somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুদ্ধিজীবী মননের জটিলতা বনাম গাধার জল ঘোলা করিয়া খাওয়া !!!

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। গাধা রে কেন গাধা বলা হয় ইহা লইয়া আমার কৌতূহল আছে। বস্তুতঃ গাধার চেয়েও গাধা অনেক প্রাণী আছে এমনকি মানুষও আছে বলিয়া জানা যায় ! গাধা যদি এতই গাধা হইতো তাহা হইলে মেরিকার মতন দেশের ডেমোক্রেটিক দলের নির্বাচনী প্রতীক হইলো কেমনে ? নাকি তাহারাও অনেক বড় গাধা ?

এহহে ! গাধার কথা মনে হইলে আবার হীরক রাজার দেশের কথা মনে পরে ! গুপির সংগীত সাধনায় আপ্লুত হইয়া সেই গেরামের পাঁঠা বুদ্ধুজীবী তাহাকে পাম দিয়া বলিল , তাহার প্রতিভা গ্রামের কেহ মূল্যায়ন করিতে পারিতেছে না ! তাই রাজার বাড়ির সামনে ভোরবেলায় সংগীত চর্চা করিলে রাজামহাশয় তাহাকে মূল্যায়ন করিবেন , পুরস্কৃত করিবেন (গুপী শালা এমনই গাধা আছিল! আজব ! পাঁঠাদের কথা কেহ বিশ্বাস করে নাকি !! নাকি আমরা দর্শকরাই গাধা !! নাকি ছিঃ নেমা বলিয়াই !!!) গাধা গুপী পাঁঠাদের পামপট্টি বিশ্বাস করিয়া রাজপ্রাসাদের সামনে সূর্য ওঠার আগেই গলা সাধা শুরু করিল !! এহেন মধুর (!)সংগীত চর্চায় রাজামশায়ের ঘুম ভাঙিয়া গেল ! তিনি পেয়াদা পাঠাইয়া গুপীরে সসম্মানে (!) রাজদরবারে ডাকিলেন !যথারীতি গুপী তাহার সাধের তানপুরা লইয়া হাজির ! এইবার বুঝি রাজামশাই তাহারে সভাগায়ক বানাইবেন !!

রাজামশাই তানপুরা হাতে লইয়া দেখিলেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করিলেন , তৃতীয় সুর কি ?
গুপী উত্তর দিলো 'গা ' ! আচ্ছা ! রাজামশাই আবার জিজ্ঞাসা করিলেন, ষষ্ঠ সুর কি ? গুপী বলিল 'ধা' ! রাজামশাই তানপুরা আছাড় দিয়া হা হা করিয়া ভিলেনি হাসি দিয়া কহিলেন, এরে গাধার পিঠে চড়াইয়া রাজ্য হইতে বাহির করিয়া দাও !!!

এক গাধারে আরেক গাধার পিঠে চাপাইয়া বাহির করিয়া দেওয়া হইলো !!! পাঁঠারা হাসিতে লাগিল ! খালি গুপির বাপের চোখে পানি !!



গাধার গাধামীর কোন শেষ নাই ! তাই বলিয়া গাধারা কি কখনো বুদ্ধুজীবীদের মতন পাঁঠা হইতে চাহিবে না ? ইহা মানিয়া লওয়া যাইতে পারে নাকি মানিয়া লওয়া উচিত, আপনারাই বলুন ?

তো , এক গাধার শখ হইলো পাঁঠাদের মতন বুদ্ধুজীবী হইবে !! দিনের পর দিন গাধামী করিয়া বিরক্ত হইয়া গিয়াছে ! গাধা অবশ্য যার তার গাধা নহে ! ইহা হোজ্জা নাসিরুদ্দিনের গাধা ! হোজ্জা তো আর বুদ্ধুজীবী নহে, আসল পুরুষের মতন আসল বুদ্ধিজীবী !! যাহা হউক , গাধা কিনা, তাই হোজ্জারে পাঁঠা বুদ্ধুজীবী মনে করিয়া গাধা নিজেও পাঁঠা হইতে চাহিল (আমাদের পাঁঠা বুদ্ধুজীবীদের ব্রেইনচাইল্ডগুলো যেমন হইতে চাহে !!) হোজ্জা তখন গাধার পিঠে করিয়া গিন্নির জন্য লবন বহন করিতেছিলেন ! নদী পার হইতে গিয়া গাধার বুদ্ধি চাগাম দিয়া উঠিল ! গাধা মাঝ নদীতে গিয়া একখানা ডুব দিলো ! লবন গলিয়া পানি !! পিঠে হোজ্জা ছাড়া আর কোন বোঝা নাই ! কি বুদ্ধি !!

হোজ্জা আবার ফিরিয়া লবন লইলেন !! গাধা পাঁঠাদের মতন আবারো একই আকাম করিল ! ডুব দিয়া লবণের ভার কমাইল ! হোজ্জা দেখিলেন মহা মুশকিল !! মাগার হোজ্জা হইলেন আসল পুরুষ ! বুদ্ধুজীবী নহেন, বুদ্ধিজীবী ! হোজ্জা ফিরিয়া তুলা লইলেন ! আকারে বিরাট হইলেও ওজনে হালকা ! গাধার তো ইতোমধ্যে মাছি মারা কেরানির মতন মাছি নকল করার অভ্যাস হইয়া গিয়াছে ! মাগার গাধাতো আর বাগধারা জানে না (proverb জানিতে পারে , বুদ্ধুজীবী কিনা !) :

"বারেবারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান ,
এইবার ঘুঘু তোমার বধিব পরান !!"

যথারীতি গাধা বিরাট গাধামি কইরা ডুব দিয়া চমকিয়া উঠিল ! বহুকষ্টে বাড়ি পৌঁছিয়া প্রতিজ্ঞা করিল , আর কখনো গাধামি করিবে না, সরি, পাঁঠামি করিবে না !! গাধাই থাকিয়া যাইবে !

তো , গাধা গাধাই থাকুক ইহাই ভালো, গাধা পাঁঠা হইয়া গেলে বিরাট বিফদ , জাতির জাতীয় বিফর্জয় !!



এতক্ষন ভূমিকা শুনিলেন , সংগ্রামী বন্ধুগন , এখন আমি আমার সং ক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করিতেছি !! এটুকু বলিতেই অডিয়েন্স ভাগিয়া গেলেও আপনারা ভাগিয়েন না !! সাথে থাকিয়েন !

বলিতেছিলাম, গাধার কথা ! গাধা নাকি জল ঘোলা করিয়া খায় ! এই বাগধারার সপক্ষে কোন প্রমান আমি পাইলাম না ! এমন নিরীহ , পরোপকারী, মেরিকার ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতীকের প্রাণীর নামে ইহা চালু হইলো কেমনে বুঝিলাম না ! গুগল মামুরে জিগাইলাম ইহা সত্যি কিনা। গুগল কহিল, ব্লগার মহিউদ্দিন বলিয়াছেন, 'গাধা পানি সম্পর্কে খুব সচেতন, তাই পরিষ্কার পানি অপরিহার্য !' তাইলে এই প্রবাদের জন্ম হইলো কিভাবে ?

উপায়ন্তর না দেখিয়া এক গাধারেই জিজ্ঞাসা করিলাম , ব্যাপারখানা কি বলতো দেখি ?

গাধা কহিল, আগে গাধবৃন্দ পরিষ্কার জল ই পান করিত ! সমস্যা শুরু হইলো যখন এক গাধার পশ্চিমা মনিব তাহারে পার্টিতে লইয়া গেল ! সেখানে সকলে পানি বাদ দিয়া ককটেল বানাইয়া পানীয় খাইতেছিলো ! ইহাতে গাধারও মগজ বিগড়াইয়া গেল ! সে পশ্চিমা মনিবের গাধা ! দেশি মনিবের গাধার মতন পানি পান করিলে তাহার ইজ্জত পাংচার হইয়া যাইবে ! তাহারও ককটেল চাই !! ফেরার পথে যখন গাধার পিপাসা পাইলো , পুকুরের টলটলে পরিষ্কার পানিও তাহার রুচিলোনা ! পশ্চিমা মনিব পড়িলেন বিপদে ! গাধার ককটেল বানাইবেন কি দিয়া ? উপায় না দেখিয়া কাদায় ঘুটা দিলেন ! ইহাতে পানি ঘোলা হইয়া গেল ! গাধারে কহিলেন, এই দেখো তোমার ককটেল !! গাধা মনের সুখে ঘোলাজল ককটেল মনে করিয়া খাইলো ! সেই হতে গাধা জল ঘোলা কইরা খায় !!



২। যাহারা বুদ্ধিজীবী , ব্রেনওয়ার্ক অধিক পরিমানে করেন তাহারা নাকি অধিক প্রেশারে একসময় গাধা হইয়া যান !! আমার দুই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের দুই সুপুত্র (!)আমার ক্লাসমেট এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল ! তাহাদের মধ্যে একজন আবার আমার প্রতিবেশী। তাহার পিতা আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ! জিজ্ঞাসা করিলাম, স্যার কেমন আছেন। কথা প্রসঙ্গে সে বলিয়া ফেলিল, শিক্ষকেরা ব্রেন ওয়ার্ক করিতে করিতে বয়সকালে এমনিতেই মাথা খারাপ হইয়া যায়, ব্রেন আর কাজ করে না! (ব্রেন ডাল হইলেই না শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের গাধা বলেন !) ! আমি বিস্মিত হইলাম , শঙ্কিতও হইলাম, মেজাজও খ্রাফ হইলো।
একেতো শিক্ষক , তারউপর তোর জন্মদাতা বাপ্ ! এমন কথা তোর মুখে কেমনে আসে !! ভাবিলাম বুঝি গুল মারিতেছে ! দেখি , না , সিরিয়াস ! বলিয়া আবার হাসিও দিলো !

বুদ্ধিজীবীদের গাধামি (আসলে অন্যমনস্কতা পড়িতে পারেন !) লইয়া সত্যি -মিথ্যা অনেক কৌতুক আছে ! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নামকরা শিক্ষক নাকি একবার পাজামা মনে করিয়া স্ত্রীর পেটিকোট পড়িয়া আসিয়াছিলেন !!!

এইরে ! শিক্ষকের অন্যমনস্কতা লইয়া একখানা কৌতুক মনে পড়িল !

জীববিজ্ঞান প্রাক্টিক্যাল ক্লাসে শিক্ষক ছাত্রদের বলিলেন , এইযে দেখিতেছ, আমার হাতে এইটা একখানা ব্যাঙ, এখন আমি ইহা কাটিয়া দেখাইবো !

ছাত্ররা কহিল, স্যার আপনার হাতেতো ব্যাঙ নহে। আলুর চপ মনে হইতেছে !

ইয়া মাবুদ , আমি তাইলে কি দিয়া নাস্তা করিলাম, শিক্ষক হাহাকার করিয়া উঠিলেন !!!

সক্রেটিসের কথা না বলিলে বুদ্ধিজীবীদের অন্যমনস্কতা অসুম্পূর্ণ থাকিবে !!

সক্রেটিসের বউ সকালবেলায় তাহাকে তৈল আনিতে বলিলেন ! সক্রেটিস শিশি লইয়া বাহির হইলেন ! পথে প্রিয় ছাত্রদের পাইয়া সব ভুলিয়া গেলেন ! দর্শন লইয়া আলোচনা শুরু করিলেন ! বহুক্ষণ পরে মনে হইলো , হায় হায় ! বউ না তৈল কিনিতে বলিয়াছিলেন !!

আকাশে তাকাইয়া দেখিলেন, নাহ, বেলা বেশি হয় নাই ! তাড়াতাড়ি তৈল লইয়া বাড়ি ফিরিলেন !! কিন্তু দজ্জাল বউ অগ্নিমূর্তি !! সক্রেটিস বুঝিতে পারিতেছেন না, কি ত্রুটি হইলো ! তৈল আনিতে বলিয়াছে তৈল আনিয়াছি ! বেলাও তো বেশি হয় নাই !! একথা গিন্নিকে বলিতেই ঝংকার শুনিতে হইলো , মিনসে !! তৈল আনিতে গিয়াছো কাল সকালে ,লইয়া আসিয়াছ আজ সকালে !!! এহেন ভুলোমনা , অন্যমনস্ক হইলে গিন্নি তেলে বেগুন হইবে নাতো জলে বেগুন হইবে নাকি ?

আর্কিমিডিসের ইউরেকা আরও সরেস ! আবিষ্কারের আনন্দে আর্কিমিডিস কাপড় ছাড়াই রাস্তায় নামিয়া আসিয়াছিলেন ! নিচে যে 'ফুলোকি দোকান' খোলা তাহা খেয়াল ছিল না, এতই অন্যমনস্ক ছিলেন ! আবার ভাইবেন না তিনি সানি লিওনির মতন দরিদ্র বিধায় কাপড় ছিলো না ! তিনি এতো দরিদ্র ছিলেন না একথা হলপ করিয়া বলিতে পারি !

৩। বুদ্ধিজীবীদের অন্যমনস্কতা খারাপ নহে। বরং ইহা তাহাদের চিন্তার গভীরতাকে প্রকাশ করে ! কিন্তু চিন্তা বেশি গভীর হইয়া যদি মননে জটিলতা তৈরী হয় তখনই পরিস্থিতি জটিল হইয়া পরে।

বুদ্ধিজীবী মননের জটিলতা লইয়াও অনেক জটিলতা আছে ! ইহারা সহজ জিনিসকে সহজে গ্রহণ করিতে পারেনা ! সহজ জিনিসের মধ্যেও জটিলতা না থাকিলে ইহাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না ! আইনস্টাইনের একটা কৌতুক প্রচলিত আছে !!

আইনস্টাইনের বউ একবার খুব সাজুগুজু করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন , বলতো আমাকে কেমন লাগিতেছে ?

আইনস্টাইন বলিলেন , tanC/sinC

বউ বলিলেন , মানে ?

আইনস্টাইন বলিলেন :
tanC/sinC
= (sinC/cosC )/sin C
= 1/cosC
= secC

(অংক সঠিক হইয়াছে কিনা জানা নাই ! শৈশবের অংক সব ভুলিয়া গিয়াছি , এমনকি লসাগু , কশাগু কিছুই মনে নাই ! ব্লগে কোন অঙ্কবিদ থাকিলে আওয়াজ দিয়েন !!)

আইনস্টাইন ইহা নিতান্তই মজা করিয়া বলিয়াছিলেন সন্দেহ নাই ! তবে তাহার চিন্তার গভীরতা ইহাতে চাপা থাকে না !!

কুটিকালে নিউটনরে লইয়াও একখানা কৌতুক শুনিয়াছিলাম ! তাহাকে নাকি কে একবার জিজ্ঞাসা করিয়াছিল তিন আর দুইয়ে কত হয় ! তিনি বিস্তর অংক কষিয়া জবাব দিয়াছিলেন পাঁচ এর একটু কম ! বলা বাহুল্য ইহা নিতান্তই কৌতুক ! মননের জটিলতার কারণেইতো ম্যাংগোপিপল যেখানে আপেল পড়িলে খাইতে শুরু করিবে , নিউটন উহা হইতে মাধ্যাকর্ষণের সূত্র বাহির করিতে বসিলেন !

যাহা হউক মনন জটিল হইলে বা ক্রিটিকাল থিংকার হইলে ভালো কিছু হইতে পারে, কিন্তু অতিমাত্রায় জটিল হইলে স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি রোহিত হইয়া যায় ! নিউটন অল্পকিছুকাল বিজ্ঞানসাধনা করিয়া বাকি জীবন উদ্ভট অতীন্দ্রিয়বাদ, আলকেমি লইয়া জীবন পার করিয়াছেন !!

৪। মননের জটিলতা যখন সীমা অতিক্রম করিয়া ফেলে মানুষ তখন বুদ্ধুজীবী হইয়া যায় ! সহজ জিনিস আর সহজে গ্রহণ করিতে পারেনা। গাধার মতন জল ঘোলা না করিয়া খাইতে পারে না।

যে জাতির পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ , মননের জটিলতা সীমা অতিক্রম করিলেই তাহাদের কে হাইজিন শিখিতে হয় এমন জাতি হইতে যাহারা দীর্ঘকাল গোসল কি জিনিস তাহাই জানিতোনা !

মননের জটিলতা সীমা অতিক্রম করিলেই কেবল খাওয়ার আগের সহজ সুন্নত হাত ধোয়া গ্রহণযোগ্য না হইয়া পশ্চিমা 'হাত ধোয়া ' কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য হইয়া থাকে !!

একই কারণে জাকাত/ছদকা গ্রহনযোগ্য , কার্যকর হিসেবে স্বীকৃতি না পাইয়া পশ্চিমা বিশ্বের সোশ্যাল সিকিউরিটি ,দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি মহান হইয়া থাকে !

পশ্চিমা বিশ্ব ককটেল না বানাইয়া দিলে টলটলে পানি আমাদের কাছে ভালো লাগে না , কাদা না মিশ্রিত করিলে উহা জাতে ওঠে না !!

৪. প্রাক ইসলামী যুগে সেই জমানার বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মী ,মহামতিগণ মিলিয়া 'হিলফুল ফুজুল' গঠন করিয়াছিলেন যাহাদের মধ্যে আমাদের রাসূল স. ও ছিলেন। তিনি তখনও নবি হন নাই। অথচ ইসলামের আবির্ভাবের পরে ইহাদের অধিকাংশেরই ইসলাম কবুলের সৌভাগ্য হয় নাই ! মননের জটিলতার কারণেই কিনা সহজ-সরল ইসলাম তাহাদের পছন্দ হয় নাই, কে জানে !

এতো জ্ঞানী আবুল হাকাম অহংকার ,জাত্যাভিমান আর মননের জটিলতার কারণেই কিনা হেদায়েত বঞ্চিত হইয়াছে, আবু জেহেলে পরিণত হইয়াছে জানিনা ! বদরের যুদ্ধে প্রতিপক্ষের সর্বাধিনায়ক ওৎবাকে স্বয়ং আল্লামা শিবলী নুমানী র. মহামতি বলিয়াছেন , যাহার হেদায়েত পাওয়ার সৌভাগ্য হয় নাই ! তাহার ছেলে সাহাবী হুজাইফা রা. বড় আশা করিয়াছিলেন তাহার মতন বুদ্ধিমান , মহৎপ্রাণ হেদায়েত পাইবেন , পান নাই।


৫. পক্ষান্তরে, যে আবু হুরাইরা রা. এতই সরল ছিলেন যে , প্রথমবার গমের আটা খাইয়া নিজের হাত দেখিতেছিলেন যে মোটা হইতেছেন কিনা ,কারণ শুনিয়াছিলেন গমের আটা খাইলে শরীর মোটা হয় , সেই তিনিই কিনা ইসলামের দৌলত পাইয়া আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস বনিয়া যান , একটি দেশের গভর্নর বনিয়া যান।

নিতান্তই কিশোরী আয়েশা রা. ইসলামের ছোয়ায় বিরাট পান্ডিত্য লাভ করেন।বড় ফকীহ বনিয়া যান।বড় বড় সাহাবী রা. তাহার কাছ হইতে ইলমী সমাধান লইতেন।

যে ওমর রা. ভেড়া গুনিয়া আনিতে ভুল করিতেন তিনিই কিনা ইসলামের স্পর্শে অর্ধজাহানের বাদশা বনিয়া যান।

তাহাদের সরলতা , সহজ বিষয় সহজে গ্রহণের যোগ্যতা তাহাদের ইসলাম কবুলে অগ্রগামী করিয়াছে (হেদায়েত অবশ্যই আল্লাহ্পাকের হাতে )।

৬। ব্লগের বুদ্ধিজীবীদের ভিড়ে মাঝে মাঝে মনে হয় ,আমিও কি বুদ্ধিজীবী হইতেছি নাকি !! আল্লাহর পানাহ !! আমিতো বনের রাজা টারজানের মতন সহজ সরলই থাকিতে চাই , চাই মননের জটিলতা যেন সহজকে , সরলকে গ্রহণ করিতে বাধা না হয় ! পানিকে পানি হিসেবেই পান করিতে চাই ,ককটেল নহে !! সরল রেলপথ ধরিয়া গন্তব্যে পৌঁছিতে চাই , আঁকাবাঁকা নদীপথে নহে !!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৩৮
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

» গ্রামের ছবি, মায়া জড়িয়ে আছে যেখানে (মোবাইলগ্রাফী-৩৫)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৫০

গ্রামের তরতাজা ফল দেখলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। যখন ভাবি ঢাকায় এসে ফরমালিনে মাখানো ফল খেতে হবে এবঙ বাচ্চাদের খাওয়াতে হবে।



গ্রাম আমার ভালোবাসার জিনিস। গ্রাম ভালোবাসি। গ্রামেই বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বাবা"

লিখেছেন , ২৫ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২১


ঈশ্বর,
পাহাড়ের কাছ থেকে নিলেন সহস্র বছরের 'কঠিনতম দৃঢ়তা',
গাছের কাছ থেকে নিলেন,গীস্মের তীব্র দাবদাহে নির্মল ছায়াময় 'মহানুভবতা',
শান্ত নদীর কাছ থেকে নিলেন চির-বহমান 'স্থিরতা'
প্রকৃতির কাছ থেকে নিলেন 'সুনির্মিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে

লিখেছেন আরোগ্য, ২৫ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৩

]



বিশ্বের অন্যতম কিংবদন্তি পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন সম্বন্ধে নতুন করে বলার কিছুই নেই। পঞ্চাশ বছর বয়সেই পরপারে পাড়ি জমান আর আজ দশ বছর হয়ে গেল। বেশি কিছু বলবো না শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অর্থাৎ দেশে ফিরছি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৫ শে জুন, ২০১৯ রাত ১০:৩৮



ফ্লাইটের আগে বুকে এক ধরনের শুণ্যতা অনুভব করি, খাবার খাওয়া তো দুরে থাকুক পানিও খেতে পারি না, মনে হয় এটিই আমার জীবনের প্রথম ফ্লাইট! এই হয়তো ফ্লাইট মিস হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম সাধারণ মানুষকে নির্দয় ও বিভক্ত করছে ক্রমেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:৩৫



গত সপ্তাহে, ভারতের ঝাড়খন্ডে এক মুসলিম তরুণকে পিটিয়ে ভয়ংকরভাবে আহত করেছিল কিছু সাধারণ মানুষ; আহত হওয়ার ৪ দিন পর তার মৃত্যু হয়েছে; তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে মটর সাইকেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×