বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কেন ভরাডুবি হলো এ বিষয়ে রাজনৈতিক মহলসহ সর্বস্তরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো,সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান প্রতিশ্রুতি জনগণকে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে। অন্যদিকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রায় একই রকম ঘোষণা থাকলেও এই সব ঘোষণার উপর জনগণ আস্থা রাখতে পারছিলো না। বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করলেও জনগণের প্রত্যাশা পুরণে তারা অনেকটা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের অধিকাংশ বড় নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। সেই সাথে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরার মতো কাজটি তারা সাফল্য দেখাতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,৩১ শতাংশ নতুন ভোটার এবার জয় পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। তরুণ ভোটারদের মতে বিএনপির চাইতে আওয়ামী লীগ অনেক যোগ্য প্রার্থী দিয়েছে। তাই এবার প্রতীক নয় প্রার্থীকে বিবেচনা করে ভোট দিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, পিন্টু, সালাউদ্দিন আহমেদের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের এবার নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ায় ভোটারদের মনে তা বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুই প্রধান দলের প্রার্থীদের তুলনামুলক বিচারে দেখা যায় আওয়ামী লীগ ভাল প্রার্থী দিয়েছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা দুর্নাম নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন বলেন, দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার পর পরবর্তী নির্বাচনে পরাজয় বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন নয়। তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত ভারতে সব মুসলিম আসন মুসলিম লীগ পেয়েছিলো। কিন্তু দুই বছরের মধ্যে তারা জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছিলো। তেমনি একইভাবে ১৯৫৪ সালে হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সবগুলো আসনে জয়লাভ করেছিলো। কিন্তু তারপরই দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের মধ্যে সরকার অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করতে পারেনি। শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন। অতীত থেকে শিক্ষা নিলে এবং জনগণের জন্য ভালভাবে কাজ করলে জনগণ তাদের রায় দিতে ভুল করে না।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সালাউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, বিএনপি তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলো। অধ্যাপক বদরুদৌজ্জা চৌধুরী, কর্ণেল অলি আহমেদ,সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে বিএনপির একটি বড় অংশ বেরিয়ে যায়। এসবের কারণে সাংগঠনিকভাবে দলটি দুর্বল হয়ে পড়েছিলো। সেই সাথে বিগত দুই বছরে বিএনপি ও চারদলীয় জোটের নেতা কর্মীদের ব্যাপকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার চলেছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী বা যুদ্ধাপরাধীর যে প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে তাও ভোটারদের মাঝে বিরুপ প্রভাব ফেলেছে।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ মনে করেন, বিএনপি সংসদে আসন কম পেলেও প্রায় ৪০শতাংশ ভোট পেয়েছে। এতে বোঝা যায় জনগণের একটা অংশ তাদের সাথে রয়েছে। তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ যদি বিরোধী দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করে,তাহলে অনেক সংকট সহজেই সমাধান হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন,জনগণ বিএনপি ব্যর্থতার জবাব দিয়েছে। আওয়ামী লীগ তা থেকে কতখানি শিক্ষা নেয় সেটাই এখনো দেখার বিষয়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


