somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন আছে সাধুরচর? (গাজীরচরের বাকি ইতিহাসের সিকুয়্যাল)

২৭ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(ছবি নেট হতে)
সাধুরচরের দুরবস্থা কাটাতে এদিকে কিছু এনজিও সাহায্যের নামে হাত বাড়াচ্ছে মূলত যারা নেপথ্যে গাজীরচরের হিরণ বাহাদুর আর আবিদ মোল্লারই লোক বটে। তবুও নিজেদের সুশীল আর সাধুরচরপ্রেমী সাজিয়ে রাখে ইমেইজ রক্ষার জন্য তা মাছের মায়ের পুত্র শোক ব্যতীত আর কিছুই নয়। মূলত এখনও আড়ালে কখনওবা প্রকাশ্যে বিজয়ের হাসি এরাই হাসে। কারণ আজ তাদের মিসন সাকসেস। (যদিও বাস্তবিকভাবে তারাও আজ এক বিরাণভূমিতেই গায়ে মানেনা, আপনি মোড়ল সেজে আছে।) যারা সত্যিকার অর্থেই সাধুরচরকে ভালবাসতো তাদের তারা নিজেদের হীণস্বার্থ চরিতার্থ করতে সুকৌশলে "থিউরি অব দুষ্টজ" কাজে লাগিয়ে সমাজের চোখে দোষী সাজিয়ে চরছাড়া করতে বা মুখ বুজে চরে থাকতে বাধ্য করেছে ভাবছে। কারণ, অনেকেই চেষ্টা করছে নিজের স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঁচতে। আবার অনেকে এটা করে চলেছে নিজের ব্যবসায়িক সিজন ধরতে যেমনটা অনেক লেখক ফেব্রুয়ারি আসি-আসি করতে থাকলেই করে থাকে।

সেসব এনজিওর একজন কর্মী সোহান মিয়া। বড় কর্তাদের চাপে আর চাকরি খোয়াবার ভয়ে তাকে যেকোনোভাবে পলিসি বেঁচতে হবে। কিন্তু এই প্রায় জনমানবহীণ বিরাণভূমি সাধুরচরে কে কিনবে তার পলিসি? তাই সেও মনেমনে আজ ভীষণ আফসোস করে ভেঙ্গে দেওয়া সাধুরচরের জমজমাট হাট নিয়ে। তখন তাকে কষ্ট করে পলিসি বেচা দূরে থাক, হাটেও বেশি দেখা যেতো না। নামমাত্র উপস্থিতিতেই তার অনেক ভালো চলতো। কিন্তু আজ সারা মাস ঘুরেও এই বিরাণভূমে একটা পলিসি বেচা হয় না। তাই সে একটা কন্ট্রা থিউরি এ্যাপ্লাইয়ের চেষ্টা করে যে, সাধুরচরের শুভাকাঙ্খীদের জন্য মায়াকান্নাকে সম্বল করে তাদের ফিরিয়ে এনে যদি কয়েকটা পলিসি বেচা যায় তবে মন্দ কি? কিন্তু সেখানেও আপত্তি হিরণ মিয়ার। কারণ তাদের নাম মস্তিষ্কের সিগন্যালে ধরা খেলেই সে এবং তার দোসরেরা আৎকে উঠে যদি সত্যিই এই ডাকে তারা আবার ফিরে আসে! তবেতো আবার মিসনে ঘাপলা লেগে যাবে। কারণ তাদের মিসন ছিল নিচের মতো করে একটা সাধুরচর গড়ে তুলার।

যেখানো কেবল তাদের কর্তৃত্ব থাকবে। তাদের দোষ কেউ ধরবে না। বরং তারা মানুষকে ইচ্ছেমত হেনস্থা করবে। ইচ্ছামত ট্যাগ লাগিয়ে নাচাবে। আর যারা তাদের এই ইচ্ছা বাস্তবায়নে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করবে শুধু তাদেরকেই তারা এই চরে থাকতে দিবে। কিন্তু তাই বলে হিরণদের খারাপ বলা চলবে না। তাদের সর্বোচ্চ জ্ঞাণী, গুণী, নীতিবাণ, সমাজসেবক ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করতে হবে। নয়তো তাদের থিউরি অব দুষ্টজ অনুযায়ী পণ্যের মান ভালো না, বিক্রেতার আচরণ ভালো না, কথা-বার্তা অশ্লীল, ব্যবসা পারে না, জ্ঞাণ-বুদ্ধি নেই এসব নানান কথা-বার্তা ছড়িয়ে বাজার তথা চর ছাড়াতে বাধ্য করবে। নয়তো এসব অজুহাতে ব্যবসার লাইসেন্স আটকে দিবে।

আজ তারা এমনভাবেই সফল যে, এখন সাধুরচরে হাট বসা দূরে থাক। মানুষই বিলীণ হয়ে যাচ্ছে কতিপয়ের হীণতায়। পশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে অনেক অবলা জীবও। সাধুরচর আজ নিস্তব্ধ। নেই পাখির কিচিরমিচির। হাটুরেদের নেই হাঁক-ডাক। যারা হাটে আসে তারা ঘাপটি মেরে একপাশে পরে থাকে সারাদিন। এক আইটেম প্রদর্শন করেই দিন পার হয়। নেই বেচা-কেনা। হিরণরা টুটি চেপে ধরবে ভয়ে উচ্চ আওয়াজে আজ আর কেউ ডাকেনা কাউকে। তবে শিক্ষণীয় এটাই-

গতকাল আমি বুদ্ধিমান ছিলাম, তাই পৃথিবীটাকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি জ্ঞানী, তাই নিজেকে বদলে ফেলতে চাই।
(Yesterday I was clever, so I wanted to change the world. Today I am wise, so I am changing myself.)
-জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি (Jalal ad-Din Muhammad Rumi)


তাই যারা এককালে সাধুরচর নিয়ে অযথা ভেবেছে আজ তারা নিজেদের নিয়ে ভাবতে শিখে গেছে। তাই তারা এখন আর সাধুরচর নিয়ে ভেবে নিজের খেয়ে বনের মেষ চড়ায় না। তবুও নদী শুকাবার পর যেমন রেখা থেকে যায় তেমনি করোনা ভাইরাসের মতো হিরণদের মস্তিষ্কতেও আজও সাধুরচরের ভালোর জন্যে যারা ভাবে তারা ভাইরাস হয়ে আছে। শয়নে-স্বপনে সেসকল সাধুরচরের শুভাকাঙ্খিদের নাম জপ করে, ঘুমের মাঝে আৎকে উঠে এই বুঝি তারা আবার ফিরে এসে সাধুরচর হতে তাদের উৎখাত করে। তাইতো কখনো তারা কিংবা সোহান মিয়ার মতো তাদের দোসররা লোক দেখানো মায়াকান্না কেঁদে সঠিক পরিস্থিতি আঁচ করে দেখে এই তারা ফিরলো কিনা। যদিও সাধুরচরে আজও মেরুদণ্ডহীনভাবে বেঁচে থাকা মানুষগুলো এই কুটকৌশল তথা মায়াকান্নাকে ভালবাসা বলে আখ্যায়িত করে চলে অবলীলায়.... সাথে পুরনো সেই আশায় স্বপ্ন বুনে যে, এই অবস্থার পরিবর্তন আসবে দৈবভাবে!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:৪২
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেয়েদের চোখে মাস্ক পড়া ছেলেরা বেশী আকর্ষণীয়

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১১:১৪


ইংল্যান্ডের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মেয়েরা মাস্কহীন পুরুষের চেয়ে মাস্ক পরিহিত পুরুষদের দ্বারা বেশী আকৃষ্ট হয়। যে সব ছেলেদের চেহারা আমার মত ব্যাকা ত্যাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সারোগেট বেবি

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১২:১৮





অন্যের পেটে আপনার সন্তান, বাড়ছে আরামে, আর আপনি মা হয়েও ঘুরছেন হিল্লি-দিল্লী। সহজ কথায় এরই নাম সারোগেট। বাবার শুক্রানু ও মায়ের ডিম্বানু নিয়ে ভ্রুণ বানিয়ে কোনো এক মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়ের ব্যবধানে...

লিখেছেন দেয়ালিকা বিপাশা, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১২:৪০

সব আন্দোলন আসলে আন্দোলন নয়, সব দাবী, দাওয়া সত্যিকার অর্থেই কোন অর্থই বহন করে না

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:২৫



শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ের ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলন দেখে, আমার ছোট বেলার একটি আন্দোলনের কথা মনে পরে গেলো । সেটি ছিলো আমার জীবনের প্রথম কোন আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাবিআইয়্যিআলায়িরাব্বিকুমাতুকাজ্জিবান?

লিখেছেন জটিল ভাই, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২৩


(ছবি নেট হতে)

তোমায় ভালবেসে জীবন দিতে চাই,
সকল সময়ে তোমার চরণে দিও ঠাঁই।
জানি মোর পাপের পাল্লা অতিমাত্রায় ভারি,
কিন্তু বহুগুণ ভারিতো; করুনার পাল্লা তোমারি।
তাইতো কঠিন মাটিতে ফলাও শস্যদানা,
আবার সে মাটি হতেই দাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×