খালেদা জিয়া
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক সময় ছিলেন অনেকটা নিভৃতে গৃহবধূ হিসেবে৷ ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যদের হাতে নিহত হলেও রাজনীতিতে নামতে চাননি খালেদা জিয়া৷ ১৯৮২ সালে বিচারপতি সাত্তারের অনুরোধে বিএনপির সাধারণ সদস্য হন তিনি৷ পরের বছরই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হন খালেদা জিয়া৷ ওই বছরের শেষের দিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন৷ ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেন৷
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া
ওই বছরই শুরু করেন এরশাদ বিরোধী আন্দোলন৷ কিছুদিনের জন্য সামরিক শাসক এরশাদ তাঁকে গৃহবন্দী করেন৷ পরে মুক্তিও পান৷ ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে আন্দোলন করতে থাকেন৷ তিনি ১৯৯০ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন৷ চূড়ান্ত বিজয়ও পান৷ ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট ১৩৯টি আসন পায়৷ জামায়াতের ১৮টি আসন থাকায় তাদের সঙ্গে নিয়ে গঠন করেন সরকার৷ প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া৷
দীর্য় ৫ বছর দেশ চালানোর পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করেন৷ কিন্তু সবগুলো রাজনৈতিক দল তা বর্জন করে৷ অল্প দিন স্থায়ী ওই সংসদে প্রধানমন্ত্রীও হন তিনি৷ এরপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেন৷ ওই নির্বাচনে বিএনপি ১১৬টি আসন পায়৷ বিরোধী দলীয় নেত্রী হন খালেদা জিয়া৷
২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ২১৭টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি৷ প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া৷ ৫ বছর দেশ শাসনের পর ২০০৬ সালের অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেন৷ আসন্ন নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খালেদা জিয়া৷
শেখ হাসিনা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে শেখ হাসিনা৷ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার সময় দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছিলেন জার্মানীতে৷
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিন
এরপর বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের হাল ধরেন সাজেদা চৌধুরী, জোহরা তাজউদ্দিন, আবদুর রাজ্জাকসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা৷ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে আওয়ামী লীগ যখন প্রায় ধ্বংসের মুখে তখন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই দলের সভানেত্রী করা হয়৷
১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন৷ হাল ধরেন দলের৷ আস্তে আস্তে দলকে সংগঠিত করতে থাকেন৷ স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন৷ সামরিক শাসক তাঁকে গৃহবন্দী করে৷ কিছুদিন পর মুক্তি পান৷ ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ৮৬টি আসন পায়৷ বিরোধী নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা৷ এরপর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এরশাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু করেন৷ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বরে আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ৷
১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটের নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন শেখ হাসিনা৷ ৯৪টি আসন পায় আওয়ামী লীগ৷ সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন৷ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলন শুরু হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে৷ এক পর্যায়ে বিএনপি ক্ষমতা ছেড়ে নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়৷ ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৮টি আসন পায়৷ পরে আসম আবদুর রব ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর দু'টি আসন নিয়ে গঠন করেন সরকার৷ প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা৷ ৫ বছর দেশ শাসন করেন৷ ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬২টি আসন পায়৷ আবারও সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা৷ এরপর থেকে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি৷ আসন্ন সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাঐক্যজোট অংশ নিচ্ছে৷
মতিউর রহমান নিজামী
মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন অবিভক্ত পাকিসতান ছাত্রসংঘের সভাপতি। জামায়াত ইসলামী পাকিস্তানের যুব সংগঠন ছিল এটি। চৌকস নেতৃত্ব অল্প ভাসী হওয়ার কারনে স্বল্প সময়ে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষনে সমর্থ হন। তাকে জামায়াত ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদূদী খবই সু দৃষ্টিতে দেখতেন। মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক স্বিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেন। তার নেতৃত্বে জামায়াতের বড় একটি অংশ পাকিস্তানি সেনা বাহিণীকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে সাহায্য করে। স্বাধীনতার পরে সাধারন ক্ষমার আওতায় তিনি দেশের রাজনীতিতে স্বক্রীয় হন।
জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আজমের দীর্ঘ দিন সেক্রেটারী থাকার পর চারদলীয় জোট গঠনের কিছুদিন পূর্বে তিনি জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তিনি গত প্রায় একযুগ বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্বাধিনতার বিরোধীতা করায় জামায়াত ইসলামীর জনসমর্থন কম থাকা সত্বেও শক্তিশালী ও সুসৃংখল কর্মী বাহিনী থাকার কারনে জামায়াত ইসলামীকে রাজনীতিতে একটি ফ্যাক্টর হিসাবে ধরা হয়।
জামায়াত ইসলামী ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১৮ টি আসন পায়। ১৯৯৬ সালে তাদের আসন কমে দাড়ায় তিনটা। আবার ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের সাথে জামায়াত ১৭টি আসণ পায়। মতিউর রহমান নিজামী বিগত চার জোট আমলে শিল্প ও কৃষি মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার বিরুদ্ধে কোন দূর্নীতির অভিযোগ না থাকলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জংগী বাদের অভিযোগ আছে।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
১৯৯১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেননি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ৷ যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে ছিলেন৷ পরে দেশে ফেরেন৷ '৭১ থেকে '৮০ সাল পর্যন্ত অনেকটা চুপচাপই ছিলেন৷ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এরশাদকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান করেন৷
জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
এর কিছুদিনের মাথায় জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করেন এরশাদকে৷ ১৯৮১ সালে বিপথগামী সেনা সদস্যদের জিয়াউর রহমানকে হত্যা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এরশাদ, এরকম অভিযোগের কোনপ্রমাণ পাওয়া যায়নি৷
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এরশাদ বিচারপতি সাত্তারকে অনেকটা বাধ্য করেন ক্ষমতা ছাড়তে৷ একপর্যায়ে '৮২ সালে এরশাদের কাছে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নেন বিচারপতি সাত্তার৷ সামরিক আইন জারি করে রাষ্ট্রপতি ও সামরিক আইন প্রশাসক হন তিনি৷
১৯৮৪ সালে ১৮ দফা ঘোষণা করে বাস্তবায়ন পরিষদ তৈরী করেন৷ ওই বছরই সিনিয়র রাজনীতিকদের নিয়ে গঠন করেন জনদল৷ কিছুদিন পর জনদল পরিবর্তন করে তৈরী করেন বর্তমানের জাতীয় পার্টি৷ ১৯৮৬ সালের পাতানো নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়৷ বিরোধী দল হয় আওয়ামী লীগ৷ '৮৮ সালে ওই সংসদ ভেঙে দিয়ে আবারও নির্বাচন দেন এরশাদ৷ কোন দল ওই নির্বাচনে অংশ না নিলেও অনুগত বিরোধী দল বানান আ স ম আবদুর রবকে৷ এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন শুরু করে এরশাদের বিরুদ্ধে৷
৯ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দেন এরশাদ৷ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার পর গ্রেফতার করে এরশাদকে৷ দীর্ঘ সময় জেল খেটে বের হন৷ দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকটি মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছে৷ আরো কয়েকটি মামলা বিচারাধীন৷ এরশাদের জাতীয় পার্টি পরপর তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বেশ কয়েকটি করে আসনও পেয়েছে৷ ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷ এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের হয়ে লড়ছে জাতীয় পার্টি৷
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


