somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম কি আসলেই সকল অধর্মের মূল?

২৭ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগে বেশ কিছুকাল ধরিয়া ধর্মে এলার্জি লইয়া কিছু পোস্ট ঝুলিতেছে ! ইহাদের মূল বক্তব্য হইলো ব্লগে ধর্ম লইয়া আলোচনা উচিত নহে , ধর্ম লইয়া আলোচনা আসিলে উহাও সমালোচনা , প্রশ্নের সম্মুখীন হইবে , এবং তাহাও ব্লগারদের মানিয়া নেওয়া উচিত বলিয়া কেহ কেহ মত প্রকাশ করেন ! কিছু মাছি মারা কেরানি , সহমত ভাই/ভইন ইহার সমর্থনে মন্তব্যও করেন ! ধর্মীয় বিষয়ে পোস্ট দিয়া ব্লগাররা নাকি ধর্মকেই সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানাইতেছে ! তাই ধর্মকে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হইতে বাচাইতে হইলে ব্লগে ধর্ম লইয়া পোস্ট দেওয়া উচিত নহে !! সত্যি সেলুকাস , আমি তো মাননীয় স্পিকার হইয়া গেলাম !!

নিছক ধর্মীয় মাছালা লইয়া কচলাকচলি আমারও পছন্দ নহে ! কারণ বেশির ভাগ ব্লগারের ধর্মীয় বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নাই, এমনকি সাধারণ জ্ঞানেরও অভাব রহিয়াছে ! আর ধর্মীয় বিধান লইয়া কচলাকচলি তো এমনিতেও নিষেধ ! তারউফরে, ধর্মীয় বিষয়ে প্রাইমারি ইস্কুলের জ্ঞান লইয়া যেইসব বিশেষ অজ্ঞ পোস্ট আর মন্তব্য প্রকাশ পায় উহাকে কেবল অকাল গর্ভপাতের সাথেই তুলনা করা যাইতে পারে !!

যাহা হউক , প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের আকাম-কুকাম বিশেষ করিয়া মুসলমানদের উপরে সাম্প্রদায়িক হামলা , হত্যা , নির্যাতন আমাদের গনমানসেও প্রভাব ফেলে বৈকি ! এবং উহার প্রেক্ষিতে ব্লগে পোস্টও প্রসব হইতে দেখা যায় ! মাগার আশ্চর্যজনক বিষয় হইলো এইসব আকাম-কুকামে যাহারা জড়িত তাহাদের দিকে আঙ্গুলি তাগ না করিয়া ধর্মের দিকেই কামান দাগা হইতেছে ! বেচারা ভিকটিম যদি ধর্মাবলম্বী না হইয়া পাঁঠা হইতো তাহা হইলে পাঁঠাগিরিও কি অধর্মের মূল হইতো ?

ভূমিকা ছাড়িয়া এবার মূল আলোচনায় আসি 'ধর্মই যাবতীয় অধর্মের মূল, অশান্তির মূল' এই আপ্তবাক্য নতুন নহে ! পাঁঠারা ইহা বহুকাল আগে হইতেই বলিয়া আসিতেছে ! তাহাদের উদ্দেশ্য কি তাহাও অস্পষ্ট নহে ! কিন্তু ইতিহাস কি বলিতেছে ? ধর্মই অধর্মের মূল , নাকি অধর্মই অধর্মের মূল কারণ ?

সভ্যতার ইতিহাস অনেক পুরাতন হইলেও প্রামাণ্য ইতিহাস খুব পুরাতন নহে ! সভ্যতার ইতিহাসের সাথে ধর্মের ইতিহাসও জড়িত। ধর্মের বিরোধিতার ইতিহাস পূর্বে বিচ্ছিন্ন হইলেও মূলত রেনেসাঁর পর হইতেই জোরেশোরে শুরু হয়। ধর্মকে একপাশে রাখিয়া সেকুলারিজম , আরও পরে ধর্ম বিরোধী কম্যুনিজম শুরু হয় ! মূলত ইহার পর হইতেই পাঁঠা সম্প্রদায়ের ধর্মে খাউজানী প্রকাশ্যে আসে ! বাস্তবে ধর্ম অনুসারীরা হাজার হাজার বছর ধইরা যে পরিমান আকাম-কুকাম করিয়াছে, সেকুলার ও ধর্মবিরোধীরা খুব অল্প সময়েই তাহাদের অতিক্রম করিয়া আকাম-কুকাম রে বহুগুনে বর্ধিত করিয়া বিপ্লব ঘটাইয়া ফেলিয়াছে ! তাহাদের এই বিপ্লবের ফলাফল আমরা আজও ভুগিতেছি !!

প্রথম মহাযুদ্ধ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, স্তালিনের শাসনকাল, মাও জে দঙের শাসনকাল, কোরিয়া যুদ্ধ , ইরাক, আফগানিস্তান যুদ্ধ , ভিয়েতনামের যুদ্ধ, আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন যুদ্ধ সহ আজও যেসব যুদ্ধ হইতেছে উহা ধর্মযুদ্ধ নহে ! এগুলো সবই সেকুলার, ধর্ম বিরোধীদের স্বার্থ যুদ্ধ ! ধর্ম এখন আর বেশিরভাগ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নাই ! বেশিরভাগ শাসনত্রন্ত্রই তো সেকুলার মতবাদেই তৈরী ! তাহা হইলে যুদ্ধ সহ সকল আকাম-কুকামের দায় ধর্মের ঘাড়ে চাপানো কেন ? 'কেষ্টা বেটাই চোর' আর কতকাল চলিবে ? মাথা ব্যাথার কারণে মাথা কাটিয়া ফেলার এই আজব প্রেসক্রিপশন আর কতকাল চলিবে ? এইসব চালুনি, সুঁইয়ের পশ্চাৎদেশের ফুটো আর কতকাল খুঁজিবে ?

এইসব লেজকাটা শেয়াল আমাদেরকেও লেজ কাটিতে আহবান করিতেছে !!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:০৬
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১১১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২২



দুটি হাঁসের পিছনে একটি হাঁস, দুটি হাঁসের সামনে একটি হাঁস, এবং দুটি হাঁসের মাঝখানে একটি হাঁস। মোট ক’টি হাঁস রয়েছে?

১। লোকে যে কেন বসন্তের গুনগান করে বুঝতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোয়াবিয়া ছিল সত্যদ্রোহী, হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণীত

লিখেছেন রাসেল সরকার, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩৩




عن أَبِي سَعِيدٍ الخدري ، قَالَ: " كُنَّا نَحْمِلُ لَبِنَةً لَبِنَةً وَعَمَّارٌ لَبِنَتَيْنِ لَبِنَتَيْنِ ، فَرَآهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَنْفُضُ التُّرَابَ عَنْهُ ، وَيَقُولُ: وَيْحَ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাড়ীর সবকিছু এক নম্বর শুধু ব্রেকটা একটু নড়বড়ে!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০২




দলের ভিতর শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযান দেখে উপরের শিরোনামটি মনে পড়ল, ভাল কিছু করতে হলে আগে নৈতিক স্বচ্ছতা থাকতে হয় তাহলে মানুষ মন থেকে নিবে।
ছাত্রলীগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি রক্তাক্ত লাল পদ্ম

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪


সেল ফোনটা বেজেই চলেছে ।বিরক্ত হয়ে ফোনটা তুললাম। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে বলে নাম্বারটা না দেখেই চেঁচিয়ে বললাম ।
-এই কে ?
- আমি ।
মিষ্টি একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবাই যদি দেশকে ভালোবাসে, এত ভালোবাসা যায় কোথায়?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৮



সবাই ভালোবাসা চায়, সবাই ভালোবাসতে চায়, নারীরা হয়তো একটু বেশী চান, এটাই প্রকৃতির নিয়ম! কোন দেশ তার নাগরিকের কাছে কোনদিন ভালোবাসা চাইতে আমি শুনিনি; বিশেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×