somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

!!!ঠিক এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের সামরিকায়নের প্রয়োজনীয়তা !!!

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. “The best offense is a good defense, but a bad defense is offensive.”

― Gene Wolfe, The Urth of the New Sun

"Offence is the best defense" এই আপ্তবাক্যটি কাহার ইহা খুঁজিতে গিয়া উপরোক্ত বাক্য পাইলাম ! আমার ধারণা ছিল ইহা হিটলারের বাণী হইবে ! খুঁজিতে গিয়া পাইলাম এই নীতির প্রারম্ভ আজিকের নহে ! বহুকাল আগে হইতেই ! সান ঝুর সামরিক কৌশলের মধ্যেও ইহা বিদ্যমান। সান ঝু চৈনিক সামরিক কৌশলবিদ হইলেও , খোদ চিনই তাহার কৌশল প্রয়োগ করে না। রাষ্ট্রের সামরিকায়নে অবহেলা করায় চীনকে ভুগিতে হইয়াছে বহুকাল ! বিশাল রাষ্ট্র , ব্যাপক জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও সামরিকায়নে অবহেলা করার কারণে আকারে , লোকসংখ্যায় লিলিপুট কিন্তু সামরিক শক্তিতে সেই সময়কার গালিভার ব্রিটেনের কাছে ন্যাক্কারজনক পরাজয় বরণ করিতে হয় , ১০০ বছরের জন্য হারাইতে হয় হংকংকে।ক্ষুদ্র জাপানের কাছে ইয়ে মারা খাইতে হইয়াছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেও ! কোরীয় যুদ্ধে, ভিয়েতনাম যুদ্ধেও অবস্থা লেজেগোবরে ! তাই রাষ্ট্রের সামরিকায়নে অবহেলা বিপদজনক বটে !

২. দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে পোল্যান্ড ছিল প্রবল পরাশক্তি জার্মান , উঠতি পরাশক্তি রাশিয়ার মাঝে কাবাব মে হাড্ডির মতন ! দুই প্রবল পরাশক্তির মাঝে দৃশ্যত পোল্যান্ডের মারা খাওয়া ছাড়া কিছুই করার ছিল না ! কিন্তু পোল্যান্ডের আয়তন ও লোকসংখ্যা জাপানের চেয়ে কম ছিল না ! পোল্যান্ড যদি সামরিকায়নে জাপানের মতন গুরুত্ব দিতো, জাপানের মতন সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হইতো তাহা হইলে ইতিহাস ভিন্ন হওয়ারই সম্ভাবনা ছিল ! না হওয়ার কারণে বানরের রুটি ভাগ করার মতন হিটলার আর স্তালিন পোল্যান্ডকে ভাগ করিয়া নেয় ! হোগা পাতিয়া দিয়া চাইয়া থাকন ছাড়া পোল্যান্ডের আর কিছুই করার ছিল না !

সোভিয়েত হইতে স্বাধীন হইবার পরে ইউক্রেন জোর দেয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ! রাষ্ট্রের সামরিকায়নে অবহেলা করিয়া , এমনকি পরমাণু অস্ত্রও রাশিয়ার হাতে তুলিয়া দিয়া নিজেরে ধজঃভঙ্গ বানাইয়া উন্নয়নের রাস্তায় উঠিবার আত্মঘাতী সিদ্ধান্তই তাহাদের নীতি হইয়া দাঁড়াইয়াছিল ! তাহাদের আশা ছিল ন্যাটো তাহাদের নিরাপত্তা দিবে ! বাস্তবে নিজের ইয়ে না দাড়াইলে জাতীয় সংগীতেও কাজ হয় না, ইউক্রেনের তাহা জানা ছিল না ! ফলশ্রুতিতে ক্রিমিয়া হারাইয়া খেসারত দিতে হইয়াছে ! চাইয়া থাকাই সার !

৩. ক্ষুদ্র রাষ্ট্র তাইওয়ান , প্রবল প্রতিপক্ষ চীনের বিপক্ষে টিকিয়া আছে শুধুই আমেরিকার জোরে নহে ! তাহাদের রাষ্ট্রের সামরিকায়ন চোখে পড়ার মতন। নিজেদেরকে অস্ত্রসজ্জিত করার প্রচেষ্টা তাহাদের প্রতিনিয়ত। তাই নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হইয়াও তাইওয়ানকে খাইয়া হজম করার সাহস চীনের এখনো হয় নাই ! ক্ষুদ্র রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া , পরাশক্তি মেরিকার হম্বি -তম্বিতেও টিকিয়া আছে সামরিকায়নের জোরেই ! আমাদের এতো ঘৃণার রাষ্ট্র পাকিস্তানও আগ্রাসী, আকাম-কুকামে অভ্যস্ত ভারতের বিরুদ্ধে টিকিয়া আছে , সমানতালে জবাব দিতেছে সামরিকায়নের জোরেই। ফ্যানাটিক রাষ্ট্র ইরানও টিকিয়া আছে সামরিকায়নের কারণেই। কামড় দেওয়ার শক্তি না থাকিলে ইরাকের মতন অনেক আগেই হজম হইয়া যাইতো !

৪. আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি হইলো "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কাহারো সাথে শত্রুতা নয়" ! সম্ভবত বঙ্গবন্ধু সরকার এই নীতি প্রণয়ন করিয়াছিলেন ! নীতি হিসেবে অবশ্যই সমর্থন যোগ্য বরং বলা চলে খুবই চমৎকার ! গুরুতর কারণ না থাকিলে রাষ্ট্র কখনো ঢাক-ঢোল পিটাইয়া কাহাকেও শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে না। বরং সামরিক নীতিতে সকল রাষ্ট্রকেই শত্রু হিসেবে বিবেচনা করিয়া সামরিক নীতি , কৌশল প্রণয়ন করা হয় ! হিটলার ব্রিটেন, ফ্রাঞ্চ বা সোভিয়েতকে যুদ্ধ না লাগা পর্যন্ত শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে নাই , সামরিক নীতি , কৌশলেও ইহা বলে নাই , তবে প্রস্তুতি ঠিকই নিয়াছিলো, সামরিকায়নে জোর দিয়াছিল। তাই যুদ্ধ লাগার অল্প দিন পরেই দুর্ভেদ্য ম্যাজিনো লাইন অতিক্রম করিয়া ফ্রাঞ্চ দখল করিতে কষ্ট হয় নাই ! পরাশক্তি ব্রিটেনের সাথে প্রবল বিক্রমে যুদ্ধ করিতে সামর্থ এমনি এমনি হয় নাই ! যথার্থ সামরিকায়ন তাহার এই দুঃস্বাহসে ইন্ধন জোগাইয়াছে ! ভিমরুলের চাকে ঢিল না মারিলে বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ভিন্নও হইতে পারিত। একজন বিখ্যাত সমরবিদ বলিয়াই ফেলিয়াছিলেন , জার্মানিকে আমরা হারাইয়াছিলাম ১০ গুন্ বেশি সংখ্যা দিয়া , সমরশক্তি দিয়া !

৫. রাষ্ট্রের কোন চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু হয় না ! আজ যে শত্রু বা বন্ধু , কাল সে বন্ধু বা শত্রু হইতে পারে , ইহাই নিয়ম ! তাই রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ভিত্তি হইতে পারে না সে যত বড় পরাশক্তি বা পাতিশক্তি হউক না কেন ! ইউক্রেন ন্যাটোর উপর নির্ভর করিয়া মারা খাইয়াছে , ফ্রাঞ্চ ব্রিটেনের উপর নির্ভর করিয়া মারা খাইয়াছিলো ! তাই হালের রাষ্ট্র গুলো নিজেদের সামরিকায়নে ত্রুটি করিতেছে না ! সারা বিশ্বেই সামরিকায়ন চলিতেছে। সামরিক , অর্থনৈতিক জোট গঠনের সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্রগুলো তৎপর হইতেছে। শান্তিবাদী জাপান , জার্মানি নিজেদের সামরিকায়ন করিতেছে। জনগণ না খাইয়া থাকিলেও , জঙ্গলে হাগিলেও আমাদের চারপাশের ভারত, পাকিস্তান, এমনকি বার্মাও সামরিকায়নে চূড়ান্ত করিতেছে। শান্তিবাদীদের শান্তির বাণী দিয়া ইহারা ইয়ে মুছিতেছে !

৬. পুঁজিবাদ , গণতন্ত্র, কম্যুনিজম সকলি সাম্রাজ্যবাদীদের সাম্রাজ্য বিস্তারের হাতিয়ার।কম্যুনিজমের মৃত্যু হইয়াছে , কিন্তু পুঁজিবাদ রহিয়া গিয়াছে ! সাম্রাজ্য বিস্তার , বাজার দখল , নিজেদের প্রভাব বজায় রাখা , সম্ভাব্য পরাশক্তি , পাতিশক্তিগুলোকে বাধা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন! ধজঃভঙ্গ শান্তিবাদীরা ছাড়া সকলেই ইহা উপলব্ধি করিতেছে। তাই সারা বিশ্বের সামরিকায়ন এক অনিবার্য বিষয়! যেকোন মুহূর্তেই কুত্তা কামড়া-কামড়ি লাগিয়া যাইবে! আর এই কামড়াকামড়িতে শক্তিমানেরাই টিকিয়া থাকিবে, দুর্বলদের ছলে বলে কৌশলে খাইয়া ফেলিবে! মূল্যবান প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান, রাজনৈতিক অনৈক্য, দুর্বল প্রতিরক্ষা, সামরিকায়নের অভাব ও জাতি হিসেবে মুসলমানদের উপর গণহত্যা, নির্যাতন, ভূখণ্ড দখলের বিশ্বব্যাপী অলিখিত বৈধতা মুসলমান রাষ্ট্র ও জনগোষ্ঠীগুলোকে সবচাইতে ঝুঁকিতে ফেলিয়াছে। বাংলাদেশও ইহার বাহিরে নহে! তাই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি, কারণ আগুনের সামনে শান্তির বাণী চলে না , পাগলা কুকুর কাহাকেও বাছ-বিচার করে না , সাপ-বিচ্ছু বিনা দোষেও দংশন করিয়া থাকে ! তাই পানির ব্যবস্থা রাখা, হাতে লাঠি রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ! শান্তিবাদীদের মতন পাতিয়া দেওয়া নহে!

৭. ভৌগোলিক কারণেই বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ! পরাশক্তি চীন ও পাতিশক্তি ভারতের মাঝখানে বাংলাদেশ ও বার্মার অবস্থান স্যান্ডউইচের মধ্যে সবজি, মাংসের মতন ! বার্মা চীনের মাইনকা চিপার আশ্রয়ে বহুকাল হইতেই ! বাংলাদেশ লইয়া পরাশক্তি ও পাতিশক্তির মধ্যে টানাটানি আছে ! সরকারকে প্রশংসা করিতেই হয় , তাহারা এই দুই শক্তির মাঝে দক্ষতার সাথে ব্যালান্স গেম খেলিতেছে। কিন্তু রাজনীতি ও কূটনীতিতে শেষ কথা বলিয়া কিছু নেই। এই গেম খুব বেশিদিন খেলা যাইবে বলিয়া মনে হয় না ! ব্লগার বোমক্যাশবাবু তাহার এক লেখায় দেখাইয়াছিলেন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ! এই দুই শক্তি যদি দৈরথে নামে তাহা হইলে সামরিক প্রয়োজনেই বাংলাদেশের ভূখণ্ড তাহাদের প্রয়োজন হইবে ! বিশেষ করিয়া বাংলাদেশের ভূখণ্ড দিয়া ভারতের সেভেন সিস্টার্স আলাদা করা যেহেতু সামরিক কৌশলে লোভনীয় তাই ভারত-চীন যুদ্ধ বাঁধিলে উহা ভারতের নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ হইবে ! একারণে যুদ্ধ বাঁধিলে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই সৈন্য , অস্ত্রশস্ত্র চলাচল , সেভেন সিস্টার্সের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ভারতের লাগিবেই ! চীন , ভারত উভয়েরই সামরিক কৌশলে নিশ্চয়ই এই বিষয়টা আছে ! নেপালকে কব্জা করিতে পারিলে চীনের জন্য সামনে থাকে শুধু বাংলাদেশ। তাই ভারত , চীন উভয়ের কাছেই বাংলাদেশ ,নেপাল সামরিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ! রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণে পরাশক্তি বা পাতিশক্তির সাথে যদি সম্পর্ক খারাপ হইয়া যায়, বাংলাদেশের বিপদের আশংকা উড়াইয়া দেওয়া যায় না। আপনারা বলিতে পারেন আন্তর্জাতিক শক্তি ইহা মানিয়া লইবে না ! মনে রাখিতে হইবে , আন্তর্জাতিক রাজনীতি , সমর্থন সবসময় শক্তিমানের পক্ষে ! রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করিয়াছে , ইহাতে রাশিয়ার খুব বেশি কিছু হয় নাই ! আন্তর্জাতিক শক্তি তাহার হিন্দি চুলও ছিঁড়িতে পারে নাই ! সামরিক প্রয়োজনে হিটলারও ইউরোপের ছোট ছোট রাষ্ট্র অধিকার করিয়া লইয়াছিল ! বিশ্বযুদ্ধ বাধাইয়া তাহাকে থামাইতে হইয়াছে। এই ঝুঁকি আর আন্তর্জাতিক শক্তি লইবে না। বরং গাঁইগুঁই করিয়া মানিয়া লইবে। আর মুসলিম রাষ্ট্র হইলেতো কথাই নাই ! সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কথা বলিয়া দখল করা , মাইনকা চিপার তলায় লওয়া খুবই সহজ ! অন্যরাও কিছু বলিতে পারিবে না , কারণ সবার হাতই মুসলমানের রক্তে রঞ্জিত ! মেরিকার আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাকে; রাশিয়ার চেচনিয়া, সিরিয়াতে , চীনের উইঘুরে , ব্রিটেনের ইরাকে , ফ্রাঞ্চের আফ্রিকাতে , ভারতের কাশ্মীরে ! সুতরাং বাংলাদেশে প্রেক্ষাপট তৈরী করিয়া আগ্রাসন হইলে কাহারও কিছু বলার মুখ নাই ! বরং চিল্লাচিল্লি করিতে পারে আমারেও কিছু ভাগ দাও ! হাড্ডির টুকরা পাইলেই থামিয়া যাইবে !
তাছাড়া সাম্প্রতিক কাশ্মীরের আর্তনাদ আমাদের কানে পৌছাইতেছে বটে , তাহাদের রক্ত ,লাশ আমাদের কাছে পৌছাইতেছে না ! তাই আমরা বলিতে পারিতেছি ইহা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় (হায় ! ৭১ এ ভারত যদি বলিত, পূর্ব পাকিস্তানের হত্যা , নির্যাতন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় তাহা হইলে কি অবস্থা হইতো ?) কিন্তু আসামের রক্ত আর লাশ যখন আমাদের কাছে পৌঁছিবে তখন আর অভ্যন্তরীণ বিষয় বলিয়া উহা উপেক্ষা করা যাইবে না , যেমন যায় নাই রোহিঙ্গাদের রক্ত আর লাশ পৌঁছানোর পরে !


৮. এহেন প্রয়োজনে দেশের সামরিকায়ন খুবই গুরুত্ব রাখে। রাজনৈতিক চেতনা যাহাই হউক না কেন দেশের নিরাপত্তা সবার আগেই থাকা উচিত।কিন্তু সামরিকায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ।একেতো মুসলমান , তাহার উপরে তৃতীয় বিশ্বের দেশ ! মোড়লরা চাহিবে না ইহাতে গুরুত্ব দেওয়া হউক। তাহার উফরে মাইনকা চিপার বাসিন্দা শান্তিবাদী বুদ্ধুজীবীরা তো আছেই ! ইহারাও সাম্রাজ্যবাদীদের একখানা ফ্রন্ট বলিয়াই আমার বিশ্বাস ! ইহারা বিশ্বব্যাপী শান্তির বাণী প্রসব করিয়া বেড়ায় সাম্রাজ্যবাদীদের টাকাতেই। আর কে না জানে সাম্রাজ্যবাদীরা কখনও বিনা লাভ বিনিয়োগ করে না ! তাহাদের উদ্দেশ্য কি ? উদ্দেশ্য হইলো অন্যদের সামরিকায়নে বিরত রাখা , আর নিজেদের শান্তিবাদী হিসেবে ঢাক-ঢোল পিটানো ! অথচ নিজেদের সামরিকায়ন , প্রতিরক্ষার জন্য সর্বোচ্চ খরচ ইহারাই করিয়া থাকে ! বলিতে পারেন , তাহারা তো ধনী , তাই তাহাদের সমস্যা নাই ! আছে ,তাহাদের সমাজেও অসহায় , দরিদ্র , নিপীড়িত লোক আছে যাহারা সাহায্য বঞ্চিত। তাছাড়া রাষ্ট্রের সামরিকায়ন , নিরাপত্তা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে দারিদ্র্য থাকিলেও উহার গুরুত্ব লঘু হয় না ! নিরাপত্তা নিশ্চিত হইলে অর্থনৈতিক উন্নতি একসময় হইবেই ! আর নিরাপত্তা না থাকিলে অর্থনৈতিক উন্নতি দিয়া ফার্মের গরু বা মুরগির মতন মোটাতাজা হইবে , অন্যরা জবাই করিয়া খাইবে ! একারণেই , ভারতের ৫০ কোটি লোক খোলা ময়দানে হাগিলেও, দারিদ্র্য সীমার নিচে বিপুল পরিমান জনগোষ্ঠী থাকিলেও তাহারাও সামরিকায়নে অবহেলা করিতেছে না ! শান্তিবাদীরা কিন্তু সেখানে গিয়া একথা বলে না যে নিরাপত্তার খাতে টাকা খরচ না করিয়া পায়খানা বানানো হউক ! একই কারণে চীনও দেদারছে টাকা খরচ করিতেছে। শান্তিবাদীরা ঐখানে গিয়াও প্যাঁ প্যাঁ করে না , কারণ তাহারা পাত্তাই পায় না ! শান্তিবাদী অহিংস নীতিতে কোন কাজ হইয়াছে বলিয়া আমার বিশ্বাস নাই ! ভারত স্বাধীন হইয়াছে গান্ধীজির অহিংস নীতির কারণে নহে , বরং হিটলার ও আজাদ হিন্দ বাহিনীর সোদনে ! ম্যান্ডেলা জেলে যাওয়ার আগেও সহিংস আন্দোলনই করিয়াছেন ! সুতরাং শান্তিবাদীদের প্যাঁ পোঁ তে কান না দিয়া সামরিকায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত লওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ !

৯. সামরিকায়নের সমস্যা ও সম্ভাবনা অনেক।

ক. প্রথম সমস্যা অর্থনৈতিক ! সামরিক সম্ভার কিনিতে গেলে বিপুল পরিমান খরচ হয়। শান্তিবাদীরা দেখাইবে সাবমেরিন কিনিতে গেলে যে টাকা খরচ হয় তাহা দিয়া কতগুলো শিশুকে শিক্ষা দেওয়া যাইবে ! ইহা সত্যি ! ভারী সমরাস্ত্র কিনিতে গেলে বিপুল পরিমানে খরচ আছে সত্যি। তবে আগেতো শিশুদের বাঁচাইয়া রাখার ব্যবস্থা করা , নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা , তাহার পরে না শিক্ষা , সুস্বাস্থ্য ! এই সমস্যার সমাধান হইতে পারে যদি সামরিক শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায় ! আমাদের বহু বিজ্ঞানী, গবেষক , ইঞ্জিনিয়ার , প্রযুক্তিবিদ সারা বিশ্বে ছড়াইয়া আছেন। তাহাদের বিশেষ সুবিধা দিয়া দেশেই শিল্প গড়া যাইতে পারে। ইহাতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হইবে , বিপুল পরিমান কর্মসংস্থান হইবে, নিজেদের শিল্প হওয়ার কারণে প্রয়োজনের সময় অন্যদের পানে চাহিয়া থাকিতে হইবে না ! আমেরিকার কর্মসংস্থানের এক বড় ক্ষেত্র হইলো সমরাস্ত্র শিল্প ! ইরানের উপরে, উত্তর কোরিয়ার উপরে যখন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ হইলো তাহারা নিজস্ব সমরাস্ত্র শিল্প গড়িয়া তুলিল। বাকিটুকু আপনাদের জানা। তুরস্ক, পাকিস্তানেও সমরাস্ত্র শিল্প গড়িয়া উঠিয়াছে। পক্ষান্তরে আরব বিশ্বের সমরাস্ত্র শিল্প গড়িয়া ওঠে নাই বলিয়া ইহারা সাম্রাজ্যবাদীদের অস্ত্র বাজারে পরিণত হইয়াছে।অবশ্য ভারী অস্ত্রের শিল্প গড়িয়া উঠিতে বিপুল অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রয়োজন। সময় লাগিলেও শুরু করিলে হইয়া যাইবে আশা করা যায়।
অর্থ সাশ্রয়ের জন্য নিয়মিত সশস্ত্রবাহিনীর আকার ছোট করিয়া, বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষা চালু করিয়া রিজার্ভ ফোর্সের আকার বাড়ানো যাইতে পারে।সকল সামর্থ্যবান নাগরিকের সামরিক প্রশিক্ষণ থাকিলে জাতির নিরাপত্তা রক্ষায় ইহারা সম্পদ হইবে, শত্রু দেশ দখলে দ্বিতীয়বার ভাবিতে বাধ্য হইবে ! তাছাড়া ইহাতে জাতি শৃঙ্খলা শিখিবে, জাতির সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো হইবে , জাতিগঠনে ইহা বড় বিনিয়োগও হইবে !

খ. দ্বিতীয় সমস্যা আন্তর্জাতিক! মুসলমান দেশ গুলোর সামরিকায়নকে পরাশক্তি/পাতিশক্তিগুলো বরাবরই সন্দেহের চোখে দেখিয়া থাকে ! অতীতের মারা খাওয়ার স্মৃতি তাহাদের তাড়া করিয়া বেড়ায় ! তাই সামরিকায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ! এক্ষেত্রে তুরস্ক মডেল হইতে পারে ! পশ্চিমা, রাশিয়া বা চীনের মাইনকা চিপায় থাকিয়া সামরিকায়নের শুরু করা যাইতে পারে যেন কোন বিতর্ক তৈরী না হয়, তারপর সক্ষমতা তৈরী হইলে সময়-সুযোগ বুঝিয়া স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাইতে পারে ! ক্ষুদ্র শক্তি হিসেবে আমাদের দক্ষ কূটনীতিকের খুবই প্রয়োজন। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে আমার পছন্দ হইয়াছে। মগজ আছে ! সরকারের উচিত আমেরিকার মতন পররাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া। ইহার প্রয়োজনীয়তাও এখন উপলব্ধি হইতেছে। সামরিকায়নের পথে আউগাইতে হইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষ কূটনীনিতিকদের নিয়োগ দিতে হইবে যেন পাতিশক্তি /পরাশক্তি গুলোকে আশ্বস্ত করিয়া নিজেদের পথে আগানো যায় !

গ. তৃতীয় বিশ্বের সামরিকায়নের বড় একটি সমস্যা হইলো ইহার সশস্ত্রবাহিনীর মনোভাব ! বেসামরিক সমাজ শক্তিশালী না হইলে, আন্তর্জাতিক সমর্থন বিপক্ষে না হইলে সশস্ত্রবাহিনীর ক্ষমতা দখলে সামরিকায়ন সহায়তা করে ! একারণে সরকারের উচিত সামরিকায়নের আগে সশস্ত্রবাহিনীর মধ্যেই সমর্থন বাড়ানো, বেসামরিক সমাজে সমর্থন জোরদার করা , জাতিকে সামরিকায়নে ঐক্যবদ্ধ করা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাহিরের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, পরাশক্তি/পাতিশক্তিদের সাথে যথাসাধ্য শক্তিশালী সম্পর্ক রাখা ! ইহাতে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব হইতে নিরাপদ থাকিয়া সামরিকায়ন করা যাইবে !

ঘ. সক্ষমতা গড়িয়া তোলা ! সামরিকায়নের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা গড়িয়া তোলা অপরিহার্য ! বিশেষ করিয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক মনোযোগ , অর্থায়ন জরুরী। হিটলারের জার্মানি যদিও প্রযুক্তিতে সে জমানায় অগ্রসরই ছিল , হিটলারের মুন্সিয়ানা হইলো তিনি শিল্পায়ন এমনভাবে করিয়াছিলেন যে কারখানাগুলো যুদ্ধের সময় পুরোদস্তুর সামরিক শিল্পে রূপান্তর করা সম্ভব হইয়াছিল। চীন, কোরিয়া তাহাদের সামরিকায়ন শুরু করিয়াছে প্রযুক্তির হাত ধরিয়াই। জাপান. জার্মানি প্রযুক্তিতে মহীরুহ হইয়াই এখন সামরিকায়ন শুরু করিয়াছে ! শান্তিবাদী জার্মানি ব্যাপক পরিমানেই অস্ত্র , সাবমেরিন উৎপাদন ও বিক্রয় করিতেছে ! বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়িয়া তোলা তাই অপরিহার্য। কারিগরি শিক্ষাকে যদি শক্তিশালী করা যায় তাহা হইলে উহা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি তৈরী হইতে পারে। ভারতের মতন অল্প কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তির উপর ব্যাপক জোর দিয়া প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা শুরু করা যাইতে পারে।

সামরিকায়নের প্রয়োজনীয়তার আরও অসংখ্য কারণ দেখানো যাইতে পারে, আরও অসংখ্য সমস্যা সামনে আসিতে পারে। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে সামরিকায়নের কোন বিকল্প নাই ! নচেৎ অচিরেই জাতিকে বুনো কুকুরের দলের শিকারে পরিণত হওয়ার আশংকা আছে !!


সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৫২
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নষ্ট সমাজ ব্যবস্থা এবং সোসাল মিডিয়ায় “বাইন মাছ” এর ফাল দেয়া

লিখেছেন নীল আকাশ, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৬

দেশের সমাজ ব্যবস্থা এবং মানুষের মন-মানসিকতা এখন ধীরে ধীরে অতলের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। কোন কাজটা গ্রহণযোগ্য আর কোনটা বর্জনীয় সেটা বেশিরভাগ মানুষই ভালোমতো জানেও না। কিছু দূর্নীতিগ্রস্থ মানুষ এবং রাষ্ট্রীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিলেকোঠার প্রেম - ৮

লিখেছেন কবিতা পড়ার প্রহর, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৪২

ঢাকা ফিরেই ঠিক করেছি এই চিলেকোঠায় আর না। মিরপুরের দিকে কোনো দু'কামরার ফ্লাট খুঁজে নিয়ে উঠে যাবো শিঘ্রী। মিরপুরের দিকে উঠবার পিছে কারণ রয়েছে আমার এক কলিগের বন্ধুর খালি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কেমন মানুষ? পর্ব- ১৩

লিখেছেন নয়ন বিন বাহার, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৪৬

১।
এই বাংলা মুল্লুকের শিক্ষিত প্রফেশনালরা সবচেয়ে বেশি রুচিহীন।

রাজধানী ঢাকার বয়স চারশ বছরের বেশি। এই গত চারশ বছর ধরে এখনো তার নির্মাণ কাজ চলছে। এমন কোন রাস্তা বা গলি নাই যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেতুল হুজুরের ( ইমাম শফি ) কিছু অমর বাণী

লিখেছেন এ আর ১৫, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:২৪


এই মানুষের জন্য সমবেদনা যারা জানাচ্ছে তারা কি উনার মুল্যবান বাণী শুনেছিলেন?

শফির অমর বাণীঃ

- "শোনো নারীরা, চার দেয়ালের ভেতরই তোমাদের থাকতে হবে। স্বামীর বাড়িতে বসে তোমরা আসবাবপত্র দেখভাল করবা, শিশু... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা: আবারও ভালোবাসতে ইচ্ছা করে

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৪


আমার আবারও ভালোবাসতে ইচ্ছা করে।
একদা এক সময় যেভাবে প্রেমে পড়েছিলাম।
ডিসেম্বর মাসের শেষে, এক শীতের সকালে।
ঢাকার রাস্তা তখন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন।
এমন সময়ে যেভাবে ভালোবাসতে শিখেছিলাম।
সেভাবে আবারও ভালোবাসতে ইচ্ছা করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×