somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিরক্তিকর সহকর্মী সামলানোর কৌশল

২৫ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কর্মজীবী মানুষ দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে কাটান। আর এ কারণেই সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে সখ্য। বন্ধু ভেবে অনেকেই সহকর্মীদের কাছে নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা ভাগাভাগি করেন। অফিসে যেমন সহকর্মীরা অনেকের বন্ধু হয়ে ওঠেন, ঠিক তেমনি অনেক সহকর্মীই আবার অনেকের জন্য হয়ে ওঠেন চরম বিরক্তির কারণ। আর এ কারণে অফিস হয়ে উঠতে পারে বিষাদময়। এবারে জেনে নিন অফিসে কোন ধরনের সহকর্মী বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, আর কীভাবে তাঁদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।

অযথাই যাঁরা গল্প-গুজব করেন
অফিসে অনেকে অযথাই গল্প-গুজব করেন। আপনার শোনার ইচ্ছে নেই তার পরও ওই সহকর্মী কানের কাছে অনর্গল তাঁর নিজের কিংবা আপনাকেই নিয়েই গল্প করছেন। আপনি পছন্দ করেন না, তবুও কোনো কারণ ছাড়াই আপনার সহকর্মী আপনাকে বলছেন, বাহ! পোশাকটাতে তো আপনাকে দারুণ মানিয়েছে। কিংবা আপনার বিবাহিত বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলছেন।
এ ধরনের বিরক্তি এড়াতে ওই সহকর্মীর মনোযোগ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করুন। সহকর্মীর এ ধরনের আমুদে কথাবার্তাকে প্রশ্রয় দেবেন না। তাঁকে ভদ্রভাবে বোঝানোর চেষ্টা করুন, আপনি তাঁর এ ধরনের কথায় অস্বস্তিবোধ করছেন। এর পরও হয়তো অন্য কোনো চটকদার গল্পের দিকে তিনি আপনাকে নিয়ে যেতে চাইবেন। তখন ভাবে-আচরণে তাঁকে বুঝিয়ে দিন, এ ধরনের কথাবার্তায় আপনার কোনো আগ্রহ নেই।

কান ভারী করেন যিনি
আপনি বন্ধু ভেবে কোনো সহকর্মীর সঙ্গে গোপনীয় কিছু কথা বললেন, অথচ সেই সহকর্মী গোপনে সেটা অন্য কোনো সহকর্মীর কাছে বলে দিলেন। তখন কিন্তু নিজের ওপরই চরম বিরক্তি জন্মাবে আপনার। আবার এমনও হয় যে নিজের কাজের কোনো আইডিয়া বন্ধু ভেবে কোনো সহকর্মীকে বললেন, আর ওই সহকর্মীটি কিংবা পাশ থেকে শুনে অন্য কোনো সহকর্মী আপনার আগেই বসের কাছে গিয়ে ওই আইডিয়া নিজের বলে চালিয়ে দিলেন। এতে কিন্তু আপনার কর্মক্ষেত্রের পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যেতে পারে। এ ধরনের পরিকল্পনা অন্যদের জানানোর বিষয়টি বস জানতে পারলে তাঁর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আপনার ওপর। তাই খুব খেয়াল। কর্মক্ষেত্রে একটু সাবধানে থাকলেই এড়ানো যায় এসব ঝামেলা।
এ ক্ষেত্রে, খুব প্রয়োজনীয় ও গোপন কোনো বিষয় সহকর্মীকে জানাবেন না। যদি কোনো কারণে তা শেয়ার করতেই হয়, তাহলে তাঁকে ই-মেইল করে জানান। এতে পাশ থেকে অন্য কেউ শুনে ফেলার আর কোনো সুযোগ থাকল না। আর যেকোনো পরিকল্পনা সরাসরি লিখিত আকারে বা মৌখিকভাবে অফিসের বসকে জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

অন্যের কাজকে যিনি খাটো করে দেখেন
কিছু সহকর্মী সব সময় অন্যের কাজের ভুল ধরে থাকেন, অন্যের কাজ খাটো করে দেখেন। এ বিষয়টি কিন্তু তিনি আবার আপনার সামনে প্রকাশ করেন না। ধরুন, আপনি কোনো একটা কাজ করলেন বা মিটিংয়ে সবার উদ্দেশে কিছু বললেন, তখন ওই সহকর্মীটি আপনার সামনে আপনার ভূয়সী প্রশংসা করবে। কিন্তু আপনি একটু আড়াল হলেই, অন্যদের কাছে আপনার ওই কাজ সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করবে। অফিসে আপনার সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করবে। যা চরম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে আপনার কাছে।
এ ক্ষেত্রে, তাঁর সামনে ভান করুন যে আপনি তাঁর আন্তরিকতায় মুগ্ধ। তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং বলুন, আপনি খুবই স্পষ্টবাদী ও খোলাখুলি কথা বলেন। ক্যারিয়ার অ্যান্ড করপোরেট কুল বইয়ের লেখক র্যাচেল সি. ওয়েইনগারটেন বলেন, আপনার ধরন বুঝতে দেওয়া ছাড়া এ ধরনের সহকর্মীদের আর কোনো শাস্তি হতে পারে না।

বন্ধুবেশী সহকর্মী
অনেকেই আছেন যাঁরা অফিসে আপনার সঙ্গে খুব কাছের বন্ধুর মতো আচরণ করে থাকেন। তাঁদের ক্ষেত্রেও কিন্তু একটু ভেবেচিন্তে কথা বলতে হবে। কারণ, তাঁরা আসলেই আপনার বন্ধু নাকি বন্ধুবেশী, তা কিন্তু আপনি নিশ্চিত হতে পারছেন না। এ ধরনের বন্ধুবেশী সহকর্মীরা আপনার পাশে বসে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবে। বেড়ানোর জন্য আপনাকে বাইরে নিয়ে যেতে চাইবে। প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে প্রতারণার চটকদার কথা বলে কিন্তু আপনার সঙ্গে প্রতারণার একটা ফাঁদ পাততে পারেন তিনি।
তাঁর কথায় একেবারে গলে যাবেন না। নিজেকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন। তারপর দেখবেন আস্তে আস্তে এই বিরক্তিটা আপনার কমে যাচ্ছে।

অফিসে যিনি চিত্কার করে কথা বলেন
অনেক সহকর্মীই আছেন যাঁরা বসের কাছে বকুনি খেয়ে এসে ফোনে কিংবা সামনাসামনি চিত্কার চেঁচামেচি করে কথা বলেন। এতে অনেকেই বিরক্ত হন। কিন্তু কেউ যে বিরক্ত হয় এদিকে যেন ওই সহকর্মীটির কোনো ভ্রূক্ষেপই নেই। এতে শুধু বিরক্তিই না, অফিসের কাজের পরিবেশও নষ্ট করে।
আপনি ওই সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে রাগে গজগজ করে আপনার বস সম্পর্কে নালিশ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে, রেগে না গিয়ে তাঁর সঙ্গে ঠান্ডা মেজাজে কথা বলুন। হতাশার কথা না বলে আশার বাণী শোনান। বলুন যে কাজের ক্ষেত্রে এমন একটু-আধটু হয়েই থাকে। এ ব্যাপারে বাস্তব উদাহরণও দিতে পারেন তাঁকে। তাহলে ওই সহকর্মীটি চোখের সামনে ওই দৃশ্যটা দেখতে পারবেন। কিছুক্ষণের মধ্যে দেখবেন, তাঁর চিত্কার থেমে গেছে। আর ফিরে এসেছে অফিসের কাজের পরিবেশও। সূত্র: ইন্টারনেট।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×