একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ নামে কোন স্বাধীন দেশ ছিলনা। পূর্ব পাকিস্তান নামক প্রদেশটি ছিল সামরিক ও রাজনৈতিক সুবিধা বন্চিত। অর্থনৈতিকভাবে ছিল নিষ্পেশিত। দিঘৃদিন ভোটের অধিকার পাওয়া সব ব্যার্থ হল যখন ইয়াহিয়া সরকার জাপিয়ে পড়ল নিরিহ জনগনের উপর। বাংলাদেশকে শোষন করার জন্য কখনো বৈদেশিক শক্তিকে বেশী শ্রম দিতে হয়নি।আমাদের দেশের বিশ্বাষঘাতক রা সম্পদের লোভে সব যুগেই বিক্রয় করেছেন আমাদের সম্মান, স্বাধীনতা সব কিছু।৭১ এ এবং এর পরেও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি।দূভিক্ষ, ৭৫ এর বিভিন্ন ঘটনা সবই হয়েছে সম্পদ আর ক্ষমতার লোভে। আমরা স্বাধীনতার সময় যেই ভারতকে সাময়িক বন্ধু হিসাবে পেয়েছিলাম পরবর্তী এখন পর্যন্ত তাদের আচরনে আমাদের শত্রুতা করা ছাড়া আর কিছু পাইনি। ফারাক্কা বাধদিয়ে আমাদের যেমন পানিতে মারছে আর তেমনি প্রতিদিন সিমান্তে মারা যাচ্ছে অনেক নিরিহ মানুষ। প্রতিবাদ করায় আর দেশ রক্ষায় বীরের মত লড়ার কারনে রেৌমারী আর বড়াই বাড়ি, পাদুয়ার বীরদের হতে হয়েছে লান্চিত। বিরোচিত স্বিদ্ধ্ন্ত নেওয়ায় বহিষ্কৃত হতে হয়েছে বিডিআর এর মহাপরিচালককে।
এই তো গেল ভারতের কথা
একাত্তরের বিজয়ের পর আমাদের স্বীকৃতি দেয়নি আমাদের এখনকার প্রভু আমেরিকা, বন্ধু চীন আর দাতা সৌদীআরব।আমাদের বিজয়কে রোধ করার জন্য সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল, প্রভু আমেরিকা। আর এখন বিশ্বব্যংক আর আইএম এফ এর মাধ্যমে আমাদের দেশকে পরিনত করছে ভিক্ষুকের দেশে।বিভক্ত, বিদ্ধস্ত গৃহযুদ্ধে ধ্বংশ বাংলাদেশর স্বপ্ন আমেরিকার অনেকদিন। ২২শে জানুয়ারী নির্বাচন হলে হয়তো তাদের স্বপ্ন আরেক সোমালিয়ায় পরিনত হত বাংলাদেশ। তারপর সব খনিজ সম্পদ কুক্ষিগত করত তারা।
এবার আমাদের চীরবন্ধু চীন।
বাংলাদেশ হল চীনের আবজর্না ফেলার স্থান।সেদেশের যত নষ্ট, দুই নম্বর জিনিস সব দিয়ে ভরে আছে আমাদের এই দেশ। আমাদের চাইনিজদের তৈরী কিছু পাওয়ার স্টেশন আছে যেগুলোর চেয়ে ভালো আমাদের দেশের ইন্জিনিয়াররা পারে।প্রতি মুহুর্তে তারা চাপে রেখেছে আমাদেরকে। মায়ানমারের মত দেশ আমাদের হুমকি দেওয়ার সাহস পায় শুধু চীনের ওপর ভরসা করে।
সৌদী আরব বাংরাদেশের স্বধীনতাকে কখনো ভাল চোখে দেখেনি। এখনো দেখেনা। তারা ইচ্ছা হলে সাহায্য করে ইচ্ছা হলে করে না। তাদের অর্থ এখন ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশের জঙ্গীবাদের কাজে।
আমাদের দেশের কর্নধাররা ক্ষমতা না পেলে লন্ডনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। দেশের টাকা পাচার করে সমৃদ্ধ করেন সিংগাপুর আর মালএশীয়ার ব্যাংকে। প্রবাসীরা হোয়াইট হাউসের সামনে বসে আমাদের দেশের নামে বিচার দেন। ওখানকার ৪র্থ শ্রেনীর কমর্কর্তারা বাংলাদেশের সেনা প্রধান, আর প্রধানমন্ত্রীকে নির্দশ দিয়ে যান।
পৃথিবীর সব দেশ চায় আমাদের উপর এক্সপেরিমেন্ট করতে। হয়তো খুব বেশী দুরে নয় যখন বাংলাদেশের অবস্থা হবে সোমালিয়ার মত । তারপর দাতার ভূমিকায় অবতীর্ন হবে ভারত আর আমেরিকা। শান্তি রক্ষার নামে দেশের সব সম্পদ করবে লুন্ঠন। আর যাওয়ার সময় বসিয়ে দিয়ে যাবে হামিদ কারজাইয়ের মত কাউকে।
অথবা
নাইজেরিয়ার মত আমরা ধুকে ধুকে মরব। আমাদের সম্পদ অন্যদেশ ভোগ করবে আর আমরা সাহায্য খাবো ।
এবার এক রিক্সাআলার কথা বলি।
বিকালে রিক্সায় করে যাচ্ছিলাম। রিক্সাআলার বয়স হবে ১৮-১৯। রিক্সা চালানোর একটা মুহুর্তে পেছন থেকে এক প্রাইভেট কার তাকে হালকা একটা ধাক্কা দিল।সাথে সাথে সে রিক্সা গাড়ির সামনে দাড় করাল । নেমে ড্রাইভারকে অনেক নীতি কথা বলল। তখন গাড়ির সম্ভবত মালিক তাকে কিছু বলতে গেলে সে সাথে সাথে বলল,” আপনি থামেন, আপনারাই তো এগর এ ত সাহস দেন। মেজাজটা আজকে ভালা নইলে আপনাগো দুইটারে পুলিশি দিতাম।” এ কথা বরে সে আবার রিক্সা চালাতে শুরু করল। তাকে আমি বললাম কি ভাই তোমার তো অনেক সাহস। সে জবাবে যা বলল তা এদেশের অনেক শিক্ষিত মানুষেরও মাথায় নাই।
” জাইদি কি করছ দেখেননাই। এইডাতো কেবল শুরু মুসলমানরা এইবার জাগছে আর কেউ ঠেকাই তো পারব না। আম্গো দেশে যেই চোরডি আছে ওডিরে যেখানে পামু সেখানেই বাইরামু।”
সম্মানিত রাজনীতিবীদরা আপনারা সাবধান হন।
সেনাবাহীনির মাইনাস টু সফল হয়নি আমাদের জন্যই। কারন আমরাই তাদের আবার ভোট দেব, তাদের জন্য মিছিল করব। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসীদের নির্বাচিত করব।কিন্ত আমরা একটা জিনিস শিখছি এই অবস্থা থেকে যে আমাদের দেশের মানুষ দুর্নীতিবাজ অন্যায়কারীদের জেলের ভাত খাওয়াতে জানে।সে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়, কিংবা বিরোধী নেত্রী।
আমার মনে হয় আমাদের জাগার সময় হয়েছে।আমাদের দেশের অনেক মেধাবী আছেন যারা ইউরোপ আমেরিকার বড় বড় ইউনিভার্সিটিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমাদের জনশক্তি পরিবর্তন করছে বিশ্বের চেহারা।আমাদের কোন কিছুর অভাব নেই। আমরাই পারব আমাদেরকে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌছাতে।
শুধু এখন প্রয়োজন সাহস আর শ্রমের

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

