আতঙ্কের রাত বৃহস্পতিবার: ইডেনের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ এবং জুনিয়র কর্মীদের কাছে বৃহস্পতিবার রাতটি আতঙ্কের। নেতাদের বাসায় যাওয়ার ভয়ে অনেক ছাত্রী ক্লাস থেকে আর হলে ফেরে না। আত্মীয়স্বজনের বাসায় চলে যায় নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে। বৃহষ্পতি বার বিকাল হলেই তাদের কদর আর চাহিদা বৃদ্ধি পায়। নেত্রীরা খোঁজাখুঁজি করে তাদের আদর-যত্ন করে ঠিকানা ধরিয়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রে কলেজের সামনে আবার পলাশী, নিউ মার্কেট ও নীলক্ষেত মোড়ে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার অপেক্ষা করে।
ইডেন কলেজের ছাত্রীদের বিশেষ করে গ্রাম থেকে আসা ছাত্রী এবং সংগঠনের জুনিয়র কর্মীদের নেতাদের বাসায় পাঠানো হয়। মূলত বিভিন্ন নেতার বাসায় পাঠানো হয় তদবির সফল হওয়ার জন্য। এসব নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে নেতাদের বাসায় নিজেরা যাতায়াতের পর এখন অন্যদের পাঠান। বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের তদবির বাগিয়ে নেন। এই একই অভিযোগ বদরুন্নেসা কলেজের নেত্রীদের ব্যাপারেও।
এ ব্যাপারে ইডেনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, সভাপতি নিঝুম কয়েকদিন আগে তাকে এক নেতার বাসায় যেতে বলেন। তার আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় মধ্যরাতে তিনি নিঝুমের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। ওই ছাত্রী আরও জানান, এক্ষেত্রে চাহিদা বেশি প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের। সুন্দরী ছাত্রীদের বলপ্রয়োগ করে বিভিন্ন নেতা ও ব্যবসায়ীর বাসায় পাঠানো হয়। অনেকে আবার লংড্রাইভ এবং বিভিন্ন পর্যটনস্থলে অবসর যাপনে নিয়ে যান। বৃহস্পতিবার এলে এই অত্যাচার বেশি বাড়ে। অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী লাবণী আক্তার বলেন, আমি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কথামতো না চলায় আমাকে শিবির বানিয়ে হল থেকে বের করে দিয়েছে। টাকার বিনিময়ে নবম শ্রেণীর মেয়েদেরও হলে রেখে তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করাচ্ছে।
কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে শিবির বলে হল থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রী চম্পা খাতুন বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকতে সমপ্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন তারা। মূলত এদেশের সকল রাজনৈতিক দলের ৯৯% ছাত্রছাত্রীর কমিটিতে যারা আছে তারা কমপক্ষে ৫ বছর আগে ছাত্রত্ব শেষ করেছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয় : গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে মাইক্রোবাস নিয়ে অপেক্ষা করছিল। মিছিল-সমাবেশ শেষে বদরুন্নেসা থেকে আসা কয়েকজন ছাত্রীকে জোর করে ধরে অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই মাইক্রোবাসে দুই যুগ্ম-সম্পাদক আগে থেকেই বসা ছিল। মাইক্রোবাসে ঢুকে তাদের দেখতে পেয়ে কয়েকজন ছাত্রী লাফিয়ে নেমে পড়ে। যারা নামতে পারেনি তাদের নিয়ে যাওয়া হয় অজানা স্থানে।
ঢাবি রাবি জবি চবি ইডেন বদরুন্নেসা বিএল এমসি আনন্দমোহন সর্বত্রই ছাত্র রাজনীতিতে গত পচিশ ত্রিশ বছর ধরে এই চলছে। আমরা শুধু খবর রাখিনি এই যা।
আমাদের দেশের হারামজাদা শিক্ষিত সুশিল সমাজকে বলছি। কান বড় করে শুনুন।
বিতর্কঃ ছাত্র রাজনীতি আর ছাত্র আন্দোলন ভিন্ন জিনিষ। এদেশে ছাত্রদের ভূমিকা রাখার জন্য কোন দিনই রাজনীতির প্রয়োজন ছিল না।
৫২-র ভাষা আন্দোলনে কোন হল থেকে কোন বিশেষ গ্রুপকে বের হতে হয়নি কাটা রাইফেল আর চাপাতি হাতে, হয়েছিল কি ?
৫৯ ৬১-র শিক্ষা কমিশন আন্দোলনে কি টুকু গ্রুপ বা কালা মিজান গ্রুপের প্রয়োজন ছিল ?
৬৬ ছয়দফা বা ৬৯ গন অভ্যুন্থানে কোন হলের কোন ক্যাডার বাহিনী অংশগ্রহন করেনি। সেখানে ছিল আপাময় ছাত্র সমাজ, সে সাধারন ছাত্রে পড়ার টেবিল ছেরে আসা ।
আপনাদের কখনও কি মনে হয় ৭১ কোন গ্রুপকে ছাত্রদের প্লাটফর্ম দেয়ার প্রয়োজন ছিল ? সেদিন কি মিলন গ্রুপ আমান গ্রুপ ইলিয়াছ গ্রুপ বা কালা সেন্টু গ্রুপ নামক কোন গ্রুপের প্রয়োজন ছিল বা এসব বহিরাগত ক্যাডার সহ কাটা রাইফেল গ্রুপগুলি থাকলে আরও ভালো হোত ?
১৯৯০ সেতো নিকট অতীত।একটু স্বরন করে দেখুনতো আপনাদের তথাকথিত ছাত্র রাজনীতির কোন অবস্থান আছে কিনা সে সব আন্দোলন গুলিতে। এদেশে প্রতিটি ঐতিহাসিক আন্দোলনে সর্ব স্তরের সাধারন ছাত্ররা বের হয়ে এসেছে স্বতস্ফুর্ত ভাবে সাধারন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে কোন দলের পালিত ক্যাডারদের ডাকে নয়।
আর ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাধারন ছাত্রদের যে আন্দোলন হয়েছিল তাতে বিভিন্ন হলের ছাত্র রাজনীতির ক্যাডার বাহিনী বের হয়ে না এলে আমাদের সাধারন ছাত্ররা সেনাবাহিনীর কাছে মাফ চেয়ে রুমে এসে শুয়ে থাকতো বলে আপনাদের করো মনে হলে তাকে গালি দেয়ার উপযুক্ত শব্দ সত্যই কোন ভাষায় নেই। আমাদের দেশের হারামজাদা শিক্ষিত সুশিল সমাজকে বলছি। কান বড় করে শুনুন।
সুতরাং জাতির বা ছাত্র সমাজের ছাত্র রাজনীতির কোন প্রয়োজন নেই। তবে কার প্রয়োজনে সমস্ত নৈতিকতা ধ্বংস করে এই ছাত্র রাজনীতি ?
সতরাং বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি আজই নিষিদ্ধ করা হউক ! BAN IT NOW.
এরপরও যারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে চায়না তারা আসলে কতটুকু খারাপ !
উল্লেখ্যঃ বরাবরের মত এবারও সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব সাধারন ছাত্র ছাত্রীদেরই। সাধারন ছাত্র ছাত্রী যদি আজ বের না হয়ে আসে তবে এটা ধরে নিতে হবে এদেশর প্রত্যেকটা ছাত্রছাত্রী ইচ এন্ড এভরী বডি ব্যাক্তি পর্যায় পচে গেছে। ভবিষ্যৎ ছাত্র সমাজ বর্তমান প্রজন্মটাকে ঘৃনা করবে ।
এবার এই ভিডিওটি দেখুন এবং শুনুন।
আরও জানতে এই ফেইসবুক গ্রুপ দেখুনঃ Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

