somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তালেবান নাকি তালেবাল

১৮ ই আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৪:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ব্লগ এখন তালেবান গবেষকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে আছে। আসলে মুখরিত শব্দ টা ঠিক যাচ্ছে না, কোলাহলপূর্ণ বললে হয়তো মানানসই হবে! এদের মধ্যে একদল হলো তালেবালকে নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী, এবং অপরটি হলো তালেবানের উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এদের বাহিরেও সম্ভবত আরেকটা ছোট্ট গ্রুপ আছে যারা তালেবালের উত্থান নিয়ে খুবই আনন্দিত কিন্তু পাছে জঙ্গী তোকমা লেগে যায় সেই ভয়ে সম্ভবত ঘাপটি মেরে আছে। তালেবান নিয়ে পোস্টের কমেন্ট সেকশনে এরা মাঝে মাঝে উঁকি-ঝুকি দেয়। তবে এই তিন গ্রুপের মধ্যে একটা মিল আছে তা হলো এরা সবাই অত্যন্ত কট্টরপন্থী, আপনি যতই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করুন না কেন এদের কাওকেই তাদের অবস্থান থেকে পরিবর্তন করতে পারবেন না।

যারা তালেবানের পক্ষে কথা বলছেন : আপনারা কোন প্রজাতির মানুষ আমি বুঝতে পারিনা। এমন একটা সংগঠনকে আপনারা পছন্দ করেন যারা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের নামে সহস্র নারী-শিশু সবার উপর নির্বিচারে বোমা মারতে দুবার ভাবে না। এমন একটা সংগঠন যাদের যোদ্ধারা নিজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করা মাত্রই সেখানে নানা রকম লুটতরাজ, হত্যা সহ নানা রকম কঠোর সব অমানবিক আইন জারি করেছে। এরা নিজেদের ইসলামপন্থী দাবি করলেও এদের মূল ব্যবসাই হলো মাদকপাচার ও সূদ যা ইসলামে নিষিদ্ধ। এরা এমন একটি মুসলিম দেশ দ্বারা প্রভাবিত বা পরিচালিত যারা 1947 থেকে 71 পর্যন্ত নিজ দেশের মুসলিম জনগণকে এত অত্যাচার ও জুলুম করেছে। এমন একটি গোষ্ঠী যাদের যোদ্ধাদের উপর এদের নিয়ন্ত্রণ নেই, বিভিন্ন অপরাধী ও ডাকাতরা মূলত এদের যোদ্ধা। একমাত্র অশিক্ষিত মূর্খ বর্বর গাওয়ার মানুষরা এদের মত জঘন্য একটা গোষ্ঠীকে পছন্দ করতে পারে। আপনাদের বুদ্ধি টিকটিকি চাইতেও কম।

যারা তালেবানের বিপক্ষে কথা বলছেন : তালেবানের বিপক্ষে কথা বলার জন্য কারণ এর কোনো শেষ নাই। এই জঘন্যদের সম্মোধন করার জন্য তালেবান বলব নাকি তালেবাল বলবো মাঝে মাঝে বুঝে উঠতে পারিনা। তবে আপনাদের মধ্যে আবার একটা প্রজাতি আছে যারা তালেবান কে গালি দেয়ার নামে ইসলামকে ছোট করার চেষ্টায় ব্যাস্ত। তালেবানের কর্মকাণ্ড যে স্পষ্টতই ইস্লামবিরোধী বা তারা যে শুধু ইসলামকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে এটা আপনারা জেনে শুনেও চেপে যান। তালেবান যেমন ইসলাম ব্যবহার করে অপকর্ম করছে, আপনারাও তেমনি তালেবালকে ব্যবহার করে ইসলামকে টার্গেট করছেন। আপনারা হলেন দুষ্ট গরু।

যারা তালেবানের উত্থান নিয়ে আশাবাদী : আপনারা বলছেন, "তালেবান গত 20 বছরে পরিবর্তন হয়েছে। তারা অনেক বিষয়ে কট্টরপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসেছে।" আরও কি কি বলছেন হাবিযাবি। কিন্তু আপনারা যে সব বিষয় নিয়ে তালেবানের উপর আশাবাদী হচ্ছেন এগুলো বৈধতা পাওয়ার জন্য জাস্ট শো অফ। অনেকের মতে তালেবানের মূল লক্ষ্য শরিয়া আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা, আমার মতে এদের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু ক্ষমতার ভাগ। আমেরিকাকে ভাগানোর জন্য রাশিয়া ও চীন আফগান কমান্ডারদের কিনেছে বা যেকোনোভাবে তালেবানকে সাহায্য করেছে। নাপাককিস্তান এদের প্রভূ। এই দেশগুলো এখন তালেবানকে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য চরমভাবে ব্যবহার করবে এর জন্য সাধারণ আফগানদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজন শরিয়া আইন। শরিয়া আইন বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীরা এমনিতেই কথা বলতে পারবে না, চুপ থাকতে বাধ্য হবে আর বাকি যে 50 শতাংশ থাকবে পুরুষ তাদের মধ্যে শিক্ষিত যে 10 ভাগ তাদের সেই শক্তি সামর্থ্য থাকবে না যে তালেবানকে প্রতিহত করবে।

আমি যা ভাবছি : ক্ষমতায় থাকার জন্য এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তালেবান শুধুমাত্র তাদের কৌশল বদলেছে। আমেরিকা যেহেতু এই যুদ্ধে স্পষ্টতই হেরেছে, তাই তাদের মিডিয়াগুলো লজ্জা ঢাকার জন্য চেষ্টা করবে তালেবানকে একটি ভালো এবং শুধরে যাওয়া শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার। আর বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সময়ের সাথে সাথে তালেবানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। আর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো থাকলে যেকোনো দুর্নীতিবাজ হোক, একনায়কতন্ত্র হোক বা জঙ্গি সরকার যেই থাকুক, স্বাভাবিক নিয়মে দেশের কিছু উন্নতি সাধিত হয়। সেই হিসেবে তালেবান যদি আফগানিস্থানে স্থায়ী হতে পারে তাহলে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই কিছু উন্নয়ন হলেও হতে পারে। এখানে ঐরকম পর্যায়ের আশাবাদী হওয়ার কিছু নাই, কারণ দিনশেষে তালেবান এমন একটি সংগঠন যাদের স্বাভাবিক কর্মকান্ড এই হল ধর্মের নামে অস্ত্রের মুখে রেখে মানুষকে হত্যা করা ও সম্পদ লুট করা। তাই তালেবান না বলে তালেবাল বলাই উত্তম মনে হয় আমার কাছে‌।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ৮:০৪
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৪২


ছবিঃ আমার তোলা।

মন মেজাজ ভালো নেই।
তাই ব্লগে কম আসি। কম লিখি। যদিও বেশ কিছু লেখা মাথায় জমে আছে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে ব্লগে আসলে ঝামেলা হয়ে যাবে। দেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস বুঝে ছুইটেন !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:৪১

ছবি নেট।

হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেনঃ "মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপদজনক! " 

আসলেই তাই! খবরে দেখলাম ইকবাল নামের একজন ব্যক্তি পবিত্র কুরআন মুর্তির কাছে রেখে চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ভবঘুরে ইকবাল হোসেন জন্য সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৩৫



গত বুধবার ভোরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিন কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। ব্যস আর যায় কোথায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ও আমার পৃথিবী......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৫১

আমি ও আমার পৃথিবী......

আজও খুব ভোরে উঠেছি প্রতিদিনের মতো। আকাশে তখনও আলগোছে লেগে রয়েছে রাত্রির মিহি প্রলেপ। আমার চেনা পাখিরা জেগে ওঠেনি তখনও। মনটা কেমন যেন একটু বিস্বাদে ভরে আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেডাগোজিকাল ট্রানজিশন- শিশু শিক্ষনে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়

লিখেছেন শায়মা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৪৪


করোনাকালীন চার দেওয়ালে বন্দী জীবন ও অনলাইনের ক্লাসরুমের মাঝে গত বছর নভেম্বরে BEN Virtual Discussion "শিশুদের নিয়ে সব কথা" একটি টক শো প্রোগ্রাম থেকে ইনভিটেশন এলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×