somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ভূতুড়ে গল্প :|| :||

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

:|| :||
যারা নাক সিটকান,কিংবা ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহে জর্জরিত,তারা না পড়লেই খুশী হব।

আমার ফুফুর বাড়িতে একজন মহিলা আছে যার বিয়ে নাকি জ্বিনের সাথে হয়েছে।মহিলার বাবা একজন পুরোদুস্তুর মসজিদের ইমাম।আগাগোড়া আল্লাহ ভক্ত মানুষ।তিনি গত হয়েছেন অনেক আগেই।তারপর থেকেই ঘটনা শুরু হয়।মেয়েটা কে মাঝে মাঝে গাছের ডালে বসে থাকতে দেখা যেত।মাঝ রাতে নদীর পাড়ে মেয়েটা একা একা কারো সাথে কথা বলত একা একা আর খুব জোরে জোর হাসত।গ্রামদেশে মেয়েদের এহেন আচরণ সত্যিই প্রশ্নসাপেক্ষ।অনেক কথা রটে গেল।অনেকে বলতে লাগল বাবার মৃত্যুর পর মেয়েটা নষ্ট হয়ে গেছে আরো হাবিজাবি।অনেকে বললেন মেয়েটাকে জ্বিনে ধরেছে।যেহেতু সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে তাই ওর ভাইরা জ্বিন তাড়ানোর ওঝা নিয়ে এল।ওঝা সরিষার তেল,তুতড়া পাতা,ঝাটা চাইল।কাজ শুরুর আগেই হঠাত মেয়েটি পুরুষ্ঠ মোটা গলায় সবাইকে সালাম দিল।বলল,"আমি তো আপনাদের কোন ক্ষতি করিনি,ক্ষতি করার চেষ্টাও করিনি।তাহলে আমার সাথে এমন ব্যবহার করছেন কেন??আর মেয়েটির ওপর কোন ধরনের আঘাত কিংবা আঘাত করার চেষ্টা করবেন না।আমি ওকে বিয়ে করব।পুরো এলাকাবাসী অবাক হয়ে গেল।ওঝা মেয়েটিকে সরিষার তেল নাকে ধরে বলতে থাকল,তুই যাবি কিনা বল।আর এখানে কিভাবে আসলি?জ্বিন টা বলল,আমি অনেক দূরে থাকি।এক দিন এখানে এসেছিলাম কেন তা মনে নাই।তবে ওই মসজিদে একদিন জুম্মাহর নামাজ পরেছিলাম।হামিদার(ঐ মেয়েটির নাম)বাবা ইমামতি করেছিলেন।আমার ওনার খুতবা খুব ভাল লেগেছিল।নামাজ শেষে আমি ওনার সাথে কথাও বলেছিলাম।নিজের পরিচয় দিয়েছিলাম।উনি আমাকে মেহমান হিসেবে নিয়েছিলেন।তখন থেকে এখানে প্রায়ই আসতাম।একদিন উনি আমাকে দাওয়াত করে খাওয়ালেন ও।যদিও খাবারের পরিমান কম ছিল,তবুও আমি রাগ করিনি।হামিদা খুব সুন্দর মহিলা।তখন থেকেই মেয়েটাকে পছন্দ করি।ইমাম সাহেব প্রথম প্রথম খুব বকা দিতেন।পরে আর দেন নাই।উনি ভাবতেন মানুষ আর জ্বিন বিয়ে হয় না।কিন্তু আমাদের অনেকেই মানুষকে বিয়ে করতে চায়।ওরা অনেক ভাল হয়।আমি জানিনা এটা যায়েয নাকি না যায়েয তবুও করব।আপনি তাড়ায়ে দিলে আবারো আসব।আমি ভাল জ্বিন।কারো ক্ষতি করতে চাইনা।আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।আমি ওকে নিয়েই চলে যাব।ওঝা বিরক্ত গলায় বললেন,তুই এখনি যাবি।না হয়,ঘর বেধে ধুপ পুড়ানো শুরু করব,তখন এখানেই মারা যাবি।জ্বিনটা বলতে শুরু করল,আমি এখন গেলেও পরে তো আবার আসব।লাভ কি??আমাদের এক জায়গায় বেশীদিন থাকার নিয়ম নেই।আমি ওকে বিয়ে করে এখানে সবসময় থাকব।ওঝা বলল,এটা বদজ্বিন।উনি কালকে এর ব্যবস্থা করবেন।কিন্তু মেয়েটাকে এরপর আর পাওয়া যায়না।অনেক খোজা হয়।

অনেক দিন পর মেয়েটা একটা বাচ্চা নিয়ে গ্রামে ফিরে আসে সাথে একটা বাচ্চা নিয়ে।নাক সিটকানো গ্রামের মানুষের কোন উত্তরই মেয়েটা দিতে পারেনি।শুধু বলেছিল এটা ওর ছেলে।মেয়েটাকে ছেলে সহ গাছের সাথে বেধে ফেলে ওর ভাইরা।সাথে সাথেই গর্জন শোনা গেল।মেয়েটা আড়ষ্ঠ গলায় বলছে ও আমার স্ত্রী।এখানে বেড়াতে এসেছে।কিছুদিন পরই চলে যাবে।কিন্তু সেদিনই ওঝ ডেকে ওকে বোতলে ফেলা হয়।তওবা করানো হয় যাতে এ দিকে আর না আসে।জ্বিনটা তখন চলে যায়।আর কখোনই আসে নি।মেয়েটাও নিখোজ হয়নি।সেই ছেলেটার এখন ১১ বছর।মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে।অসম্ভব রকম ভাল ছাত্র।এখনই হাফেজী শেষ করে ফেলেছে।মহিলাটাকে অনেক বার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কোথায় ছিল,বাচ্চা কিভাবে আসল।ও বরাবরের মতই চুপ ছিল।ছেলেটা অসম্ভব সুন্দর।ছেলেটাকে গ্রামের সবাই জ্বিনের ছেলে নামে চেনে।গ্রামটা কিশোরগঞ্জের কাছাকাছি জাহাঙ্গীরপুর।

সূত্রঃ ফেসবুক :||
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×