somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দলবাজি, তৈলবাজিরে হ্যা বলুন !!! (দলবাজ, তৈলবাজ ব্লগারদের প্রতি উৎসর্গিত !)

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। সাহেব ও মোসাহেব

---- কাজী নজরুল ইসলাম।


সাহেব কহেন, “চমৎকার! সে চমৎকার!”
মোসাহেব বলে, “চমৎকার সে হতেই হবে যে!
হুজুরের মতে অমত কার?”

সাহেব কহেন, “কী চমৎকার,
বলতেই দাও, আহা হা!”
মোসাহেব বলে, “হুজুরের কথা শুনেই বুঝেছি,
বাহাহা বাহাহা বাহাহা!”

সাহেব কহেন, “কথাটা কি জান? সেদিন -”
মোসাহেব বলে, “জানি না আবার?
ঐ যে, কি বলে, যেদিন -”

সাহেব কহেন, “সেদিন বিকেলে
বৃষ্টিটা ছিল স্বল্প।”
মোসাহেব বলে, “আহা হা, শুনেছ?
কিবা অপরুপ গল্প!”

সাহেব কহেন, “আরে ম’লো! আগে
বলতেই দাও গোড়াটা!”
মোসাহেব বলে, “আহা-হা গোড়াটা! হুজুরের গোড়া!
এই, চুপ, চুপ ছোঁড়াটা!”

সাহেব কহেন, “কি বলছিলাম,
গোলমালে গেল গুলায়ে!”
মোসাহেব বলে, “হুজুরের মাথা! গুলাতেই হবে।
দিব কি হস্ত বুলায়ে?”

সাহেব কহেন, “শোনো না! সেদিন
সূর্য্য উঠেছে সকালে!”
মোসাহেব বলে, “সকালে সূর্য্য? আমরা কিন্তু
দেখি না কাঁদিলে কোঁকালে!”

সাহেব কহেন, “ভাবিলাম, যাই,
আসি খানিকটা বেড়ায়ে,”
মোসাহেব বলে, “অমন সকাল! যাবে কোথা বাবা,
হুজুরের চোখ এড়ায়ে!”

সাহেব কহেন, “হ’ল না বেড়ানো,
ঘরেই রহিনু বসিয়া!”
মোসাহেব বলে, “আগেই বলেছি! হুজুর কি চাষা,
বেড়াবেন হাল চষিয়া?”

সাহেব কহেন, “বসিয়া বসিয়া
পড়েছি কখন ঝিমায়ে!”
মোসাহেব বলে, “এই চুপ সব! হুজুর ঝিমান!
পাখা কর, ডাক নিমাইএ”

সাহেব কহেন, “ঝিমাইনি, কই
এই ত জেগেই রয়েছি!”
মোসাহেব বলে, “হুজুর জেগেই রয়েছেন, তা
আগেই সবারে কয়েছি!”

সাহেব কহেন, “জাগিয়া দেখিনু, জুটিয়াছে যত
হনুমান আর অপদেব!”
“হুজুরের চোখ, যাবে কোথা বাবা?”
প্রণামিয়া কয় মোসাহেব।।



২। দলবাজি আর তৈলবাজিরে যাহারা নিন্দনীয় বলেন , আমি তাহাদের দলে নহে। ইহা যে এক বিশেষ যোগ্যতা তাহা না মানিতে চাহিলেও নিজ্যস সইত্য ! আমার পিতাজির কাছে একখানা গল্প প্রায়ই শুনিতাম। তাহার এক কলিগ নাকি তাহার বসের কাছে গিয়া ব্যাফক তৈল মর্দন শেষে বৃহদাকারের ইলিশ মাছ উপহার দিয়া বলিয়াছিলেন, স্যার, ইহা আমাদের বাড়ির পুকুরের ইলিশ মাছ !! হে হে হে !

স্যার নিশ্চয়ই বুঝিয়াছিলেন ইহা নিজ্যস তৈল মর্দন , কারণ কে না জানে , ইলিশ পুকুরে হয় না , মাগার বুঝিলেও না বোঝার ভান করাই লাভজনক ! কারণ আর কিছু নহে , নগদ যা পাও , হাত পেতে নাও , নইলে নগদ নারায়ণ হাতছাড়া হইয়া যায় ! তো , স্যার পুকুরের ইলিশ মাছ সকৃতজ্ঞ চিত্তে গ্রহণ করিয়া কৃতার্থ করিলেন ! তাহার কাজ হইয়াছিল কিনা তাহা জানিনা !



তৈলবাজি যে এক শিল্প ইহা কে অস্বীকার করিবে ?
এরশাদের আমলে যখন বিটিভি ছিল সাহেব-বিবি-গোলামের বাক্স তখনকার এক স্মৃতি খুব মনে আছে। শাহঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তাহার বিচিত্র ভঙ্গিমায় লাফাইয়া লাফাইয়া ভাষণ দিতেছেন (পড়ুন তৈল দিতেছেন !) , ক্যামেরা মাঝে মাঝে ঘুরিয়া এরশাদ কাহুর মুখে ফোকাস করিতেছে ! দেখিলাম, শাহ মোয়াজ্জেমের ব্যাফুক তৈল মর্দনে কাহু মুচকি মুচকি হাসি দিতেছে ! ইহা দেখিয়া আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মিল , কাহু একখানা আল্লাহর মাল ! হেতে ঠিকই বুঝে কে তাহারে কিসের জন্য কতটুকু তৈল মর্দন করিতেছে !



দলবাজি, তৈলবাজিতে কোথায় কাজ হয় না বলুন দেখি ! বরং বলুন ইহা ছাড়া কোথায় কাজ হয় ?

দেশের শীর্ষস্থানীয় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের কথা শুনিয়াছিলাম, তিনি কিভাবে শিক্ষক হইলেন ! তিনি তাহার ক্ষমতাশালী শিক্ষকের বাসার বাজার করিতেন , আন্ডা -বাচ্চা পড়াইতেন , মায় সময়কালে জুতাও বহন করিতেন (ওস্তাদের জুতা বহন করাও সৌভাগ্যের বিষয় যদি প্রকৃতই ওস্তাদ হন, প্রকৃতই শ্রদ্ধা থাকে ! আমাদের সাধারণ শিক্ষা পদ্ধতিতে এই সংষ্কৃতি নাই যদিও। ) ! দলবাজি , তৈলবাজিতে কি না হয় , তিনি শিক্ষক হইতে পারিয়াছিলেন !

তৈল মর্দনের ইতিহাসে ইথিওপিয়ার সম্রাট হাইলে সেলাসির নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকিবে ! তাহার দরবারের তৈলবাজেরা কতখানি দক্ষ তাহা একবার পরীক্ষা করিবার ইচ্ছা তাহার হইলো ! একদা তিনি দরবারের জোতির্বিদদের ডাকিয়া সূর্যোদয়ের ক্ষণ গণনা করিতে বলিলেন। তাহারা বিস্তর আঁকিবুকি কাটিয়া গণনা করিয়া কাঙ্ক্ষিত ক্ষণ বাহির করিল সকাল ৫ টা ১৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড !

সম্রাট কহিলেন, ভালো করিয়া গণনা করিয়াছ কি , ভুল হয় নাই তো ?

সম্রাট, এই গণনা একদম নিখুঁত, আমরা যাচাই করিয়া দেখিয়াছি !

কিন্তু, আমি যে আরো ৩ মিনিট আগে সূর্য উঠিবে বলিয়া জানিতাম, সম্রাট কহিলেন !

জোতির্বিদেরা একটুও ঘাবড়াইলেন না , বলিলেন , মহামান্য সম্রাট , আমরা তাহা হইলে পুনরায় গণনা করিয়া দেখিব ! সম্রাটের জানা ভুল হইতে পারে না !

অতঃপর তাহারা আবার গণনা করিলেন, আঁক কষিলেন। অবশেষে অংক মিলাইয়া সম্রাটকে কহিলেন , মহামান্য সম্রাট, আমাদেরই ভুল হইয়াছে ! সূর্য আসলেই ৩ মিনিট আগে উদয় হইবে !

সম্রাট হাসিলেন ! কহিলেন , আজ আমি ইতিহাসে নাম লেখাইলাম , সম্রাট হাইলে সেলাসি সূর্যকেও তিন মিনিট আগে উঠাইতে পারিতেন !

যে তৈলবাজি এমন অসম্ভবকে সম্ভব করিতে পারে তাহাকে আপনারা নিন্দনীয় কেমনে কহিতে পারেন ?



জানিয়া বুঝিয়াও নেতা -নেত্রী-বসেরা কেন তৈল মর্দন পছন্দ করেন ইহার কারণ অনুসন্ধান করিয়া দেখিলাম ইহা একখানা বিশেষ যোগ্যতা ! ইহাতে মানুষের মধ্যে পানের বোটার মতন যোগ্যতা পয়দা হয় ! নেতা-নেত্রী-বস মায় শিক্ষকদের কাঠিন্য দূর করিতে তৈল মর্দন পানের বোটার চেয়েও অধিক কার্যকর ! ইহার মাধ্যমেই ধান্দাবাজেরা কঠিন বাধাকে কে নরম করিয়া তাহাদের স্বার্থ উদ্ধার করিয়া আনে !

আরেকখানা কারণ হইতে পারে, দলবাজ-তৈলবাজদের ধান্দাবাজির গুন্। দলবাজি-তৈলবাজি আসলে ধান্দাবাজি হইতে আসে। আর কে না জানে ধান্দাবাজেরাই সবচেয়ে পরিশ্রমী, কর্মঠ হইয়া থাকে ! তাই ইহাদের কাজে লাগাইয়া নিজের আখের গোছানোর জন্য নেতা-নেত্রী-বসেরা দলবাজ-তৈলবাজদের প্রতিপালন করেন !

সুতরাং দলবাজি-তৈলবাজিকে হ্যা বলুন !

সকলে বর্জ (বজ্র নহে) কণ্ঠে আওয়াজ তুলুন , দলবাজি আর তৈলবাজি নিন্দনীয় নহে, বরং অত্যাবশ্যকীয় যোগ্যতা !

দলবাজি আর তৈলবাজিকে স্কুল , কলেজ , বিশ্ববিদ্যালয়ের কাররিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হউক !!!!




সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:১২
৩৬টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

» গ্রামের ছবি, মায়া জড়িয়ে আছে যেখানে (মোবাইলগ্রাফী-৩৫)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৫০

গ্রামের তরতাজা ফল দেখলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। যখন ভাবি ঢাকায় এসে ফরমালিনে মাখানো ফল খেতে হবে এবঙ বাচ্চাদের খাওয়াতে হবে।



গ্রাম আমার ভালোবাসার জিনিস। গ্রাম ভালোবাসি। গ্রামেই বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বাবা"

লিখেছেন , ২৫ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২১


ঈশ্বর,
পাহাড়ের কাছ থেকে নিলেন সহস্র বছরের 'কঠিনতম দৃঢ়তা',
গাছের কাছ থেকে নিলেন,গীস্মের তীব্র দাবদাহে নির্মল ছায়াময় 'মহানুভবতা',
শান্ত নদীর কাছ থেকে নিলেন চির-বহমান 'স্থিরতা'
প্রকৃতির কাছ থেকে নিলেন 'সুনির্মিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে

লিখেছেন আরোগ্য, ২৫ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৩

]



বিশ্বের অন্যতম কিংবদন্তি পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন সম্বন্ধে নতুন করে বলার কিছুই নেই। পঞ্চাশ বছর বয়সেই পরপারে পাড়ি জমান আর আজ দশ বছর হয়ে গেল। বেশি কিছু বলবো না শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অর্থাৎ দেশে ফিরছি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৫ শে জুন, ২০১৯ রাত ১০:৩৮



ফ্লাইটের আগে বুকে এক ধরনের শুণ্যতা অনুভব করি, খাবার খাওয়া তো দুরে থাকুক পানিও খেতে পারি না, মনে হয় এটিই আমার জীবনের প্রথম ফ্লাইট! এই হয়তো ফ্লাইট মিস হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম সাধারণ মানুষকে নির্দয় ও বিভক্ত করছে ক্রমেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:৩৫



গত সপ্তাহে, ভারতের ঝাড়খন্ডে এক মুসলিম তরুণকে পিটিয়ে ভয়ংকরভাবে আহত করেছিল কিছু সাধারণ মানুষ; আহত হওয়ার ৪ দিন পর তার মৃত্যু হয়েছে; তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে মটর সাইকেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×