somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া বান্দরের ওঠা-নামা : মোটিভেশনের মায়েরে বাপ্ !!!

৩০ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিসূত্রঃ ক্লাব ৯৪ !

আমাদের প্রজন্ম কুটিকালে বান্দরের অংক করে নাই এমন মরদ বা মাদী কেহ আছে নাকি বলিয়া জানা নাই ! অবশ্য ইংলিশ মিডিয়ামের কথা আলাদা ! ওগুলো ভিনগ্রহের মানুষ আছিল ! এমনকি উহাদের বেশিরভাগই এখনকার ব্রয়লার প্রজন্মের মতোই খাঁচায় মানুষ হইতো ! তাই উহারা বান্দরের অংক কি জিনিস তাহা নাও জানিতে পারে ! তয় আমাগো মতন ধর্মের ষাড় , খোদার খাসি , বনমোরগ-মুরগিদের এই যন্ত্রনা পার না হইয়া উফায় ছিল না ! অংকের চাইতে অংকের নামও কম বিস্ময়কর ছিল না ! পাটিগণিতের নাম শুনিলেই আমার পাঠিগনিতের কথা মনে হইতো ! পাঁঠাগণিত আছে কিনা ইহাও মনে জাগিত ! লসাগু, কষাগু, চলিত , সাধু, ঐকিক, সুদকষা (এইখানেও কোষ্ঠকাঠিন্য !! কেমনে কি !) !

গণিতে আমি ব্যাফক দুব্বল ! এক্কেরে ভোলানাথ ! তার উপরে আবার বান্দরের তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া ওঠার অংক ! আমার মাথায় কিছুতেই ইহা ঢুকিত না, বান্দর কেন তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া উঠিবে, বাঁশকে তৈলাক্ত কে করিয়াছে , তৈলাক্ত না করিলে অংক কেমন হইতো, তৈলাক্ত বাঁশ বাইয়া আসলেই কি উপরে ওঠা যায় ? ৩ ফুট ওঠার পরে সত্যিই কি ২ ফুট নামিয়া বান্দর থামিতে পারিবে ? থামিতে পাড়ার তো কথা না ! আচ্ছা প্র্যাকটিক্যালি কি কেহ বান্দররে তৈলাক্ত বাঁশ বাইতে দিয়া দেখিয়াছে কি ঘটে ?

কোন উত্তর নাই ! শেষ ৩ ফুট উঠিয়া বান্দর আর নামিবে না কেন ইহা বুঝাইতে আমার শিক্ষকের ঘাম ছুটিয়া গিয়াছিল , আর আমার তেল এমনই কমিয়া গেল যে পরবর্তীতে অংকরে বাইন তালাক দিয়া মুক্ত হইব ভাবিয়াছিলাম ! কিন্তু যেখানে অংকের ভয় , সেখানেই সন্ধ্যা হয় ! তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও সেই অংক ! স্ট্যাটিসটিক্স, বাইনারি ! যাক বাওয়া , অল্পের উপর দিয়া বাঁইচ্যা গেছি !

তবে যেই ব্যাডা এই অংকের আবিস্কারক হেতেরে নো-বেল যে ক্যান দিলো না তাহাই ভাবিতেছি ! আমার মনে হয় , নোবেল কমিটির মেম্বাররা নিজেরা তৈলাক্ত বাঁশ বাইবার ঝুঁকি লইতে চাহেনা ! একারণেই এই অবহেলা , অবমূল্যায়ন ! নইলে গেম থিওরিও নোবেল পায় , ড্রেক ইকুয়েশন পায় , আর বান্দরের তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া ওঠার এই ঐতিহাসিক অংকের প্রণেতা নোবেল পাইলো না ! আফসুস !

আজ হঠাৎ আমাগো দোস্তগো গ্রূপে বান্দরের ছবি দেখিয়া সেই কুটিকালের তৈলাক্ত বাঁশের কথা মনে হইলো ! পোলাপাইনগো Activity ডিজাইনের সময় প্রায়ই একখানা টাস্ক দেওয়া হইতো।Describe the picture ? ছবি দেখিয়া অনেকগুলান কথা মনে আইলো ! ভাবিলাম বড় বান্দরগুলার জইন্য এই দার্শনিক বচনগুলো উগড়ানো যাইতে পারে ! মোটিভেশনও হইতে পারে ! দেখেন তো , আর কি কি যোগ করন যায় ?

১. তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী !

২. প্রত্যেক সফলতার পেছনে বাঁশ আছে !

৩. সফলরা বাঁশের আগায় থাকে !

৪. সফলরা সফলতা লাভের পরে নিঃসঙ্গ হইয়া যায় ।

৫. সফল হইলে নজর উঁচু হইয়া যায় , দৃষ্টি দূরে প্রসারিত হয় !

৬.সফলতা আরামের , ভাবের মনে হইলেও বাস্তবে সফলতার চূড়ায় চেয়ার নাই , চেয়ারম্যান হইবার উপায় নাই !

৭. সফলতার রাস্তা মসৃন নহে।প্রায়ই পিছলায়া পিছায়া যাইতে হয় !

৮. পিছলায়া যাইবার কালে ঝুলিয়া থাকিবার , টিকিয়া থাকিবার চেষ্টা করিতে হয়, নইলে back to the pavelion ! পরাজয় নিশ্চিত !

৯. শুধু টিকিয়া থাকিলেই চলিবে না , সামনে আউগাইয়া যাইতে হইবে। নচেৎ মুক্তি নাই ! ঝুলিয়া থাকাও সম্ভব নহে। অর্থাৎ সামনে না আউগাইলে পশ্চদপসারণ নিশ্চিত !

১০.সফলতার রাস্তা তৈলাক্ত , সাহায্য করার কেহ নাই ! তৈলাক্তভাব কমানোর জন্য বালি, কাঠের গুঁড়ো ব্যবহারের উপায় নাই ! সুতরাং কষ্ট করিতেই হইবেক !

১১. সফলদের সফলতার নিচে কোন স্থান নাই ! একটু নামিলেই পপাত ধরণীতল ! সুতরাং নামা চলিবে না !

১২. সফলদের বাঁশে তাহারা নিজেরা তৈল লাগাইয়া পিছলা বানান না , অন্যেরা তাহার সফলতার যাত্রাকে কঠিন করিতে তৈলাক্ত বানাইয়া থাকে।সুতরাং লড়াই করার মানসিকতা থাকিতে হইবেক !

১৩. তেলা মাথায় তৈল উপকারী হইতে পারে, তবে বাঁশে নহে ! তাই ভাবিয়া লাগাইয়ো তৈল , লাগাইয়া ভাবিও না ! আবার কোথায় লাগাইলে কাম হইবে আর কোথায় আকাম হইবে তাহাও ভাবিও !

১৪. তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া ওঠনকালে কেডায় তেল মাখছে কইয়া গালাগালি দিলে শক্তিক্ষয়ই হইবে ! সুতরাং মুখ বুজিয়া কাজ করিয়া যাওয়াই উত্তম , যথাসময়ে কাজে লাগানোর জন্য শক্তি সঞ্চয় রাখাই বুদ্ধিমানের !

১৫. এই পোস্ট পইড়া নিজেরে বান্দর ভাবার কোন কারণ নাই ! বান্দর যেই তরিকায় সফল হইয়াছে আপনিও সেই তরিকাতেই সফল হইবেন উহা ভাবার কারণ নাই ! মানুষ হইয়া মানুষের সফলতার রাস্তা ধরেন মিঞা ! বাঁদরামি কম করেন !


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৫৪
২২টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাটির চুলা

লিখেছেন সোহানাজোহা, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:৩১


ছবি কথা বলে: আজ হাটবার আপনে দেড়ি না করে বাজারে যান গা, নাতি নাতনি ছেলে বউ শহরের বাসায় নদীর মাছ খায় কিনা আল্লাহ মাবুদ জানে! (মাটিরে চুলাতে দাদীজান পিঠা ভাজছেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তর মেরুতে নিশি রাতে সূর্য দর্শন - পর্ব ৪

লিখেছেন জোবাইর, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

বিভিন্ন ঋতুতে ল্যাপল্যান্ড: শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ

রেন্ট-এ-কার' কোম্পানীর সেই মেয়েটি কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে আগে থেকেই পূরন করা একটা ফরমে আমার দস্তখত নিয়ে কিরুনা স্টেশনের পাশের পার্কিং এরিয়াতে নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নন্দের নন্দদুলাল : স্বপ্ন রথে

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৬

স্বপ্নের অশ্বারোহী
দূরন্ত ইচ্ছেতে ঘুরে বেড়াই, নন্দ কাননে
তাম্রলিপি থেকে অহিছত্র
পুন্ড্রবর্ধন থেকে উজ্জয়িনী, স্বপ্ন সময়ের নন্দদুলাল।

আমাদের শেকড়
বাংলার আদি সাম্রাজ্যে যেন
পতপত ওড়ে পতাকা সবুজ-লাল,
মিলেনিয়াম নন্দ ডাইনাস্টির স্বপ্ন সারথীর স্বপ্নরথে

মানচিত্র: নন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় শিল্পীর কিছু গজল

লিখেছেন মিরোরডডল , ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০

যদিও জগজিৎ সিং আমার সবচেয়ে প্রিয়, পাশাপাশি অনুপের গজলও খুব শোনা হয় ।
প্রিয় শিল্পী অনুপ জলোটার সেরা পাঁচ । গভীর অনুভূতির কিছু গজল ।


Dil hi nahin to dil ke, saharon... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্প শুধুমাত্র বর্ণবাদকে কাজে লাগিয়ে জয়ী হতে চায়।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:০৩



সভ্যতার এই যুগে, আমেরিকা হচ্ছে সবচেয়ে কম বর্ণবাদের দেশ; অষ্ট্রেলিয়া এই মহুর্তে সবচেয়ে বেশী বর্ণবাদের দেশ। আমেরিকার গত ভোটে বর্ণবাদীরা ট্রাম্পের পক্ষে ছিলো, ওরাই ট্রাম্পের হয়ে মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×