয়ে আমি এখন শুধুই নিজের ভেঙে পড়ার শব্দ। নৈশব্দ বিদীর্ণ করা কাতরানীতে মূখর আমার জগৎ। অনুভূতির রুদ্ধদ্বার উম্মুক্ত করে, হে আমার অশ্রুবিন্দুরা তোমরা আমায় দয়া কর।
------------
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১০ রাত ৯:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



