somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরর? (দ্বিতীয় পর্ব)

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(এই গল্পের প্রথম পর্বটি পড়লে এই পর্বটি আরও উপভোগ্য(?) হবে বলে মনে করছি। তাই প্রথম পর্বের লিংকটিও সংযোজন করলাম)
Click This Link


ঢং ঢং ঢং। ঘুম ভেঙ্গে গেল ছেলেটির। নাহ্! গীর্জার ঘন্টাধ্বনিতে না। বেরসিক ঘড়ির এ্যালার্ম। কতবার ভেবেছে এ্যালর্ম টোনটা বদলে দেবে। কিন্তু সময় আর হলো কোথায়? কিছুক্ষন ঝিম মেরে বসে থাকলো। একটু আগে ঘটে যাওয়া ব্যাপারগুলো যে স্বপ্ন ছিল তা আর বুঝতে বাকী রইল না। কিন্তু তারপরও মনটা কেমন আচ্ছন্ন হয়ে রইল। ঘড়ির দিকে তাকালো ছেলেটি ৯.৩০। আজ শনিবার। ক্লাসে যাবার তাড়া নেই। তবুও সকাল সকাল উঠতে হলো তাকে। ডমেস্টিক সেইলসের ক্ষেত্রে এই একটাই মওকা কাষ্টমার ধরার - ছুটির দিন। কাজকর্ম থাকেনা বেশীরভাগেরই। অতএব ঘরেই পাওয়া যায়। অন্য সুবিধাটা হচ্ছে ছুটির দিন অনেকটা রিল্যাক্সড্ মুডে থাকে বলেই হয়তো ধৈর্য ধরে মনোযোগ দিয়ে সব কথা শোনে। এতে সেইলসের আনুপাতিক হারটা স্বাভাবিক কারনেই অন্যান্য দিনের চেয়ে খানিকটা বেড়ে যায়। কিছুক্ষণ আগে দেখা স্বপ্নটার কথা মনে পড়ে গেল। কেমন শান্ত, স্বর্গীয় একটা চেহারা। স্মীত সেই হাসি চোখের উপর ভেসে উঠছে বারবার। আর কেমন সম্মোহন জাগানীয়া ভারী কন্ঠ। "আচ্ছা স্বপ্নে শোনা কন্ঠের কি কোন আলাদা স্বর থাকতে পারে? কারন শ্রবণ ইন্দ্রীয় তো তখন মূলত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে"- ভাবল ছেলেটি। ধুত্তোরি! কি সব আজেবাজে বিষয় নিয়ে অহেতুক ভাবনা! তোয়ালে নিয়ে বাথরুমের দিকে যাবার মূহুর্তেই বেজে উঠল ফোন। কোন বন্ধুর হবে হয়তো। ছুটির দিনে সাত সকালে কোন জরুরী ফোন আসার স্বম্ভাবনা শতকরা সাত থেকে সোয়া সাত ভাগ। সুতরাং ফোন রিসিভ না করেই বাথরুমে ঢুকে পড়ল ছেলেটি। কিনতু নাহ্! ভারী বজ্জাত তো ফোনটা! এক নাগাড়ে বেজেই চলছে। আরে বাবা একটা ম্যাসেজ রেখে দিলেই তো হয়। ফোনটা হাতে নিল ছেলেটি। নাহ্, কোন পরিচিত নাম্বার না।
"হ্যালো"।
"হ্যালো, জয়?
কন্ঠস্বরটি শুনেই চমকে উঠলো ছেলেটি। নিজের অজান্তেই বলে ফেলল,
"মিঃ ওয়ালেস..."
"তুমি বোধ হয় ভুল করছ। আমি আসলে তোমার পরিচিতদের কেউ নই। কাল সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখলাম 'British Gas'-এর প্যাডে একটা নোট পড়ে আছে লেটার হোলে -'Sorry, we missed you today' ওখানেই তোমার ফোন নাম্বার আর নাম দেখতে পেলাম"।
এখনও পুরোপুরি ধাতস্থ হতে পারেনি ছেলেটি। কোন রকমে বলল, "হ্যাঁ, আসলে সাপ্লাই সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন ছিল"।
"তুমি কি আজ একবার আসতে পারবে আমার বাড়ি? যদিও জানি আজ ছুটির দিন কিন্তু কি করা? সময় হয়ে ওঠেনা"।
"না না, কোন সমস্যা নেই। আপনি কি দয়া করে আপনার নাম আর ঠিকানাটা বলবেন? ইন ফ্যাক্ট, আমাদেরকে এ রকম নোট প্রায় সব বাসাতেই রেখে যেতে হয়"।
"নিশ্চয়ই। আমার নাম জন ওয়ার্ড। ৩৩,নোবেল কোর্ট, জুবিলি ষ্ট্রিট, লন্ডন ই৬ ৪জে ই। ঘন্টা খানেকের মধ্যে আসলে খুবই ভাল হয়"।
"ঠিক আছে"।
কিছুক্ষনের জন্য মনটা কেমন আচ্ছন্ন হয়ে রইল ছেলেটির। এ ধরনের উদ্ভট একটা অনুভূতির কি মানে? স্বপ্নে শোনা কন্ঠের কোন আলাদা বিশেষত্ব থাকেনা। সুতরাং এ নিয়ে সাত-পাঁচ ভাবার কিছু নেই- নিজেকে বোঝালো সে।
১১ বাজতে ১৫মিনিট বাকী। খুব বেশী দেরী সে করেনি নিশ্চয়ই- ভাবল ছেলেটি। বড়িটা খুঁজে পেতে খুব একটা কষ্ট হয়নি। গত কয়েকদিনে এই এলাকাটা চষে ফেলেছে সে। কোন্ কোন্ বাড়িতে কাষ্টমারের দেখা পাওয়া যায়নি তাও অনেকটা মুখস্ত হয়ে গেছে এর মধ্যে।
টুং টুং শব্দে বেল বেজে উঠল। ভদ্রলোক বাড়ি আছেন তো? না, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। কেউ একজন দরজার দিকেই এগিয়ে আসছে। মৃদু গলা খাঁকারি দিয়ে নিজেকে কিছুটা প্রস্তুত করে নিল সে।
দরজায় দাঁড়ানো বৃদ্ধাকে দেখে ভুত দেখার মত চমকে উঠল ছেলেটা। এটা কি করে সম্ভব? এ যে একই মহিলা যার সাথে তার কথা হয়েছিল স্বপ্নে। কি হচ্ছে এসব আজকে? কোন রকমে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
"মিঃ ওয়ার্ড আছেন"?
বৃদ্ধা খানিকক্ষন আগাগোড়া মাপলো তাকে। যেন আসামী সনাক্ত করছে কোন পুলিশ।
"কি প্রয়োজন তাঁকে"?
"আসলে আমি এসেছি ব্রিটিশ গ্যাস-এর পক্ষ থেকে। মিঃ ওয়ার্ড ঘন্টা খানেক আগে আমাকে ফোন করে আসতে বলেছেন"।
বৃদ্ধা মনে হয় আকাশ থেকে পড়ল এমন একটা ভাব করে তার দিকে তাকালো।
"তিনি কি বাড়ি আছেন"?
"মিঃ ওয়ার্ড তোমাকে ফোন করেছে ঘন্টা খানেক আগে"?
"হ্যাঁ"।
"মাই চাইল্ড, আই উইশ হি ওয়্যার হিয়ার। জন মারা গেছে বছর দুই আগে। আমি তার উইডো"।
নিশ্চয়ই কোথাও কোন ভুল হচ্ছে।
"আচ্ছা এ বাড়িতে আর কে কে থাকে? আই মিন, আপনার কোন ছেলে...."?
"আমার ছেলে-মেয়েরা কেউই আমার সাথে থাকেনা। আমি একাই থাকি এখানে। ও হ্যাঁ, আর আমার এই বেড়ালটা- স্যান্ডি"।
বেড়াল নয়, ঘরেরর ভেতর উঁকি দিয়ে যা দেখল তা তে পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেল ছেলেটি। দেয়ালে টাঙানো ছবিটি। স্বপ্নের সেই মানুষটা- মিঃ ওয়ালেস। মুখ দিয়ে কোন কথা বেরুলো না। শুধু হাতের ইশারায় ছবিটি দেখালো ছেলেটি।
"জন। মিঃ জন ওয়ার্ড- আমার হাজব্যান্ড"। ছোট একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো বৃদ্ধা।
"স্যরি মাই সান। আমি একটু ব্যস্ত আছি এই মূহুর্তে। নাইস মিটিং ইউ"।
মাথার ভেতর কয়েক হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ স্ফুলিংগের মত কি যেন ঘটে যেতে লাগল। তার সাথে চলছে বিকট ডাইনামাইট ফাটার মত আওয়াজ। পা গুলো যেন ভারী কিছু জিনিশ দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়েছে। কিছুতেই চলছেনা। তবু আচ্ছন্নের মতে হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা পথ যে হেঁটে এসেছে টেরই পায়নি ছেলেটি। রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ছেড়ে ব্যস্ত সড়কের কাছাকাছি এখন সে। আশপাশের কোন কিছুই টের পাচ্ছেনা সে। একটাই ভাবনা ঘুরেফিরে মাথায় এসে খেলা করছে তার- এটা কি করে সম্ভব? কি হচ্ছে এসব আজকে তার সাথে। পরোলকের মিঃ ওয়ালেসের সাথে স্বপ্নে কথোপকথন, ঘুম থেকে জেগে উঠে আবার একই কন্ঠে মিঃ ওয়ার্ডের ফোন,স্বপ্নে দেখা বৃদ্ধার আবার মিসেস ওয়ার্ড হয়ে একইভাবে ভুল ভাঙ্গিয়ে দেয়া- "মিঃ ওয়ালেস মৃত; তার সাথে তোমার কথা হতে পারেনা। মিঃ ওয়ার্ড জীবিত নেই; সে তোমাকে ফোন করতে পারেনা....মিঃ ওয়ালেস.....মিঃ ওয়ার্ড...ওয়ালেস..ওয়ার্ড ...."
"ওয়াচ আউট মাই চাইল্ড....."
চমকে তাকালো শব্দের উত্সের দিকে। পরিচিত কন্ঠ। মাত্র একটি মূহুর্তের জন্য দেখতে পেল হুইল চেয়ারে বসা বৃদ্ধের সেই স্বর্গীয় চেহারা। তারপরই আঁধার নেমে এল চারদিকে। অনেক জোড়েই ব্রেইক কষেছিল গাড়ির চালক। কিন্তু ব্যস্ত সড়কে শেষ মূহুর্তে পথচারির বেপরোয়া নেমে পড়াতে কিছুই করার থাকেনা।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কাঁচপোকা লাল টিপ অথবা ইচ্ছেপদ্ম...

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:২৯



‘হৃদয়ে ক্ষত- তা তোমার কারণেই
তাই, তুমিই সেলাই করে দেবে-
বিনা মজুরিতে।
কিছু নেই এমন যা দিতে পারি তোমাকে;
ঠান্ডা মাথায় দেখেছি অনেক ভেবে!
যদি নাও দাও তবে থাকুক এ ক্ষত
এ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামে নিকাহে মুত'আ বা সাময়িক বিবাহের বিধান ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:৪৬

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অন্তর্জাল।

ইসলামে নিকাহে মুত'আ বা সাময়িক বিবাহের বিধান ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

নিকাহে মুত'আ কাকে বলে?

আরবি: نكاح المتعة‎‎, English: 'wedlease'। নিকাহ মানে, বিয়ে, বিবাহ। আর মুত'আ অর্থ, উপকার ভোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বন্ধু, কি খবর বল...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:০১


সময়ের হাওয়া গায়ে মেখে ভাসতে ভাসতে যখন এই অব্দি এসে পড়েছি, তখন কখনও কখনও পেছনে ফিরতে ইচ্ছে হয় বৈকি। কদাচিৎ ফিরে তাকালে স্মৃতির পাতাগুলো বেশ উঞ্চ এক ওম ছড়িয়ে দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ যা পারেনি নেপাল তা করিয়ে দেখালো!

লিখেছেন দেশ প্রেমিক বাঙালী, ১২ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:২৭



ভারতীয় যত টিভি চ্যানেল আছে তা প্রায় সবগুলোই বাধাহীন ভাবে বাংলাদেশে সম্প্রাচারিত হচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশে একটি টিভি চ্যানেলও ভারতে সম্প্রচার করতে দেওয়া হয়না। ভারতের কিছু কিছু চ্যানেলের মান অত্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যবধান

লিখেছেন মুক্তা নীল, ১২ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৭




পারুল আপা আমাদের সকলের একজন প্রিয় আপা। তিনি সকল ছোটদের খুবই স্নেহ আদর ও আবদার পূরণে একধাপ এগিয়ে থাকতেন। অতি নম্র ও ভদ্র তার কারণে বাড়ির গুরুজনদের কাছে এই আপার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×