আমার আম্মু আমাকে বলেন, এই যে এখন তোমরা পড়াশোনা করছ, জীবনের এই সময়টা হলো সবচেয়ে আনন্দের। আমি প্রশ্ন করলাম, কেন? উত্তরে আম্মু বললেন যে এখন নাকি আমরা সবরকম দুশ্চিন্তা মুক্ত!!!
আমি ভাবলাম "হায় জননী---বুঝিলানা কিছুই, বাস্তবতা হলো এই সময়েই আমরা সবচেয়ে বেশী দুশ্চিন্তা করি"। আমার দুশ্চিন্তা গুলো এরকম,
১. কিছু আঁতেলের চেহারা দেখা থেকে কখনো মুক্তি পাব কিনা,
২. কবে এই ঘোড়ার ডিম এর পড়াশোনা শেষ হবে,
৩. কবে মনের খুশিতে টাকা খরচ করতে পারব,
৪. কবে টিউশনিটা ছাড়তে পারব
সত্যিই, এই টিউশনি যে আমাকে কতটা মহান করেছে তা আমি ছাড়া আর কেউ জানে না.............ব্যপারটা খোলাসা করে বলি।
আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে নতুন প্রতিবেশী এসেছেন, তাদের দেবশিশুর মতো দুটি মেয়ে। বড়জন স্কুলে পড়ে আর ছোটটা সবে হাঁটতে শিখেছে। তো কিভাবে যেন আম্মুর সাথে তাদের খুব ভাব হয়ে গেল। একদিন বাইরে থেকে এসে দেখি দুইজন মনের আনন্দে আমাদের বারান্দায় বসে খেলছে। তো আমি গেলাম তাদের সাথে পরিচিত হতে। বড়জন আমাকে দেখেই বলে আপনি কোথায় পড়েন? আমি একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে উত্তর করলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।
বলে, ওহ্ আচ্ছা, আমি এখন যাই।
- এখন কেন যাবে? থাকো, আমরা গল্প করব।
- নাহ্, আরেকদিন। আজ জি-বাংলায় আমার প্রিয় সিরিয়াল দেখাবে, কাল রাতে আম্মু তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে তাই দেখতে পারিনি। আজ দেখতেই হবে।
আমার অবস্থা আর নাই বা বললাম।
তো একদিন তার এবং আমার মায়ের অনুরোধের সম্মিলিত ঢেঁকি গিলে আমি তাকে জ্ঞান দানের মহান দায়িত্ব পেলাম। প্রথম সপ্তাহ ভালই চললো। পরের সপ্তাহের কথা। আমি যথাসময়ে গিয়ে হাজির। সে আমাকে বললো,
-মিস্, আজ আমাকে আগে ছুটি দেবেন।
- আচ্ছা, কিন্তু আগে ছুটি চাইছ কেন?
- আজ, স্টার পরিবার উৎসব দেখাবে।
আমার এতদিনে গা সওয়া হয়ে গেছে। এমন সময়ে রুম এ পিচকুটা ঢুকলো। এ কয়দিনে তার দাঁতের আভাস দেখা যাচ্ছে, সে একটু এদিক ওদিক ঘুরে আমার কাছে এলো। আমি তার দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসি দিয়ে তার হাত ধরলাম। তারপরে যা ঘটলো তার জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। হাতে ছোট ছোট ৪-৫ টা দাঁতের দাগ একেঁ দিয়েছে সে। নতুন দাঁত এর উপহার
আমার তো কেরোসিন অবস্থা। সে আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থেকে ২য় দাগ আঁকতে এগিয়ে এলো। ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি। ছাত্রীকে ছুটি দিয়ে কোনোমতে পালালাম :-<
এরপর প্রায় দিনই সে আমাকে তার নতুন দাঁত পরীক্ষার শিকার বানাতে লাগলো। রুম এ আসে, চুপচাপ দাঁড়িয়ে ভাবে। তারপর আচমকা আক্রমণ। এমনই কপাল যে একদিন বাড়ির কাজ করতে বলার অপরাধে তার বড় বোনের দাঁতের শক্তি পরীক্ষাও হয়ে গেল।
এর ফলাফল, আমার ধৈর্য্য শক্তি অনেক বেড়ে গেছে
আমি দিন দিন মহান একজন মানুষে পরিণত হচ্ছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি এভাবে মহান হতে চাইনি
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১১ রাত ১০:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


