শুধুই ভেসে যাওয়া, বয়ে যাওয়া আর হারিয়ে যাওয়া। সবকিছু। সময়, নদী, কাল। সব পাওয়া না পাওয়ার ভীড়ে। চলে যায়, একটু ও থামতে চায় না। আর জীবন, সে ধরা দেয়। ঐ যে ছোট্ট শিশুর মিষ্টি হাসিতে, রকিং চেয়ারে দোল খাওয়া বৃদ্বের চিন্তাক্লিষ্ট চেহারায়, গ্রীষ্মের রোদেলা দুপুরে।
চলে এসেছে, সেই সময়। বহু আকাঙ্ক্ষিত সময়। এই যে একটা আম গাছ ঘিরে দাড়িয়ে আছে কয়েক চালা ঘর। চারপাশে বড় দালান দিয়ে ঘিরে থাকা কয়েক চালা ঘর। এর মাঝেই নিজের জন্যে জায়গা খুঁজে নিয়েছে সে। শুধু দেখতে হবে তার সঙ্গিনীর যেন পছন্দ হয়। বাসাটা সাজানো গোছানোর চেষ্টা করছে। নরম তুলতুলে বিছানা তৈরী করেছে। আম বাড়ির মোটকুটা খুব প্রশংসা করেছে। চমকটা আজ বিকেলেই দিতে চায়। কত কত কাজ। উড়াল দিল সে।
মানুষটা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে, ধোঁয়া ওঠা কফি মগ হাতে। যেন সকালের আলসে ভাব তাড়াতে চায়। এখন সে দেখছে, ছোট্ট একটা চড়ুই পাখি। বেশ ছটফট করছে, একবার বের হয় আর মুখে করে কি যেন নিয়ে আবার দালানের ফোকরে ঢোকে। আবার বের হয়, ইতি উতি চায়। তারপর ফুড়ুৎ। বেশ মজাই লাগছে দেখতে।
সকালের রোদে ঘর মাখামাখি। ঘোরের মাঝে কেটে যাওয়া সময়। ছটফটে চড়ুই, ওপাশে জানালার কাছে আড়মোড়া কাটা সাদা বিড়াল কিংবা ঘরের ভেতর টুক করে ঢুকে পড়া প্রজাপতি। সবই যেন ঘোর। একটু পর ভেঙ্গে যাবে। আসলেই কি ঘোর?
তীব্র্ রোদ আর রাস্তার যানজট, ব্যস্ত শহরের জানান দেয়। কেটে যায় দিন ব্যস্ততায়। দিন পেরিয়ে যায়, রাতকে স্বাগত জানায়। এখন ঘরে ফেরার সময় পাখিদের, মানুষের। এরপরেও ধোঁয়া ওঠা কফির মগের সাথে একটুকু সময় যেন চুরি হয়ে যায়। মিষ্টি রোদে মাখামাখি ভোরে, শুধুই চড়ুই পাখির সাথে মিতালী করার আশায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


